1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
নোম্যান্সল্যান্ডে আইভী | News12
January 21, 2022, 7:33 pm

নোম্যান্সল্যান্ডে আইভী

Staff Reporter
  • Update Time : Friday, December 24, 2021
  • 104 Time View

সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা। তিনি তিনবার সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। চতুর্থ দফায় মেয়রের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি বিরল ঘটনা। সেলিনা হায়াৎ আইভী একদিকে যেমন নারায়ণগঞ্জে জনপ্রিয় নেতা, অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের বিভক্ত রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তি হলেন তিনি।

সারা বাংলাদেশেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিভক্তির একটি বড় বিজ্ঞাপন হলো নারায়ণগঞ্জ। সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং শামীম ওসমানের মুখোমুখি অবস্থান এবং পরস্পর বিরোধিতা শুধু নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিকেই বিভক্ত করেনি, পুরো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ঐক্যের সুতোয় কিছুটা হলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সে কারণেই মনে করা হয় যে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ হয়তো আরও শক্তিশালী হতে পারতো যদি শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াৎ আইভী বিজয়ী হতেন।

এবারে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন নিয়ে কেবল সেলিনা হায়াৎ আইভী বা নৌকা প্রতীকের বিজয়-পরাজয় মূল বিষয় না। এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনীতির অনেকগুলো ধারণা এবং চিন্তা জড়িত বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই নির্বাচনে যদি সেলিনা হায়াৎ আইভী জয়ী হন তাহলে নিঃসন্দেহে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। শামীম ওসমানের রাজনৈতিক অধ্যায় সংকুচিত হয়ে যেতে পারে এমনটি মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কারণ, তারা মনে করছেন যে শামীম ওসমানের সঙ্গে টক্কর দিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভীর ঠিকে থাকা যেমন একটি বড় বিষয়, ঠিক তেমনিভাবে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হওয়া তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই দুটি অর্জন করে যদি তিনি জনগণের সমর্থন অর্জন করেন, তাহলে রাজনীতিতে তিনি হয়তো শামীম ওসমানকে চিরস্থায়ীভাবে পরাজিত করতে পারবেন।

কারণ শামীম ওসমান কখনোই চাননি যে, সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র হিসেবে টিকে থাকুক। গতবারও মেয়র নির্বাচনের আগে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের মেয়র হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াৎ আইভীর মধ্যে আইভীকেই পছন্দ করেছিলেন। এখনও শেখ হাসিনা আইভীর উপর আস্থা রেখেছেন। অর্থাৎ এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা একটি বার্তা দিয়েছেন তা হলো, নারায়ণগঞ্জে আইভি হলো নেতা।

শামীম ওসমানের প্রতি শেখ হাসিনার আলাদা স্নেহ-মমতা রয়েছে তার পরিবারের অবদানের জন্য এ নিয়ে কোন সন্দেহই নেই। কিন্তু রাজনীতিতে নেতৃত্ব লাভের যে আস্থা, সেই আস্থা শামীম ওসমান কতটা অর্জন করতে পেরেছেন সেটি নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে, যদি এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত আইভী পরাজিত হন তাহলে কি হবে? সেলিনা হায়াৎ আইভীর জন্য এই নির্বাচন জয় খুব সহজসাধ্য হবে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা।

তারা মনে করছেন, এই নির্বাচনে জয়ী হতে হলে আইভীকে দুটি যুদ্ধে বিজয়ী হতে হবে। এক, নারায়ণগঞ্জে বিভক্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুদ্ধ। দুই, তৈমুর আলম খন্দকারের সঙ্গে যুদ্ধ। নারায়ণগঞ্জের বিভক্ত আওয়ামী লীগের একটি অংশ যে তৈমুর আলম খন্দকারকে মদদ দিচ্ছে, সমর্থন দিচ্ছে -এটা বোঝার জন্য কোন বিশেষজ্ঞ হবার দরকার নেই।

আওয়ামী লীগের একটি অংশ চাইছে সেলিনা হায়াৎ আইভী নির্বাচনে পরাজিত হোক। সেলিনা হায়াৎ আইভী যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে পরাজিত হন তাহলে তাঁর রাজনীতির পরিণতি কি হবে? অনেক বিশ্লেষকেরা বলছেন যে, জনপ্রিয় এবং সফল মেয়র হওয়ার পরও সৎ এবং নির্ভীক থাকার পরও শেষ পর্যন্ত আইভীর রাজনৈতিক জীবনের এক করুণ পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে, যদি এই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

এই নির্বাচনে পরাজিত হলে তিনি নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এক ধরনের উদ্বাস্তুতে পরিণত হবেন। অন্যদিকে, জনপ্রতিনিধি বা মেয়র না থাকার কারণে জনগণের মধ্যেও তিনি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বেন। আর এই দুইয়ের সমীকরণে তার রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তির অধ্যায় সূচিত হতে পারে। তাই এবারের নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভী যেন নোম্যান্সল্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন। একদিকে, তার জন্য নারায়ণগঞ্জের অবিসংবাদিত নেতা হওয়ার সুযোগ, অন্যদিকে তার সামনে সব হারানোর শঙ্কা। এ দুটির মধ্যে কোনটি আসলে বাস্তবতা লাভ করবে সেটি বোঝা যাবে ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনের পর।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz