ধানের শীষে ভোট করবে ঐক্যফ্রন্টের সব শরিক

শরিক দল বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক জোটের আরেক শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। চলমান রাজনীতি ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে রাজধানীর মতিঝিলে ঐক্যফ্রন্টের গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঐক্যফ্রন্ট একটি ‘কমন’ প্রতীকে নির্বাচন করবে। আর সেই প্রতীক হবে ধানের শীষ।

গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে মান্না বলেন, নির্বাচন কমিশনের অসতর্কতায় নয়া পল্টনে গতকালের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মান্না আরও বলেন, সরকার যেকোন উপায়ে নির্বাচনকে নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছে। আসন বন্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়নি।

বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, জোটের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ৩৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

নয়া পল্টনে দলীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার তিন মামলায় বিএনপির ৩৮ নেতা-কর্মীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
আরও ২৭ জনকে তিন দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করতে হবে সাত দিনের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

মামলা তিনটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুজন কুমার তালুকদার, শেখ মো. জসিম উদ্দিন এবং কাজী আশরাফুল হক আসামিদের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন করেন বিএনপির আইনজীবী নেতা খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বুধবার নয়া পল্টনে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। তারা তিনটি গাড়িতে আগুন দেয়া ছাড়াও ভাঙচুর করে। যদিও বিএনপি দাবি করেছে, যারা আগুন দিয়েছে তারা বিএনপির কেউ নয়, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মী।

তবে রাতেই পুলিশ পল্টন থানায় মোট তিনটি মামলা করে, আসামি করা হয় ৪৮৮ জনকে। আর গ্রেপ্তার করা হয় ৬৫ জনকে। পরে ধরা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুন রায়কেও।

এই ৬৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়ার আবেদনে বলা হয়, বুধবার বেলা ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে হকস বে নামে গাড়ির বিক্রয়কেন্দ্রের উত্তর পাশে রাস্তায় পুলিশের ওপর আক্রমণ হয়। আসামিরা বিএনপির কার্যালয় থেকে লাঠি-সোটা নিয়ে রাস্তায় দাঙ্গা করে এবং পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এতে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা, দুজন আনসার সদস্যসহ ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হন।

আসামিদের জামিন শুনানিতে মাহবুব হোসেন বলেন, ‘এই সরকারই শেষ সরকার নয়, আরও সরকার আসবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আসামিদের জামিন দিন। দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আইনজীবী, সেনাবাহিনী এর দায়ভার নেবে না। নিতে হবে সরকারকে। তাই জামিন দিয়ে আজ নজির স্থাপন করুন।’

যারা নিমান্ডে

সাবেক ছাত্রদল নেতা মনোজ সরকার, নেত্রকোণা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, ছাত্রদল নেতা ফাহিম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান, ছাত্রদল নেতা উৎপল সরকার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুফিয়ান, জাকির হোসেন, হানিফ উদ্দিন ওরফে রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহসিন হল শাখা ছাত্রদল নেতা মাহবুব মিয়া, আনিসুর রহমান, ছাত্রদলের সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান তালুকদার, মাইনুল হাসান মোহন, আনোয়ারুল হক ও মোহাম্মদ সুরুজ ম-ল ।

যাদের জিজ্ঞাসাবা জেলগেটে

আনিছুজ্জামান খান বাবু, নিজাম উদ্দিন, হারুন অর রশিদ, কাহারুল আলম বাহার, আলমগীর হোসেন, তারিকুল ইসলাম, হোসেন আহম্মদ, আরিফুজ্জামান, খায়রুল কবির কাজল, মুসা আহম্মেদ, আবু বক্কও সিদ্দিক, এসএম নাজমুল হোসেন, মাসুদ রানা, কেএম তারিকুল ইসলাম আরিফ, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে শামীম, রকিব আল মান্নান, সাইফুল আলম গজনবী চয়ন, ছাত্রদল নেতা মোখসেদ আলম জুয়েল, নেত্রকোণা জেলা ছাত্রদল সভাপতি ফরিদ হোসেন বাবু, ছাত্রদল নেতা রুবেল বেপারী, নাগরপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহব্বায়ক ইকবাল কবির,

২৭নং ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিপু, দারুসসালাম থানার ৯ নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন স্বপন, চাঁদপুরের দক্ষিণ মতলব থানা থানার কাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বাায়ক জিলানী তালুকদার, একই ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মজুমদার, বিএনপি সদস্য মো. সোহাগ ও জামায়াতের রোকন জাহিদুল ইসলাম মামুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

গয়েশ্বরের পুত্রবধূ নিপুণ রায় আটক

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুণ রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা আটক করেছিল জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বেবী নাজনীনকেও। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগর মোড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন। ঢাকা টাইামসকে তিনি জানান, দুই জনকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

পরে রাত পৌনে নয়টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার খোন্দকার নুরুন্নবী জানান, তারা নিপুন রায়কে পল্টন থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন। ছেড়ে দিয়েছেন বেবী নাজনীনকে।

আগের দিন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে তাড়া করেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। এ সময় নিপুন রায় লাঠি হাতে বেরিয়ে আসেন।

বিএনপি অবশ্য দাবি করেছে, তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর বেপরোয়া আক্রমণ করেছে পুলিশ। আর যারা গাড়িতে আগুন দিয়েছে তারা বিএনপির কেউ নয়। তারা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্য।

তবে পুলিশ এরই মধ্যে আগুন দেয়ার ঘটনায় ছবি আসা যুবককে পল্টন থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে নিশ্চিত করেছে। ভিডিও দেখে আরও ৩০ জনের বেশি শনাক্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।

এই ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আসামি করে পুলিশ তিনটি মামলা করেছে, আসামি করা হয়েছে ৪৮৮ জনকে। বুধবার রাতে পল্টন থানায় এই মামলাগুলো করা হয়।

এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় ৬৮ জন। তাদেরকে পাঁচদিনের রিমান্ডে দেয়া হয়েছে।

কাদের সিদ্দিকীর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল আতাউল মাহমুদ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে নির্বাচনী আলোচনা এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের লড়াই নিয়ে। ঐক্যফ্রন্টের সম্ভাবনাময় প্রার্থী বাঘা সিদ্দিকী খ্যাত কাদের সিদ্দিকর সাথে সিংহ হয়ে লড়ে তাকে হারাতে চাইছেন, বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে আ’লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক আওয়ামী লীগের সম্ভাবনাময় প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ।

কাদের সিদ্দিকী এক সময় আওয়যামী লীগে ছিলেন, দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্যও হয়েছিলেন তিনি। পরে আ’লীগের সাথে মতপার্থক্য ও টানাপোড়নে দল থেকে বের হয়ে যান তিনি। নিজেই গঠন করেন কৃষক শ্রমিক লীগ নামে রাজনৈতিক দল।

সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জোট করে নিবার্চন করার সম্ভাবনাও ছিল তার। পরে তাও আর হয়ে ওঠেনি। সর্বশেষ তিনি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিকল্প ধারার বি. চৌধুরীকে ছাড়াই বিএনপি, গণফোরাম ও সমমনা দলগুলো নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেন। আর এই ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ায় বাসাইল-সখীপুরে বিএনপির সাথে এক হয়ে কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন করতে যাচ্ছেন এমনটাই আলোচনা এখন দুই উপজেলার সর্বত্র।

এ দিকে ঐক্যফ্রন্টের সম্ভাবনাময় প্রার্থী কাদের সিদ্দিকী হওয়ায় এ আসনটিতে কে হবেন নৌকার মাঝি তা নিয়ে এখন মানুষের মধ্যে কল্পনা-জল্পনার শেষ নেই। বিএনপিকে সাথে নিয়ে নির্বাচন করা কাদের সিদ্দিকীর সাথে আ’লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলে এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাটি হলেও আ’লীগ প্রার্থীর জয় লাভ অনেকটা কঠিন হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এমতাবস্থায় বাঘা সিদ্দিকী খ্যাত কাদের সিদ্দিকীর সাথে সিংহের মতো লড়ে তাকে পরাজিত করতে চাইছেন আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ। তিনি সব সময় ঘোষণা দিয়ে আসছেন যে এ আসনটিতে আমাকে মনোনীত করলে আমিই পারবো রেকর্ড সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে তাকে পরাজিত করতে।

বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে আ’লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে আ’লীগের নির্বাচন পর্যবেক্ষক সম্বনয় উপ-কমিটির সদস্য হয়েছেন, উন্নয়ন প্রচার, বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য বাসাইল-সখীপুরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।

সাধারণ ভোটারর অনেকেই মনে করছেন এই একাদশ জাতীয় নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে আ’লীগ থেকে তিনিই মনোনয়ন পাবেন এবং দলীয় সব নেতাকর্মী সাথে নিয়ে কাজ করতে পারবেন এবং কাদের সিদ্দিকীর সাথে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে একমাত্র আতাউল মাহমুদই পারবে আওয়ামী লীগের জয় ছিনিয়ে এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে।

সরকারী দলের সুরে সুর মিলিয়ে বি চৌধুরী বললেন নির্বাচন পিছানো ঠিক হবেনা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সুরে মিলিয়ে যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, সারা দেশে এখন নির্বাচনের আমেজ চলছে। তাই এ মুহূর্তে আর নির্বাচন পেছানো ঠিক হবে না। নির্বাচন পেছালে মানুষের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হবে।

গত ৮ নভেম্বর আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ দলই নির্বাচন পেছানোর দাবি জানান। আর ঐক্যফ্রন্ট একমাস পেছানোর দাবি জানায়। এর পাশাপশি যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি বি চৌধুরীও এক সপ্তাহ পেছানোর দাবি করেন। পরবর্তীতে ইসি এক সপ্তাহ পেছালেও ঐক্যফ্রন্ট একমাস পেছানোর দাবিতে অনড় তারা।

এদিকে গতকাল আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ইসির সাথে বৈঠক করে বের হওয়ার পর বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের পর নির্বাচন আসম্ভব, আর একঘন্টা পেছাতে রাজি নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।এর ধারাবহিকতায় বি চৌধুরী বললেন এ মুহূর্তে আর নির্বাচন পেছানো ঠিক হবে না। নির্বাচন পেছালে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হবে।

বুধবার দুপুরে বারিধারায় বি চৌধুরী নিজের বাসভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেকের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল তার সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বি চৌধুরী বলেন, নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনে যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের যে ঘটনা ঘটেছে এটি নির্বাচনকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আনন্দ উৎসবে নেতা-কর্মীরা কেন লাঠি নিয়ে আসবে? কেন যানবাহনে আগুন দেবে? এগুলো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুতবিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এইমাত্র পাওয়াঃ বিএনপির উপর অ্যাকশনের নির্দেশ পুলিশের উপেক্ষা

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন সংগ্রহের তৃতীয় দিন বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে আসা কর্মীদের রাস্তা থেকে সরাতে গেলে সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ।

দুপুর একটার পর থেকে প্রায় এক ঘন্টা ধরে চলমান এই সংঘর্ষে পুরো নয়াপল্টন এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় ১৩ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় অন্তত অর্ধশতাধিক। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন দেয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিপরীতে পুলিশকে খুবই নমনীয় মনে হয়েছে। নেতাকর্মীদের উপর পুলিশকে তেমন কঠোর হতে দেখা যায় নি। পুলিশের নাগের ডগায় বিএনপি নেতাকর্মীরা আক্রমণাত্মক স্লোগান দিলেও তারা অ্যাকশনে যায়নি। যা পুলিশের গত ১০ বছরের চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। একাদশ নির্বাচনের দেড়মাস আগে পুলিশের এমন ভূমিকার চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন বিশ্লেষকরা।

পুলিশের অসমর্থিত একটি সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর পুলিশকে কঠোর হওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশ তাতে অস্বীকৃতি জানায়। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর কঠোর হওয়ার নির্দেশ উপেক্ষা করে।

সূত্রটি আরো জানায়, নির্দেশ উপেক্ষা করার পর মন্ত্রী ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াকে টেলিফোন করেন। ডিএমপি কমিশনার তার অধঃস্তনদের কল করলে তারা আলোচনা করে অ্যাকশনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এডিসি পর্যায়ের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের সময় বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। যেহেতু তারা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সময়ে নিজেদের উপর আক্রমণের পরিবেশ পুলিশ তৈরি করতে চায় না। এজন্য নয়াপল্টনে তারা সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং অ্যাকশনে যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আর মাত্র দেড় মাস বাকি। ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন বিএনপি বয়কট করলেও আসন্ন নির্বাচনে তারা অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাছাড়া ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো বৃহত্তম ও শক্তিশালী জোট গঠন করায় সরকারের পাশাপাশি প্রশাসনেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। নির্বাচন কিছুটা সুষ্ঠু হলেও বিএনপি নেতৃত্ত্বাধীন জোট ক্ষমতায় চলে আসবে। এমন আশঙ্কা থেকেই পুলিশ ও প্রশাসন এখন থেকে বিএনপির প্রতি নমনীয় হওয়ার চেষ্টা করছে। যা বুধবার নয়াপল্টনে পুলিশের ভূমিকা দেখে অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে।

analysisbd

ফখরুলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চান আ.লীগের ১৪ জন

*মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১–এ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে প্রার্থী ছিলেন

*এবার আসনটিতে মির্জা ফখরুলই বিএনপি ও জোটের একমাত্র প্রার্থী হতে যাচ্ছেন

*আসনটিতে প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৪ জন

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও। ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে তিনি বরাবর নির্বাচন করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এই আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। এরই মধ্যে মনোনয়ন ফরমও তুলেছেন। এখানে বিএনপিতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগ্রহী আওয়ামী লীগ থেকে ১৪ জন। দলটির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনও।

মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এবারও এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের বা বিএনপির অন্য কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশী মনোনয়ন ফরম না কেনায় মির্জা ফখরুলই দল ও জোটের একমাত্র প্রার্থী বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব আমাদের অভিভাবক। এই আসনে তাঁর কোনো বিকল্প নেই। এ কারণেই আর কেউ মনোনয়ন ফরম কেনেননি।’

আওয়ামী লীগে ১৪ জন

এই আসনে দলের প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৪ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক কুরাইশী, সহসভাপতি মকবুল হোসেন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ইন্দ্রনাথ রায়,

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুণাংশু দত্ত, সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম সরকার, যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী তহমিনা আখতার মোল্লা, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা তুলি। মনোনয়ন ফরম কিনেছেন কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য আঞ্জুমান আরা বন্যা। গত পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে হেরে যান তিনি।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের সাবেক ডেপুটি কনসাল জেনারেল সাহেদুল ইসলাম। সম্প্রতি নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি। ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এস এম শামসুজ্জামান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান ও আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক রাজিউর রেজা চৌধুরী।

এত মনোনয়নপ্রত্যাশীর ব্যাপারে সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল। মনোনয়ন নিয়ে এ দলে প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। আমি তো মনে করি এ সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী যাঁকে বেছে নেবেন, তাঁকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে নেমে পড়ব।’

অন্যান্য দল

এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রাজী চৌধুরী। এ ছাড়া বাম গণতান্ত্রিক জোট থেকে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মমিনুর রহমান, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত প্রার্থী ইমরান হোসেন চৌধুরী এবারও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

prothomalo

বিএনপির ফরম নিলেন বাবরের স্ত্রী শ্রাবণী

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তিনি নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরি) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

গত মঙ্গলবার তাঁর পক্ষে ছেলে লাবিব ইবনে জামান নয়াপল্টন এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে এই ফরম সংগ্রহ করেন। এ সময় মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরি উপজেলা বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

৩টি উপজেলা,২টি পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৮ হাজার ২। বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মমিনের স্ত্রী রেবেকা মমিন।

লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৯১ সালে ওই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। এরপর ১৯৯৬ সালে পরাজিত হলেও ২০০১ সালে তিনি আবার নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবর বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হন।

একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বাবর এখন আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা জামান বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার পর স্থানীয় নেতা–কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ রয়েছে। যদিও আগে প্রচার ছিল, তাহমিনা নির্বাচনে আসবেন না।

prothomalo

ব্রেকিং নিউজঃ ভাবতে পারিনি ফখরুল এতটা মিথ্যা বলবেন: কাদের

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে গতকাল বুধবার ছাত্রলীগ হামলা করেছে বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমি ভাবতে পারিনি মির্জা ফখরুল এতটা মিথ্যা কথা বলবেন।’

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতে পারিনি মির্জা ফখরুল এতটা মিথ্যা কথা বলবেন। এটা কে বিশ্বাস করবে? ছাত্রলীগ নাকি হামলা করেছে, এটা কেউ বিশ্বাস করবে? মির্জা ফখরুলের মুখে এমন মিথ্যা কথাও শুনতে হবে।’

সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন? ড. কামাল হোসেন, নাকি তারেক রহমান? এই প্রশ্ন আমার থাকল।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন এক ঘণ্টাও পেছাক, তা চায় না আওয়ামী লীগ। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হবে। বিএনপি যে দাবি করেছে, তা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য নয়, বানচাল করার জন্য। বিএনপি যদি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণই তা প্রতিহত করবে। কারণ, সাধারণ মানুষ নির্বাচন চায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি যে তাণ্ডব চালিয়েছে, সেটি পূর্বপরিকল্পিত। তারা আসলে নির্বাচনে আসতে চায় না। নির্বাচন বানচাল করতেই তারা এ অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, নয়াপল্টনের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। নির্বাচনী সুবাতাস কারা নষ্ট করছে? নির্বাচন ভন্ডুলের যে অশুভ তৎপরতা, তা কাল প্রমাণ করেছে বিএনপি। তারা যদি নির্বাচন চায়, তাহলে তাদের এ অশুভ তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে বিএনপি পুলিশেরে ওপর হামলা চালিয়েছে। এটা তারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের মহড়া চালিয়েছে। কিন্তু কোনো অশুভ শক্তি বাংলাদেশে নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না।

এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা তো নির্দেশ দিতে পারি না। এখন এটা নির্বাচন কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলতে পারে তদন্ত করার জন্য। আমরা দেখছি, নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়।’

মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, সেটি দু-এক দিনের মধ্যে জানা যাবে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ দুই-তিন দিনের মধ্যে জোটগুলোর সঙ্গে বসার পর দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে।

prothomalo

নয়াপল্টনে ‘ট্রাফিকের’ দায়িত্বে বিএনপি কর্মীরা

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় দলটির কর্মী-সমর্থকদের সেখানে সুষ্ঠুভাবে যান চলাচলের কাজে সহায়তা করতে দেখা গেছে।

গতকাল বুধবার পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে দেখা যায়।

দলীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় গাড়ি চলাচলের সুযোগ করে দিতে কাজ করছেন বিএনপি কর্মীরা। শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় যান চলাচলে সহযোগিতা করছেন কর্মীরা।

গত তিন দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনেও কয়েক হাজার নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করছেন। মনোনয়ন ফরম কিনতে ও জমা দিতে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে মিছিল করতে করতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসছেন বিএনপি নেতারা।

দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েক হাজার বিএনপি নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন। একই সঙ্গে গাড়িও চলছে। বিএনপি কর্মীরা যান চলাচলে সহায়তা করছেন, তবে সেখানে পুলিশের উপস্থিতি নেই।

যান চলাচলে সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী শাওন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘কোনো সমস্যা যাতে না হয়, সে জন্য সর্বপ্রকার সহযোগিতা করছি। নিজেরাই গাড়ি চলাচলে সহযোগিতা করছি।’

এর আগে সকাল সোয়া ১১টার দিকে প্রধান কার্যালয়ে আসেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকালের ঘটনায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করেছেন। এ ছাড়া অসংখ্য নেতাকর্মীকে কার্যালয়ের আশপাশের অলিগলিতে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এদিকে গতকালের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসব মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তাঁর স্ত্রী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসকে মূল আসামি করা হয়েছে।

দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদান চলাকালে বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

এনটিভি