1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
কক্সবাজারে দেড় মাসে অর্ধশতাধিক নারীদের খারাপ কাজ করেছে আশিক, তার বিরুদ্ধে কথা বললেন এক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী | News12
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে দেড় মাসে অর্ধশতাধিক নারীদের খারাপ কাজ করেছে আশিক, তার বিরুদ্ধে কথা বললেন এক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী

Staff Reporter
  • Update Time : শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১২১ Time View

কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে প্রায় সময় অনেক পর্যটক বিপদে পড়েন। এমনকি কিছু ব্যক্তি খারাপ কাজ করার উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইচ্ছে করে কথা বাকবিতন্ডা বাধায়। এরপরই একটা সময় নারীদের তুলে নিয়ে খারাপ কাজ করে। এমন খারাপ ঘটনার শি’কার হয়েছে এক পর্যটক গৃহবধু। সেই ঘটনা নিয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, অভিযুক্ত যুবকদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনঘলেন আশিক। এই যুবকের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সে ক্ষমতার জোরে নারীদের সঙ্গে খারাপ কাজ করতো। এমনকি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে যে কক্সবাজারে দেড় মাসে অর্ধশতাধিক নারীদের খারাপ কাজ করেছে। তার বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে কথা বললেন এক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

স্বামী-সন্তান জিম্মি করে কক্সবাজারে পর্যটক নারীর কাণ্ডের মূলহোতা আশিকুল ইসলাম আশিকের একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসছে। পুলিশ বলছে, তার নামে শুধু কক্সবাজার সদর থানায় অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, গত দেড় মাসে কক্সবাজার শহরের কটেজ জোন লাইটহাউস সরণি এলাকায় খারাপ পল্লী হিসেবে পরিচিত লাভ করা কয়েকটি কটেজে নিয়মিত হানা দিয়ে সেখানকার অর্ধশতাধিক তরুণীকে (খারাপ মেয়ে) বিভিন্ন সময় খারাপ কাজ করেছে আশিক এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা।

শুধু তাই নয়, অভিযোগ আছে- সেখানে মনোরঞ্জনের জন্য আসা শতাধিক পর্যটক, কটেজ ও কর্মরত কর্মচারীদের কাপড় খুলে ভিডিও ধারণ করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। বাদ যাননি পুলিশও। তবে এসব বিষয়ে মৌখিকভাবে তার বিষয়ে কটেজ ব্যবসায়ীরা পরিচিত পুলিশ সদস্যদের কাছে নালিশ দিলেও নিজেদের দুর্বলতা লুকাতে ও ভ’য়ে আশিকের বিরুদ্ধে মামলা করেনি কেউ।

সূত্রে জানা গেছে, লাইট হাউস সরণি এলাকায় অর্ধশতাধিক কটেজে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে দিনরাত। এসব কটেজে নারী ছাড়াও হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় খারাপ নেশা জাতীয় সিনিস।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায়ই রাত সাড়ে ৯ থেকে ১২টা পর্যন্ত একাধিকবার এসব কটেজে হানা দেয় আশিকের নেতৃত্ব তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। এ সময় কটেজে থাকা মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার পর তাদের মোবাইল, টাকা-পয়সা ছি’নি’য়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি পছন্দমতো সুন্দরী মেয়েদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক খারাপ কাজ করে আশিক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দেড় মাসে অন্তত ৫০ বারের বেশি একইভাবে হানা দিয়েছে আশিক। প্রত্যেকবারই ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো না কোনো তরুণীর সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে আশিক এবং তার সঙ্গীরা।

আশিকের খারাপ কাজের শিকার হয়েছেন (ছদ্মনাম) আঁখি আক্তার নামের এক তরুণী। ঢাকার একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বলে দাবি করে আঁখি আক্তার বলেন, আমার বাবা মা’রা গেছে বেশ কয়েক বছর আগেই। এরপরও আমি পরিবারের ভার বহনের পাশাপাশি নিজেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। চলমান খারাপ পরিস্থিতর ধা”ক্কা”য় টিউশনি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সীমাহীন আর্থিক সংকটে পড়ে যায়। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ছোট-ভাইবোনদের পড়াশোনা প্রায় বন্ধের উপক্রম। একপর্যায়ে আমার এক বান্ধবীর ফাঁ’দে পড়ে গত ৬ মাস ধরে কক্সবাজারে চলে আসি। এরপর বাধ্য হয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ি।

তার দাবিমতে, গত মাসে ২৪ বা ২৫ নভেম্বর রাতে আমের ড্রিম কটেজে হানা দেয় আশিক। তখন তার ভ’য়ে সেখানকার কর্মচারী সবাই সটকে পড়েন। আশিক প্রথমে শে’ষ করার ভয় দেখিয়ে কটেজে থাকা সব মেয়েদের পাশাপাশি সেখানে মনোরঞ্জনের জন্য অবস্থান করা অন্তত ১৫ জন পর্যটকের মোবাইল ও টাকা-পয়সা কে’ড়ে নেয়। পরে পর্যটকদের কাপড় খুলে মেয়েদের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে ভিডিও ধারণ করে। পরে কারো কারো মোবাইল ফিরিয়ে দিয়ে তাদের মোবাইল নাম্বার নেয় আশিক ও তার লোকজন।

আঁখি আক্তার বলেন, ওই দিন আমার কাপড় খোলা অবস্থায় ভিডিও করে আশিক। তবে যাওয়ার সময় মোবাইল নাম্বার নিয়ে তার ফোনটি ফেরত দিয়ে মোবাইল বন্ধ পেলে ভিডিও ভাইরালের হু’মকি দেয় আশিক।

তিনি বলেন, ঘটনার একদিন পর আমাকে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে দেখা করতে বলে আশিক। দেখা করার পর ওই রাতে অপরিচিত একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে নিয়ে অবৈধ সিনিস সেবন করে রাতভর দফায় দফায় খারাপ কাজ করে আশিক আর তার আরেক বন্ধু।

তার দাবি, আশিক অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন মেয়ের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেছে বলে শুনেছেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব অভিযোগ অকপটে স্বীকার করেছেন ওই সব কটেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।

তারা জানান, শুধু কটেজের অর্ধশতাধিক মেয়েদের জোরপূর্বক খারাপ কাজ ও তাদের টাকা-পয়সা কেড়ে নিয়েছেন তা নয়; গত এক মাসে এসব কটেজে মনোরঞ্জনের জন্য আসা কয়েকজন পর্যটক ও কটেজের মালিক-কর্মচারীদের ধরে নিয়ে তাদের লেংটা করে মেয়েদের সঙ্গে ছবি তুলে মুক্তিপণ আদায় করেছে আশিক।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, গত কয়েক দিন আগে আমের ড্রিম কটেজের স্টাফ আমান উল্লাহ ও ঢাকার বাড়ি কটেজের স্টাফ নাহিদকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাদের গায়ে হাত দেয় ও কাপড় খুলে ভিডিও ধারণ করে আশিক। এরপর তাদের জি”ম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করে।

এসব কটেজের ব্যবসায়ীরা জানান, নিজেরা অসামজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকায় আশিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে ভয় পেয়েছেন তারা। তবে মাসিক মাসোহারা আদায় করা পরিচিত পুলিশ অফিসারদের আশিকের বিষয়ে অভিযোগ দিলে তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।

কক্সবাজার শহরের এসব অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধের পাশাপাশি খারাপ কাজে জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, কটেজ ব্যবসায়ী বা পর্যটকদের কেউ অবগত করেননি। এরপরও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপ চলা কটেজগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

একই কথা বলেছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান।

এদিকে, এই আশিকের সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছে তাদেরও গ্রেফতারের দাবি করছেন অনেকে। তবে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন এই যুবক কার ক্ষমতার জোরে এই সকল খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যাদের কারণে সে খারাপ কাজে যুক্ত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। আশিক ক্ষমতার জোরে যা ইচ্ছে তাই করতেন। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলার সাহস পেতো না। যেই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতো তার উপর বিপদ নেমে আসতো। এমনকি সে সাধারণ মানুষের উপর যে কোনো সময় চড়াও হতেন। নারীরা তার হাত থেকে রক্ষা পেতো না। তাকে গ্রেফতার করে দ্রুত শাস্তির কথা বলছে সকলে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz