জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘কলঙ্কিত’ বলল বামজোট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক কলঙ্কিত নির্বাচন, যা দেশের ইতিহাসে আর হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থীরা।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত ‘ভোট ডাকাতি, জবর দখল ও অনিয়মের নানা চিত্র’ শীর্ষক গণশুনানিতে এসব কথা বলেন বাম দলগুলোর প্রার্থীরা।



জোটের নেতারা বলেন, নজিরবিহীন ভুয়া ভোটের এই নির্বাচনের আগের দিনই বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রশাসনের সহায়তায় ভোট ডাকাতি হয়েছে। অথচ নির্বাচনের দিন প্রশাসন এসব অনিয়ম ঠেকাতে নিষ্ক্রিয় ছিল।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম গণশুনানির শুরুতে সূচনা বক্তব্যে বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে বহু অভিযোগ আছে। এটি নজিরবিহীন একটি ভুয়া ভোটের নির্বাচন।

এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩১ টি আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ১৪৭ জন প্রার্থী অংশ নেয়। দিনব্যাপী আজকের এই গণশুনানি অনুষ্ঠানে বাম দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া ১৩০ জন প্রার্থী তাদের নির্বাচনী এলাকায় ভোটের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।



এবারের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসন থেকে কোদাল মার্কায় দাঁড়িয়েছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর মতো কলঙ্কজনক নির্বাচন আর নেই উল্লেখ করে গণশুনানিতে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের দিন রাতেই কেন্দ্রভেদে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়েছে। আমরা যারা প্রার্থী ভোট দিতে গিয়েছিলাম, দেখেছি, একটা ভোটকেন্দ্রে ভোটারের তেমন কোনো ভিড় নেই অথচ নয়টা বা সাড়ে নয়টার মধ্যেই ব্যালট বাক্স ভরে গেছে।



নরসিংদী-৪ আসনে কাস্তে মার্কা নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন সিপিবির কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। গণশুনানিতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি ভোটকেন্দ্রের এক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নির্বাচনের আগের দিন আমার কাছে স্বীকার করেন, প্রশাসনের নির্দেশ ৩৫ শতাংশ ভোটের সিল যেন নির্বাচনের আগের রাতেই দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের চাপে পরে তা ৪৫ শতাংশ হয়ে যায়।

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী শম্পা বসু মই মার্কায় নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি গণশুনানিতে অভিযোগ করেন, সকালে সেগুন বাগিচা হাই স্কুল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখি, কেন্দ্রে কোনো ভোটার নেই। অথচ ব্যালট বাক্স ভোটে ভর্তি হয়ে আছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, মাত্র ১০০টি ভোট পড়েছে। কিন্তু ব্যালট বাক্স ভর্তি এত ভোট কোথা থেকে এল?’

এছাড়াও রাজশাহী-১ আসনের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রার্থী আলফাজ হোসেন ও রাঙামাটি জেলা থেকে নির্বাচনে দাঁড়ানো বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জুঁই চাকমা বিভিন্ন অভিযোগ করেন।



নতুন মন্ত্রীদের অনভিজ্ঞতা : আমলানির্ভর হয়ে পড়বে সরকার?

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের সরকারে ডাকসাইটে সব নেতাদের বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভায় বেশিরভাগ নতুন মুখ আনা হয়েছে। তাদের প্রশাসন চালানোর অভিজ্ঞতা নেই।

অভিজ্ঞতা ছাড়া মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া সদস্যরা সরকারের নীতি বাস্তবায়নে কতটা দক্ষতা দেখাতে পারবেন, বিশ্লেষকদের অনেকে এমন প্রশ্ন তুলেছেন।



তারা মনে করেন, মন্ত্রীদের অভিজ্ঞতা বা দক্ষতার অভাব থাকলে আমলানির্ভর হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়।

নতুন মন্ত্রিসভা কি পরিস্থিতিতে পড়তে পারে, তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ কী?

নতুন মন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন গত ৭ জানুয়ারি। তাদের অনেকেই দীর্ঘসময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীও রয়েছেন।

কিন্তু ৩১ জন নতুন মুখের মধ্যে ২৭ জনই এই প্রথম মন্ত্রী হয়েছেন। তারা কতটা দক্ষতা দেখাতে পারবেন, সেই প্রশ্ন অনেকে তুলছেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি দমন করাসহ জনপ্রিয় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্যম নিয়ে এই ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিসভায় চমক এসেছে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।



কিন্তু সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই চমকের মন্ত্রীদের জন্য অভিজ্ঞতার ঘাটতি একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

একইসাথে হেভিওয়েটরা বাদ পড়ায় দলের ভিতরের এবং বাইরের রাজনীতিও নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে বলে তিনি মনে করেন।

‘বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভিজ্ঞতার চ্যালেঞ্জ। তারা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আমলাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যেটা ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যাবেন। সেখানে আমলারা বা প্রশাসন যদি বাধা হয়ে যায়, তাহলে কাজের গতি কমে যাবে।’



‘আরেকটা চ্যালেঞ্জ হলো ভিতরের এবং বাইরের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ভিতরের চ্যালেঞ্জ হলো রাজনীতিক বলতে যাদের বোঝায়, তারা কিন্তু সবাই মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়েছে।’

‘তাদের একটা অভিমান, ক্ষোভ থাকতে পারে। তারা তো দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাদের থেকে একটু অসহযোগিতা এলে, সেটা একটা চ্যালেঞ্জ হবে’ – বলেন মি. আহমেদ।

রিয়াজউদ্দিন আহমেদ রাজনৈতিক অস্থিতিশীল একটা পরিবেশের হুমকিও দেখছেন।



‘একটা বড় বিরোধীদল তারা একেবারে অনুপস্থিত সংসদে। চার পাঁচজন যে নির্বাচিত হয়েছে, তারাতো বলেছে, শপথ নেবে না। তারা না আসলে এ সরকারের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে একটা দুর্বলতা রয়ে গেলো। তারা কতদূর করতে পারবে, সেটা দেখার বিষয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার একটা হুমকি থেকে গেলো।’

আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরীর মতো নেতারা সব মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং দলীয় রাজনীতির বাইরেও তাদের একটা বলয় বা শক্ত অবস্থান ছিল।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক একজন সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, তিনি নতুন মন্ত্রিসভায় পুরোদস্তর এবং প্রভাবশালী রাজনীতিকের অভাব দেখছেন। এটিও সরকারের কাজে এক ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

‘রাজনীতিকে সংখ্যা কিন্তু এই মন্ত্রিসভায় কমে গেছে। এ কারণে আমি একটু দ্বিধান্বিত আছি যে, তারা কিভাবে বা কতটা ভূমিকা রাখতে পারবেন। আমাদের দেশে অর্থনীতির মুল উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, আমাদের একদিকে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয়ের বৈষম্য বাড়ছে ব্যাপকভাবে।’



‘এই বৈষম্য কমানোর জন্য যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার, সেটা কিন্তু ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিদের কাছে মুখরোচক হবে না।তারা এদিকে যাবে না। রাজনীতিকরা যদি মুল কতৃত্বে থাকতেন, তাহলে আশাটা বেশি হতো’ – বলছিলেন মি. মজুমদার।

আওয়ামী লীগ টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে আবারও সরকার গঠন করেছে। ফলে নতুন মুখ বেশি এনে মানুষের সামনে একটা বৈচিত্র তুলে ধরা বা নতুনত্ব দেখানোর একটা চেষ্টা ছিল।

প্রভাবশালী রাজনীতিকরা বাদ পড়ার পাশাপাশি শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম বা নুরুল ইসলাম নাহিদের মতো যাদের নিয়ে সরকারকে বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, তারাও বাদ পড়েছেন, এমন যুক্তি দলটির অনেকে দিয়েছেন।

এখন বর্ষীয়ান নেতাদের দলের কাজে লাগিয়ে সরকার এবং দলের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আনার চেষ্টার কথাও বলছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।



তবে নতুন মন্ত্রীরা প্রশাসনকে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেবেন,একইসাথে তাদের প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে কিনা, এসব প্রশ্ন থেকে যায় বলে উল্লেখ করেছেন মানবাধিকার কর্মি এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুলতানা কামাল।

‘প্রধানমন্ত্রী দু’দিন আগে নিজে একটা কথা বলেছেন যে, মন্ত্রীরা নজরদারিতে থাকবেন। এখন সেটা কি প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিত থাকবেন নাকি জনগণের নজরদারিতে থাকবেন, সেটা একটা মৌলিক প্রশ্ন আমাদের। এখন যারা নতুন মন্ত্রী হলেন, তাদের দায়িত্ব টিম হিসেবে জনগণের জন্য অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটানো নাকি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে কাজগুলো করা? এই প্রশ্ন থাকে।’

সুলতানা কামাল বলছেন, ‘আমলাতন্ত্রের যে বিষয় আছে, সামরিক বেসামরিক আমলা, তাদের ওপর এদের নিয়ন্ত্রণ কেমন হবে? মন্ত্রী হিসেবে সেই জায়গায় তাদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারবেন, এই বিষয়টাও কিন্তু আমাদের দেখার আছে।’

সরকার বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।



তাদের বক্তব্য হচ্ছে, মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়া পুরোনোরাও আগে যখন প্রথম মন্ত্রী হয়েছিলেন, তারাও তখন নতুন ছিলেন এবং রাজনীতিকরা যে কোন বিষয়ে দ্রুত শিখতে পারেন।

এছাড়া রাজনৈতিক দলের সরকার শক্ত অবস্থানে থেকেই নীতি বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে তাদের যুক্তি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, নতুনরা নিজেরাই দক্ষতার সাথে প্রশাসন চালাতে পারবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন।

‘নতুনদের প্রায় সকলেই কোনো না কোনোভাবে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। আর সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাদের এখানে আমলারা যে খুব বেশি করতে পারেন, তা নয়। এটা ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করবে।’



‘একটা কালেকটিভ জবাবদিহিতা আছে তো। সেখানে প্রধানমন্ত্রী সাধারণত হস্তক্ষেপ করেন না, মোটেও করেন না। বরং তিনি বলে দেন যে, তোমরাই কাজগুলো করো।’

বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা থাকলেও সরকার প্রধানমন্ত্রী-কেন্দ্রীক হয়ে পড়ে।

আগের সরকারগুলোর কর্মকান্ডে বিভিন্ন সময়ই দৃশ্যমান হয়েছে যে, সিনিয়র মন্ত্রীরাও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থেকেছেন।

এটা সরকারেরও অনেকে স্বীকার করেন।



সেই প্রেক্ষাপটে এবার মন্ত্রীসভায় নতুনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের নির্ভরশীলতার প্রশ্ন সামনে আসছে।

দীর্ঘসময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে থাকলেও এবারই প্রথম মন্ত্রী হয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, তাদের নতুনদের নিয়ে সন্দেহ বা বিভিন্ন প্রশ্নের কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না।

‘সন্দেহটা কেন আসবে? মন্ত্রী হিসেবে আমি নতুন। কিন্তু প্রশাসন চালানোর জন্য আমার অনেক অভিজ্ঞতা আছে।এই মন্ত্রিসভার নতুনদের সকলের ক্যারিয়ার অনেক বর্ণাঢ্য এবং বহুমুখী প্রতিভার বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা অনেক সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। চ্যালেঞ্জ আছে বটে। কিন্তু তা মোকাবেলা করার যোগ্যতা সবার আছে।’



এই মন্ত্রিসভা গঠনের পর আওয়ামী লীগেরই সব পর্যায়ের নেতারা অবাক হয়েছেন। প্রভাবশালী নেতারা সব বাদ পড়ে যাবেন, এটা তারা ভাবতেই পারেননি। দলটির তৃণমুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে এমন ধারণাই পাওয়া যায়।

বাদ পড়া নেতারাও বিষ্মিত হয়েছিলেন। তবে তারা সবাই কিন্তু এর পক্ষেই কথা বলছেন। তারা তাদের নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা কথাই তুলে ধরছেন।

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, তাদের নেত্রী এবার চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তার অভিজ্ঞতার কারণে নতুনরাও গতিশীল হবে বলে তিনি মনে করেন।



‘যে যত কথাই বলুক, আমি মনে করি, যিনি দক্ষতা অর্জন করেছেন, তিনি এই মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেবেন।তিনিই পরিচালনা করবেন। তারপরে আমাদের যারা সচিব আছে, তারাও তাদেরকে সহযোগিতা করবে। ফলে নতুনদের মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কোনো অসুবিধা হবে বলে আমি মনে করি না।’

‘অনেকে প্রশ্ন করে যে, নবীন প্রবীণ, যারা এখানে আছে বয়স কিন্তু কারও কম না। ৬০ এর উপরে অনেকেরই বয়স। এমনকি ৭০ এর উপরও আছে। সুতরাং সবকিছু মিলিয়ে নতুনরা দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হবে।’

বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, নতুন মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বেশি অনুগত হবেন। সেটা সরকার পরিচালনার জন্য একটা ইতিবাচক দিক হতে পারে। এরপরও শেখ হাসিনার জন্য এই নতুনদের নিয়ে কাজ করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।



আওয়ামী লীগের শরিক বিকল্প ধারার নেতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীও বলেছেন যে, এটি শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপ।

তবে তোফায়েল আহমেদ তার অতীত তুলে ধরে বলেছেন, তিনি নিজেও মন্ত্রী হওয়ার পরই প্রশাসন চালানোসহ সব বিষয়ে শিখেছিলেন।

চ্যালেঞ্জ : সুশাসন
আওয়ামী লীগের আগের মেয়াদের সরকারে মানবাধিকার এবং সুশাসনের প্রশ্নে অনেক সমালোচনা ছিল। এছাড়া এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের ওপর সরকারের এক ধরণের নির্ভরশীলতা ছিল বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করে আসছে।

সেই প্রেক্ষাপটে নতুন মন্ত্রীরা প্রশাসন পরিচালনায় রাজনৈতিকভাবে যদি দক্ষতা দেখাতে না পারেন, তাহলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে মনে করেন সুলতানা কামাল।



‘চ্যালেঞ্জের কথাগুলো কিন্তু তাদের নিজেদের মুখ থেকে বার বার বেরিয়ে এসেছে। তারা বার বারই বরছেন, সুশাসন। তারা উন্নয়নের বিসয়টা নিয়ে আসেন। কিন্তু উন্নয়নের সাথে যেনো মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনের যে ব্যাপারটা রয়েছে, স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকারের কথা রয়েছে, মানুষের যে সম্মানজনক জীবন যাপনের অধিকার রয়েছে, নাগরিক হিসেবে একটা মর্যাদাবোধ পাওয়ার যে ব্যাপারটা রয়েছে, এগুলোকে তারা উন্নয়নের সাথে বিনিময়যোগ্য করে ফেলেছেন। এটা কিন্তু বিনিময়যোগ্য নয়।’

তবে সরকারের অনেকেই বলছেন, সংসদে সরকারের জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আসে। ফলে এটিকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না। কিন্তু আগের সংসদ ছিল একতরফা। নতুন সংসদেও একটি বড় দল বিএনপির নির্বাচিত কয়েকজন শপথ না নেয়ার অবস্থানে এখনও রয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকছে সরকারের সামনে। যদিও আওয়ামী লীগের মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি এবার নির্ভেজাল বিরোধীদল হিসেবে নিজেদের দাবি করেছে।



এইচ টি ইমাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের আগের মেয়াদের সরকারগুলোতে সংসদের মাধ্যমে জবাবদিহিতা ছিল এবং এবারও তা নিশ্চিত করা হবে।

‘সংসদে সমষ্টিগতভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহিতা আছে। আর আগে সংসদীয় কমিটিগুলোতে মন্ত্রীরাই প্রধান থাকতেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ১৯৯৬ সালেই এতে পরিবর্তন এনেছেন। এখন মন্ত্রী না হয়ে অন্য সদস্যরা সংসদীয় কমিটির প্রধান হয়ে থাকেন। এটি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুনদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, সেখানে নতুন মন্ত্রীরা তাদের হানিমুনের সময় শেষে যখন কাজ শুরু করবেন, তখন তারা কতটা দক্ষতা দেখাতে পারবেন, সেজন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে।



উপজেলা নির্বাচন: বিএনপি ছাড়ার হিড়িক

উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক সংখ্যক স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপির নেতা অন্যদলে যোগ দিবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। বিএনপির সিনিয়র নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু বিএনপির মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতাই উপজেলা নির্বাচনে যেতে আগ্রহী। বিশেষ করে, যারা এখন উপজেলা চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন। তারা উপজেলা নির্বাচনে যেতে আগ্রহী। যেহেতু বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে যাবে না বলে সিদ্ধান্ত মোটামুটি স্পষ্ট হয়েছে। সেহেতু এই সমস্ত নেতারা এখন দুটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরী করেছে বলে জানা গেছে।



এই দুটি দল হলো বিকল্প ধারা এবং জাতীয় পার্টি। বিকল্প ধারার অন্যতম নেতা মাহি বি চৌধুরী বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘আমরা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আমরা উপজেলা নির্বাচনে ভালো ফলাফল করবো বলে আশাবাদি’। বিএনপির অনেকেই এবার উপজেলা নির্বাচনে বিকল্প ধারায় যোগ দিতে পারবে বলে শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেকের যোগাযোগ হচ্ছে। কারণ আপনারা দেখেছেন নির্বাচনের আগেও অনেক প্রবীন এবং ভালো নেতা বিএনপি ছেড়ে বিকল্প ধারায় যোগ দিয়েছেন। আমরা উপজেলা নির্বাচন যেহেতু খুব ভালোভাবে করবো। আমরা তৃনমূলে একটি শক্তিশালি অবস্থান গড়তে চাই। বিএনপির যে সমস্ত প্রার্থী জনপ্রিয় যোগ্য এবং ভালো প্রার্থী, তাদের দরজা বিকল্প ধারার জন্য উম্মুক্ত রয়েছে।’



একাধিক সূত্রে জানা গেছে যে, বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত সম্ভব্য প্রার্থীরা অধ্যাপক বি চৌধুরি এবং মাহি বি চৌধুরির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। বিএনপি যদি নির্বাচন না করে তাহলে তারা উপজেলা নির্বাচনের আগে আগে বিকল্প ধারায় যোগ দিতে আগ্রহী।

একইভাবে কিছু নেতাকর্মী জাতীয় পার্টির সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। যোগাযোগ করা হলে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন,‘জাতীয় পার্টি উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং বরাবরই জাতীয় পার্টি স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল করে। এবার নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। ’ তার কাছেও জানতে চাওয়া হয়েছিল বিএনপি থেকে কেউ যোগ দিবেন কিনা। তিনি বলেন যে, ‘এটা এখনো আমরা বলতে পারি না। বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়, তাহলে অনেকেই বিভিন্ন দলে যোগ দিতে পারেন। সেখানে আমাদের সঙ্গে যাদের সামঞ্জস্য হয়। আমাদের সঙ্গে যাদের বনিবনা হবে। তারা নিশ্চয়ই জাতীয় পার্টিতে যোগ দিতে পারেন। জাতীয় পার্টির নির্বাচনে একটি শক্তিশালি প্রার্থীতার ক্ষেত্রে বিএনপি বা অন্যকোন দল থেকে যারা আসতে চাইবে, নিশ্চয়ই তাদের বিবেচনা করবে।’



বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে যে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষে একটি বড় যুক্তি দেখানো হয়েছিল। যদি তারা নির্বাচনে না যায়। তাহলে বিএনপির অনেক প্রার্থী বিকল্প ধারা বা অন্যকোন দলে যোগ দিতে পারে। সেই যুক্তিতেই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। এবার উপজেলা নির্বাচনের আগে তারা বলেছে যে, এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন নয়। তখন যারা উপজেলা মনোনয়ন প্রত্যাশি বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। তারা অন্যদল খুঁজছে। ইতিমধ্যে তারা যোগাযোগ শুরু করেছে।’ বিএনপির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। তখন থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা হতাশ এবং যারা নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন তারা দলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এরাই এখন উপজেলা নির্বাচনে বিকল্প ধারা কিংবা জাতীয় পার্টির মতো অন্যান্য দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করার ব্যাপারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করুক না করুক, এই নির্বাচন ঘিরে যে বিএনপিতে একটা ভাঙ্গন হচ্ছে। তা নিশ্চিত।’

যোগাযোগ করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন , ‘আমরা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি না এটা নিশ্চিত।’ তবে তিনি বলেন যে, ‘কেউ যদি দল ত্যাগ করে বা দলের কথা অমান্য করে। শুধু নির্বাচনের লোভে চলে যায়। সেরকম লোককে বিএনপিতে দরকার নেই।’



থামছে না শ্রমিক বিক্ষোভ, সিদ্ধান্ত আসেনি, রোববার ফের বৈঠক

বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছেই। ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা গতকাল পঞ্চমদিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন। কোথাও কোথাও বিক্ষুব্ধদের রাস্তা থেকে সরাতে গিয়ে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। সকল গ্রেডে সমহারে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানীর মিরপুরে। কালশী এলাকায় সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন।



এ সময় কালশীসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যসহ জলকামান, সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়।

এরমধ্যেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মালিক মোশাররফ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ের শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যায়। এদিন বিক্ষোভ হয়েছে- সাভার, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে, যেসব গ্রেডে মজুরি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আগামী রোববার বৈঠকে সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে



স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, সাভার-আশুলিয়ায় টানা পঞ্চমদিনের মতো গতকালও বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। দাবি আদায়ে শ্রমিকরা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক ও বিশমাইল-জিরারো সড়কে অগ্নিসংযোগসহ অবরোধ করে। সকালে আশুলিয়ার বেরন ও কাঠগড়া এলাকায় এ সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। বেরন এলাকার শারমিন গ্রুপের এএম ডিজাইন কারখানার শ্রমিকরা কাজ না করে সড়কে বেরিয়ে আসে। এ সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় ডিজাইনার জিন্স, উইন্ডি গ্রুপ, স্টারলিংক, হলিউড ফ্যাশনসহ বিভিন্ন কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেয়।



একপর্যায়ে শ্রমিকরা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। পরে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রমিক ও পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। একপর্যায়ে বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের উপস্থিতিতে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। একই দাবিতে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় অবস্থান নিয়েও অগ্নিসংযোগ করে ৩ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে পোশাক শ্রমিকরা। খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপুর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শাহাদাত হোসেন নামে এক শ্রমিক বলেন, কারও ইন্ধনে নয়, ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই আমরা আন্দোলন করছি। মকবুল নামে অপর শ্রমিক বলেন, সরকার যদি গেজেট করে বেতন বৃদ্ধি করে তাহলে একেক কারখানায় বেতন একেক রকম কেন।



যেসব কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঠিকভাবে বেতন দিচ্ছে সে কারখানাতে তো কোনো আন্দোলন হচ্ছে না। সেখানে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবেই কাজ করছে। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক সানা শামিনুর রহমান বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় আশুলিয়ার কাঠগড়া ও জামগড়া এলাকায় শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়। শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে জানান, গাজীপুরে গতকাল তীব্র বিক্ষোভ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। ইটপাটকেলের আঘাতে ও পুলিশের লাঠিচার্জে বিভিন্নস্থানে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগরের ভোগড়া, মোগরখাল, বড়বাড়িসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।



বিকালে নগরের ইটাহাট এলাকার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি যানবাহন। শ্রমিকদের বিক্ষোভে দ্রুত আশপাশের বিভিন্ন গার্মেন্টের শ্রমিকরা অংশ নেন। এ সময় ইটাহাটা এলাকার কোস্ট টু কোস্ট কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শুরুতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ সময় এক নারী শ্রমিক আহত হলে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এ সময় লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে নারী শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে অবরোধ করে, তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, নগরের মোগরখাল এলাকায় বিসিএল কারখানার শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকালে কাজ করতে না চাইলে কর্তৃপক্ষ অপারেটর আল আমিনসহ কয়েকজন নারী শ্রমিককে মারধর ও গালাগাল করে। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করে। পরে মোগরখাল, ভোগড়াসহ আশপাশ এলাকার কারখানার শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভে অংশ নেয়। এই অবস্থায় আশপাশের এলাকার কমপক্ষে ১৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা দেয়া হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এসব শিল্প এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ফুঁসে উঠেছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পোশাক শ্রমিকরাও। শ্রমিক নেতারা বলছেন, ঢাকার পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামেও পোশাক শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। কিন্তু চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিক ও প্রশাসনের সহমর্মিতাসুলভ মনোভাবের কারণে শ্রমিকরা এখনো মাঠে নামেনি। তবে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেশিদিন ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই শ্রমিকদের দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার জোর দাবি জানান তারা।
চট্টগ্রাম ইপিজেড পোশাক শ্রমিক নেত্রী মরিয়ম খাতুন বলেন, ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে গার্মেন্টস মালিকরা চট্টগ্রামের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মালিকরা বলছেন, ঢাকার পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেন সেটা তারা মেনে চলবেন।


মজুরি কাঠামোর মূল সমস্যা চিহ্নিত, রোববার ফের বৈঠক

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে পর্যালোচনা কমিটির প্রথম বৈঠকেই মজুরি কাঠামোর মূল সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। মজুরি কাঠামোর সাতটি গ্রেডের মধ্যে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে। মালিক-শ্রমিক ও সরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ সমস্যা শনাক্ত করা হয়। গতকাল পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার জন্য গঠিত ১২ সদস্যের কমিটির প্রথম সভা শ্রম মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কমিটির আহ্বায়ক আফরোজা খান।



বৈঠক শেষে তিনি বলেন, যেহেতু সমস্যা শনাক্ত হয়েছে সেহেতু সমস্যা সমাধান করা যাবে। আগামী রোববার (১৩ই জানুয়ারি) কমিটির বৈঠক আবার বসবে। ওই বৈঠকে চিহ্নিত তিনটি গ্রেডের বিষয় সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সভা শেষে শ্রম সচিব বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি সাতটি গ্রেডের মধ্যে ১ ও ২ সম্পর্কে উনাদের মন্তব্য হচ্ছে সেখানে কোনো সমস্যা নেই। ৬ ও ৭ নম্বর গ্রেডেও কোনো সমস্যা নেই। শুধু ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে একটু অবজারভেশন আছে, সেটা আমলে নিয়েছি। তিনি বলেন, এখানে যেহেতু ক্যালকুলেশনের ব্যাপার আছে, সেজন্য আরো গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য আরো ছোট পরিসরে আগামী রোববার বসে সেটার সমাধান খুঁজে বের করব। কোথায় কীভাবে করলে সেই সমন্বয়টা আমরা করতে পারি। যাতে এই সমস্যা সমাধান হয়।

তিনি বলেন, কমিটিকে বিষয়টি সমাধানে এক মাসের সময় দেয়া হয়েছিল। ওই সময়ের আগেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে। সরকার যে শ্রমিকবান্ধব তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কারও বেতনই কমবে না। মজুরি কাঠামোর কারণে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে তা নয়, এর পেছনে অন্য ঘটনা রয়েছে যার একটি উদাহরণ উল্লেখ করে আফরোজা খান বলেন, মজুরি কাঠামোর চাইতে বেশি বেতন দেয়া হয় এমন একটি কারখানা ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, অর্থনীতির মূলভিত্তি হচ্ছে গার্মেন্টস খাত। এ খাতকে ধ্বংস করার জন্য একটি চক্র পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। এ কারণে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।



শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু বেতনই নয়, শ্রমিকরা যেকোনো সমস্যায় পড়লে একটি হটলাইন নম্বর চালু করবে শ্রম অধিদপ্তর। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সেই নম্বরে ফোন দিয়ে শ্রমিকরা তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন। সমস্যার যাতে তাৎক্ষণিক সমাধান হয় তার ব্যবস্থাও থাকবে। নম্বরটি শিল্প অঞ্চলে মাইকিং করে জানানো হবে।’

বৈঠকে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ তৈরিপোশাক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শিদীসহ গার্মেন্টস মালিক, শ্রমিক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা কমিটির ১২ সদস্যের মধ্যে ১০ জন উপস্থিত ছিলেন।
গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জার্মান রাষ্ট্রদূতের



বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছেই। ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা গতকাল পঞ্চমদিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন। কোথাও কোথাও বিক্ষুব্ধদের রাস্তা থেকে সরাতে গিয়ে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। সকল গ্রেডে সমহারে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানীর মিরপুরে। কালশী এলাকায় সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন

এ সময় কালশীসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যসহ জলকামান, সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়।

এরমধ্যেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মালিক মোশাররফ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ের শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যায়। এদিন বিক্ষোভ হয়েছে- সাভার, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে, যেসব গ্রেডে মজুরি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আগামী রোববার বৈঠকে সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।



স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, সাভার-আশুলিয়ায় টানা পঞ্চমদিনের মতো গতকালও বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। দাবি আদায়ে শ্রমিকরা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক ও বিশমাইল-জিরারো সড়কে অগ্নিসংযোগসহ অবরোধ করে। সকালে আশুলিয়ার বেরন ও কাঠগড়া এলাকায় এ সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। বেরন এলাকার শারমিন গ্রুপের এএম ডিজাইন কারখানার শ্রমিকরা কাজ না করে সড়কে বেরিয়ে আসে। এ সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় ডিজাইনার জিন্স, উইন্ডি গ্রুপ, স্টারলিংক, হলিউড ফ্যাশনসহ বিভিন্ন কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেয়।



একপর্যায়ে শ্রমিকরা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। পরে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রমিক ও পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। একপর্যায়ে বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের উপস্থিতিতে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। একই দাবিতে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় অবস্থান নিয়েও অগ্নিসংযোগ করে ৩ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে পোশাক শ্রমিকরা। খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপুর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শাহাদাত হোসেন নামে এক শ্রমিক বলেন, কারও ইন্ধনে নয়, ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই আমরা আন্দোলন করছি। মকবুল নামে অপর শ্রমিক বলেন, সরকার যদি গেজেট করে বেতন বৃদ্ধি করে তাহলে একেক কারখানায় বেতন একেক রকম কেন।



যেসব কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঠিকভাবে বেতন দিচ্ছে সে কারখানাতে তো কোনো আন্দোলন হচ্ছে না। সেখানে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবেই কাজ করছে। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক সানা শামিনুর রহমান বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় আশুলিয়ার কাঠগড়া ও জামগড়া এলাকায় শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়। শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে জানান, গাজীপুরে গতকাল তীব্র বিক্ষোভ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। ইটপাটকেলের আঘাতে ও পুলিশের লাঠিচার্জে বিভিন্নস্থানে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগরের ভোগড়া, মোগরখাল, বড়বাড়িসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বিকালে নগরের ইটাহাট এলাকার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি যানবাহন। শ্রমিকদের বিক্ষোভে দ্রুত আশপাশের বিভিন্ন গার্মেন্টের শ্রমিকরা অংশ নেন। এ সময় ইটাহাটা এলাকার কোস্ট টু কোস্ট কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শুরুতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ সময় এক নারী শ্রমিক আহত হলে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এ সময় লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে নারী শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে অবরোধ করে, তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে।



বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, নগরের মোগরখাল এলাকায় বিসিএল কারখানার শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকালে কাজ করতে না চাইলে কর্তৃপক্ষ অপারেটর আল আমিনসহ কয়েকজন নারী শ্রমিককে মারধর ও গালাগাল করে। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করে। পরে মোগরখাল, ভোগড়াসহ আশপাশ এলাকার কারখানার শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভে অংশ নেয়। এই অবস্থায় আশপাশের এলাকার কমপক্ষে ১৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা দেয়া হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এসব শিল্প এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ফুঁসে উঠেছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পোশাক শ্রমিকরাও। শ্রমিক নেতারা বলছেন, ঢাকার পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামেও পোশাক শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। কিন্তু চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিক ও প্রশাসনের সহমর্মিতাসুলভ মনোভাবের কারণে শ্রমিকরা এখনো মাঠে নামেনি। তবে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেশিদিন ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই শ্রমিকদের দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার জোর দাবি জানান তারা।
চট্টগ্রাম ইপিজেড পোশাক শ্রমিক নেত্রী মরিয়ম খাতুন বলেন, ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে গার্মেন্টস মালিকরা চট্টগ্রামের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মালিকরা বলছেন, ঢাকার পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেন সেটা তারা মেনে চলবেন।



মজুরি কাঠামোর মূল সমস্যা চিহ্নিত, রোববার ফের বৈঠক

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে পর্যালোচনা কমিটির প্রথম বৈঠকেই মজুরি কাঠামোর মূল সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। মজুরি কাঠামোর সাতটি গ্রেডের মধ্যে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে। মালিক-শ্রমিক ও সরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ সমস্যা শনাক্ত করা হয়। গতকাল পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার জন্য গঠিত ১২ সদস্যের কমিটির প্রথম সভা শ্রম মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কমিটির আহ্বায়ক আফরোজা খান।



বৈঠক শেষে তিনি বলেন, যেহেতু সমস্যা শনাক্ত হয়েছে সেহেতু সমস্যা সমাধান করা যাবে। আগামী রোববার (১৩ই জানুয়ারি) কমিটির বৈঠক আবার বসবে। ওই বৈঠকে চিহ্নিত তিনটি গ্রেডের বিষয় সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সভা শেষে শ্রম সচিব বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি সাতটি গ্রেডের মধ্যে ১ ও ২ সম্পর্কে উনাদের মন্তব্য হচ্ছে সেখানে কোনো সমস্যা নেই। ৬ ও ৭ নম্বর গ্রেডেও কোনো সমস্যা নেই। শুধু ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে একটু অবজারভেশন আছে, সেটা আমলে নিয়েছি। তিনি বলেন, এখানে যেহেতু ক্যালকুলেশনের ব্যাপার আছে, সেজন্য আরো গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য আরো ছোট পরিসরে আগামী রোববার বসে সেটার সমাধান খুঁজে বের করব। কোথায় কীভাবে করলে সেই সমন্বয়টা আমরা করতে পারি। যাতে এই সমস্যা সমাধান হয়।

তিনি বলেন, কমিটিকে বিষয়টি সমাধানে এক মাসের সময় দেয়া হয়েছিল। ওই সময়ের আগেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে। সরকার যে শ্রমিকবান্ধব তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কারও বেতনই কমবে না। মজুরি কাঠামোর কারণে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে তা নয়, এর পেছনে অন্য ঘটনা রয়েছে যার একটি উদাহরণ উল্লেখ করে আফরোজা খান বলেন, মজুরি কাঠামোর চাইতে বেশি বেতন দেয়া হয় এমন একটি কারখানা ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, অর্থনীতির মূলভিত্তি হচ্ছে গার্মেন্টস খাত। এ খাতকে ধ্বংস করার জন্য একটি চক্র পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। এ কারণে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।



শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু বেতনই নয়, শ্রমিকরা যেকোনো সমস্যায় পড়লে একটি হটলাইন নম্বর চালু করবে শ্রম অধিদপ্তর। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সেই নম্বরে ফোন দিয়ে শ্রমিকরা তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন। সমস্যার যাতে তাৎক্ষণিক সমাধান হয় তার ব্যবস্থাও থাকবে। নম্বরটি শিল্প অঞ্চলে মাইকিং করে জানানো হবে।’

বৈঠকে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ তৈরিপোশাক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শিদীসহ গার্মেন্টস মালিক, শ্রমিক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা কমিটির ১২ সদস্যের মধ্যে ১০ জন উপস্থিত ছিলেন।
গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জার্মান রাষ্ট্রদূতের



আন্দোলনরত গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোলজ। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেয়ার জন্য তিনি কারখানা মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এক টুইটে তিনি গতকাল এসব কথা বলেছেন বলে খবর দিয়েছে ডেইলি স্টার।

টুইটে তিনি লিখেছেন, আন্দোলনরত গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর পুলিশের দমনপীড়ন চালানো উচিত নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমঝোতা। তা করতে হবে কারখানা মালিকদের। ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ দিন। দুর্ঘটনা বা অ্যাক্সিডেন্ট বিষয়ক ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠা করুন। সরকারের আড়ালে থাকবেন না। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ক্রেতা দেশ জার্মানি। এক্ষেত্রে প্রথম অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

সুত্রঃ mzamin.com

‘ভোটে অনিয়মের’ তথ্য বিএনপি কার্যালয়ে জমা দিলেন ধানের শীষের ১২০ প্রার্থী

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১২০ জন প্রার্থী নির্বাচনে ‘অনিয়মের’ তথ্য বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে তারা নির্বাচনের আগে যেসব নেতাকর্মী গ্রেফতার, সহিংসতায় আহত, নিহত হয়েছেন তাদের তালিকা দিয়েছেন। একইসঙ্গে নির্বাচনের আগের রাতে এবং ভোটের দিন যেসব ভোট কেন্দ্রে ‘অনিয়ম’ হয়েছে তার ভিডিও এবং লিখিত বর্ণনাও দিয়েছেন প্রতিবেদনে। বিএনপির কার্যালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।



গত ৩ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয় ধানের শীষের প্রার্থীদের। চিঠিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ৮টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচনের ‘অনিয়মের’ তথ্য সাত দিনের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রার্থীদের নিজের ও পরিবারের অবরুদ্ধ হয়ে পড়া কিংবা হামলায় আহত, সহায় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য ও ছবি, নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় সংঘটিত অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি, সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তাণ্ডব এবং সন্ত্রাসের একটি সচিত্র প্রতিবেদন ইত্যাদি চাওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ১০ জানুয়ারি ছিল প্রতিবেদন জমা দেওয়া শেষ দিন। আজ বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১২০ জন প্রার্থী সেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।



এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার রাতে রুহুল কবির রিজভী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখন পর্যন্ত ১২০ জন প্রার্থী সেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ডাক যোগে চিঠি পাঠানোর কারণে অনেক প্রার্থী দেরিতে চিঠি পেয়েছেন, এই কারণে সব প্রার্থী এখনও প্রতিবেদন জমা দেননি। আশা করি ১-২ দিনের মধ্যে সবাই জমা দিয়ে দেবেন।

চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা গত ৮ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। লিখিত প্রতিবেদন এবং সিডি জমা দিয়েছি।



বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, সব প্রতিবেদন জমা হলে তার ওপর ভিত্তি করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এছাড়া যেসব প্রার্থী ভিডিও চিত্র জমা দিচ্ছেন সেইগুলো একসঙ্গে করে একটি তথ্য চিত্র তৈরি করা হবে। এরপর এগুলো সংবাদ সম্মেলনে করে গণমাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এরপর ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হবে। এছাড়া দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোকে জানানো হবে।

সূত্র আরও জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থী নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। মামলার সময় প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনের প্রতিবেদনের পাশাপাশি ভোটের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে সব আসন নিয়ে তৈরি করা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও জমা দেবেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগে সব প্রতিবেদন জমা হোক। তারপর আমরা চিন্তা-ভাবনা করবো এইগুলো কোন কাজে লাগাবো।



তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য একজন সদস্য বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ‘অনিয়মের’ ঘটনাগুলোর আংশিক অডিও ও ভিডিও গত ৬ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এখন সব প্রার্থী প্রতিবেদন জমা দিলে আবার এই নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফ করা হবে।

প্রসঙ্গত: একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২৮১ জন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ২৫৬ জন। বাকিরা ছিলেন শরিক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী। এরমধ্যে ধানের শীষ নিয়ে ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন।

সুত্রঃ ‌বাংলা ট্রিবিউন



ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে হেরে যা বললেন আ’লীগ নেতা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মো: মঈনউদ্দিন মঈন আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হাজি সফিউল্লাহ মিয়াসহ পাঁচ নেতার বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের কাছে পরাজিত হন।



বুধবার রাত ৮টায় ফলাফল ঘোষণার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হাইওয়ে রেস্তোরা উজান ভাটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে মঈনউদ্দিন মঈন এই দাবি করেন।

এ সময় তিনি আগামী সাত দিনের মধ্যে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম তালুকদারের অপসারণেরও দাবি জানান তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে পরাজিত প্রার্থী মঈন বলেন, আমি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তবু আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হাজি সফিউল্লাহ মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ মুন্সি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান রতন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান আনসারি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহজাহান আলম সাজু বিভিন্ন সময়ে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা ও বিএনপির প্রার্থী আবদুস সাত্তারকে জয়ী করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন।

‘পাশাপাশি যখন আমি ভোটের ব্যবধানের কাছাকাছি চলে আসলাম তখনই বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য তারা প্রকাশ্যে দলীয় নেতাকর্মীকে হুমকিধামকি দেওয়া শুরু করেন। যদিও আমাকে নির্বাচনের মাঠে তারাই প্রতিশ্রুতি দিয়ে নামিয়েছেন। তাই তাদের প্রত্যেককে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাই। অন্যদিকে আশুগঞ্জ থানার ওসি বিএনপির বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে সহযোগিতা করলেও আমার নেতাকর্মীদের উঠান বৈঠকেও বাধা দিয়েছেন।’



বিএনপি ও জামায়াতের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ওসি তাকে নির্বাচনে পরাজিত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে ওসিকে অপসারণ না করা হলে অনশনসহ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ করা হবে।

সবশেষে মঈন উদ্দিন বিজয়ী প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভইয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে যেকোনো কাজে তাঁকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাছের আহমেদ, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজি আমির হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আশুগঞ্জ উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটে। সেদিন কেন্দ্রগুলোর ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।



সেদিন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মঈন উদ্দিনের চেয়ে ১০ হাজার ১৫৯ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকে পড়েছিল ৮২ হাজার ৭২৩ ভোট। আর মঈন উদ্দিনের কলার ছড়ি প্রতীকে পড়েছিল ৭২ হাজার ৫৬৪ ভোট।

তিন কেন্দ্রের মোট ভোটার ১০ হাজার ৫৭২ জন। এর মধ্যে যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিন হাজার ৮৪০ জন, সোহাগপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিন হাজার ১৫ জন ও বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিন হাজার ৭১৭ জন। এই তিন কেন্দ্রে বুধবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা।



গণনা শেষে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ফলাফল ঘোষণা অনুযায়ী, তিন কেন্দ্রে মোট ভোট পড়ে ৪ হাজার ২৮৯টি। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে পড়ে ১ হাজার ২৭৪টি ভোট, কলার ছড়ি প্রতীকে পড়ে ২ হাজার ৮৫৫ ভোট ও বর্তমান সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা সিংহ প্রতীকে পান ১০১ ভোট। এতে বিএনপি প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভুইয়া নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৮ হাজার ৫৭৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।

সুত্রঃ http://m.dailynayadiganta.com/detail/news/379502



টেরই পেলাম না যে ভোট হয়ে যাচ্ছে: কামাল

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলার এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিজের দল গণফোরামের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপিকে নিয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্ট গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আটটি আসনে জিতেছে, অধিকাংশ আসনে তাদের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি ও তাদের জোটকে জনগণই ভোট দেয়নি।



কামাল সরকারের উদ্দেশে বলেন, “৩০ ডিসেম্বর যেটা হয়েছে, এটাকে কি অবাধ নির্বাচন হয়েছে কেউ বলবে? আসুন বছরের প্রথম দিকেই সঙ্কট সৃষ্টি না করে সবার সঙ্গে জাতীয় সংলাপ করুন।

“সংলাপের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হোক, কীভাবে আমরা সংবিধানকে মেনে নির্বাচন করে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠন করব।”

সবাইকে নিয়ে একটি সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট; তবে তা কবে হবে, সেই দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।

ভোট নিয়ে কামাল বলেন, “আমি ভাবতে পারিনি ৩০ ডিসেম্বরের যে ঘটনা, সেটা ৪৮ বছরের পরে এটা দেখতে হচ্ছে। আমি তো সরলভাবে বলেছিলাম, ভাই সকালে সকালে গিয়ে ভোট দেবেন। টেলিভিশন বলছে, কামাল হোসেন বুঝতে পারছেন না ঘটনা তো রাতেই ঘটে গেছে। ২৯ তারিখ রাতেই।”

অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের অভিযোগ, ভোটের আগের রাতেই পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ব্যালটবাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছিল।



৩০ ডিসেম্বর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছিলেন কামাল হোসেন ৩০ ডিসেম্বর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছিলেন কামাল হোসেন

কামাল বলেন, “যেভাবে হল আমরা কেউ টেরও পেলাম না যে আমাদের ভোট হয়ে যাচ্ছে। এটা কেন এভাবে করতে হবে? এরকম অস্বাভাবিক কাজ কেন হচ্ছে? এর থেকে ঘোষণা দিয়ে দেন- থার্ড টার্মের জন্য একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন, তিনশ সদস্য সাংসদ হয়ে গেছেন।”

“এটা খেলা না কি? ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে কি খেলা করা যায়? রাষ্ট্র নিয়ে এভাবে খেলা করা চলে না। যারা এসব করছে, তারা না বুঝে করছে। আমি মনে করি, মানসিকভাবে ভারসাম্য না হারালে কেউ এসব করতে পারে না।”

কামাল বলেন, “নির্বাচনে সরাসরি মানুষ ভোট দেবে, ফলাফল হবে। এটা অন্য কোনো কায়দায় নিলে তা দেশে স্থিতিশীলতা আনে না, বৈধতাও আনে না। এই ধরনের চালাকির অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধু বলতেন রাজ চালাকি। আমরা রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছি রাজ চালাকিতে।

“আমি বলব, ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে, সেটা রাজ চালাকির একটা সুন্দর উদাহরণ। আমরা বলব, রাজ চালাকি থেকে বিরত থাকুন, জনগণের সামনে সব কিছু তুলে ধরুন। সংবিধান অনুযায়ী, আলাপ-আলোচনা করে যা করার করুন।”



জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই আলোচনা সভা হয়।

এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা কামাল বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শীমূলক বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।

বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী কামাল এবার বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন করে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ নেতাদের চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলোচনা সভা করে গণফোরাম বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলোচনা সভা করে গণফোরাম
সভায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, “আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এক বিষয় নয়। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা সমর্থক, এটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা উপলব্ধি করা যাবে না। তিনিই দেশের স্থপতি।”



বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজকে ৩০ ডিসেম্বর অতি ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্রকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, সারাদেশে নারীদের যেভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) করা হয়েছে, মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ, বিবেক ক্ষত-বিক্ষত। পৃথিবীর ইতিহাসে এই ধরনের বর্বর, উলঙ্গ ভোট ডাকাতির নির্বাচন আর কোথাও হয়েছে বলে আমি শুনিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি দল ও ব্যক্তির ক্ষমতা হয়, সেটা জনগণ চায় না।”

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, “আজকে আওয়ামী লীগ প্রতিদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করছে, তার আদর্শকে হত্যা করছে, সংবিধানকে হত্যা করছে। মুখে অনর্গল মিথ্যাচারে মানুষকে প্রতারণা করছে।

“সর্বশেষ যে নির্বাচন হয়ে গেল, সেটা নির্বাচন বলবেন না নির্যাতন বলবেন? না কি ১৭ কোটি মানুষের সাথে প্রতারণা বলবেন। কী প্রতারণা করল! জনগণকে আর ভোট দিতে হয় নাই। দিনের ভোট রাতেই হয়ে গেছে।”



গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, “৩০ ডিসেম্বর কেমন নির্বাচন হয়েছে, এটার ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে যে কোনো জায়গায় এমন কোনো লোক পাই না যে বলে আমি ভোট দিতে পেরেছি। আর যে বলে আমি ভোট দিতে পেরেছি, সে দুইশর উপরে ভোট দিয়েছে। এটা জাতির সাথে মস্করা, তামাশা।

“স্বৈরাচার কাকে বলে, কত প্রকার, কি কি, যদি আইয়ুব খান জীবিত থাকত, তাহলে সে লজ্জায় ভেগে চলে যেত। এত বড় স্বৈরাচার বিশ্বের বোধহয় কোথাও নেই।”

সভায় গণেফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাইয়িদ, আমসাআ আমিন, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক, আসাদুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।



ভোটের রাতে ধর্ষণ: আরও একজন কুমিল্লায় গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার হেঞ্জু মাঝি (২৯) সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে।

শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আবুল খায়ের জানান।



গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

চরজব্বার থানায় ওই নারীর স্বামীর দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা তার বসতঘরে ভাংচুর করে, ঘরে ঢুকে বাদীকে পিটিয়ে আহত করে এবং সন্তানসহ তাকে বেঁধে রেখে দলবেঁধে ধর্ষণ করে তার স্ত্রীকে।

এ মামলার এজাহারে আসামি না হলেও পুলিশের তদন্ত এবং আসামিদের জবানবন্দিতে হেঞ্চুর জড়িত থাকার প্রমাণ উঠে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাকে নিয়ে এ মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।



ওসি বলেন, “ঘটনার পর হেঞ্চু এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বাসের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করে। গোপন খবরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।”

হেঞ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান। জানান।

ওই নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গপাঙ্গরা’ বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।



মামলার এজাহারে মোট নয়জনকে আসামি করা হলেও সেখানে চর জুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য রুহুল আমিনের নাম না থাকায় বুধবার রাতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকের কাছে হতাশা প্রকাশ করেন ওই নারী। এরপর সেই রাতেই জেলা সদরের একটি হাঁস-মুরগীর খামার থেকে রুহুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই নারীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে জানিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। নোয়াখালী হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

এ মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাদশা আলম বাসু, রুহুল আমিন, জসিম উদ্দিন, হাসান আলী ভুলু, মো. সোহেল, স্বপন, বেচু ও মুরাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।



বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে এরশাদকে স্পিকারের ‘স্বীকৃতি’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমোদন দিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, কার্যপ্রণালি বিধি ও এ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী স্পিকার এ অনুমোদন দিয়েছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর টানা তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ।



সেদিন ভোট হওয়া ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৭টি আসন পায়। আর তাদের জোটসঙ্গীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ২২টি এবং শরিক অন্য দলগুলো আটটি আসন পায়।

অন্যদিকে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সব মিলিয়ে সাতটি আসন পাওয়ায় তাদের সংসদে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের নির্বাচিতরা গত ৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপি ও তাদের শরিকরা শপথ না নেওয়ার কথা বলে আসছে।



গতবার বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভাতেও ছিল জাতীয় পার্টি। এ কারণে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ আখ্যা পেতে হয়েছিল এরশাদের দলকে। এবার জাতীয় পার্টি বা মহাজোটের শরিক অন্য কোনো দলের কেউ আওয়ামী লীগের সরকারে জায়গা পায়নি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ গত ৪ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে জানান, তার দল নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা নেবে। ‘পদাধিকার বলে’ তিনিই হবেন জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি দলের সভাপতি এবং প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা। আর দলের কো চেয়াম্যান জি এম কাদের হবেন উপনেতা।



সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা মন্ত্রী এবং উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। ‘বিরোধী দলীয় নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) অধ্যাদেশে তাদের সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ করা রয়েছে। সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেতা ও উপনেতার পৃথক কার্যালয়ও রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদে ‘সরকারি দলের বিরোধীতাকারী’ সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত সংসদীয় দলের নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিরোধী দলের নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে রিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ‘স্বীকৃতি’ প্রদান করেছেন।



‘আমার জন্য রাস্তায় শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না’

মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের এমপি ডা. এনামুর রহমান। সোমবার ৪৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভার অন্যান্য প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন তিনি। তাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই মন্ত্রণালয়ে কোনো পূর্ণমন্ত্রী না থাকায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাকেই পুরো দায়িত্ব চালিয়ে নিতে হবে। শপথ গ্রহণের উদ্দেশ্যে বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে ডা. এনামুর রহমান দলীয় এবং জনসাধারণের কাছে ফেসবুকে অন্যরকম অনুরোধ করেছেন।



তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

তিনি শুরুতেই লিখেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমার কিছু অনুরোধ-

অনূগ্রহপূর্বক আমাকে কোনো ক্রেস্ট, ফুলের তোড়া, নৌকা, রূপা বা পিতলের তৈরি নৌকার রেপ্লিকা, কোট পিন, কোন মানপত্র বা উপঢৌকন প্রদান করবেন না।

মানপত্রে লেখা থাকে, ‘হে মহান অতিথি, তোমার আগমনে ফুল, লতাপাতা, গুল্ম আজ আনন্দে আত্মহারা’ – এই ধরনের শব্দ ঢাহা মিথ্যা কথা। হাস্যকর। মানপত্রে যেসব তোষামোদপূর্ণ বাক্যের বর্ণনা থাকে তার ৯৫ ভাগই মিথ্যা, ভিত্তিহীন।



আমার জন্য রাস্তায় শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। একেবারেই না।

কোথাও কোনো শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখলে আমি সেই অনুষ্ঠান বয়কট করব এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করব।

কোনো প্রতিষ্ঠান, সমিতি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ‘পাবলিক মানি’ ব্যয় করে আমাকে স্বাগত জানিয়ে কোনো গেট বা তোরণ নির্মাণ করা যাবে না।



কোন অনিয়ম বা অবৈধ কাজের তদবির করা যাবে না।

কোন অনুষ্ঠানে অযথা বিপুল অর্থ ব্যয় করে স্টেজ বানাবেন না। অনূগ্রহপূর্বক কৃচ্ছতা সাধন করবেন। অযথা অর্থের অপচয় থেকে বিরত থাকবেন।

অনূগ্রহপূর্বক কোন অনুষ্ঠানে আপ্যায়নের নামে শিক্ষার্থী বা জনগণের টাকায় রকমারি খাবারের আয়োজন করা যাবে না।

মনে রাখবেন, আমি আপনাদের সেবক। জনগণের দয়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধি। আপনারা সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে আমাকে সংসদে পাঠিয়েছেন বলেই আমি আজ প্রতিমন্ত্রী। দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে শপথগ্রহণ করেছি। আপনারা আমার জন্যে দোয়া করবেন। আমি যেন আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে পারি। জয় বাংলাজয় বঙ্গবন্ধু