‘নির্বাচন তো পুলিশ করে দিয়েছে’

নির্বাচন হইছে। এই নির্বাচন তো ইমপ্রুসেভ বলতে গেলে পুলিশ করে দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করে দিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটরা করে দিয়েছে, প্রশাসন করে দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে (একুশের রাত) তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ভোটের মধ্যে অনেক দেশে গঠন হয় এবং হতে পারে। যেমন: জাতীয় পার্টি মহাজোটের সাথে গিয়েছে। এটিও একটি চলমান প্রক্রিয়া।



সংলাপের বিষয় উল্লেখ করে তৈমুর আলম বলেন, এর আগেও তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করেছেন। কিন্তু সে সময় একটা দাবিও তিনি মানেননি। তারপরেও তো সংলাপ হয়েছে। আবারও সংলাপ হবে প্রক্রিয়াগতভাবে এবং প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ আরও বৃদ্ধি পাবে যদি তিনি বিরোধী দলগুলো গুরুত্ব দিয়ে তিনি দলগুলোর কথা শোনেন তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ বৃ্দ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে শুধু আওয়ামী লীগের কথাই শোনেন তা তো না। তাকে জাতির সমস্যাটা দেখতে হবে। জাতিগতভাবে আমাদের অনেক সমস্যা আছে। উন্নয়ন তো একটা পার্ট। পদ্মা ব্রিজ হচ্ছে আরও অন্যান্য এগুলো একটা পার্ট। কিন্তু তারপরেও একটা সার্বিক সমস্যা থেকে যায়।



তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার চেতনার মধ্যে কি পড়ে না যেই মানুষটা এই দেশের নাগরিক তার ভোটটা সে নিজে দিতে পারবে নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে। তার নিজের পার্টিটাকে সে চয়েজ করতে পারবে। তার প্রার্থীকে সে চয়েস করতে পারবে। এইটাও তো একটা স্বাধীনতার চেতনা।

তৈমুর আলম বলেন, যদি ৭০ সনের নির্বাচন পাক হানাদার মেনে নিত তবে কিন্তু স্বাধীনতার এই পেক্ষাপট নাও হতে পারত। দেশটা স্বাধীন হয়ে গেছে ভালো হইছে। একটা ঝামেলা মুক্ত হয়ে গেছে।



সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপ শুধু করলেই হবে না। এটা জাতি চায় না। জাতি চায় প্রধানমন্ত্রী জণগণের কিছু কথা শুনবে এবং তিনি মানবেন।

নির্বাচন হইছে। এই নির্বাচন তো ইমপ্রুসেভ বলতে গেলে পুলিশ করে দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করে দিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটরা করে দিয়েছে, প্রশাসন করে দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে (একুশের রাত) তিনি এ মন্তব্য করেন।



এসময় তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ভোটের মধ্যে অনেক দেশে গঠন হয় এবং হতে পারে। যেমন: জাতীয় পার্টি মহাজোটের সাথে গিয়েছে। এটিও একটি চলমান প্রক্রিয়া।

সংলাপের বিষয় উল্লেখ করে তৈমুর আলম বলেন, এর আগেও তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করেছেন। কিন্তু সে সময় একটা দাবিও তিনি মানেননি। তারপরেও তো সংলাপ হয়েছে। আবারও সংলাপ হবে প্রক্রিয়াগতভাবে এবং প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ আরও বৃদ্ধি পাবে যদি তিনি বিরোধী দলগুলো গুরুত্ব দিয়ে তিনি দলগুলোর কথা শোনেন তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ বৃ্দ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে শুধু আওয়ামী লীগের কথাই শোনেন তা তো না। তাকে জাতির সমস্যাটা দেখতে হবে। জাতিগতভাবে আমাদের অনেক সমস্যা আছে। উন্নয়ন তো একটা পার্ট। পদ্মা ব্রিজ হচ্ছে আরও অন্যান্য এগুলো একটা পার্ট। কিন্তু তারপরেও একটা সার্বিক সমস্যা থেকে যায়।



তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার চেতনার মধ্যে কি পড়ে না যেই মানুষটা এই দেশের নাগরিক তার ভোটটা সে নিজে দিতে পারবে নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে। তার নিজের পার্টিটাকে সে চয়েজ করতে পারবে। তার প্রার্থীকে সে চয়েস করতে পারবে। এইটাও তো একটা স্বাধীনতার চেতনা।

তৈমুর আলম বলেন, যদি ৭০ সনের নির্বাচন পাক হানাদার মেনে নিত তবে কিন্তু স্বাধীনতার এই পেক্ষাপট নাও হতে পারত। দেশটা স্বাধীন হয়ে গেছে ভালো হইছে। একটা ঝামেলা মুক্ত হয়ে গেছে।

সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপ শুধু করলেই হবে না। এটা জাতি চায় না। জাতি চায় প্রধানমন্ত্রী জণগণের কিছু কথা শুনবে এবং তিনি মানবেন।

সুত্রঃ https://www.prothomalo.com › মতামত › রাজনীতি

ব্যর্থতার দায়ে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ করা উচিত: কাদের

আন্দোলন-সংগ্রাম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ব্যর্থ বলে মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। আর এ কারণে মির্জা ফখরুলের বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক বর্ধিতসভায় তিনি এ কথা বলেন।



বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে তিনি (ফখরুল) কোনো আন্দোলন করতে পারেননি। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এ ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ও পদ থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত।

‘নির্বাচনে কারচুপির দায়ে ওবায়দুল কাদেরের উচিত স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া’-বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের একদিন পর তার উদ্দেশে এমন মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। বেপরোয়া চালক কখন যে কী করে, ‘অ্যাকসিডেন্ট’ ঘটান, তার ঠিক নেই। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।



নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বেসরকারি সংস্থা টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিআইবি এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে বর্ধিতসভায় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

ফখরুল এখন বেপরোয়া চালক: কাদের”””

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। বেপরোয়া চালক কখন যে কী করে, ‘অ্যাকসিডেন্ট’ ঘটান, তার ঠিক নেই। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।



বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক বর্ধিতসভায় তিনি এ কথা বলেন।

আন্দোলন-সংগ্রাম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে দলটির মহাসচিব ব্যর্থ বলে মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। আর এ কারণে মির্জা ফখরুলের বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে তিনি (ফখরুল) কোনো আন্দোলন করতে পারেননি। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এ ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ও পদ থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত।



‘নির্বাচনে কারচুপির দায়ে ওবায়দুল কাদেরের উচিত স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া’-বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের একদিন পর তার উদ্দেশে এমন মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বেসরকারি সংস্থা টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিআইবি এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে বর্ধিতসভায় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

সংরক্ষিত নারী আসনে জাপার ফরম বিক্রি শুরুতে বিলম্ব ”””’



নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পর সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়।

ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।



মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয় বুধবার সকাল ১০টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে গত ৯ জানুয়ারী মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু আজ বুধবার আবার ওই পদেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।



ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে আমরা বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকব। তীর্যক ভাষায় দেশের মানুষের কথা তুলে ধরব। সংসদে গণমানুষের কথা তুলে ধরা হবে। শক্ত বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করব আমরা।’
আগের চারজনকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান চিঠি স্পিকারকে দিয়েছেন। পরে আবার উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে। পদ্ধতিগত সমস্যা ছিল, তাই নতুন করে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে।’ দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচজন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান।



জাপা সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করা যাবে আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ১০ হাজার টাকা দলীয় ফান্ডে জমা দিয়ে সংগ্রহ করা যাচ্ছে মনোনয়ন ফরম।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে মনোনয়ন দেয় জাপা। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত ওই মনোনয়নপত্রটি পাঠানো হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। জাপার মনোনীতরা হচ্ছেন পারভীন ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), নাজমা আখতার (ফেনী) ও মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)। তবে পদ্ধতিগত ক্রুটি দেখিয়ে দলটি পরে আবারও মনোনয়ন ফরম বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক বিকালে

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বিকালে অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বিকাল ৪টায় এ বৈঠক হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া সমন্বয়ক লতিফুল বারী হামীম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।



জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে জাতীয় সংলাপ, দেশের চলমান রাজনীতি ও নির্বাচনের পর আগামী দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণে এ বৈঠক হবে।

ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

ফখরুল এখন বেপরোয়া চালক: কাদের””’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। বেপরোয়া চালক কখন যে কী করে, ‘অ্যাকসিডেন্ট’ ঘটান, তার ঠিক নেই। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।



বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক বর্ধিতসভায় তিনি এ কথা বলেন।

আন্দোলন-সংগ্রাম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে দলটির মহাসচিব ব্যর্থ বলে মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। আর এ কারণে মির্জা ফখরুলের বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে তিনি (ফখরুল) কোনো আন্দোলন করতে পারেননি। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এ ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ও পদ থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত।



‘নির্বাচনে কারচুপির দায়ে ওবায়দুল কাদেরের উচিত স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া’-বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের একদিন পর তার উদ্দেশে এমন মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বেসরকারি সংস্থা টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিআইবি এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে বর্ধিতসভায় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

সংরক্ষিত নারী আসনে জাপার ফরম বিক্রি শুরুতে বিলম্ব ”””’



নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পর সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়।

ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয় বুধবার সকাল ১০টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে গত ৯ জানুয়ারী মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু আজ বুধবার আবার ওই পদেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।



ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে আমরা বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকব। তীর্যক ভাষায় দেশের মানুষের কথা তুলে ধরব। সংসদে গণমানুষের কথা তুলে ধরা হবে। শক্ত বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করব আমরা।’
আগের চারজনকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান চিঠি স্পিকারকে দিয়েছেন। পরে আবার উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে। পদ্ধতিগত সমস্যা ছিল, তাই নতুন করে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে।’ দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচজন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান।



জাপা সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করা যাবে আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ১০ হাজার টাকা দলীয় ফান্ডে জমা দিয়ে সংগ্রহ করা যাচ্ছে মনোনয়ন ফরম।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে মনোনয়ন দেয় জাপা। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত ওই মনোনয়নপত্রটি পাঠানো হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। জাপার মনোনীতরা হচ্ছেন পারভীন ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), নাজমা আখতার (ফেনী) ও মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)। তবে পদ্ধতিগত ক্রুটি দেখিয়ে দলটি পরে আবারও মনোনয়ন ফরম বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।

খালেদা জিয়ার পায়ে ফোঁড়া, আদালতে যেতে পারেননি

পায়ে ফোঁড়া ওঠায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির হতে পারেননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালতে শুনানির দিন ধার্য ছিল আজ বুধবার। খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। পায়ে ফোঁড়া ওঠায় তাকে আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ।



এ বিষয়ে আদালতে একটি কাস্টরি ওয়ারেন্ট পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। এতে উল্লেখ করা হয়, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ, তাই তাকে আদালতে হাজির করানো যায়নি।



এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়ার পায়ে ফোঁড়া ওঠায় তাকে আদালতে আনা সম্ভব হয়নি। তাই কারা কর্তৃপক্ষ কাস্টরি ওয়ারেন্ট পাঠিয়েছে।

এর আগে একই আদালত গত ১০ জানুয়ারি প্রডাকশনে ওয়ারেন্ট জারির আদেশ দেন। আজও উপস্থিত না হওয়ায় খালেদা জিয়ার পক্ষে সময় আবেদন মঞ্জুর করেন আগামী ২৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে ছিলেন মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জয়নুল আবেদীন মেসবাহ, তাহেরুল ইসলাম, আকরাম হোসেন, আবদুল হান্নান ভূঁইয়া প্রমুখ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল।



মামলাটিতে জরুরি বিধিমালা সংযুক্ত এ মামলার অভিযোগপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করে মামলা বাতিল চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। রিট আবেদনের কারণে প্রায় ৮ বছর নিম্ন আদালতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রিট খারিজ করে উচ্চ আদালত ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে দুই মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ৫ এপ্রিল আত্মসমর্পণ করে জামিন পান খালেদা জিয়া।

গত ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. গোলাম শাহরিয়ার ১৩ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।



মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।



প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ এবং সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।

ফখরুল এখন বেপরোয়া চালক: কাদের

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। বেপরোয়া চালক কখন যে কী করে, ‘অ্যাকসিডেন্ট’ ঘটান, তার ঠিক নেই। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।



বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক বর্ধিতসভায় তিনি এ কথা বলেন।



আন্দোলন-সংগ্রাম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে দলটির মহাসচিব ব্যর্থ বলে মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। আর এ কারণে মির্জা ফখরুলের বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে তিনি (ফখরুল) কোনো আন্দোলন করতে পারেননি। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এ ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ও পদ থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত।



‘নির্বাচনে কারচুপির দায়ে ওবায়দুল কাদেরের উচিত স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া’-বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের একদিন পর তার উদ্দেশে এমন মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বেসরকারি সংস্থা টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিআইবি এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে বর্ধিতসভায় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

সংরক্ষিত নারী আসনে জাপার ফরম বিক্রি শুরুতে বিলম্ব ”””’



নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পর সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়।

ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।



মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয় বুধবার সকাল ১০টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে গত ৯ জানুয়ারী মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু আজ বুধবার আবার ওই পদেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।



ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে আমরা বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকব। তীর্যক ভাষায় দেশের মানুষের কথা তুলে ধরব। সংসদে গণমানুষের কথা তুলে ধরা হবে। শক্ত বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করব আমরা।’
আগের চারজনকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান চিঠি স্পিকারকে দিয়েছেন। পরে আবার উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে। পদ্ধতিগত সমস্যা ছিল, তাই নতুন করে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে।’ দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচজন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান।



জাপা সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করা যাবে আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ১০ হাজার টাকা দলীয় ফান্ডে জমা দিয়ে সংগ্রহ করা যাচ্ছে মনোনয়ন ফরম।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে মনোনয়ন দেয় জাপা। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত ওই মনোনয়নপত্রটি পাঠানো হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। জাপার মনোনীতরা হচ্ছেন পারভীন ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), নাজমা আখতার (ফেনী) ও মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)। তবে পদ্ধতিগত ক্রুটি দেখিয়ে দলটি পরে আবারও মনোনয়ন ফরম বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।

গায়েবি মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে যা বললেন ডা: জাফর উল্লাহ চৌধুরী

গায়েবি মামলা যেন প্রত্যাহার করা হয়। আর কোন নতুন মামলা না থাকলে রাজনৈতিক নেতাদের যেন বেলে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্টাতা ডা: জাফর উল্লাহ চৌধুরী।

সোমবার (১৪ জানুয়ারি) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের সংলাপের জন্য ডাকে তবে আমরা সাধুবাদ জানাবো। কারণ উনার ওখানে গেলে ভাল-মন্দ খাওয়া যায়। তবে আমি সংলাপের পক্ষে। যদি সত্যিই সাক্ষাৎ হয়, তবে উনার কাছে আমার একটাই দাবি। গায়েবি মামলা যেন প্রত্যাহার করা হয়।


তিনি বলেন এই নির্বাচনে সকল দল অংশগ্রহণ করেছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ হয়নি। জনগণ বাকশালে ফিরে যেতে চায় না। গণতন্ত্রে ফিরতে চাই। তার জন্য সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন

তিনি আরও বলেন, ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন ইতোমধ্যে বেল পেয়েছে তার মুক্তিও চাই। এবং বিএনপি চেয়ারপার্সান খালেদা জিয়াকে বেলে হলেও মুক্তি দাবি করেন তিনি।

পাঁচজন উপদেষ্টা পুননিয়োগ নিয়ে অসন্তুষ্ট প্রকাশ করে জাফর উল্লাহ বলেন, এইচটি ইমাম বলেছেন, একাদশ নির্বাচন সুষ্টু হয়েছে। একাদশ নির্বাচনের মতই ভবিষ্যত নির্বাচন হবে। আমি মনে করি এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। সকল মন্ত্রী পরিবর্তন করলেও উনাদের করেনি। এটা ঠিক নয়।



জাসদ আম্বিয়া অংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ক্ষমতায় কারা থাকবে তা নির্ধারন করবেন জনগণ। জনগণের দ্বারাই সরকার পরিবর্তন হয়। নির্বাচনে কম বেশি ফলস ভোট হয়। এটা নতুন কিছু নয়। তবে নির্বাচন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমান করে নির্বাচন সুষ্টু হয়েছে বলে দাবি করেন এই নেতা। সর্বশেষ ইলেকশনে সবাই স্তম্ভিত হয়ে গেছে। এত বড় বিজয় কেউ আশা করেনি।

কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, জনগণ ভোট দিতে পেরেছি কী না আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আমরা প্রিসাইডিং অফিসারকে ভোটের দিনই কমপ্লেইন করেছি কিন্তু তারা কোন কর্ণপাত করেনি। ভোট তো নির্বাচনের আগের রাত্রেই হয়ে গেছে। নিজের ভোট নিজে দিতে না পারলেও, তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে বলে তিনি এসময় দাবি করেন।



তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যারা (প্রশাসন) নির্বাচনে সরকারকে জয়ী হতে সহযোগিতা করেছে তারা একসময় ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে যাবে। এটা দেশের জন্য ভাল হলো না। এতে করে সরকারের সকল প্রশাসনিক কাঠামোয় এক সময় দুর্বলতা সৃষ্টি হবে।

ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটুয়ারি বলেন, বিএনপি একটি সুবিধাবাদী দল। বিএনপির কোন প্রার্থীর মাঝে কোন প্রতিবাদ দেখলাম না নির্বাচনে। আমার তো মনে হয় তারা মাঠ ছেড়ে দিয়েছে। তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করেনি। কী অজানা কারণে তারা প্রতিবাদ করেনি আমার বোধগম্য নয়। যে প্রতিবাদ হিরো আলমের মাঝে দেখতে পেলাম, সত্যি আশ্চর্য হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। বিএনপির মাঝে পেলাম না।

এসময় তিনি আরও বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বলেন নির্বাচন পুরোপুরি সুন্দর হয়েছে একথা আমি বলবো না। তবে বিএনপি এর জন্য নিজেই দায়ি বলে আমি মনে করি।



তিনি বলেন, সরাকরের (আওয়ামী লীগ) সমালোচনা সহ্য করার মত ক্ষমতা থাকা উচিত। কামাল হোসেন সাহেবের জন্যই রক্তপাতহীন ভোট হয়েছে। ভোটের দিন বিএনপি কাটাকাটি করেছে কিন্তু বিএনপি ভোট দিতে পারেনি। এটা তাদের ব্যার্থতাই বলে মনে করি।

সুত্রঃ https://www.bd24live.com/bangla/print.php?news=191340

জামায়াতকে জোটে রাখা না রাখা: বিএনপি নেতারা যা বললেন

সাম্প্রতিক রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে জামায়াতে ইসলামী বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে।জামায়াত নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত মূলত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের একটি সাক্ষাৎকার ও একটি সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে।

ভারতের একটি বহুল প্রচারিত গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকার ও নির্বাচনোত্তর ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রবীণ এই আইনজীবী জামায়াত ইসলামীকে নিয়ে কথা বলেন।তার সাক্ষাৎকার ও সংবাদ সম্মেলনের মূল কথা ছিল-বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে নিজ দলীয় প্রতীক ধানের শীষ দিয়ে ভোট করার সুযোগ দেবে জানলে তিনি বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করতেন না।তাদের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) সঙ্গে ঐক্য ধরে রাখতে হলে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে।



ড. কামালের এই বক্তব্যের পরই তোলপাড় শুরু হয়।বিএনপির প্রতি চাপ সৃষ্টি হয় জামায়াত ছাড়ার।আবার জামায়াতের উপর অভ্যন্তরীণ চাপ শুরু হয় যে, বিএনপি যদি জামায়াতকে বোঝা কিংবা দায় মনে করে তবে তাদের সঙ্গে থাকার যুক্তি কি?

জানা গেছে, জামায়াত ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে। স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটিকে ছাড়ার চাপে রয়েছে ফ্রন্টের নেতৃত্বে থাকা বিএনপি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর জোটের অন্যতম শরিক ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে। বিদেশিদের দিক থেকেও একই চাপ রয়েছে।

বিএনপির মধ্যম সারির অনেক নেতা মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকায় বিএনপি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের জোট থেকে বের করে দেয়া উচিত।



তবে ভোটের হিসাবসহ নানা কৌশলগত কারণ দেখিয়ে দলটিকে দূরে ঠেলে দিতে চাইছে না বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

তবে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলছেন, জামায়াতের জোট হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের। সুতরাং বিএনপি চেয়ারপারসনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন, আর কেউ নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জামায়াতকে নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও নানা রকমের সংকটে ছিল বিএনপি। ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরামসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে জোট গড়তে দেরি করে মূলত জামায়াতের কারণে।

একপর্যায়ে ২০ দলীয় জোটের বাইরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোট গড়া হলেও জামায়াত নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে আসন ছেড়ে দেয়ায় নির্বাচনের পর অসন্তোষ ব্যক্ত করেন ড. কামাল হোসেন।

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন শনিবার বলেছেন, নির্বাচনে জামায়াতের ২২ নেতাকে যে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হবে, তা তিনি জানতেন না।



জামায়াতের সঙ্গে একই প্রতীকে ভোট করাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জামায়াত ছাড়তে বিএনপিকে চাপ দেয়া যেতে পারে। অবশ্য ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের নেতারা ড. কামালের বক্তব্যের বিরোধিতা না করলেও ২০ দলীয় জোটের শরিকরা একে নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন।

জামায়াতকে জোটে রাখার পক্ষের নেতারা মনে করছেন- জামায়াতের সঙ্গে ১৯৯৯ সাল থেকে বিএনপির জোট। এই জোট আদর্শিক নয়, আন্দোলন ও ভোটের জোট। ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে গত বছর। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট রয়েছে, তা জেনেই ঐক্যফ্রন্টে এসেছে শরিক দলগুলো। জামায়াত ঐক্যফ্রন্টের নয়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক। তাই এ নিয়ে বিতর্ক অহেতুক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টে কোনো ফাটল ধরার সুযোগ নেই। এই জোট অটুট থাকবে।

কারণ আমরা অভিন্ন দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছি। জামায়াত নিয়ে গণফোরামের সভাপতি হিসেবে ড. কামাল হোসেন বক্তব্য দিয়েছেন। তা ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নয় বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ড. কামাল হোসেনের জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি না করার প্রস্তাবকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।



একই সঙ্গে তার কাছে আমাদের দাবি, তিনি (ড. কামাল) যেন আওয়ামী লীগের কাছে আহ্বান জানান, যেসব জামায়াত নেতাকে আওয়ামী লীগ ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে, যাদের ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ে চেয়ারম্যান, মন্ত্রী-এমপি বানিয়েছে তাদের যেন বাদ দেয়া হয়। তাতে জনগণ খুশি হবে। তিনি বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশন দিয়েছে। হাইকোর্টেরও একটি রায় আছে।

এরপর জামায়াতকে কেন আওয়ামী লীগ বাদ দিচ্ছে না। এখন শুনছি দল হিসেবে জামায়াতের বিচার করতে আইন সংশোধন করা হবে। এটা নিয়েও তারা রাজনীতি করতে চায়।

সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময়ই জামায়াতকে নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন সামনে চলে আসায় কিছুটা গোঁজামিল দিয়েই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়।

পরে বিষয়টি সামনে চলে আসে নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে। বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দেয়ায় তা মেনে নিতে পারেননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতা।

এ নিয়ে মতবিরোধ ছিল বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যেও। বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, জামায়াত প্রথমে তাদের জানিয়েছিল তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করবেন।

বিএনপিও সিদ্ধান্ত নেন তাদের আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী দেবে না, যা জামায়াত নেতাদের জানিয়েও দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জামায়াত তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই একমত ছিলেন না। পরে স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্যের কারণে ২২ আসনে জামায়াত নেতাদের ধানের শীষের প্রতীক দেয়া হয়।

এ নিয়ে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গণফোরামের এক নেতাদের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী ওই নেতার বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, বিএনপি-জামায়াতের কোনো প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়নি। তারা সবাই বিএনপির প্রার্থী। এ নিয়েও সে সময় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল।



বিএনপির মধ্যম সারির অনেক নেতা জামায়াতকে জোটে রাখার বিপক্ষে। ছাত্রদলের একজন সহ-সভাপতি যুগান্তরকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি এবং তরুণ প্রজন্ম মনে করে জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধীদের দল।

তরুণ ভোটাররাও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া এবং বিএনপিদলীয় ধানের শীষ প্রতীক দেয়াকে ভালো চোখে দেখেননি। বিএনপিসহ ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক বেশি মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। অথচ জোটে জামায়াত থাকার কারণে আওয়ামী লীগসহ বাম দলের নেতারাও নানা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে।

ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ড. কামাল সাহেবের বক্তব্য আমরা পূর্ণ সমর্থন করি। আমাদের ঐক্যফ্রন্টের মূল কথাই ছিল আমরা জামায়াতকে নেব না।

তিনি বলেন, একটি জিনিস প্রমাণিত ভোটের বাজারে জামায়াতকে দিয়ে বিএনপি কোনো লাভবান হয়নি। এখন জামায়াত যদি ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি করতে চায় তা হলে আমরা ভেবে দেখব। তা না হলে বিএনপির উচিত তাদের বর্জন করা।

বিএনপি জামায়াত দূরত্ব



এদিকে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চললেও বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে জামায়াতের। এ দূরত্ব এতদিন খুব একটা প্রকাশ না পেলেও এখন অনেকটাই দৃশ্যমান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সেই দূরত্ব বেড়েছে কয়েক গুণ, বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক এখনও তলানিতে। বিশেষ করে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আসন বণ্টন ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উপর বিএনপির অতিমাত্রায় নির্ভরতার বিষয়টি মানতে পারছে জামায়াত। এর বহির্প্রকাশ ঘটেছে দলটির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে।



বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ১৯৯৭-৯৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক ছিল সবচেয়ে মধুর। জামায়াতকে রাজনীতিতে শক্ত জায়গা করে দেয়ার জন্য বিএনপিকে কম কথা শুনতে হয়নি। বিশেষ করে ২০০১ সালে জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেয়া ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেয়ায় বিএনপিকে এখনও অনেকে সহ্য করতে পারছে না।

জামায়াতও বিএনপির সেই আস্থার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করেছে প্রতি পদে পদে। বিশেষ করে ২০০৫ সালের শেষ দিকে আওয়ামী লীগের সরকার বিরোধী আন্দোলনে মাঠে থেকে বিএনপিকে সর্বোচ্চ সহায়তা করে জামায়াত।



শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালের নির্বাচন-পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়টাতে একতরফা ভোট ঠেকাতে জামায়াত ছিল বিএনপির রাজপথের সঙ্গী। সারা দেশে আন্দোলন সংগঠিত করতে কাণ্ডারির ভূমিকা রেখেছে ধর্মভিত্তিক এ দলটিই।

দৃশ্যপট পাল্টাতে থাকে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর। যখন আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক দণ্ড- এমনকি ফাঁসি দিতে থাকে, তখন বিএনপিকে পাশে পায়নি জামায়াত। এমনকি জামায়াতের ওই সব নেতার পক্ষে কোনো প্রতিক্রিয়াও দেখায়নি জোটসঙ্গী বিএনপি। এতে হতাশ ও চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে জামায়াত।



এর পর থেকে বিএনপি সরকারবিরোধী যত আন্দোলন-সংগ্রামের ডাক দিয়েছে, সেগুলোতে জামায়াত নৈতিক সমর্থন দিয়েই দায় এড়িয়েছে। কৌশলগত কারণে জোট থেকে বিচ্ছিন্ন না হলে আগের সেই সখ্য আর দেখা যায়নি। এমনকি ২০-দলীয় জোটের বৈঠকে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতাকেও দেখা যায়নি।

বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে একাদশ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে বিএনপি আলাদা একটি মোর্চার শরিক হওয়ার পর। বিএনপি কার্যত ২০ দলকে পেছনে ফেলে নতুন জোটের নেতাদের ভ্যানগার্ড হিসেবে বেছে নেয়। ড. কামালের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের কেউ-ই জামায়াতকে মেনে নিতে পারেনি।

এমনকি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ না করায় বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বিএনপির সঙ্গে জোটে আসেনি। ড. কামাল-কাদের সিদ্দিকী-আ স ম রব-মাহমুদুর রহমান মান্নারা শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জোট করলেও দলটির সঙ্গে জামায়াতের গাঁটছড়া এমনকি অস্তিত্ব মেনে নেয়নি।



এসব বাস্তবতা সত্ত্বেও বিএনপি সুকৌশলে চেষ্টা করেছে ২০ দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সমান্তরালে হাঁটতে। এ ক্ষেত্রে বিএনপিকে হোঁচট খেতে হয়েছে পদে পদে। শেষ পর্যন্ত ২০ দলকে আড়ালে রেখে ঐক্যফ্রন্টকেই সামনে দিয়ে নির্বাচন করেছে বিএনপি। এমনকি ২০ ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা আজ পর্যন্ত সামনাসামনি বসেনি। সিদ্ধান্ত নিতে দুই জোটের সঙ্গে আলাদা আলাদা বসতে হয়েছে বিএনপিকে। এ ক্ষেত্রে বাধা জামায়াত। এসব নিয়ে দুই জোটের শরিকদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিএনপি-জামায়াতের দূরত্ব তীব্র হয় একাদশ নির্বাচনে দুই জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে। একাদশ নির্বাচনে জামায়াতের চাহিদা ছিল অন্তত ৩৫-৪০ আসন। বিএনপি শুরুতে ২৫ আসন জামায়াতকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে দলটি। শেষ দরকষাকষিতে জামায়াতকে দেয়া হয় মাত্র ২০ আসন। জামায়াত এটি মেনে নিতে পারেনি। তারা জোট থেকে বের না হলেও বেশ কয়েকটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের পাশাপাশি নিজেদের প্রার্থীও দিয়েছে।



একাদশ নির্বাচনে ‘শোচনীয়’ ভরাডুবি হয় বিএনপি জোটের। দুই জোটের ২৭ দল মিলে পায় মাত্র সাতটি আসন। বিএনপি পাঁচটি আসন পেলেও জামায়াত একটি আসনও পায়নি।

এর পরই জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের অপরিহার্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। বিএনপিতে জামায়াতবিরোধী বলয় হিসেবে যারা পরিচিত, তারা এখনই মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দলটির সঙ্গ ছাড়তে চাপ সৃষ্টি করছে শীর্ষ নেতাদের। তবে এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কোনো নেতা এখনই মুখ খুলতে নারাজ।



যারা জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন, তাদের যুক্তি হচ্ছে- এতদিন জামায়াতের ভোট ব্যাংকের কথা বলে তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাধার কথা বলা হতো। এবার তো প্রমাণ হল জামায়াতের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।

তবে বিএনপিতে এখনও যারা জামায়াতকে সঙ্গী হিসেবে দেখতে চান, তাদের যুক্তি হচ্ছে- একাদশ নির্বাচন জনপ্রিয়তা কিংবা ভোটের মানদণ্ড হতে পারে না। সেটি হলে বিএনপির মতো এত বড় দল সারা দেশে পাঁচটি আসন পাবে কেন?

এদিকে জামায়াতও এত প্রশ্ন কিংবা বঞ্চনা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে থাকবে কেন, তা নিয়ে ভাবছে। দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একটি বড় অংশের যুক্তি হচ্ছে- শুধু বিএনপিকে রাজপথে ও ভোটের মাঠে শক্তি জোগানোর কারণে তাদের (জামায়াত) এই রাজনীতির পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। একে একে শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এতকিছুর পরও জামায়াত নিয়ে বিএনপি অস্বস্তিতে ভুগলে তাদের সঙ্গে থাকার দরকার কি?



এসব ভাবনা-চিন্তার দোলাচলে সম্প্রতি বিএনপির ডাকে সাড়া দেয়নি জামায়াত। নির্বাচনের পর গত বৃহস্পতিবার ধানের শীষের সব প্রার্থীকে ঢাকায় ডাকে বিএনপি। সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের অন্য শরিকদের প্রার্থী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও জামায়াতের কেউ ছিল না। এটিকে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতির বিচ্ছেদ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

সুত্রঃ https://www.jugantor.com/politics/133969

ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক বিকালে

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আজ বুধবার বিকালে। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকটি রাজধানীর মতিঝিলে অনুষ্ঠিত হবে।



ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া সমন্বয়ক লতিফুল বারী হামীম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে তার সভাপতিত্বে বিকেল ৪টায় এ বৈঠক হবে বলে জানান তিনি।



জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

জাতীয় সংলাপ, দেশের চলমান রাজনীতি ও নির্বাচন পরবর্তী আগামী দিনের কর্মপন্থা ঠিক করতেই এ বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির অফিস উচ্ছেদ করে রেস্টুরেন্ট!”””’



ঝালকাঠি জেলা বিএনপির কার্যালয় উচ্ছেদ করে সেখানে একটি রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ে অবস্থিত বিএনপির অফিস থেকে আসবাবপত্র বের করে দেয় মালিকপক্ষ।
পরে সেখানে তালা মেরে একটি রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
এ ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।



ঝালকাঠি জেলা বিএনপি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক ফরিদ হোসেন জানিয়েছেন, গত শুক্রবার জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া ফোন করে অফিসের চাবি মালিকপক্ষের লোকজনের কাছে দিতে বলেন।

‘সভাপতি ও সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানাই। পরে মালিকপক্ষ অফিসের তালা ভাঙার চেষ্টা করলে ভবন মালিক মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম ইসলামকে চাবি দিই।’

এর পর তারা অফিসের মালামাল বাইরে বের করে তালা মেরে একটি রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন বলে জানান ফরিদ হোসেন।



তিনি আরও জানান, বিএনপির এ অফিসটি কিবরিয়ার নামে চুক্তি করা ছিল। আর ভবনের মালিক কিবরিয়ার বড় ভাইয়ের শ্বশুর।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে অফিস ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে ক্ষোভ থেকে অফিস ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিঞা আহমেদ কিবরিয়া।

তিনি বলেন, আমার আত্মীয়ের কাছ থেকে এই অফিসটি আমি ভাড়া নিয়েছিলাম। এখন পারিবারিক সমস্যার কারণে অফিসটি ছেড়ে দিতে হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির ফাঁকা পদ-বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্রুত দল পুনর্গঠন করতে হবে

বিএনপির স্থবিরতার প্রধান কারণ স্থায়ী কমিটির ফাঁকা পদ। বিএনপির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির মধ্যে দুটি পদ ঘোষণার সময়ই ফাঁকা ছিল।

বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এমকে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে পাঁচটি পদ ফাঁকা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয় ও মামলা-হামলাসহ নানা কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্রুত দল পুনর্গঠন করতে হবে।



কেন্দ্রীয় কমিটির ফাঁকা পদ পূরণের পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। হাত দিতে হবে তৃণমূলেও। সুবিধাবাদীদের বাদ দিয়ে যোগ্য ও ত্যাগীদের নেতৃত্বে আনার দাবি করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ঘোষণার সময়ই ফাঁকা ছিল। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এমকে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে পাঁচটি পদ ফাঁকা।

লে. জে. মাহবুবুর রহমান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থতার কারণে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কমিটি ঘোষণার আগে থেকেই ভারতের শিলংয়ে আছেন।



দলটির ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটির বেগম সরোয়ারি রহমান, হারুনার রশিদ খান মুন্নু, ফজলুর রহমান পটোলসহ সাতজন মারা গেছেন। উপদেষ্টাদের মধ্যে মুশফিকুর রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম, এএসএম আবদুল হালিম, এসএম জহুরুল ইসলাম, আবদুর রশিদ সরকার, ডা. আবদুল বায়েজ ভুঁইয়া, ডা. আবদুল কুদ্দুস, সৈয়দ আলমগীর, একেএম আমিনুল হকসহ অনেকেই নিষ্ক্রিয়।

বিএনপির ৩৭ ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে কমিটি ঘোষণার পর পরই পদত্যাগ করেন মোসাদ্দেক আলী ফালু। ইনাম আহমেদ চৌধুরী দলত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে বিচারপতি টিএইচ খান বয়সের ভারে ন্যুব্জ, সাদেক হোসেন খোকা দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন। কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দীর্ঘদিন দেশের বাইরে। আবদুস সালাম পিন্টু আছেন কারাগারে।



ড. ওসমান ফারুকও দেশের বাইরে। এ ছাড়া মোর্শেদ খান, হারুন আল রশিদ, অধ্যাপক আবদুল মান্নানসহ আরও কয়েকজন অসুস্থতাসহ নানা কারণে নিষ্ক্রিয়।

নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র ও সহছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদ দুটি কমিটি ঘোষণার পরই ফাঁকা।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এ সহযোগী সংগঠনটির কমিটি দীর্ঘদিন ধরেই মেয়াদোত্তীর্ণ। অভিভাবক না থাকায় নতুন কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রেও তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

তাই আন্দোলনের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য দেখাতে ব্যর্থ। নির্বাহী কমিটির সাতটি আন্তর্জাতিক সম্পাদকের মধ্যে দুটি ফাঁকা।

সহ-যুববিষয়ক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হলেও যুববিষয়ক সম্পাদকের পদটি এখনও ফাঁকা।

এ ছাড়া নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মারা গেছেন চারজন। নির্বাহী কমিটির সদস্য নূর মোহাম্মদ মণ্ডল দলত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।



সাত যুগ্ম মহাসচিবের মধ্যে তিনজনই কারাগারে আছেন। ১০ সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে চারজন কারাগারে। সম্পাদকদের মধ্যে অনেকেই নিষ্ক্রিয়।

উপকমিটি গঠন করার কথা থাকলেও তা নিয়ে কোনো টুঁ শব্দ নেই দলটিতে। এ ব্যাপারে কয়েকজনকে চিঠি দেয়া হলেও পরে চেয়ারপারসনের কাছে নানা অভিযোগ আসতে থাকে।

নিষ্ক্রিয় ও অযোগ্যদের উপকমিটিতে রাখা হচ্ছে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ কমিটির ঘোষণা থমকে যায়।

কেন্দ্রীয় কমিটির এত পদ ফাঁকা থাকার পরও এগুলো দ্রুত পূরণে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো উদ্যোগ নেই।



তবে দলটির কয়েকজন নীতিনির্ধারক জানান, শিগগির এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তা হাইকমান্ডকে অবহিত করবেন।

কারাগারে থাকা দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পেলেই শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, নানা কারণেই কমিটির ফাঁকা পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

দল পুনর্গঠনের চেয়ে মামলা-হামলা নিয়েই আমাদের বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাহী কমিটির ফাঁকা পদ পূরণসহ যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ আছে সেগুলো পুনর্গঠনে দ্রুতই উদ্যোগ নেয়া হবে।



দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও তৃণমূল পুনর্গঠনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপির নির্বাচনে ফল বিপর্যয় হয়েছে- এটির সঙ্গে আমি একমত নই। নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা অস্ত্র নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

সেখানে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমাদের কি করার আছে? আমরা কি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। তিনি বলেন, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে এ দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হবে না। সরকার পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন গণআন্দোলন।

সেই আন্দোলনে নেতৃত্বের জন্য দলকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন পুনর্গঠন।

কেন্দ্রীয় কমিটির মতোই বেহাল দশা ঢাকা মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর।



ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে চেয়ারপারসনের কাছে জমা দেয়া হয়। কিন্তু তা ঘোষণার আগেই কারাগারে যান তিনি।

এর পর আর সে কাজে হাত দেয়া হয়নি। একই অবস্থা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের।

গত বছর ১৬ জানুয়ারি রাতে সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এক মাসের সময় বেঁধে দেয়া হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি এবং আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এতদিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল বলেন, কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সময়ে তা ঘোষণা করা হবে।

সুত্রঃ https://www.jugantor.com/politics/133124

বিএনপির অফিস উচ্ছেদ করে রেস্টুরেন্ট!

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির কার্যালয় উচ্ছেদ করে সেখানে একটি রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ে অবস্থিত বিএনপির অফিস থেকে আসবাবপত্র বের করে দেয় মালিকপক্ষ।

পরে সেখানে তালা মেরে একটি রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।



ঝালকাঠি জেলা বিএনপি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক ফরিদ হোসেন জানিয়েছেন, গত শুক্রবার জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া ফোন করে অফিসের চাবি মালিকপক্ষের লোকজনের কাছে দিতে বলেন।

‘সভাপতি ও সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানাই। পরে মালিকপক্ষ অফিসের তালা ভাঙার চেষ্টা করলে ভবন মালিক মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম ইসলামকে চাবি দিই।’

এর পর তারা অফিসের মালামাল বাইরে বের করে তালা মেরে একটি রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন বলে জানান ফরিদ হোসেন।

তিনি আরও জানান, বিএনপির এ অফিসটি কিবরিয়ার নামে চুক্তি করা ছিল। আর ভবনের মালিক কিবরিয়ার বড় ভাইয়ের শ্বশুর।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে অফিস ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে ক্ষোভ থেকে অফিস ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিঞা আহমেদ কিবরিয়া।



তিনি বলেন, আমার আত্মীয়ের কাছ থেকে এই অফিসটি আমি ভাড়া নিয়েছিলাম। এখন পারিবারিক সমস্যার কারণে অফিসটি ছেড়ে দিতে হয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির কার্যালয় উচ্ছেদ করে সেখানে একটি রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ে অবস্থিত বিএনপির অফিস থেকে আসবাবপত্র বের করে দেয় মালিকপক্ষ।

পরে সেখানে তালা মেরে একটি রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেয়া হয়।



এ ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

ঝালকাঠি জেলা বিএনপি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক ফরিদ হোসেন জানিয়েছেন, গত শুক্রবার জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া ফোন করে অফিসের চাবি মালিকপক্ষের লোকজনের কাছে দিতে বলেন।

‘সভাপতি ও সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানাই। পরে মালিকপক্ষ অফিসের তালা ভাঙার চেষ্টা করলে ভবন মালিক মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম ইসলামকে চাবি দিই।’

এর পর তারা অফিসের মালামাল বাইরে বের করে তালা মেরে একটি রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন বলে জানান ফরিদ হোসেন।



তিনি আরও জানান, বিএনপির এ অফিসটি কিবরিয়ার নামে চুক্তি করা ছিল। আর ভবনের মালিক কিবরিয়ার বড় ভাইয়ের শ্বশুর।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে অফিস ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে ক্ষোভ থেকে অফিস ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিঞা আহমেদ কিবরিয়া।

তিনি বলেন, আমার আত্মীয়ের কাছ থেকে এই অফিসটি আমি ভাড়া নিয়েছিলাম। এখন পারিবারিক সমস্যার কারণে অফিসটি ছেড়ে দিতে হয়েছে।

সুত্রঃ https://www.jugantor.com/politics/133137