আমি একা কেন, শেখ হাসিনা কোথায় : আদালতকে খালেদা জিয়া

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে আদালতে হাজির করতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ছিল। সেই শুনানিতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া আদালতে এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল আজ। শুনানি শেষে এই আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির আগামী বুধবার (১৪ অক্টোবর) এই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন।

ঢাকা বিশেষ আদালত-৯ এ এই মামলার বিচারকাজ চলছে।
শুনানিতে খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। কাজেই তাঁকেও এখানে হাজির করা উচিত।

এ সময় বিচারক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার আসামি নন। কাজেই তাঁকে এখানে হাজির করানোর কোনো প্রশ্ন ওঠে না।’
এরপর এই মামলার আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন।

প্রথমে মওদুদ আহমদ আজ শুনানি না করার জন্য আদালতে একটি দরখাস্ত করেছিলেন। কিন্তু আদালত সে দরখাস্ত নামঞ্জুর করে তাঁকে শুনানিতে অংশ নিতে নির্দেশ দেন।

বেলা সাড়ে ১১টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে কারাগারে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। তিনি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হাসপাতাল থেকে আজই তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে আদালতে আনা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে খালেদা জিয়াকে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতে খালেদা জিয়ার সাথে মির্জা ফখরুলের শর্ট বৈঠকে যা হলো

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আদালতে।

কিন্তু আদালত অনুমতি না দেওয়ায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সেখানে দেখা হয়নি মির্জা ফখরুলের। তবে খালেদাকে আদালত থেকে বের করে নেওয়ার সময় এক মিনিটের মতো কথা বলার সুযোগ পান বিএনপি মহাসচিব।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, ওই ১ মিনিট সময়ের মধ্যেই খালেদা জিয়াকে সংলাপ বিষয়ে বার্তা দিতে পেরেছেন মির্জা ফখরুল।এর আগে বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে গাড়ীতে করে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

সেখান থেকে সারাসরি তাকে কারাগারের ভিতরের আদালতে একটি হুইল চেয়ারে করে হাজির করা হয়। মামলার শুনানি চলার সময় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আদালতে হাজির হন। তিনি আদালত কক্ষে ঢুকে একটি চেয়ারে বসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় থাকেন।

বেলা সোয়া ১টায় মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে আদালত কক্ষে ৩০ মিনিট মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার অনুমতি চেয়ে বিচারকের কাছে আবেদন করেন আইনজীবী সাউল্লাহ মিয়া ও মির্জা ফখরুল।

ওই সময় বিচারক বলেন, ‘এটা আমার এখতিয়ারের বাইরে। আপনারা দেখা করবেন না কি-করবেন এ বিষয়ে আমি কোনো আদেশ দিতে পারব না। এ ছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মামলার কেউ না।’

তখন আইনজীবী সাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘তাহলে আমাকে একা অনুমতি দিন।’ তখন বিচারক বলেন, ‘এটাও আমি দিতে পারব না।’ ওই সময় সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এর আগে আমরা অন্যান্য আদালতে অনেকবারই দেখা করার অনুমতি পেয়েছি।’ উত্তরে বিচারক বলেন, ‘আইন আমাকে সুযোগ দেয়নি।

আমি দিতে পারব না’ এরপর বিচারক মামলার পরবর্তী তারিখ ঠিক করে নেমে যাওয়ার সময়ই মির্জা ফখরুল পুলিশ বেষ্টিত খালেদা জিয়ার সামনে যান এবং ১ মিনিটের মতো সময় কথা বলার সুযোগ পান। এরপরই খালেদা জিয়াকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় অন্যায়ভাবে জোর করে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

আমরা জানতে পেরেছি, পিজি হাসপাতালে যারা খালেদা জিয়ার মেডিকেলের দায়িত্বে ছিলেন, তারা তাকে ছাড়পত্র দেননি এবং তারা বলেছেন, “তিনি খুব অসুস্থ। এ অবস্থায় তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়, তার চিকিৎসা চলছে”।’

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা ছাড়পত্র দিয়েছেন বলে আমরা জানি না। শুনেছি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে কাউকে দিয়ে ছাড়পত্র লিখিয়ে নিয়েছে।

এটা সম্পূর্ণভাবে আনইথিকেল কাজ।’ফখরুল আরও বলেন, ‘তাকে (খালেদা জিয়া) দেখেছি, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। হুইল চেয়ারে করে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। হুইল চেয়ারেও তিনি ঠিকমতো বসতে পারছেন না। আমরা আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েও দেখা করার অনুমতি পাইনি।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের আদালতে ১ মিনিট কথার বিষয়বস্তু সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার এক আইনজীবী জানান, ‘সংলাপের বিষয়ে ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে যা বার্তা দেওয়ার তা ১ মিনিটেই মির্জা ফখরুল ইসলাম দিয়ে দিয়েছেন।’

উৎস : দৈনিক আমাদের সময়

২০ দলীয় জোটে যোগ দিলো আরও তিন সংগঠন

নতুন করে তিনটি সংগঠন যোগ দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে। যোগ দেওয়া পার্টিগুলো হচ্ছে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় দল ও মাইনরিটি জনতা পার্টি।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাতে গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান ও জোট নেতা অলি আহমদের হাতে ফুল দিয়ে জোটে যোগ দেয় তারা।

বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদ্য যোগ দেওয়া সংগঠন তিনটির জনবল বা সাংগঠনিক কোনও কাঠামো নেই। যোগদানের সময় বিএনপি জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান জানান, তারা আগামী দিনে জোটের সঙ্গে কাজ করবে।

পরিচয়পর্বে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিনটি সংগঠনের নেতাদের পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংগঠন তিনটির নেতা রিটা রহমান ও এহসানুল হুদা এবং সুকৃতি কুমার মন্ডলকে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে পরিচয় করিয়ে দেন।

তফ‌সিল ঘোষণার মধ্য দি‌য়ে ধোঁয়াশা কে‌টে গেল : হানিফ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, দুই-এক‌টি রাজনৈতিক দল যে ধোঁয়াশা সৃ‌ষ্টি ক‌রেছিল, তফসিল ঘোষণার মধ্য দি‌য়ে সেই ধোঁয়াশা কে‌টে গেল। তফসিল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর কার্যালয়ে মাহবুব উল আলম হানিফ এই কথা বলেন।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আগামী ২৩ ‌ডি‌সেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হ‌বে। সেই ম‌র্মে তফ‌সিল ঘোষণা করা হ‌য়ে‌ছে। আমরা আশা ক‌রি, সেই তফ‌সিল অনুযায়ী উৎসবমুখর পরিবেশে সকল রাজ‌নৈ‌তিক দলের অংশগ্রহ‌ণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনের তফ‌সিল পেছা‌নোর বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের দা‌বির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবা‌বে হানিফ ব‌লেন, শিডিউল পেছা‌নোর কোনো প্রয়োজন নেই বলে আমরা ম‌নে ক‌রি। প্রত্যেকটি রাজ‌নৈ‌তিক দ‌লের নৈ‌তিক দা‌য়িত্ব র‌য়ে‌ছে নির্বাচ‌নে অংশগ্রহণ করার। ‌দে‌শের জনগ‌ণের জন্য য‌দি কাজ কর‌তে হয়, তাহ‌লে নির্বাচ‌নের মাধ্যমে জনগ‌ণের ম্যান্ডেট নি‌য়ে তা‌দের‌ সেই কাজ করার ক্ষমতা নি‌তে হ‌বে। সে কার‌ণে জনগণের ম্যা‌ন্ডেট নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা ক‌রি, বি‌ভিন্ন রাজ‌নৈ‌তিক দল বি‌ভিন্ন সম‌য়ে বি‌ভিন্ন দা‌বি উত্থাপন করুক না কেন, দে‌শের স্বা‌র্থে জনগ‌ণের স্বা‌র্থে, নির্বাচ‌নে অংশ নে‌বে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ক‌মিশন যে তফ‌সিল ঘোষণা ক‌রে‌ছে, সেই তফ‌সিল অনুযায়ী নির্বাচন করতে পার‌বে। সে ব্যাপা‌রে আমরা আশাবাদী এবং জনগণও আনন্দিত।

তফসিল একতরফা ভোটের জন্য: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। এখানে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে, এখানে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের এক বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তফসিল ঘোষণা না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পিছিয়ে দেয়নি। তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক আছে, বৈঠক শেষে এ বিষয়ে পরবর্তীতে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় দল, পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ (পিপিবি) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি ২০ দলীয় জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়।

বৈঠকের সভাপতি অলি আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তারপরও তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সরকার আদালতের আদেশ অমান্য করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে গেছে। ২০ দলীয় জোট খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়।

২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ জোটের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে ও বৈঠক করে তফসিল পেছানোর দাবি জানিয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু আজ সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তফসিল ঘোষণার পর ঐক্যফ্রন্ট একে এক পাক্ষিক বলে মনে করছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বাড়ানোর দাবি করতে পারে এই জোট।

আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিইসির তাঁর ঘোষণায় জানান, তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর, বাছাইয়ের তারিখ ২২ নভেম্বর ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর।

গত ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্টের জনসভা থেকে বলা হয়েছিল, তফসিল ঘোষণা না পেছালে তারা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে। এ তফসিল ঘোষণার পরে সে পদযাত্রা নিয়ে জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা জানান, সময় কম। এ কর্মসূচি করতে হলে দ্রুতই করতে হবে। আগামীকাল ৯ নভেম্বর শুক্রবার রাজশাহীর সমাবেশ শেষে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই এ পদযাত্রা হতে পারে। তবে তফসিল ও অন্যান্য বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে রাজশাহীর সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রথম আলোকে বলেন, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো।

মতবিরোধ মেটান, ভোটে আসুন

সংসদ নির্বাচনের জন্য অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো মতবিরোধ থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে মেটানোর অনুরোধ জানান।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে অল্প কয়েকটিতে আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। আর আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য ‘এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সিইসি আজ সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। সিইসি বলেন, আগামী ২৩ ডিসেম্বর রোববার সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ নভেম্বর আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার শেষ সময় ২৯ নভেম্বর।

সিইসি বলেন, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। সিইসি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সকল সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সবার জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য শিগগিরই পরিপত্র জারি করা হবে। তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে করতে কমিশন সফল হবে।

ভাষণে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, পুরোনো পদ্ধতির পাশাপাশি ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেকগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ ভোট গ্রহণে ইভিএম ব্যবহার সফল হয়েছে। জেলা এবং অঞ্চল পর্যায়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইভিএম-এর উপকারিতা সম্পর্কে ভোটারদের অবহিত করা হয়েছে। ইভিএম ব্যবহারে তাদের মধ্যে উৎসাহব্যঞ্জক আগ্রহ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইভিএম ব্যবহার করা গেলে নির্বাচনের গুণগত মান উন্নত হবে এবং সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় হবে। সে কারণে শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেওয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।’

নির্বাচনে সব দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নুরুল হুদা বলেন, ‘প্রত্যেক দলকে একে অপরের প্রতি সহনশীল, সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণ করার অনুরোধ জানাই। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করি। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে প্রার্থীর সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে অনিয়ম প্রতিহত হয় বলে আমি বিশ্বাস করি।’ অবশ্য তিনি এই প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় পরিণত না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। প্রার্থীদের প্রচারণা ও আচরণে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ গঠনে শিগগিরই পরিপত্র জারি করা হবে বলে জানান তিনি।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ভোটার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন তার নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা থাকার কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ভোটগ্রহণের জন্য ৭ লাখ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৬ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এদের মধ্যে থাকবে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য।

আই ওয়ান্ট টু রিটায়ার : অর্থমন্ত্রী

শুক্রবার নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একই সাথে তিনি এও বলেছেন, তিনি খুব শিগগিরই অবসরে যাচ্ছেন। আই ওয়ান্ট টু রিটায়ার।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে কি না-সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে টেকনোক্রাট মন্ত্রীরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন।

এখনো অবশ্য পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। এসব মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘না, নতুন কাউকে আনা হবে না। এ চার মন্ত্রণালয়ে বর্তমান মন্ত্রীদের মধ্য থেকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে দেওয়া হবে।’

আপনি নিশ্চিত নতুন কোনো মুখ আসছে না-প্রশ্নের তিনি বলেন, মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ, সরকারটা তো কোয়ালিশন সরকার। এমন কোনো সদস্য নেই যাকে দেওয়ার দরকার আছে। সুতরাং আমার মনে হয় না কোনো এডিশন হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত বুধবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান পদত্যাগপত্র জমা দেন।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, একসেপ্ট করতে হবে। একসেপ্ট তো করবেন, যেহেতু উনি বলেছেন করতে। এখন হয়তো সময়ের ব্যাপার।

বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সংলাপ প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনা শেষ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার হতে পারে বলেও তিনি ধারণা দেন।

আসন্ন নির্বাচনে সিলেট থেকে নির্বাচনে দাঁড়াবেন কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না না। আমি তো দাঁড়াবো না। ইটস মাই ডিসিশন। আমি নমিনেশন পেপার সাবমিট করবো।

ডামি কিছু সাবমিট করতে হয়। যদি আমাদের প্রার্থী যিনি হবেন তিনি কোন কারণে বাদ পড়ে যান তাহলে আমাকে দাঁড়াতে হবে বিষয়টি এরকম। এটা রুটিন ব্যাপার।

আমি এখন অবসরে যেতে চাই। আই ওয়ান্ট টু রিটায়ার। কারণ আসার মনে হয় আমার অবসরে যাওয়ার সময় হয়েছে।

daily naya diganta

তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে সরকারের ইচ্ছায় : মির্জা ফখরুল

একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। এখানে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে, এখানে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের এক বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তফসিল ঘোষণা না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পিছিয়ে দেয়নি। তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক আছে, বৈঠক শেষে এ বিষয়ে পরবর্তীতে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় দল, পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ (পিপিবি) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি ২০ দলীয় জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়।

বৈঠকের সভাপতি অলি আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তারপরও তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সরকার আদালতের আদেশ অমান্য করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে গেছে। ২০ দলীয় জোট খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়।

২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ জোটের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে ও বৈঠক করে তফসিল পেছানোর দাবি জানিয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তফসিল ঘোষণার পর ঐক্যফ্রন্ট একে এক পাক্ষিক বলে মনে করছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বাড়ানোর দাবি করতে পারে এই জোট।

আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিইসির তার ঘোষণায় জানান, তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর, বাছাইয়ের তারিখ ২২ নভেম্বর ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর।

গত ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্টের জনসভা থেকে বলা হয়েছিল, তফসিল ঘোষণা না পেছালে তারা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে। এ তফসিল ঘোষণার পরে সে পদযাত্রা নিয়ে জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা জানান, সময় কম। এ কর্মসূচি করতে হলে দ্রুতই করতে হবে। আগামীকাল ৯ নভেম্বর শুক্রবার রাজশাহীর সমাবেশ শেষে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই এ পদযাত্রা হতে পারে। তবে তফসিল ও অন্যান্য বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে রাজশাহীর সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রথম আলোকে বলেন, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো।

dailynayadiganta

যে কারণে আওয়ামী লীগ থেকে কামাল হোসেন বেরিয়ে গিয়েছিলেন

১৯৯১ সালের নির্বাচন। সে নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেল বিএনপি ১৪০ আসনে জয়লাভ করলেও আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল ৮৮ আসনে।

নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা নির্বাচনে `সূক্ষ্ম কারচুপির’ অভিযোগ এনছিলেন। সে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন ।

শেখ হাসিনা নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ আনলেও ড. কামাল হোসেন তখন বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ড. কামাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার আত্মজীবনী বিপুলা পৃথিবী বইতে লিখেছেন, এর জের ধরে ড. কামাল হোসেনের গাড়ি আক্রান্ত হয় এবং তিনি কটুকাটব্যের শিকার হন।

দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেয়া এক চিঠিতে ড. হোসেন নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে দলীয় কোন্দল এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন।

এর ফলে তার এবং শেখ হাসিনার মধ্যকার দূরত্ব অনেকটা প্রকাশ্য হয়ে উঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে ড. কামাল হোসেনের পক্ষে তখন আওয়ামী লীগে টিকে থাকা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল।

দলীয় বিভিন্ন ফোরামে তিনি ক্রমাগত তোপের মুখে পড়ছিলেন। সে সময়ের পত্র-পত্রিকা দেখলে এ ধারণাই পাওয়া যায়।

সে সময় আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আকস্মিকভাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সবগুলো জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দেন। সে চিঠিতে তিনি দলের ভেতর ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য সতর্ক করে দেন।

শেখ হাসিনা সে চিঠিতে লেখেন, `একটি মুখোশ-ধারী চক্র দলে ফাটল ধরাবার চেষ্টা করছে।… নানা কৌশলে, সস্তা, সেন্টিমেন্টমূলক বক্তব্য দিয়ে প্রকাশ্যে -অপ্রকাশ্যে আজ আমার ও আওয়ামী লীগের ইমেজকে খাটো করা হচ্ছে।’

সে চিঠিতে কারো নাম উল্লেখ না করা হলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ধরে নিয়েছিলেন যে ড. কামাল হোসেন সে চিঠির লক্ষ্যবস্তু।

১৯৯২ সালের মার্চ মাসের প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে বর্ধিত সভায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ড. কামাল হোসেন।

ড. হোসেন হয়তো বুঝতে পারছিলেন তাকে ভিন্ন পথ দেখতে হবে। সেজন্য তিনি নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি মঞ্চ তৈরির চিন্তা-ভাবনা করতে থাকেন।

৭২ ঘন্টায় বিএনপির ২২ শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার

সারাদেশে আবারো বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণ গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭২ ঘন্টায় ২২ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে সংলাপকালে কথা দিয়েছিলেন- ‘নতুন মামলা দেয়া হবে না, গ্রেফতার করা হবে না এবং প্রকৃত রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন’।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ^াসের কোনো বিশ^াস মেলেনি। গত বুধবার সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের চিরুনী অভিযান চালিয়ে ছেঁকে ধরা হয়েছে, তার জন্য।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব বলেন।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, জেলা-মহানগরের সভাপতি থেকে শুরু করে সাবেক এমপি কেউই সরকারের গ্রেফতার অভিযান থেকে রেহাই পাননি। এমনকি সমাবেশে আসা ও যাওয়ার পথে হাজারের অধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করার পর প্রথমে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে এই কথা বলে দর কষাকষি করা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও ছাড়া হয়নি। এমনকি ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের বড় বড় গ্রুপ করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তল্লাশী ও পুলিশী হানাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘরবাড়ি ও এলাকা ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এইজন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য!

রিজভী বলেন, সংলাপ কি তাহলে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে কিছুটা সময়ক্ষেপণ? তা না হলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করার অঙ্গীকার করার পরও এতো তান্ডব, এতো পাইকারী গ্রেফতার! সরকার কি তাহলে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেছে? প্রধানমন্ত্রী অতীতের মতো বলেন একটা, কিন্তু কাজ করেন অন্যটা।

তিনি বলেন, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁয় পুলিশের পক্ষ থেকে বাস মালিক সমিতিকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে-কেউ যেন রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের গাড়িভাড়া না দেয়। ইতোমধ্যে বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু করে আগামীকাল (শুক্রবার) বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

রিজভী বলেন, গত মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে জনসভাকে কেন্দ্র করে জনসভার আগের দিন ও জনসভার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলীয় আট শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এপর্যন্ত (বৃহস্পতিবার) দেশব্যাপী ২২০০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগরী সহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তালিকা তুলে ধরেন রিজভী।

dailynayadiganta