1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
আশিকের সাথে পূর্বপরিচয়ের কথা স্বীকার করেছেন ওই নারী | News12
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

আশিকের সাথে পূর্বপরিচয়ের কথা স্বীকার করেছেন ওই নারী

Staff Reporter
  • Update Time : শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১১৪ Time View

স্বামী-সন্তান নিয়ে ভ্রমণে আসা নারী পর্যটক ধর্ষণ মামলায় চার দিনেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে টুরিস্ট পুলিশের তদন্তে মামলাটির দ্রুত এগোচ্ছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ওই নারীর সঙ্গে আসামি আশিকুল ইসলাম আশিকের পূর্ব-পরিচয় ছিল বলে নিশ্চিত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে ওই নারী আদালতে ২২ ধারায় এ সংক্রান্ত জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান বলেন, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী স্বীকার করেছেন যে, ধর্ষক আশিক তার পূর্বপরিচিত। আদালতেও একই স্বীকারোক্তি দেয়া হয়েছে। এছাড়া তিন মাস ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছিলেন তিনি। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই নারী এসব কথা বলেছেন। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো: জিললুর রহমান বলেন, ‘ওই নারীকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তিন মাস ধরে কক্সবাজারে অবস্থানের পাশাপাশি প্রধান আসামি আশিকুল ইসলামের সঙ্গে তার (নারীর) পূর্বপরিচয় থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’

আশিক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, ১৬ মামলার আসামি, মাদকসেবক ও মাদক ব্যবসায়ী একজন মানুষের (আশিকের) সঙ্গে বাইরের আরেকজন নারীর পরিচয় থাকা সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জিললুর রহমান আরো বলেন, ‘আমরা ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আড়াই মাসে ওই নারী বেশ কয়েকবার কক্সবাজারে এসেছেন। এর মধ্যে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন। তার স্বামীর টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গেছে। দেড় থেকে
দুই মাস আগে ওই নারী ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে বলেছিলেন, তিনি (নারী) বিপদে পড়েছেন, আক্রমণের শিকার হতে পারেন, তাই তার সাহায্য দরকার।’

কিন্তু স্থানীয় পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়নি বলে ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরো বলেন, ‘তখন ওই দম্পতিকে চলে যেতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা চলে না গিয়ে এখানে অবস্থান করেন। কেন অবস্থান করছেন, কারো সঙ্গে তাদের শত্রুতা আছে কি না ইত্যাদি সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।’

ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িতদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এখনো তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এদের মধ্যে একজন শহরের বাহারছড়া এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে আরিফুল ইসলাম আশিক, অপরজন তার সহযোগী ইস্রাফিল হুদা জয়।

এদিকে শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হামীমুন তানজীনের আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন ধর্ষণের শিকার ওই নারী পর্যটক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, মামলার নিয়ম অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। এর আগে দুপুর ২টার সময় ওই নারী ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। বর্তমানে তারা ট্যুরিস্ট পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

র‌্যাবের দাবি, রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে আসা এক নারী হোটেলে তিন যুবকের হাতে ধর্ষণের শিকার হন। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট সৈকত থেকে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে অপহরণের পর হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। রাত ২টার দিকে র‌্যাবের একটি দল হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে।

ঘটনার ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীর স্বামী মামুন মিয়া বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করেন। মামলার আসামিরা হলেন- কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার আবদুল করিমের ছেলে আরিফুল ইসলাম আশিক, মোহাম্মদ শফির ছেলে আব্দুল জব্বার জয়, বাবু ও রিয়াজউদ্দিন ছোটনসহ অজ্ঞাতনামা আরো তিনজন। এর মধ্যে হোটেল ম্যানেজার রিয়াজউদ্দিন ছোটন গ্রেফতারের পর এখন কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, ধর্ষণের শিকার নারীকে বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তির পর তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz