জনসভায় আসার পথে ২ নেতা গ্রেফতার

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় আসার পথে বাংলাদেশ লেবার পার্টির দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মতিঝিল জনতা টাওয়ার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে বলে জানান লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত নেতারা হলেন- মুগদা থানা লেবার পার্টি নেতা ওমর ফারুক ও পিরোজপুর জেলা লেবার পার্টি নেতা সুশান্ত কুমার।

সোহরাওয়ার্দীর জনসভায় আসছেন নেতা-কর্মীরা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা শুরু হওয়ার দুপুর দুই টায়। কিন্তু সকাল থেকেই জনসভায় আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে জনসভাস্থল প্রায় পরিপূর্ণ।

সকাল ১০টা থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থান নেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নেতাকর্মী-সমর্থকদের ভিড়।

দুপুর ১২টার দিকে দেখা যায়, মঞ্চের সামনের জায়গা বিএনপির নেতাকর্মীতে পরিপূর্ণ। তাঁদের উজ্জীবিত রাখতে সংগীত পরিবেশন করছেন জাসাসের শিল্পীরা।

জনসভা থেকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঘোষণা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সোমবার রাতে জোটের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

রাত ৯টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের চেম্বারে ওই ব্রিফ হয়। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জনসভায় নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাঁচ ইস্যু নিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে ঐক্যফ্রন্ট

দেশে চলমান রাজনীতি ধীরে ধীরে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। পাইকারিভাবে সংলাপ করে বিষয়টাকে মামুলিভাবে দেখানোর প্রয়াস চললেও সংলাপে মূল ধারা যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ফলে রাজনীতির দেন-দরবার চলছে মূলত তাদেরকে কেন্দ্র করে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সংলাপে ফ্রন্ট তিনটি বিষয়ে চূড়ান্ত সুরাহা চাইবে। অন্য দিকে ক্ষমতাসীন পক্ষ অনড় থাকবে দু’টি বিষয়ে। ফলে এখন রাজনীতি কেন্দ্রীভূত হয়েছে সব ছাড়িয়ে পাঁচটি ইস্যুতে।

সরকারি দল আওয়ামী লীগের সাথে ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপ হবে আগামীকাল বুধবার। ছোট পরিসরের এই সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংবিধানের ভেতর থেকেই দুইটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে ঐক্যফ্রন্ট। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনি প্রক্রিয়ায় কিভাবে সম্ভব সেটিও সুনির্দিষ্ট করে জানানো হবে। ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে। সূত্রে বলা হয়, সংলাপের দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনকালীন সরকার, সংসদ ভেঙে নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি এই তিন বিষয়ে ফয়সালার চূড়ান্ত চেষ্টা চালানো হবে।

এ দিকে আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে বড় সমাবেশ করবে ঐক্যফ্রন্ট। গুরুত্বপূর্ণ এই জনসভা থেকে দুই ধরনের বার্তা দিতে চায় এই জোট। সংলাপ সফল হলে পুরোদমে নির্বাচনী মাঠে নামা আর ব্যর্থ হলে দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামতে কর্মীদের দিকনির্দেশনামূলক কৌশলী বার্তা দিবেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। নতুন কর্মসূচিও দেয়া হতে পারে। তবে তা কঠোর নয়।

গতকাল সোমবার ২৪ শর্তে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার লিখিত অনুমতি পায় ঐক্যফ্রন্ট। বেলা ২টায় এ জনসভা শুরু হবে। ঐক্যফ্রন্ট মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই জনসভায় বিপুল লোক সমাগমের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি বড় ধরনের শোডাউন করতে যাচ্ছে। এ জন্য প্রস্তুতিও শেষ করেছে।

ইতোমধ্যে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেতাকর্মীদের জনসভায় যোগ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জনসভার আগে গতকাল সোমবার জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান জানান, জনসভায় রাজধানীসহ ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা হবে এটি।

ফ্রন্টের সিনিয়র এক নেতা জানান, দ্বিতীয় দফা সংলাপের মধ্য দিয়ে সমঝোতা হলে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান হবে এক ধরনের; অর্থাৎ আন্দোলন বাদ দিয়ে তারা নির্বাচনের মাঠে নামবে। আর সংলাপ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের পথেই হাঁটবে তারা। এই বার্তাটিই থাকবে জনসভায়।

কর্মসূচির বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য হালকা কর্মসূচি দেয়া হবে। কঠোর কর্মসূচি আসবে আরো পরে।

দুটি ইস্যুতে অনড় থাকবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণভবনে বুধবার (৭ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এই সংলাপকে সমঝোতার শেষ চেষ্টা হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন’ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি এ দুটি ইস্যুতে অনড় থাকবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। যদিও নতুন এ জোটের সাত দফার গুরুত্বপূর্ণ দাবি দুটি ক্ষমতাসীনদের মেনে নেয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে কতটা ছাড় দেয়া যায় তা নিয়ে দুই পক্ষই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন।

অবশ্য কিছুটা ছাড় দিয়ে যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। বুধবারের অনুষ্ঠেয় স্বল্প পরিসরে এ সংলাপে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেবেন ড. কামাল হোসেন।

সূত্র জানায়, সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা হলেও নির্বাচনে যেতে আপত্তি নেই ঐক্যফ্রন্টের। অন্যদিকে সংসদ না ভেঙে নির্বাচনকালীন সরকারে ঐক্যফ্রন্টকে যুক্ত করতে চাইছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে নির্বাচনের সুযোগ দেয়ার জোর দাবি ফ্রন্টের।

পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে নমনীয় হলেও তাকে নির্বাচনের সুযোগ না দেয়ার পক্ষে। অংশটুকু তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত। এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত লাগবে।
নেতাদের অবস্থান যাই হোক বুধবারের সংলাপে বসেই চূড়ান্ত সমঝোতায় আসতে হবে। অন্যথায় বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা হলে পেছনের দিকে তাকানোর সুযোগ থাকবে না নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক দলগুলোর।
সূত্র জানায়, একটি সহজ ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সংবিধানের ভেতরে থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ন্যায়সঙ্গত দাবি পূরণে রাজি দলটি।
তবে এর জন্য শর্ত ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৭ দফা দাবিতে নমনীয় হতে হবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের। ফ্রন্ট নেতাদের নির্বাচন নিয়ে ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকলে আগামীকালের ছোট পরিসরের সংলাপেই সেই সমঝোতার জট খুলে যেতে পারে।

‘একটি সুন্দর সমঝোতা হবে’- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শর্ত ও স্বার্থ উভয় পক্ষ বিসর্জন না দিলে সমঝোতা হয় না।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ছাড় দিতে হবে। গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য সরকারি দলের উচিত হবে জনগণের মতামতকে বেশি প্রাধান্য দেয়া। আগামীকালের সংলাপে একটি সমঝোতা হবে বলে দেশবাসীর প্রত্যাশা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কতটা ছাড় দেবে সেদিকেই সবার নজর। সংকট সমাধানে দুই পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে বলে তারা মনে করছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিতে অনেক কিছুই ইতিবাচক মনে হচ্ছে।

দুই পক্ষকেই ছাড় দেয়ার মানসিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংবিধানের ভেতর থেকে সমাধান বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট যদি সংবিধানের ভেতর থেকে যৌক্তিক দাবি দেয় তবে তা ভেবে দেখা হবে। সে বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

আলোচনায় ছাড় দেয়ার পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে অনুমতি দেয়াকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। সব মিলিয়ে রাজনীতিতে একটা সমঝোতা হবে, এমনটাই মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। তবে তার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। এ ব্যাপারে আলোচনার পথ খোলা।

কাদের বলেন, সংলাপ হওয়াটাই রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তাছাড়া সংলাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ছোট পরিসরে বসতে চেয়েছেন। আমাদের নেত্রী রাজি হয়ে গেছেন।

তারা প্রথম সংলাপে সভা-সমাবেশের কথা বলেছেন। এখন বাধাহীন সভা-সমাবেশ করছেন। তারা রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের কথা বলেছেন। সে বিষয়টিও মেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশা করব জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বুধবারের আলোচনায় সমঝোতায় আসবেন।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমরা সাত দফা দাবি জানিয়েছি। এ ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে আমরা সংলাপও করেছি। কিন্তু আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিতে তারা আন্তরিকতা দেখাননি।

তিনি বলেন, এক বসায় সবকিছু হয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি না। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফের বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বল্প পরিসরের ওই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

সরকার যদি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সত্যিই তা করতে চায় তাহলে দাবির ক্ষেত্রে আমরা কিছু ছাড়ও দিতে পারি। দেশের স্বার্থে দু’পক্ষকেই একটি যৌক্তিক সমঝোতায় আসতে হবে।

১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের প্রথম দফার বৈঠকে কাক্সিক্ষত সমাধান না পাওয়ায় ফের সংলাপ চেয়ে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন ড. কামাল হোসেন। চিঠিতে ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফার সাংবিধানিক ও আইনগত দিক বিশ্লেষণের জন্য উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞসহ সীমিত পরিসরে আলোচনা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

ড. কামালের চিঠি পেয়ে রাতেই সংলাপে বসার ব্যাপারে ক্ষমতাসীনরা ইতিবাচক জবাব দেন। বুধবার সকালে সংলাপে বসার সময় দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সংলাপের সময় পাওয়ার পর করণীয় নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংবিধানের ভেতর থেকে সমাধান বের করতে নিজেরা ছাড়াও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হয়।

আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে, সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঐক্যফ্রন্ট মনে করছে, সংবিধানের মধ্যে থেকেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের একাধিক পথ খোলা আছে। সরকার আন্তরিক হলে ঐক্যফ্রন্ট সংলাপে বসে বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে বর্তমান সংবিধানমতে প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের মধ্যে আলোচনা আছে।

সে ক্ষেত্রে সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে সেখানে সব নিবন্ধিত দলের সমন্বয়ে প্রতিনিধি থাকবে। ওই সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা হলেও তাদের আপত্তি থাকবে না।

যশোরের ইতিহাসে এতো বেশি মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা এর আগে

লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত চিরবিদায়য়ের মধ্য দিয়ে যশোর কারবালা কররস্থানে শায়িত হলেন গণমানুষের নেতা তরিকুল ইসলাম। বাদ আসর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে লাখমানুষ উপস্থিত হন প্রিয় নেতা তরিকুল ইসলামের নামাজে জানাজায়। যশোরের ইতিহাসে এতো বেশি মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা এর আগে কখনো হয়নি।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকেল চারটার দিকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের লাশ যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে আনা হয়। শহরের সবচেয়ে বড় খোলা জায়গাটি অল্প সময়ের মধ্যে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। ঈদগাহ ছাড়িয়ে মানুষজন পূর্বদিকের মুজিব সড়ক, দক্ষিণে জেলা জজ আদালত চত্বর, উত্তরে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে কাতারবন্দি হন। এমনকি জায়গা না পেয়ে অনেককে লাশের সামনের দিকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়। উপস্থিত লোকজনকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিএনপি নেতারা।

মানুষের স্রােত বাড়তে থাকায় এক পর্যায়ে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘একই স্থানে দ্বিতীয় জানাজা হবে। আপনারা যারা প্রথম জানাজায় অংশ নিতে পারছেন না, তারা দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নেবেন।’

কিছু সময়ের মধ্যেই অবশ্য ধর্মীয় কারণে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। জানানো হয়, একই স্থানে দ্বিতীয় দফা জানাজা হওয়ার সুযোগ নেই। কাতারগুলোকে আরো সংকুচিত করে সামান্য ফাঁকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এই ঘোষণার ফলে যে যেখানে ছিলেন সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়েন জানাজার নামাজ পড়তে। এমনকি কিছু লোককে মরদেহের পশ্চিম পাশে বাদশাহ ফয়সাল স্কুল, সরকারি বালিকা বিদ্যালয় স্কুলের পাশের দুই রাস্তায়ও দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়।

প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, এটি যশোরের ইতিহাসে বৃহত্তম জানাজা। এতো বেশি মানুষ আর কোনো জানাজায় অংশ নেননি।

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম রন্টু বলেন, ‘আমার জীবদ্দশায় যশোরে এতো বেশি মানুষকে কোনো জানাজায় অংশ নিতে দেখিনি। দলমত নির্বিশেষে মানুষ এসেছেন তরিকুল ইসলামের জানাজায়।’

শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনকালে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী ছাড়াও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, প্রচার সম্পাদক হাজী আনিসুর রহমান মুকুল প্রমুখ।

ড. মঈন খান মরহুম তরিকুল ইসলামকে ‘যশোর তথা দক্ষিণবঙ্গের মানুষের প্রাণের নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী থাকাকালে তিনি যশোরের উন্নয়নে কীভাবে অবদান রেখেছেন তা-ও বর্ণনা করেন ড. মঈন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী মরহুম তরিকুল ইসলামকে ‘তার নেতা’ সম্বোধন করে বলেন, এই মৃত্যু মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো; যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

এছাড়া তরিকুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড় ছেলে শান্তনু ইসলাম সুমিত ও ছোট ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বক্তব্য রাখেন।

সুমিত উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আমার বাবা রাজনীতি করতেন। তার অনেক ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। যদি তিনি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনারা আল্লাহর ওয়াস্তে তা মাফ কর দেবেন।’ এই সময় জানাজায় আসা হাজারো মানুষ হাত উঁচু করে ‘হ্যাঁ-সূচক’ সম্মতি জানান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বাবাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেওয়ায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অমিত তার বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য উপস্থিত জনতার কাছে দোয়া চান। তিনি যখন সমবেত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন অনেক মানুষকে কাঁদতে দেখা যায়।

জানাজায় বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আজিজুল বারি হেলাল, খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী টিএস আইয়ুব, আবুল হোসেন আজাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় নেতা মহসিন কবির, জাসদের কার্যকরি সভাপতি রবিউল আলমসহ খুলনা বিভাগের দশ জেলা-উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন এবং যশোরের বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, জয়ন্তকুমার কুণ্ডু প্রমুখ।

জানাজা শেষে তরিকুল ইসলামের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় কারবালা কবরস্থানে। মাগরিববাদ কারবালা জামে মসজিদে তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বুধবার মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শহরের ঘোপে নিজ বাড়িতে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। সকালে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় এবং জাতীয় সংসদ প্লাজায় তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে যশোরে আনা হয়। বিমানবন্দর থেকে লাশ সোজা নিয়ে আসা হয় তার ঘোপের বাড়িতে। সেখান থেকে নেওয়া হয় বিএনপি যশোর জেলা কার্যালয়ে। সেখানে মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও তা হয়নি। মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে ওই কর্মসূচি স্থানান্তর করা হয় ঈদগাহে। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে বহু সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুম নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সোহরাওয়ার্দীতে জনসভা মঞ্চ প্রস্তুত, আসছেন নেতাকর্মীরা

সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যপ্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা শুরু হবে মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) বিকালে। ইতোমধ্যে জনসভার মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতেও শুরু করেছেন।

‌’সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ৭ দফা দাবি আদায়’ করতে এ জনসভার আয়োজন করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে শাহবাগ মোড়, মৎস্য ভবন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জনসভা ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, প্রধান বক্তা জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব। আর সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জনসভায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের উজ্জ্বীবিত করতে বেলা পৌনে ১২টা থেকে জাসাসের সদস্যরা গান পরিবেশন শুরু করেন। জনসভা শুরুর আগ পর্যন্ত এই গান পরিবেশন চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ৭ দফা দাবিতে আজকে জনসভায় আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য রাখবেন।

মঞ্চে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুনির খান ও সহদফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুসহ প্রমুখ উপস্থিত আছেন।
এর আগে একই দাবিতে সিলেট ও চট্টগ্রামে সমাবেশ করে ঐক্যফ্রন্ট। সে সব সমাবেশের পর গত ১ নভেম্বর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতেও তারা নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবিধান সম্মত সব ধরনের সুযোগ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দেওয়া হয়।

বিএনপি ভোটে আসবে ধরে আ.লীগে প্রস্তুতি

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আসবে ধরে নিয়েই কৌশল সাজাচ্ছে আওয়ামী লীগ। প্রার্থী নির্বাচন, জোট বাড়ানো, আসন ভাগাভাগীর ক্ষেত্রে জোরাল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা মাথায় রাখছে ক্ষমতাসীন দল।

নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দেয়াসহ বিভিন্নœ দাবি দিয়েছে। তবে পাঁচ বছর আগে দাবি আদায়ে রাজপথে যেভাবে সহিংস কর্মসূচি ছিল, সে রকম কিছু নেই এবার। এ জন্যই আওয়ামী লীগ মনে করছে, শেষমেশ ভোটে আসছে বিরোধীপক্ষ।

ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন অংশগ্রহণ করুক। দশম জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি যে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এর জন্য তাদের অনেক মাশুল দিতে হয়েছে। আশা করি, বিএনপি দ্বিতীয়বার এ ধরনের ভুল করবে না।’

তবে বিএনপির নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলে নির্বাচনী সিদ্ধান্তগুলো একে একে প্রকাশ করবে আওয়ামী লীগ।
বিএনপির নতুন জোট ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে দুপক্ষের বিরোধ মেটেনি। ফ্রন্ট নেতারা হুমকি দিচ্ছেন আন্দোলনের। এর মধ্যে আজ সকালে আবার বসতে যাচ্ছে দুই পক্ষ। তবে আওয়ামী লীগ মনে করে, ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে ব্যর্থতার পর আবার একই পথে বিরোধী জোটের যাওয়ার কারণ নেই।

বিএনপি-জামায়াত জোট দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় ভোটের মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেই পড়তে হয়নি আওয়ামী লীগ ও তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে লড়া জাতীয় পার্টিকে। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও তাই অনেকটা গা ছাড়া মনোভাব ছিল দুই দলের।

তবে ক্ষমতাসীন নেতারা বলছেন, ঐক্যফ্রন্ট ভোটে এলে এবার সতর্ক থাকতে হবে। তাই প্রার্থী বাছাইয়ে মুন্সিয়ানা ছাড়াও নিজেদের শক্তি বাড়াতে হবে। এ জন্য ১৪ দলের বাইরে নতুনদের জোটে আনা হবে। ২০০৮ সালের মতো জাতীয় পার্টিকে নিয়ে হবে মহাজোট।

আবার যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন, দলের ভেতর থেকে যেন কোনো বিরোধিতায় পড়তে না হয়, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোন্দলে জড়িতদের সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কারের আগাম ঘোষণাও এসেছে।

যদিও গত নির্বাচনে বিদ্রোহীদের শুধু সতর্ক করা হয়েছিল। আর দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী নেতাদের পরে দলে ফিরিয়েও আনা হয়েছে।
১৪ দলীয় জোট এবং সম্ভাব্য মহাজোটের শরিকদের কত আসনে ছাড় দেয়া হবে, সেই বিষয়টি নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি আওয়ামী লীগ। তবে বিষয়টি এখনই প্রকাশ করতে চান না নেতারা।

রবিবার ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোট নেতাদের বলেন, ‘আসন বণ্টন নিয়ে ভাববেন না। আশা করি, এটা নিয়ে সমস্যা হবে না। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আপনাদের কোনো প্রার্থী থাকলে সেই তালিকা দেন। আমরা মনোনয়ন দেব। কিন্তু আসন ভাগাভাগীর জন্য প্রার্থী তালিকা দিলে হবে না।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা সব নির্বাচনকে আমরা সিরিয়াসলি নেই। সব প্রতিদ্বন্দ্বী আমাদের জন্য সমান। বিশেষ কোনো দলের প্রতি আমাদের আলাদা কোনো চিন্তাভাবনা নেই। আমরা দেশের জনগণের জন্য কাজ করেছি, জনগণই তা মূল্যায়ন করবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

দলটির সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী বিএনপি নির্বাচনে আসবে। এ জন্য আমাদের প্রস্তুতির ধরন পরিবর্তন হবে না। বিএনপি আসলে আমরা খুশি, না আসলেও আমাদের কোনো অসুবিধা নাই।’

সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচলে বিএনপি

চলতি সপ্তাহেই আসছে নির্বাচনের তফসিল। কবে হবে ভোট? এই প্রশ্নটির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে বিএনপি কী করবে? আন্দোলন নাকি নির্বাচন? তবে বিএনপি নিজেও সিদ্ধান্তহীনতায়। কোনো একটি সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ নয় তাদের পক্ষে। আছে নানা জটিলতা, সমীকরণ। তাই বুঝেশুনে আগাতে হচ্ছে তাদের।

বিএনপির নানা দাবি আছে ভোট নিয়ে। এর মধ্যে কিছু দাবি পূরণ করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। যেমন সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হলে তাতে বাধা শাসনতন্ত্র। আর এসব দাবি মানা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর বাইরে আরেকটি বড় দাবি আছে, এটি হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। এটিও আইনি বিষয় বলে প্রথম দিনের সংলাপে এড়িয়ে গেছেন সরকারপ্রধান। যদিও দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসার আগে আসছে প্যারোলে মুক্তির প্রসঙ্গ।

বুধবারের সংলাপেও যদি কাক্সিক্ষত সমাধান না হয়, তাহলে বিএনপি কি আবার আন্দোলনে যাবে নাকি সব মেনে নির্বাচনের দিকেই যাবে, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠেছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত নেয়াও বিএনপির জন্য সহজ নয়। কারণ, দুইবার আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফিরতে হয়েছে তাদের। এই অবস্থায় তৃতীয়বার নেতাকর্মীরা আগ্রহী হবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার ভোট বর্জন করলে নিবন্ধন আইনের মারপ্যাঁচেও পড়তে হতে পারে। নিবন্ধন বাতিল হলে দলীয় প্রতীকে ভোটে অংশ নেয়া যাবে না আর।

আবার সরাসরি ভোটে আসার ঘোষণা দিলে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে পাঁচ বছর আগে কেন এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এই অবস্থায় শীর্ষ নেতারা কী করবেন, সেদিকে তাকিয়ে কর্মী সমর্থকরাও।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আন্দোলন না নির্বাচন সে বিষয়ে কোনো ম্যাসেজ আমরা পাইনি। তবে চেয়ারপারসনের মুক্তির কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্যই বেশি বলা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন এবং আন্দোলন দুই প্রস্তুতিই আমাদের আছে। তবে এ নিয়ে এখনো নতুন করে বলার কিছু নেই। কিছু হলে আপনারা জানাবেন।’

বিএনপি নেতারা জানান, তারা আশা করছেন, দলীয়প্রধান খালেদা জিয়া বা যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী তারেক রহমানের কাছ থেকে শিগগিরই বার্তা আসবে। আর এরপরই নেতাকর্মীদের কাছে বার্তা জানিয়ে দেয়া হবে।

গত শুক্রবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে নিজেদের করণীয় ঠিক করার জন্য আলোচনা হয়। এজন্য দ্রুত চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথাও বলা হয়। সে অনুযায়ী শিগগির আন্দোলন বা নির্বাচনের জন্য নিজেদের সাংগঠনিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে বৈঠক করবেন স্থায়ী কমিটি। তার আলোকেই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি পাঁচ বছর আগের এই সময়ে ছিল নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত। হরতাল, অবরোধসহ নানাভাবে জানিয়ে যাচ্ছিল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি। কিন্তু এবার রাজনৈতিক অঙ্গন অনেকটাই শান্ত। যদিও আছে চাপা উদ্বেগ।

৮ নভেম্বর ভোটের সময় জানিয়ে ঘোষণা করা হবে তফসিল। আর এর আগে ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের শরিক হিসেবে যোগ দেয় বিএনপিও। সেই বৈঠকে কাক্সিক্ষত ফল না আসায় আগামীকাল সকালে আবার বৈঠক হবে দুপক্ষে। আর এই বৈঠকের ওপরও নির্ভর করছে অনেক কিছু।

তবে আন্দোলনে গেলে হুট করে কর্মসূচি ঘোষণা না করে সময় দিয়েই ধীরে ধীরে কঠোর অবস্থানে যাবে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, তারা জনগণকে দেখাতে চান, সমস্যার সমাধানে তাদের আন্তরিকতার অভাব ছিল না। কিন্তু সরকারই তাদের এই পথে ঠেলে দিয়েছে।

আবার পাঁচ বছর আগের আন্দোলনে নজিরবিহীন সহিংসতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে দলটিকে। পেট্রল বোমা ও নাশকতার দায় এখনো তাদের ওপর দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এই বিষয়টি তুলে ধরছে তারা। এ কারণে এবার আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে বিএনপির। আবার তৃণমূলের নেতারা বারবার কেন্দ্রকে চাপ দিয়ে আসছেন, ঢাকায় আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়টিতে জোর দিতে। এ ক্ষেত্রেও চেষ্টা থাকবে দলের।

ওদিকে আবার ভোটের প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে থাকতে নারাজ বিএনপি। শেষমেশ নির্বাচনে এলে যেন দুই জোট ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা না থাকে, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে।

আগ্রহী নেতারা নিজ নিজ এলাকায় নানাভাবে তাদের কথা তুলে ধরছেন। এমনকি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন।

বুধবার গণভবনে ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে বলেও জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। বলছেন, সংলাপ এবং নির্বাচন কমিশন তফসিল পেছানোর আবেদনে কী সিদ্ধান্ত নেয় সে বিষয় দেখতে চায় বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা সংলাপে গেলেও কোনো ফল পাইনি। তারপরও চেষ্টা করছি সরকার বাস্তবতা বুঝবে। ছোট পরিসরে দ্বিতীয় দফা সংলাপ আছে, দেখি সেখানে কি হয়। আমরা ইসিকে চিঠি দিলাম দেখি তারা তফসিল পেছানোর বিষয়ে অবস্থান থেকে সরে আসে কি না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচন না আন্দোলন- সে বিষয়ে জানতে হলে সরকারের সঙ্গে ছোট পরিসরে আমাদের যে সংলাপ হবে, সেখানে সরকারের মনোভাব কী হবে, সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পেছাতে আমরা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছি। তারা কি করে, সেটাও দেখতে হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

সালাহউদ্দিনকে দেশে আনার চেষ্টায় সরকার

ভারতের শিলং আদালত থেকে বেকসুর খালাস পাওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফেরাতে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশ জানিয়েছে, দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করবে পুলিশ। কারণ, তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

বিএনপির এই নেতা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরানোর মতো আসামি না হওয়ায় মূলত দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

২০১৫ সালের মার্চ মাসে নিখোঁজ হন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। দুইমাস পর (মে মাস) ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ের একটি রাস্তা থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা হয়। সাড়ে তিন বছর পর গত ২৬ অক্টোবর তিনি ওই মামলায় বেকসুর খালাস পান। তবে পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকলেও এখনও ভারতেই অবস্থান করছেন তিনি।

সালাহউদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় পুলিশের কী ভূমিকা থাকবে- জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বিদেশ থেকে আসামি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের সহায়তা নিয়ে থাকে। বিদেশে লুকিয়ে থাকা কোনো আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়। এক্ষেত্রে এনসিবি (ইন্টারপোল), ঢাকা সংশ্লিষ্ট দেশের ইন্টারপোলের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে।’

‘আসামির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করে। কিন্তু সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ভিন্ন। এখানে কাজ করছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা লিয়াজোঁর মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।’

‘এখানে বাংলাদেশ পুলিশ সম্পৃক্ত না। তবে দেশে ফেরার পর তার (সালাহ উদ্দিন) বিরুদ্ধে মামলা বা ওয়ারেন্ট থাকলে তিনি অবশ্যই গ্রেপ্তার হবেন।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘যেহেতু তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, স্বাভাবিক তাকে গ্রেপ্তার করবে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করার পরে এখানে তার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো আছে সেগুলোর বিচার চলবে।’

বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় রয়েছে ২৭টি মামলা। এর মধ্যে ১৮টি মামলায় তিনি জামিনে আছেন। আর নয়টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ আছে আদালতের।

বিষ্ফোরক দ্রব্য, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও হত্যার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় তিনটি, বিষ্ফোরক আইন ও হত্যার ঘটনায় রামপুরা থানায় দুটি, বিষ্ফোরক আইন ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় ভাটারা থানায় দুটি এবং হত্যা ও বিষ্ফোরক আইন ও হত্যার ঘটনায় কুমিল্লায় আরও দুটি মামলায় এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০১৫ সালে অবরোধের সময় এসব মামলা হয়।

সালাহউদ্দিনের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘২০১৫ সালে অবরোধের সময় আমাদের জানা মতে, মোট নয়টি মামলা হয়েছিল। এই মামলাগুলোর সবকটিতেই চার্জশিট (অভিযোগপত্র) হয়ে গেছে। তাকে (সালাহউদ্দিন) পলাতক দেখিয়ে ওয়ারেন্ট দিয়েছে।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ নিখোঁজ হওয়ার সময় দলের যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। পরে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে পদোন্নতি পান। চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

যে ২৪ শর্তে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি পেল ঐক্যফ্রন্ট

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৪ শর্ত মেনে মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) সমাবেশ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সোমবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সমাবেশ করার জন্য ঐক্যফ্রন্টকে দেওয়া ডিএমপির ২৪ শর্তের মধ্যে রয়েছে-

১. এই অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়, স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
২. স্থান ব্যবহারের অনুমতিপত্রে উল্লেখিত শর্তাবলী যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
৩. প্রশাসনিক কাজের স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও সদস্য অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে প্রদর্শন করতে বাধ্য থাকবেন।
৪. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে জনসভার যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
৫. নিরাপত্তা ও শৃঙঙ্খলা নিশ্চিত কল্পে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে।
৬. স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলের অভ্যন্তরে ও বাইরে উন্নত রেজুলেশনযুক্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।
৭. নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশগেটে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে এবং জনসভায় আগতদের হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভেহিক্যাল স্ক্যানার বা সার্চ মিররের মাধ্যমে জনসভাস্থলে আগত সকল যানবাহন তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
১০. বিকাল ৫টার মধ্যে জনসভার যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
১১. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা যাবে না।
১২. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেক্টর স্থাপন করা যাবে না।
১৩. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে কোনও স্থাপনা কিংবা বৃক্ষরাজির কোনও ক্ষতিসাধন করা যাবে না।
১৪. আযান, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময়ে মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
১৫. জনসভার কার্যক্রম ব্যতিত মঞ্চকে অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
১৬. জনসভা শুরুর দুই ঘণ্টা পূর্বে লোকজন জনসভাস্থলে আসতে পারবে।
১৭. কোনও ধরনের লাঠি-সোটা, ব্যানার-ফেস্টুন বহনের আড়ালে লাঠি, রড ব্যবহার করা যাবে না।
১৮. মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে আসা যাবে না।
১৯. অনুমোদিত সময়ের পূর্বে কিংবা পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশসহ রাস্তায় কোনও অবস্থাতেই সববেত হওয়াসহ যান ও জনচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
২০. উস্কানীমূলক কোনও বক্তব্য প্রদান বা প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না।
২১. ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনও বিষয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান বা প্রচার করা যাবে না।
২২. আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী , জনস্বার্থ, রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কার্যকলাপ ও বক্তব্য প্রদান করা যাবে না।
২৩. উল্লেখিত শর্তাবলী যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এই অনুমতির আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।
২৪. জনস্বর্থে কর্তৃপক্ষ কোনও কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে উক্ত অনুমতি আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন : আদালতের নির্দেশ পালন করবে ইসি

বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করে শিগগিরই এ সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করবে। ফলে ৭ নম্বর ধারা সংশোধন করে জমা দেওয়া বিএনপির গঠনতন্ত্র গ্রহণ করবে না ইসি। রবিবারের কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপিকে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ইসি ইতোমধ্যে চিঠির খসড়া তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের একটি আদেশের কপি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালতের আদেশের প্রতিপালন করবে।’ কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে না বলেও জানান সচিব।

এর আগে রবিবার কমিশন সভা শেষে কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছিলেন, ‘বিএনপির বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালনের বিষয় রয়েছে। শিগগিরই এটার বিষয় সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।’

দণ্ডিত, দেউলিয়া, উন্মাদ ও সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি কমিটির সদস্য পদের অযোগ্য বিবেচিত হবেন—এমন বিধান (গঠনতন্ত্রের ধারা-৭) বাদ দিয়ে গঠনতন্ত্রে সংশোধনী এনেছিল বিএনপি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা হওয়ার আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে সংশোধিত গঠনতন্ত্র ইসিতে জমা দেয়। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত। গঠনতন্ত্রে ৭ নম্বর ধারাটি বাতিল না হলে এরই মধ্যে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না বলে ইসি মনে করছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত ৩১ অক্টোবর বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে বিবাদী করা হয়। রায়ের পরের দিনই ১ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনের বিষয়ে একটি ফাইল কমিশনে তোলায়। এতে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করা এবং গত ৩০ অক্টোবর মোজাম্মেল হোসেনের ইসিতে জমা দেওয়া আবেদনটি ৩০দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিষয়ে কমিশনের অনুমোদন চাওয়া হয়। কমিশন হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনের অনুমোদন দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮’-এ গঠনতন্ত্র গ্রহণ বা বাতিলের বিষয়ে কিছু বলা নেই। যেহেতু আদালত একটি রায় দিয়েছেন, তাই সেটি কমিশন প্রতিপালন করছে। তবে, এর বিরুদ্ধে কমিশনের আপিল করারও সুযোগ ছিল।

এই কর্মকর্তা জানান, এ ধারায় কমিশনকে জানানোর বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তবে কমিশন গ্রহণ করবে কিনা, তা উল্লেখ নেই। ওই কর্মকর্তা বলেন, আরপিওর ৯০ (এইচ) ধারায় রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সংশোধিত গঠনতন্ত্র কমিশন গ্রহণ না করার কারণে দলের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

শোকরানা মাহফিলের বক্তব্য নিয়ে হেফাজতের প্রতিবাদ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিলে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের হতাহতের ঘটনা নিয়ে ‘মিথ্যা তথ্য’ উপস্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়ার উদ্যোগে রবিবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি’ বলেছেন যা ঠিক নয়, উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী। সোমবার (৫ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। পৃথক আরেক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানান, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর সভাপতি নূর হোসাইন কাসেমী।

বিবৃতিতে জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ‘‘সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে জানতে পেরেছি, সোহরাওয়ার্দীতে অনুষ্ঠিত শোকরিয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জয়নাল আবেদীন বলেছেন, ‘শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি, এটা মিথ্যা প্রচারণা’ এই বক্তব্য নির্জলা মিথ্যাচার, নির্লজ্জতা ও সীমাহীন ঔদ্ধত্বপূর্ণ। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’’

জুনাইদ বাবুনগরী আরও বলেন, ‘শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি’ মর্মে তার দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের আলেমসমাজ ও তওহিদী জনতা চরমভাবে ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত। অনস্বীকার্য বাস্তবতা হলো, দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিডিয়ার বদৌলতে ২০১৩ সালের ৫ মে সন্ধ্যায় ও দিবাগত রাতে তৎকালীন সরকারের প্রশাসন কর্তৃক শাপলা চত্বরে মহান আল্লাহ ও প্রিয় নবী (সা.) এর বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের শাস্তির দাবিতে অবস্থানরত শান্তিপ্রিয় আলেমসমাজ ও তওহিদী জনতার ওপর নির্মম ও নিষ্ঠুর হামলা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে। যাতে অনেক মুসলমান শাহাদাত বরণ করেন এবং হাজার হাজার নবীপ্রেমিক জনতা আহত হন, পঙ্গুত্ব বরণ করেন।’

জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ‘আমি স্বয়ং সেই রাতে ব্যাপক নিগ্রহের শিকার হই এবং পরের দিন সকালে আমিসহ অনেকেই গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন আরও অনেক আলেম, মাদ্রাসাছাত্র ও সাধারণ মানুষ। ওইদিন শাপলা চত্বরে অবস্থানরত লাখ লাখ তওহিদী জনতা, দেশি-বিদেশি মিডিয়াকর্মী ও ঢাকাবাসী এ হামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যার আগ থেকেই সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উগ্র সদস্যদের বর্বরোচিত আক্রমণে অবরোধকারী তওহিদী জনতার গুলিবিদ্ধ লাশ নানাদিক থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আসতে থাকে। যার ভিডিও ফুটেজ প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছে। প্রায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এ খবর প্রকাশিত হয়।’

হেফাজত মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ‘মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সে ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা নিঃসন্দেহে চরম অমানবিক, মজলুম নবীপ্রেমিক জনতার সঙ্গে উপহাস আর শহীদদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে যেখানে নিঃশ্বর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল, সেখানে সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ও দাম্ভোক্তির শামিল। আমরা এ মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাই।’

জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দীতে উপস্থিত লক্ষ লক্ষ ইলমে নববীর ধারক বাহক, দেওবন্দিয়ত ও হক্কানিয়তের নিশানবরদার উলামায়ে কেরাম এত বড় মিথ্যা বক্তব্য কী করে সহ্য করলেন, তা ভেবে পাচ্ছি না। এতবড় মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করতে দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে কারও অন্তরে ঈমানী তরঙ্গ ফুঁসে উঠল না, এটাই তাজ্জবের বিষয়। তাহলে, এটা কি কওমি সনদের স্বীকৃতির বিনিময়ে শোকরানা সভার মোড়কে শাপলার হত্যাকাণ্ডের অস্বীকারের আয়োজন। ৫ মে শাপলার শহীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমরা কেউ আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পাবো না।’

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর সভাপতি নূর হোসাইন কাসেমীর বিবৃতিপৃথক বিবৃতিতে ঢাকা মহানগর সভাপতি নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘৫ মে শাপলা চত্বর ট্রাজেডির বাস্তবতা ও সত্য ঘটনাবিরোধী এমন বক্তব্যের আমি তীব্র প্রতিবাদ করছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজার-হাজার উলামায়ে কেরাম ও হেফাজত নেতাদের সমাবেশে এমন বক্তব্য তাদের সঙ্গে তামাশার শামিল। এমন বক্তব্যে দেশের আলেম সমাজ, হেফাজতকর্মী ও কোটি কোটি তওহিদী জনতা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। সেদিন যে অসংখ্য উলামায়ে কেরাম ও হেফাজতকর্মী হতাহত হয়েছেন, তাজা রক্ত ঝরেছে; তার ভিডিওচিত্র ও অসংখ্য প্রমাণ এখনো বিদ্যমান আছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা নিহতদের তালিকাও প্রকাশ করেছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম এই নিয়ে অনেক তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। স্বজনহারা অসংখ্য পরিবারের এখনও কান্না থামেনি। পত্রিকায় প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাবে দেখা গেছে, ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে দেড় লাখের অধিক গ্রেনেড, বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। আলেমদের ওপরে যে নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতা চালানো হয়েছে, সেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেবেন। দোষীদের শাস্তি দেবেন। হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করবেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিলে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের হতাহতের বিষয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এজন্য প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।’

শোকরানা মাহফিলের মঞ্চে থাকা হেফাজত নেতারা কেন প্রতিবাদ করেননি এমন প্রশ্নের জবাবে আজিজুল হক বলেন, ‘হেফাজতের নেতারা যারা মঞ্চে ছিলেন, তাদের উচিত ছিল প্রতিবাদ জানানো। কেন তারা করেননি, সেটা আমার জানা নেই।’