1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
একদিন আগে গোপন বৈঠকে খুনের পরিকল্পনা | News12
January 22, 2022, 9:01 pm

একদিন আগে গোপন বৈঠকে খুনের পরিকল্পনা

Staff Reporter
  • Update Time : Friday, December 24, 2021
  • 112 Time View

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কুয়েত প্রবাসী মো. হোসেন এলাহী হত্যার রহস্য উন্মোচন হচ্ছে। মসজিদ-মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ায় তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার ভাই মোমেন এলাহীও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ঘটনার একদিন আগে খুনিরা নগরীর চকবাজারে বৈঠক করে। জামায়াত নেতা ও একাধিক মামলার আসামি মো. রাশেদের নেতৃত্বে এ বৈঠক হয়। সেখান থেকেই হত্যার পুরো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

১৭ ডিসেম্বর রাতে হাটহাজারী মির্জাপুল ইউনিয়নে কুয়েত প্রবাসী হোসেন এলাহীকে ও তার ভাই মোমেন এলাহীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। পরে হোসেন এলাহীর মারা যান। আর তার ভাই মোমেন এলাহী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তার হাতে দুই দফা অস্ত্রোপচার হয়েছে। এ ঘটনায় হোসেন ও মোমেনের আরেক ভাই মো. হোসেন বাদী হয়ে ১৪ জনের নামোল্লেখ করে আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। এরপরই মো. রাশেদ. আবুল হাশেম ও মো. হারুন ওরফে বাসেককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের কালা বাদশা পাড়া জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে থাকা ব্যাংক হিসাব তথা অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০-১০ লাখ টাকা তুলে নেয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ। এ টাকা হাটহাজারীর সরকার হাট জনতা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ব্যাংকের একটি এফডিআর ভেঙে উত্তোলন করা হয়। এলাকার বাসিন্দা ও বিভিন্ন সময়ে মসজিদে দান-খয়রাত করা টাকা কিভাবে খরচ হলো তা রাশেদের কাছে জানতে চান প্রবাসী হোসেন এলাহী। মূলত এ কারণেই হোসেন এলাহীর ওপর ক্ষুব্ধ হয় রাশেদ ও তার পক্ষের লোকজন। ঘটনার একদিন আগে ১৬ ডিসেম্বর চকবাজারে হাশেম তার সহযোগীদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে। ওই বৈঠকে হত্যার পরিকল্পনা হয়।

মামলার বাদী মো. হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ধীরে ধীরে সব বেরিয়ে আসছে। ঘাতক রাশেদ ও হাশেমের নেতৃত্বে গোপন বৈঠকে আমার ভাইদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি।

সূত্র জানায়, রাশেদ বোমা হামলা, হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি। ২০১৩ সালেও সে ছিল জামায়াত ক্যাডার। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা! এ সুবাদে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদও বাগিয়ে নেয়। আর সুযোগ মতো মসজিদ-মাদ্রাসার টাকা আত্মসাৎ করে।

মির্জাপুর এলাকায় হোসেন এলাহীকে হত্যার ৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ ডিসেম্বর রাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রাশেদ। তার আরেক সহযোগী হাসেমও হত্যা মামলার আসামি। সে জামায়াতের নেতা। রাশেদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করত তারা।

২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে নুরে এলাহী জুয়েল নামের এক যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে হাসেমের বিরুদ্ধে। ওই হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। জুয়েল হত্যাকাণ্ডের পর নানা অপকর্মের কারণে আলোচনায় আসে সে। হোসেন এলাহী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও তিনি জড়িত। ওই মামলায় তাকে এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। আগের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও হাশেম প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াত।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হাটহাজারী থানার এসআই প্রদীপ চন্দ্র দে যুগান্তরকে বলেন, প্রবাসী হোসেন এলাহী হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত, কেন এ ঘটনা তারা ঘটিয়েছে এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে; যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার ১ নম্বর আসামি রাশেদের বিরুদ্ধে জ্বালাও-পোড়াও মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz