ব্রেকিং নিউজ … জামিননামায় ভুল : আটকে গেল শহিদুলের মুক্তি

কারাগারে পাঠানো জামিননামায় ঠিকানা ভুল থাকায় মুক্তি পেলেন না আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।

মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে শহিদুল আলমের জামিননামা দাখিল করা হয়। ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম এই জামিননামা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কিন্তু ভুল থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে তা সিএমএম আদালতে ফেরত পাঠায়।

শহিদুল আলমের আইনজীবী জায়েদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জামিননামা সংশোধনের জন্য ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে আবেদন করা হলেও এখনো বিচারক কোনো আদেশ দেননি।

গত সোমবার বিকাল পাঁচটার দিকে হাইকোর্টের জামিনের আদেশ ঢাকার সিএমএম আদালতের নেজারত (আদান-প্রদান) শাখায় আসে।
গত ১৫ নভেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলায় হাইকোর্ট শহিদুল আলমের জামিনের আদেশ দেন।

গত আগস্টে দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন চলাকালে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এসে লাইভ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরাকে একটি সাক্ষাৎকার দেন শহিদুল। এতে বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক তথ্য দেয়ার অভিযোগ এনে তাকে আটক করে গোয়েন্দারা। পরে তথ্য প্রযুক্তি আইনে করা হয় মামলা।

পরে এ মামলায় শহিদুল আলমকে কারাগারে হাজির করা হলে গত ১২ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরী। সেই থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই আলোকচিত্রির মুক্তির দাবিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশিষ্টজনকা বিবৃতি দেন।
আটকের সাড়ে তিন মাস পর গত ১৫ নভেম্বর শহিদুলকে জামিন দেয় উচ্চ আদালত। দুই দিন পর এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

ঢাকাটাইমস

ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো জানিয়েছি : ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে, ঐক্যফ্রন্ট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। সেই লক্ষ্যে সাত দফা দাবিও সরকারকে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার অনেকভাবে নিরপেক্ষ করা যায়, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ছাড়াও। এটা আমাদের সংলাপে বলেছি। কিন্তু পুলিশকে যেভাবে দলীয় বাহিনী হিসাবে করা হয়েছে এসব তো উদ্বেগের কারণ।’

সোমবার রাজধানীর বেইলি রোডে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।

এর আগে তার সঙ্গে দেখা করতে তার বাসভবনে যান ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্ল্যাক। উভয়ে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন। পরে কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তিনি জানতে চেয়েছেন। বিশেষ করে জানতে চেয়েছেন, কী ধরনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে।’

ড. কামাল জানান অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি এবং পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা পক্ষপাতমূলক।
তিনি এও বলেন, ‘প্রতিযোগী নিজেই যদি আম্পায়ারিং করে তা হলে তো হল না।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ইলেকশন কোনোভাবেই বয়কট করা যাবে না। বাজে ইলেকশন হলেও আমরা করব।’ তিনি বলেন, ‘বয়কট করে পাঁচ বছর চালিয়ে নিল এটা তো নজিরবিহীন। আমাদের ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেনি।’

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের কাছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘৫ জানুয়ারির পর নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে।’

ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে এলে অসুবিধা কোথায় ?

গত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সংসদ সদস্য হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এ বছরও ইতিমধ্যেই অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বা জমা দিয়েছেন।

রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ এই ব্যবসায়ীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে ওঠাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন সুশাসন নিয়ে কাজ করে এরকম সংগঠনগুলো। খবর বিবিসির।

ফরিদপুর চার আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সৈয়দ মনজুরুল হক। টেকনোগ্রুপ নামের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি।

হক বলছেন, ‘আমার পরিবারে পলিটিকাল ব্যাকগ্রাউন্ড খুব স্ট্রং। সেজন্য আমি আমার এলাকাতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়েছি। এলাকার মানুষজন বিশ্বাস করে আমার যে ক্লিন ইমেজ ও আমি যদি তাদের লিড করি তাহলে এলাকার উন্নতি হবে।’

তিনি মনে করেন, রাজনীতি মানে মানুষের প্রয়োজন বুঝতে পারা, সমস্যার সমাধান দিতে পারা, এলাকার ভালো করা। এসব করতে পারলে রাজনীতি খুব একটা কঠিন নয় বলে মনে করেন তিনি।

কিন্তু হক নিজে রাজনীতিতে নিয়মিত নন। ব্যবসায়ী হিসেবেই তার বেশি পরিচিতি।

কিন্তু রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ এই ব্যবসায়ীদেরকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া ও নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে ওঠাকে কিভাবে দেখেন পেশাদার ও ঝানু রাজনীতিবিদরা?

খুলনা থেকে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান জামাল, যিনি সব মিলিয়ে ৩০ বছরের মতো রাজনীতি করছেন, তিনি বলছেন, ‘আমার চেয়েও যোগ্য ব্যক্তি মনোনয়ন পেলে কষ্টটা কম লাগে।’

বাংলাদেশে কয়েকটি সংসদ নির্বাচনের তথ্য যাচাই করলে দেখা যায় ধীরে ধীরে ব্যবসায়ীদের নির্বাচনে দাঁড়ানো ও সংসদ সদস্য হয়ে ওঠার হার বাড়ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম সংসদে এমপিদের মধ্যে ব্যবসায়ী ছিল ১৭ শতাংশের মতো। দশম জাতীয় সংসদে তা বিপুল পরিমাণে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ শতাংশে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বলছিলেন কি কারণে আসলে দলগুলো ব্যবসায়ীদের মনোনয়ন দিচ্ছে।

তিনি বলছেন, ‘দেশের যে রাজনীতি তা অনেকটাই অর্থের উপরে নির্ভর করে। ভোটাররাও তাদেরকে গ্রহণ করে। আদর্শবাদী একজন মাঠ-পর্যায়ের নেতা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে কিন্তু পাশ করতে পারবে না। কারণ একজন ধনী ব্যবসায়ীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নির্বাচনে জেতা সম্ভব হয় না। পার্টি যখন নমিনেশন দেয় প্রথমেই ভাবে সে পাশ করে আসতে পারবে কিনা। কারণ সব দলই তো সরকার গঠন করতে চায়।’

এবারো বহু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মনোনয়ন প্রত্যাশী। এর মধ্যে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফিবিসিসিআইএর শীর্ষ পর্যায়ের নেতা যেমন রয়েছেন, তেমনি আরও নানা ধরনের ব্যবসায়ীও রয়েছেন। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলছেন, ‘অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে একটা উদ্বেগের জায়গা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের রাজনীতি, ব্যবসা আর বিনিয়োগ একাকার হয়ে যাচ্ছে।’

রাজনীতিতে এলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে নীতি-নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করছেন তিনি।

তিনি একটি নমুনা দিয়ে বলছেন, ‘যেমন আমরা যেটা সম্প্রতি দেখেছি পোশাক শিল্প খাতে শ্রমিকদের অধিকার-ভিত্তিক আইনি সংস্কারের কথাগুলো যখন ওঠে তখন সংসদে পোশাক শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের এক ধরনের সক্রিয়তা দেখা যায়। অনেক সময় তাদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন হতেও দেখা যায়।’

ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদরা কর রেয়াত, ঋণ সুবিধা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তার মতে, ‘রাজনীতিকে যদি ব্যবসা ও মুনাফা বিকাশের উপায় হিসেবে দেখা হয় তখন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বিনষ্ট হয়। যারা মূল রাজনীতির ধারক বাহক তারা ক্রমাগতভাবে কোণঠাসা হয়ে যান।’

রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই প্রার্থীদের যাচাই বাছাই শুরু করেছে। মনোনয়ন পাওয়ার এই দৌড়ে এবারও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

RTNN

ইন্ডিয়া কী আমাদেরকে জেতাতে পারবে, যদি জনগণ ভোট না দেয়: কাদের

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধণ শ্রিংলা।

বৈঠকের বিষয়বস্তু বিস্তারিত জানা না গেলেও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন ‘ভারত কী আমাদেরকে নির্বাচনে জিতিয়ে দিতে পারবে, যদি দেশের জনগণ ভোট না দেয়? জনগণ ভোট দিলেই আমরা বিজয়ী হতে পারব।’

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘স্থিতিশীলতার জন্য আওয়ামী লীগ আবারও দরকার এই কথা ইন্ডিয়া কেন বলবে? আর ইন্ডিয়া কী পারবে আমাদের জেতাতে, আমরা সেটা কী আশা করব?

তিনি বলেন, আর এ ধরনের চিন্তা আমরা কেন করব? আমাদের দেশের ইলেকশনে বাইরের কোনো দেশের ইন্টাফেয়ার করা বা কোনো পক্ষকে সমর্থন করবে এটা কীভাবে হয়?

কাদের বলেন, ‘পিপল যদি আমাদেরকে ভোট না দেয় ইন্ডিয়া আমাদেরকে চায় এই ধারণার উপর আমরা কী বসে থাকবো? জনগণই আমাদেরকে নির্বাচিত করতে পারে। অন্য কোনো দেশ বা ইন্ডিয়ার মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশ আমাদের এখানে কোনো হস্তক্ষেপ করেছে বলে আমার জানা নেই।

ব্রেকিং নিউজ ……. জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার রাত ৯টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এতে ব্রিফ করবেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এদিন সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আমি তারেককে ভালবাসি : এমাজউদ্দীন আহমদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, আমি তারেক রহমানকে দেখি একজন শিক্ষকের দৃষ্টি দিয়ে। ভাল ছেলে। বিনয়ী, সদাশয়, মৃদুভাষী।

তারেক রহমানের সাথে দীর্ঘদিনের পরিচয় উল্লেখ করে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, সুশীল তরুণ হিসাবে তার বক্তব্য ঋজু। চিন্তা-ভাবনা সুস্পষ্ট। কৃত্রিমতা এখনো তাকে স্পর্শ করেনি। স্পর্শ করেনি দুর্বুদ্ধিপ্রসূত কোন জটিলতা। সম্ভবত এ কারণে তারেকের বন্ধু যতজন, শত্রু ও প্রায় ততজন।

তারেক রহমানের মধ্যে অমিত সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, তাকে সতর্কতার সাথে পথ চলতে হবে। লর্ড এ্যাক্টনের লেখা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার একটি বিষক্রিয়া রয়েছে এবং নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বিষক্রিয়া সর্বব্যাপক।’ কিন্তু যে যোগ্য ব্যক্তি ক্ষমতা অথবা অর্থবিত্তের উপেক্ষা করে চলেন, ক্ষমতা অথবা অর্থবিত্ত তার পেছনেই ছোটে।

তারেক রহমানকে একথা বলছি এ জন্যে যে, তার পিতা রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পর্কে নিরাসক্ত ছিলেন বলেই তারই অজ্ঞাতে এবং অনিচ্ছায়, ১৯৭৫ সালের ৭ নবেম্বরে ক্ষমতার শূন্যতা পূরণে তাঁকেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।

বেগম খালেদা জিয়া প্রচুর অনুনয়-বিনয়ের পরেই রাজি হন বিএনপির হাল ধরতে, কিন্তু তিনিই তো সবচেয়ে দীর্ঘকাল প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বাংলাদেশের সেবা করেছেন।

এমাজউদ্দীন তারেক রহমানকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, সর্বদা বিবেককে জাগ্রত রাখতে হবে। বুদ্ধির পরিবর্তে প্রজ্ঞার নির্দেশ মেনে চলতে হবে। মস্তিষ্কের চেয়ে অন্তকরণের নির্দেশনাই এদেশে অধিক কার্যকর হয়েছে, সবসময়। তারও পথনির্দেশনা দিক তার বিবেক, তার অন্তঃকরণ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ এই লেখাটি লিখেন।

সূত্র : বিএনপির ফেসবুক পেইজ থেকে নেয়া

কর্মীরা কেন আপনাকে বিশ্বাস করে না?

আজ তৃতীয় দিনের মতো লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন তারেক জিয়া। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলার আগে, তিনি কথা বলেন নেতাদের সঙ্গে। তাঁদের কুশলাদি জানতে চান।

কার মামলার কি অবস্থা সে সম্পর্কেও প্রশ্ন করেন। এক পর্যায়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের প্রশংসা করেন তারেক। বলেন, ‘দলের জন্য আপনি অনেক পরিশ্রম করছেন।

নির্বাচন পর্যন্ত দলের ঐক্য অটুট রাখার দায়িত্ব আপনার।’ এ প্রসঙ্গে আলাপের এক পর্যায়ে তারেক জিয়া বলেন, ‘একটা বিষয়, কর্মীরা আপনাকে বিশ্বাস করে না কেন? আপনাকে কর্মীদের মন জয় করতে হবে। কর্মীরাই নেতাদের আসল শক্তি।’

মির্জা ফখরুল অবশ্য এর জবাবে কিছুই বলেন নি।

কর্মীরা কেন আপনাকে বিশ্বাস করে না?

আজ তৃতীয় দিনের মতো লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন তারেক জিয়া। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলার আগে, তিনি কথা বলেন নেতাদের সঙ্গে। তাঁদের কুশলাদি জানতে চান।

কার মামলার কি অবস্থা সে সম্পর্কেও প্রশ্ন করেন। এক পর্যায়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের প্রশংসা করেন তারেক। বলেন, ‘দলের জন্য আপনি অনেক পরিশ্রম করছেন।

নির্বাচন পর্যন্ত দলের ঐক্য অটুট রাখার দায়িত্ব আপনার।’ এ প্রসঙ্গে আলাপের এক পর্যায়ে তারেক জিয়া বলেন, ‘একটা বিষয়, কর্মীরা আপনাকে বিশ্বাস করে না কেন? আপনাকে কর্মীদের মন জয় করতে হবে। কর্মীরাই নেতাদের আসল শক্তি।’

মির্জা ফখরুল অবশ্য এর জবাবে কিছুই বলেন নি।

ক্ষমা চাইলেন ফখরুল

ক্ষমা চাইলেন ফখরুল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনকে বললেন, ‘দুঃখিত, কথা রাখতে পারলাম না। আমার কিছুই করার নেই। আপনি থাকুন, নির্বাচন হলে সব ঠিক হবে।’ বিএনপি মহাসচিবের এমন করজোর মিনতির জবাবে ড. কামাল শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। বললেন, এমন তো কথা ছিল না।’

ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ঐক্যের মূল কারিগর ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একবছর আগেও যেটা ছিল একটা অলীক কল্পনা, তাকেই বাস্তবে রূপ দেন ফখরুল। আওয়ামী লীগে যাদের জন্ম, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা যারা বলেন, তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছিলেন বিএনপি মহাসচিব। এই ঐক্যে দেশের সুশীল সমাজ, বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে আগ্রহ এবং উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছিল। অনুসন্ধানে জানা যায়, ৪ শর্তে ড. কামাল জাতীয় ঐক্যে জাতীয় ঐক্যে রাজি হয়েছিলেন। এই শর্তগুলো হলো:

১. জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব থাকবে ড. কামাল হোসেনের হাতে।

২. জিয়া পরিবার অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া কেউই নির্বাচন করবেন না।

৩. নির্বাচন কার্যক্রমে বেগম জিয়া এবং তারেক জিয়া দুজনই দূরে থাকবেন।

৪. নির্বাচন ইশতেহার এবং কর্মসূচি প্রণীত হবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে।

এই শর্তে ঐক্য হওয়ার পর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট সংলাপে অংশ নেয়। নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। বিদেশি কূটনীতিকদের বিএনপি মহাসচিব বলেন যে ‘ড. কামালই আমাদের নেতা।’ এরপর ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে মির্জা ফখরুলের অনুরোধেই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে রাজি হয় ফ্রন্টের সব দল। ড. কামাল হোসেনের একজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী জানিয়েছেন, ‘ড. কামাল কিছুতেই ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচনে রাজি ছিলেন না। কিন্তু, বিএনপি মহাসচিবের অনুরোধেই তিনি রাজি হন।’

এরপর আকস্মিক ভাবে উদয় হয় তারেক জিয়ার। তারেক জিয়া টেলিফোনে জানান দলের মনোনয়নে তিনি নেতৃত্ব দেবেন। দলের সিনিয়র নেতারা এ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়লেও কেউ মুখ খোলেননি। এর প্রধান কারণ হলো, দলের মধ্যে তারেকের নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তা। নীরবে তারেকের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে আজ ক্ষমা চাইলেন ফখরুল। তবে শুধু ড. কামাল হোসেন এবং ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা নন, এতে অবাক হয়েছেন সুশীল সমাজও। তারাও এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ড. কামাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ একজন সুশীল আইনজীবী বললেন, ‘স্যার, ফোন করে আমাকে নির্বাচন করার অনুরোধ করেছিলেন। আমিও এটাকে ইতিবাচক ভাবে নিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনবে। কিন্তু এখন দেখলাম নির্বাচন আওয়ামী লীগ আর বিএনপির ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এটা রাজনীতির কোনো গুণগত পরিবর্তন আনবে না।’ তাঁর মতে অনেকেই এখন ঐক্যফ্রন্টে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এর ফলে, নির্বাচনের লড়াইয়ে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত ছিল তা চুপসে গেছে।

নির্বাচন বর্জনের কথাও ভাবছে বিএনপি

বিএনপি বার বার একটি কথা বলছে, কোনো অবস্থাতেই মাঠ ছাড়া যাবে না। নির্বাচন বর্জন করা যাবে না। তিনদিন ধরে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। এই সাক্ষাৎকারে তারেক জিয়া যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, তার মূলকথা হলো, যাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাঁর পক্ষেই দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

মাটি কামড়ে নির্বাচনে থাকতে হবে, মাঠ ছাড়া যাবে না।’ শুধু তারেক জিয়াই নয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড.কামাল হোসেনও অন্তত তিনটি বক্তৃতায় বলেছেন নির্বাচন বর্জন করা যাবে না। যে কোনো মূল্যে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে।‘ বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী এলাকায় প্রচারে বর্জন ইস্যুকে প্রাধান্য দিচ্ছে। কিন্তু বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিএনপির পরিকল্পনায় এখনো বর্জনের চিন্তা আছে। নির্বাচন বর্জন করে যদি পুরো নির্বাচন ভণ্ডুল করে দেওয়া যায়, তাহলে বিএনপি বর্জনের পথেই হাঁটতে পারে।

গত দুই দিনে ড. কামাল হোসেন এবং বিএনপি মহাসচিব দুজনই বলেছেন, নির্বাচনের নূন্যতম পরিবেশ নেই। ড. কামাল ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’ বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যদি নিরপেক্ষ নির্বাচনের নূন্যতম সম্ভাবনা না হয়, সেক্ষেত্রে বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিতে পারে।’ বিএনপির একজন নেতা বলেছেন,‘এরকম ঘোষণা দিলে আমরা সর্বাত্মক আন্দোলন করবো।

এখন নির্বাচন করতে না দেওয়াই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ বিএনপির আরেক নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন,‘ বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাক, এটাই সরকারের মাস্টার প্লান। শেষ পর্যন্ত যদি আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাচারিতায় আমাদের নির্বাচন বর্জন করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। সেই শক্তি এখন আমাদের আছে।’ বিভিন্ন সূত্রে খবরে জানা গেছে, যারা বিএনপির টিকেট পাবেন, তাদের কাছ থেকে প্রত্যাহার সংক্রান্ত কাগজেও স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হবে। বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বর্জন করে তখন যেন তারা নির্বাচন করতে না পারে। বিএনপির ঐ সূত্রগুলো বলছে, বেশ কয়েকটি কারণে বিএনপি নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-

১. বেগম খালেদা জিয়াকে যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হয়।

২. মামলা এবং দণ্ডের কারণে যদি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন।

৩. নির্বাচন কমিশনের আচরণ যদি তাদের কাছে পক্ষপাতপূর্ণ মনে হয়।

৪. পলাতক নেতাকর্মীদের যদি ধরপাকড় বন্ধ না হয়।

৫. বিএনপির নেতাকর্মীদের যদি গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকে।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, ‘মনোনয়ন পত্র দাখিল থেকে প্রত্যাহার সময়টুক গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি।

রাজপথেই ফয়সালা হবে সবকিছূ

এগারোটি লক্ষ্য অর্জনে সাত দফা দাবি নিয়ে গঠিত ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’কে আন্দোলনের মাঠে, রাজপথে দেখতে চায় দেশের বাম প্রগতিশীল নেতারা। তাদের মতে, ঘোষিত দাবি নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি আন্দোলনের মাঠে আসতে পারে তবে জনসমর্থন পাবে।

নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে’র দাবিগুলোর সঙ্গে বাম-প্রগতিশীল দলগুলোর নির্বাচন প্রশ্নে করা দাবির মিল আছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনো ঐক্য হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কোনো কোনো বাম নেতা। তবে আন্দোলনে মাঠে থাকলে ‘প্রত্যক্ষ ঐক্য’ তৈরি না হলেও ‘পরোক্ষ ঐক্য’ থাকে বলেও কেউ কেউ মনে করেন।

তাদের ভাষ্য মতে, ‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মতো দুঃশাসনের শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হবো না, বিকল্প শক্তি গড়ে তুলবো।’ তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজপথের কর্মসূচির ওপর ঐক্যের বিষয়টি নির্ভর করবে বলেও মত দেন কেউ কেউ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলার সময় আসেনি বলে মনে করেন বাম নেতারা। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার চেয়ে রাজপথে আন্দোলনে আছেন জানিয়ে তারা বলেন, ‘দেশে এখন নির্বাচনের পরিবেশ নেই, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফায় যা আছে :

১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।

২. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৩. বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

৪. কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব কালো আইন বাতিল করতে হবে।

৫. নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশে কোনো প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনের সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।

৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও কোনো ধরনের নতুন মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

জোটের বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হবো না, আওয়ামী লীগের সঙ্গেও জোটে যাবো না। কারণ, ওই দুই শক্তিই দুঃশাসনের শক্তি। আমরা দুঃশাসনের দুই শক্তির বাইরে বামপন্থী-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নিয়ে একটা বিকল্প শক্তি গড়ে তুলবো।’

‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক হওয়ার সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বিষয়ে আমরা কিছু দাবি দিয়েছি। আমাদের মতো করে আমরা লড়াই-সংগ্রামে আছি। এগুলো এখনও পরিষ্কার নয়। যদি নির্বাচন করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়, তাহলে আমরা আমাদের দল থেকে নির্বাচনে যোগ দেব।’

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা একটা জোটে অবস্থান করি। গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলবেন তারা যার যার অবস্থান থেকে জনগণের সামনে উপস্থিত হোক। গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হোক। জনগণের মৌলিক অধিকারের বিষয়ে সবাই সোচ্চার হোক। এমন আহ্বান আমাদের জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার পরিবেশ নেই। তাই নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে আমাদের অবস্থান জানানোর সময় এখনও হয়নি।’

গণতান্ত্রিক বাম জোটের নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘এটা তো অনেক আগে করার কথা ছিল। সেই জায়গা থেকে তারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) যে কথাগুলো বলছেন, এগুলো নিয়ে যদি তারা রাজপথে ধারাবাহিকভাবে থাকতে পারে, তাহলে মানুষের সমর্থন পাবে। এখনও রাজপথে কার্যকর কর্মসূচিতে তাদের দেখিনি।’

‘আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষার দাবি নিয়ে রাজপথে বহুদিন ধরে আছি। আন্দোলনের সব শক্তিগুলো রাজপথে অবস্থান নিক। রাজপথে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে এক ধরনের পরোক্ষ ঐক্য গড়ে ওঠে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, এসব বিষয়ে কিন্তু তাদের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের) কোনো কথা আমরা শুনিনি। আমরা দেখতে চাই, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক দল রাজপথে দাঁড়াক। ঐক্যবদ্ধ না হলে মানুষ কিন্তু সাহস পাবে না রাজপথে নামতে। সরকার যেভাবে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে, আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়ালে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করতে না পারলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।’

‘আন্দোলনের মাঠে অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে, তাদের সঙ্গে ঐক্যের বিষয়টি’- যোগ করেন তিনি।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে তিনি বলেন, জোটগতভাবে (বাম জোট) আমরা বলেছি, তফসিল ঘোষণার আগেই সংসদ ভেঙে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথা। এ চার দাবিতে আমরা রাজপথে আছি। আন্দোলনের মাধ্যমে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হলে আমরা বামজোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।

‘আমাদের প্রার্থী বাছাই চলছে। জোটগতভাবে একদিকে রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক সাংগঠনিক প্রস্তুতি আমরা শুরু করেছি।’

গণতান্ত্রিক বাম জোটের অন্যতম নেতা ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের জোট গঠন হচ্ছে। তারা বিভিন্ন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোবে। আমরা রাজপথে আছি। রাজপথেই ঐক্যের বিষয়টি নির্ধারণ হবে।’

জাগো নিউজ