1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
সচিব পদে নতুনের কেতন: কমবে কি আমলাদের কর্তৃত্ব? | News12
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

সচিব পদে নতুনের কেতন: কমবে কি আমলাদের কর্তৃত্ব?

Staff Reporter
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৯০ Time View

নতুন বছর শুরুর আগেই সরকারের প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। এই রদবদলের মধ্য দিয়ে দশম এবং একাদশ ব্যাচ আমলাদের নীতিনির্ধারণী পদ সচিব পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। শুধু প্রবেশ নয়, অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এখন গ্রহণ করেছে দশম এবং একাদশ ব্যাচের কর্মকর্তারা।

দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের বিরুদ্ধে একটি অন্যতম অভিযোগ হলো সরকার আমলাতন্ত্র নির্ভর হয়ে পড়েছেন। আমলারাই এখন ছুড়ি ঘোরাচ্ছেন। নতুনের আবগহণের মধ্য দিয়ে কি আমলাতন্ত্রের এই কর্তৃত্ববাদী যুগের অবসান ঘটতে শুরু করলো।

৮৩,৮৪,৮৫ এবং ৮৬ ব্যাচের অধিকাংশ কর্মকর্তাই অবসরে গেছেন। এখনো সচিব পদে এই ব্যাচগুলোর কিছু ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন পদে রয়ে গেছেন। তবে তারাও আস্তে আস্তে অবসরে যাবেন এবং পর্যায়ক্রমে দশম এবং একাদশ ব্যাচ আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আমলাদের যে কর্তৃত্ব, সেই কর্তৃত্ব কি কমে যাবে কিনা এই প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক সচিব মাহবুব হোসেন এখন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের থাকা মোঃ সাইদুল ইসলাম (যিনি মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দায়িত্বে ছিলেন) এখন কৃষি মন্ত্রণালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন।

মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকী সচিব এবং সেতু বিভাগ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর দায়িত্বে এসেছেন। অন্যদিকে মোঃ মঞ্জুর হোসেন পেয়েছেন সেতু বিভাগ ও নির্বাহী পরিচালক বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এরকম বাস্তবতায় আমলাতন্ত্রে একটি নীরব পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত তরুণরা দায়িত্ব নিচ্ছেন যারা মেধাবী, যাদের দক্ষতা যোগ্যতা প্রশ্নাতীত এবং যাদের ভিতর রাজনৈতিক মনস্কতার চেয়ে পেশাদারিত্বের মনোভাব বেশি।

দশম এবং একাদশ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কে মনে করা হয় অনেক বেশি পেশাদারী। তারা রাজনৈতিক চিন্তা চেতনার চেয়ে পেশাদারিত্ব মনোভাবকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন এবং এই দুটি ব্যাচ যেহেতু অপেক্ষাকৃত তরুণদের কাজেই রাজনীতিবিদদের উপর ছুড়ি ঘুরানোর ব্যাপারে তারা কতটা নিজেরা উৎসাহী হবেন বা কতটা তারা সক্ষম হবেন সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই দুই ব্যাচের কর্মকর্তারা যখন প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে আসীন হচ্ছেন তখন প্রশ্ন উঠেছে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতা কি খর্ব হবে কিনা। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, একজন আমলা বিদায় নিবেন নতুন আমলা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এটি আমলাতন্ত্রের চিরন্তন প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে ক্ষমতা, কর্তৃত্বর হ্রাস-বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে এ ব্যাপারে ভিন্ন মতও আছে। অনেকেই মনে করেন যে কিছু কিছু ব্যক্তি অতি রাজনৈতিক প্রবণ এবং রাজনৈতিক মানসিকতার কারণেই তারা আমলা না হয়ে, সচিব না হয়ে তারা রাজনীতিবিদ হয়ে যান এবং সব বিষয়ে মতামত দিতে থাকেন এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

যার ফলে ক্ষমতার কেন্দ্রের যে ভারসাম্য, মন্ত্রী এবং সচিবের ক্ষমতার যে বিভাজন রেখা তা লঙ্ঘিত হয়। অনেক ক্ষেত্রেই অনেক মন্ত্রণালয়ের সচিবরা মন্ত্রীদের উপর খবরদারি করেন এরকম অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আরো বেশি পেশাদারি মনোভাব সম্পন্ন কর্মকর্তারা যখন সচিবের দায়িত্ব নিলেন তখন পরিস্থিতির কিছু পরিবর্তন হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, নতুন যারা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে গিয়েছেন তারা কেউই রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে পদ গ্রহণে আগ্রহী নন বরং তারা তাদের মেধা এবং দক্ষতা দিয়ে কাজে আগ্রহী। তাই প্রশাসনে একটি শৃঙ্খলা এবং অতি আওয়ামী লীগ হওয়ার প্রবণতা কমবে বলেই অনেকে মনে করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz