1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
  3. [email protected] : sohag :
আমার স্যান্ডেল বহনকারীরা এখন হাজার কোটির মালিক | News12
January 29, 2022, 7:51 am

আমার স্যান্ডেল বহনকারীরা এখন হাজার কোটির মালিক

Staff Reporter
  • Update Time : Friday, November 26, 2021
  • 11 Time View

টাঙ্গাইলে ছিলাম বলে পয়লা জুন ডিসির ইফতার মাহফিলে গিয়েছিলাম। বছরখানেক হলো তিনি এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে ছিলেন। কাজকর্ম কতটা কী করেন বলতে পারব না। কারণ এখনকার ডিসি-এসপিদের সরকারি দলের লোকজন সামাল দিতেই চলে যায়। তবু লোকটি যে চেষ্টা করেন তা এই এক বছরে উপলব্ধি করেছি।

তাই হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক, সোহেল, আলমগীর ও মোস্তাফিজকে নিয়ে ইফতারিতে গিয়েছিলাম। গাড়ি থেকে নামতেই জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন স্বাগত জানিয়েছিলেন।

একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইফতারস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন। বসতে চেয়েছিলাম সাধারণ টেবিলে। কিন্তু জোর করেই মূল টেবিলে বসিয়ে ছিলেন। যেখানে এমপিরা ছিলেন, সরকারি কর্মকর্তারা ছিলেন। মূল টেবিলে খন্দকার আসাদুজ্জামান বসেছিলেন।

তিনি আমাদের দূর সম্পর্কের মামাতো ভাই। খন্দকার আসাদুজ্জামান মঞ্জু ভাইর হাত ধরে আমি কাদের বলতেই বললেন, ‘ও তুমি এসেছ? আমি তো দেখতে পাই না।’ চমকে উঠেছিলাম, কী বলেন? মুক্তিযুদ্ধের সময় যিনি ছিলেন আমাদের চোখের মণি, আজ তারই চোখে মণি নেই, আলো নেই। কেমন যেন হয়ে গিয়েছিলাম।

বসেছিলাম তার ডান পাশে। ইফতারের সময় পেছনে দাঁড়ানো একজন তাকে যখন ইফতারি মুখে তুলে দিচ্ছিলেন আমার কেমন লাগছিল তা লিখে বোঝাতে পারব না। মঞ্জু ভাই একজন নামকরা সিএসপি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে রাজশাহীর ডিসি ছিলেন। যুদ্ধের কদিন আগে বাড়ি এসেছিলেন। চাকরিতে থাকলে কী হতো জানি না।

টাঙ্গাইলে এসে আমাদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। পাকিস্তান আমলে সরকারি অফিসাররা বিরোধী রাজনৈতিক লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা করতেন না। খন্দকার আসাদুজ্জামানও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। কিন্তু ’৭০-এর নির্বাচনের পর অবস্থা অনেক বদলে গিয়েছিল। প্রায় সব বাঙালি এমনকি যেসব বাঙালি পুলিশ অফিসার বিরোধী নেতাদের ওপর অত্যাচার করতে পারলে, যে পুলিশ দুটা বাড়ি বেশি দিতে পারলে খুশি হতো তারাও আমাদের পিছে পিছে ঘোরা শুরু করেছিল। আর তখন একটা জেলার ডিসি মারাত্মক ব্যাপার।

এখন তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রীদেরও সম্মান নেই। টাঙ্গাইলের ডিসি জালাল উদ্দিন, এসপির নাম ভুলে গেছি। তারা হাইকমান্ড অফিসে এসে যখন আসাদুজ্জামানকে ‘স্যার স্যার’ করত আমাদের তখন বেশ গর্ব হতো। সংগ্রাম পরিষদের নেতারাও আসাদুজ্জামানকে বেশ গুরুত্ব দিতেন, সমীহ করতেন। ২৬ মার্চ যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল তার উপদেষ্টা করা হয়েছিল খন্দকার আসাদুজ্জামানকে।

তিনি চোখে দেখেন না, ভাবতেই কেমন লাগছিল। কথাটা বলছি এজন্য, একসময় সংগ্রাম পরিষদ ব্যাংকের টাকা শহর থেকে সরিয়ে ফেলতে চেয়েছিল। সবাই একমত হলেও একমাত্র আসাদুজ্জামান দ্বিমত করেন। তার কথা, প্রয়োজনীয় টাকা স্লিপ দিয়ে ব্যাংক থেকে নিয়ে নিতে পারেন।

যতক্ষণ পাকিস্তানিরা টাঙ্গাইল দখলে না নিচ্ছে ততক্ষণ ব্যাংক থেকে টাকা বাইরে নেওয়া ঠিক হবে না। বাইরে নিয়ে ভালোভাবে রাখা যাবে না। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যেও ঝগড়া-ফ্যাসাদ হতে পারে। তাই যখন যত টাকা দরকার ব্যাংক থেকে উঠিয়ে নিলেই হবে।

কথাটি অনেকের পছন্দ হয়নি। কিন্তু তবু খন্দকার আসাদুজ্জামানের পরামর্শ উপেক্ষা করতে পারেনি। টাকা ব্যাংকেই থেকে যায়। ২৬ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলা গণমুক্তি পরিষদ ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ করেছিল। তা থেকে আমাকেও দেওয়া হয়েছিল সাড়ে ৬ হাজার।

পরবর্তীতে মাসখানেক ওই সাড়ে ৬ হাজার টাকাই আমার জন্য বোঝার মতো ছিল। কে রাখে কে দেখে। আস্তে আস্তে খরচ হয়ে সব যখন শেষ হয়ে গেল, সম্বল মাত্র ৩০০ টাকা তখন বেশ হালকাবোধ করছিলাম। পরে বুঝেছি, ব্যাংকের ১০-১২ কোটি টাকা বাইরে বের করলে টাকাগুলো কোথায় থাকত, কার কাছে থাকত তাতে আমাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যে জড়িয়ে পড়ত তাদের কী যে হতো।

১০-১২ কোটির ২-১ লাখ হয়তো আমার হাতেও দেওয়া হতো। আমি তখন টাকা সামলাতেই ব্যস্ত থাকতাম, আদৌ যুদ্ধ করতে পারতাম কিনা কে জানে। মুক্তিযুদ্ধে পাই পাই হিসাব রেখেছি। আমার স্যান্ডেল বহনকারীরা এখন হাজার কোটির মালিক।

তার পরও আমাদের নিয়ে কত কথা। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে টাঙ্গাইলের ডিসি ছিলেন রংপুরের অধিবাসী। সেনা ক্যাম্প ছিল নতুন জেলা সদরে। সব ব্যাংক ছিল পুরান শহরে। পাকিস্তানিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় পুরান শহরের দিকে ফিরেও তাকাতে পারেনি। টাঙ্গাইল যেদিন মুক্ত হয় ন্যাশনাল ব্যাংকের খাতায় সেদিন ৫২ লাখ টাকা ছিল।

কিন্তু তার তিন দিন আগে টাকা ছিল ৮ কোটি। টাকা সরিয়ে ফেলতে হবে বলে জেলা প্রশাসক ফোর্সসহ পিকআপ পাঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার সময় ৭-৮ কোটি এখন হাজার কোটিরও বেশি। এখন সেই জেলা প্রশাসকের বেসুমার টাকা। ব্যাংকের মালিক। আওয়ামী লীগের নেতা।

আমাদের নিয়ে বেয়াদবি করে। যেহেতু আমার প্রিয় বোন জননেত্রী শেখ হাসিনা কিছু বলেন না, তাই সবাই চুপ। ডিসির ইফতার মাহফিলে মঞ্জু ভাইকে ওভাবে দেখে বড় আহত হয়েছি। একজন মানুষ টাঙ্গাইলের জন্য অন্ততপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের জন্য জ্ঞানে হোক অথবা অজ্ঞানে অনেক বড় কাজ করেছিলেন অন্য কেউ উপলব্ধি না করলেও আমি মরমে মরমে উপলব্ধি করি। লেখক : রাজনীতিক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, উৎস- বিডি প্রতিদিন

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz