1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
২০ বছর ধরে একজনের চাকরি করেন আরেকজন | News12
January 22, 2022, 7:51 pm

২০ বছর ধরে একজনের চাকরি করেন আরেকজন

Staff Reporter
  • Update Time : Monday, November 29, 2021
  • 5 Time View

বিশ বছর আগে সরকারি চাকরিটা পেয়েছিলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর গ্রামের মঈন উদ্দিন খান (৪৩)। তবে তিনি এর কিছুই জানতেন না। জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর পরিচয়ে কারারক্ষী পদে সিলেট কারাগারে চাকরিটা করে আসছেন কুমিল্লার এক ব্যক্তি। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ায় তদন্তে নেমেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

হবিগঞ্জ জেলা কারাগার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মঈন উদ্দিন খান শাহজাহানপুর গ্রামের মো. নুর উদ্দিন খানের ছেলে। তিনি সরকারি চাকরি না পেয়ে গ্রামের বাজারে ফার্মেসি দিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ২০০১ সালে মঈন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে কারারক্ষী পদে চাকরির জন্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে শারীরিক ফিটনেস, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে তাঁকে চাকরির যোগদানপত্র পাঠানো হয়নি। যোগদানপত্র না পাওয়ায় তিনি চাকরির আশা না করে মনতলা বাজারে ফার্মেসি দিয়ে ওষুধের ব্যবসা শুরু করেন। চলতি বছরের ১২ আগস্ট কারারক্ষী ক্রমিক নম্বর ২১৮৬২ মূলে মঈন উদ্দিন খান চাকরি করেন মর্মে শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বরাবর সিলেটের কারা উপমহাপরিদর্শক কার্যালয় থেকে একটি চিঠি আসে। ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন খান চিঠিটি পেয়ে একটি প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে মঈনকে জানান।

প্রত্যয়নপত্রটি পেয়ে মঈন কারারক্ষী পদে চাকরি করেন না এবং তাঁর নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে কে বা কারা চাকরি করছেন—এই বিষয়টি জানিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ ছাড়া চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন ১৬ নভেম্বর সিলেটের কারা উপমহাপরিদর্শক মো. কামাল হোসেনের বরাবর একটি চিঠি পাঠান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, মঈন উদ্দিন খান একজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী, কারারক্ষীর চাকরি করেন না। এই চিঠি পেয়ে সিলেটের কারা উপমহাপরিদর্শক এক চিঠিতে মঈনকে সশরীর হবিগঞ্জ কারাগারে হাজির হতে বলেন। পরে সিলেটের কারা উপমহাপরিদর্শকের কাছে গিয়ে মঈন জানান, তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী পদে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি চাকরি পাওয়ার কোনো কাগজপত্র পাননি। এ সময় তিনি চাকরিতে যোগদানের জন্য লিখিত আবেদন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে কারা উপমহাপরিদর্শক বিষয়টি তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবিগঞ্জ কারাগারের সুপারকে নির্দেশ দেন।

হবিগঞ্জ কারাগারের সুপারের পক্ষে জেলার জয়নাল আবেদীন ভূঞা চিঠি ইস্যু করে উভয় মঈন উদ্দিন খানকে কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে নির্দেশ দেন। শাহজাহানপুরের মঈন উদ্দিন খান এলাকার সাবেক চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে হবিগঞ্জ কারাগারে হাজির হন। গত শনিবার সকাল ১০টা থেকে দিনভর তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলার জয়নাল আবেদীন। কিন্তু মঈনের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে কুমিল্লার যে ব্যক্তি চাকরি করছেন, তিনি হবিগঞ্জ কারাগারে হাজির হননি।

শাহজাহানপুরের মঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘সরকারি চাকরি করার অনেক আশা নিয়ে কারারক্ষী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আমার ঠিকানায় অধিকতর তদন্ত করা হয়। ভেবেছিলাম আমি চাকরি পাব। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আমার যোগদানপত্র না আসায় আমি চাকরিতে যোগ দিতে পারিনি। যখন আমার কাছে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চিঠি আসে, তখনই আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই। এ ছাড়া জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আমার ঠিকানা ব্যবহার করে যে মঈন উদ্দিন খান চাকরি করছেন, তিনি আমার ফার্মেসিতে এসে আমাকে দুই লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছিলেন। আমি তাতে রাজি হইনি। তবে জালিয়াতির ব্যাপারে কথিত মঈন উদ্দিন খানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বলেন, নিয়োগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে যোগদানপত্রে আমার ছবি পরিবর্তন করে তাঁর ছবিসহ জাল কাগজ ব্যবহার করে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়।’

জেলার জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, ‘শনিবার তদন্তকালে অভিযুক্ত কারারক্ষী মঈন উদ্দিন খান হাজির হননি। শাহজাহানপুরের মঈন উদ্দিন খান কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। আমরা তাঁকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাঁর সঙ্গে আসা এলাকার কয়েকজন মুরব্বির বক্তব্য নিয়েছি। বিষয়টি আরো তদন্তের স্বার্থে আমি শাহজাহানপুরে যাব। পরে আমার তদন্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz