৪৭ বছর পর মন্ত্রীশূন্য কিশোরগঞ্জ

0
36

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সদ্য গঠিত মন্ত্রিপরিষদে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসন থেকে জয়ী কোনো সাংসদের ঠাঁই হয়নি। এতে করে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এবারই প্রথম কিশোরগঞ্জ মন্ত্রীশূন্য জেলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।



জেলাবাসীর ধারণা ছিল, এবারও কিশোরগঞ্জে একাধিক মন্ত্রী থাকছেন। শেষ কেউ না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন জেলার বাসিন্দারা।

রোমান মিয়া ভৈরব পৌর শহরের রানী বাজার এলাকার বাসিন্দা। বয়সে তরুণ এই ব্যক্তি পেশায় ব্যবসায়ী বলেন, ‘একাধিক মন্ত্রী আশা করেছিলাম। এখন দেখি আশার ফল শূন্য। এটা মানতে কষ্ট হচ্ছে।’

১৩ উপজেলার জেলা কিশোরগঞ্জে সংসদীয় আসন ছয়টি। নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব কটি আসন মহাজোটের। রাজনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ এই জেলায় স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে সব সরকারের আমলে এক বা একাধিক ব্যক্তি মন্ত্রী ছিলেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ক্ষেত্রে জেলাটির গৌরব বেশ উজ্জ্বল। বর্ষীয়ান রাজনীতিক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মো. জিল্লুর রহমান ও আবদুল হামিদ এই জেলার বাসিন্দা। তাঁরা আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।



খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই জেলা থেকে প্রথম মন্ত্রী হন জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধুর প্রথম মন্ত্রিসভায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সেই থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সময়ে কোনো সরকারের আমলে কিশোরগঞ্জ মন্ত্রীশূন্য ছিল না।

প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হয়েছিলেন মনোরঞ্জন ধর। ১৯৭৩-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পাটমন্ত্রী ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ আসাদুজ্জামান খান। ১৯৭৯ সালে বিএনপির শাসনামলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ আবু আহমদ ফজলুল করিম। ১৯৮৬ সালে এরশাদের শাসনামলে ভূমি উপমন্ত্রী হন মুজিবুল হক। তিনি কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির সাংসদ ছিলেন। ওই সময় আইনমন্ত্রী ছিলেন এই জেলার হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী ছিলেন এই জেলার মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান।

১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে কিশোরগঞ্জ আসনের বিএনপির সাংসদ এ বি এম জাহিদুল হক নৌপরিবহন উপমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। তখন কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে জয় পাওয়া জিল্লুর রহমানকে করা হয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী। সৈয়দ আশরাফ পান বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসে। ওই সময় কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ ওসমান ফারুককে করা হয় শিক্ষামন্ত্রী। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসে। তখন সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের পাশাপাশি পান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। মহজোটের শরিক হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের মুজিবুল হককে করা হয় যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী।



২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসলে সৈয়দ আশরাফ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদটি ধরে রাখেন। পরে তাঁকে দেওয়া হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ছয়টি আসনে মহাজোটের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর সবাই মন্ত্রিত্ব পাওয়া নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ রাজনীতিতে আসার পর থেকে দল ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রিত্ব পাবেন—এমন ধারণা ছিল সবার। নাজমুল হাসান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভি রহমানের সন্তান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁদের আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে। জেলাবাসীর ধারণা ছিল, তাকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ রেজওয়ান আহম্মদ বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে। তাঁর মন্ত্রিত্ব পাওয়া নিয়ে অনেকে আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের আফজাল হোসেন এবার তৃতীয়বারের মতো সাংসদ হয়েছেন। তিনিও ছিলেন আলোচনায়।

সাংসদ নূর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি ভাবনার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। সময় শেষ হয়ে যায়নি। দেখা যাক কী হয়। তবে মন্ত্রিত্ব লাভ হোক কিংবা না হোক, এলাকাবাসীর কাছাকাছি থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে এতটুকু পিছপা হবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।



দুর্নীতির মামলায় কারাগারে সাবেক কাউন্সিলর””’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অর্থ আত্মসাৎ মামলায় বরিশাল মহানগর বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সিটি কাউন্সিলর সৈয়দ জাকির হোসেন জেলালকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) জেলাল ওই মামলায় বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক মহসিন-উল হক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বিএনপি নেতা জেলালের বিরুদ্ধে ঢাকা ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুদক। জেলাল বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ভাই।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, ভূয়া কার্যাদেশ ও জাল গ্যারান্টিপত্র দেখিয়ে এবং জনবল নিয়োগের নামে সৈয়দ জাকির হোসেন জেলাল ঢাকা ব্যাংকের বরিশাল শাখা থেকে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ঋণ নেন। জেলালের জালিয়াতি ব্যাংকের কাছে ধরা পড়লে ২০১৩ সালের ৬ আগস্ট ঢাকা ব্যাংকের বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল মালেক হাওলাদার ঋণ গৃহীতা জেলালের বিরুদ্ধে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই আদালত তখন মামলাটি দুদক বরিশাল কার্যালয়কে তদন্তের নির্দেশ দেন।



তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এবিএম আব্দুর সবুর অভিযোগ তদন্ত শেষে জেলালের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিএনপি নেতা জাকির হোসেন জেলাল গত ১২ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে ৪ সপ্তাহের অন্তবর্তীকালীন জামিন নেন। মঙ্গলবার ওই মামলায় জেলাল বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা ইতিহাস গড়েছেন, ড. কামাল এবার কী করবেন”””’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চমক মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের অনেকের ক্লিন ইমেজ দক্ষতা এবং সুনাম থাকলেও ঠাঁই দেননি। মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টি এবার কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। তাই তাদের কেউ মন্ত্রিসভায় নেই। এমনকি মহাজোটের অন্য শরিক ১৪ দলের কাউকেও মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। রাখা হয়নি ’৭৯ সাল থেকে টানা ৮ বার বিজয়ী পার্লামেন্টারিয়ান শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ নিকটাত্মীয় কাউকেই। এক নির্মল মন্ত্রিসভায় শেখ হাসিনা অবহেলিত এলাকার নতুনদের সুযোগ করে দিয়েছেন।



বাদপড়া মন্ত্রীদের অনেকেই সফল, দক্ষ ও সৎ ছিলেন। কেউ কেউ দুর্নীতিসহ নানা কর্মকাে ছিলেন বিতর্কিত। তাদের সবাই বাদ পড়ায় কারও কারও জন্য কেউ কেউ আফসোস করলেও ব্যথিত হননি। নতুন মন্ত্রিসভায় যাদের ঠাঁই দিয়েছেন তাদের দু-চারজন অভিজ্ঞ রয়েছেন। সবাই সৎ, ক্লিন ইমেজ নিয়ে মন্ত্রিত্বের শপথ নিয়েছেন। সততা ও দক্ষতার সঙ্গে শপথ রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করলে নিশ্চয় তাদের আমলনামা সাফল্যের পাল্লাকেই ভারী করবে। সততা, দক্ষতা প্রমাণে যারা ব্যর্থ হবেন অতীতের অনেকের মতো তারা বিতর্কের বোঝা নিয়ে নিন্দিত হবেন। প্রধানমন্ত্রী যে সুযোগ দিয়েছেন সততার সঙ্গে পবিত্র ইবাদতের মতো দায়িত্ব পালন করলে জনগণের হৃদয় জয় করবেন।



ব্যক্তিগত লোভ ও লাভের আশায় কেউ এ সুযোগ ব্যবহার না করে শেখ হাসিনার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে পুলসিরাতের রাস্তা পার হবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। এই দায়িত্ব অনেক বড় ইমানি দায়িত্ব। এর জন্য ইহকাল ও পরকালে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারপ্রধান হিসেবে নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার ও মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে বিশ্ব রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন। নির্বাচনী ফলাফল বিস¥য়কর। নির্বাচনে শেখ হাসিনার ইমেজের ওপর মহাজোট দৃই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে বিজয়ী হচ্ছেন, এমন ধারণা ভোটের আগেই সবার মধ্যে ছিল। কিন্তুু ভোটের ফলাফলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপির শক্তিশালী অনেক প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহিন যেমন সত্য তেমনি এককালের বিএনপির দুর্গ তছনছ হয়ে যাওয়ার দৃশ্য ছিল বিস্ময়কর। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এমনকি তাদের যে ৭ জন বিজয়ী হয়েছেন তারা শপথ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একুশের গ্রেনেড হামলাসহ নানা মামলায় দি ত হয়ে আইনের চোখে পলাতক আসামি হিসেবে লন্ডনে নির্বাসিত। এই নির্বাচনে মনোনয়ন দানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন বাতিল হওয়া যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীকে ২২টি আসনে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন দিয়ে তাদের প্রতীক ধানের শীষকে পাপের বিষে পরিণত করেছিল। নতুন ভোটারদের জন্য এটি ছিল চরম আঘাত।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের আবেগ অনুভূতি ও আদর্শিক জায়গা যেমন উপেক্ষিত হয়েছে তেমনি মনোনয়ন বাণিজ্যের আগ্রাসনে বিএনপির পরিশীলিত ক্লিন ইমেজের নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। তার পরেও এই ফলাফল বিএনপির কাছে যেমন অপ্রত্যাশিত তেমনি মানুষের কাছে কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ। অতীতে বিএনপি অনেক হঠকারী পথ নিয়ে সুফল ঘরে তুলতে পারেনি। বিরোধী দলের আসন নাই পাক, বিএনপি থেকে অন্তত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ঝড়ের কবল থেকে উঠে এসেছেন।



বিজয়ী হয়েছেন। সংসদের বাইরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি নতুন নির্বাচনের দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে জনমত পক্ষে টানতে চায় তাহলে প্রথমেই তাদের জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তারপর একটি জনপ্রিয় দল হিসেবে বিএনপিকে সংগঠন তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করে আনতে হবে। সংগঠন ছাড়া ও কার্যকর সংগঠক ছাড়া কোনো আন্দোলন আলোর মুখ দেখে না। সরকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে শক্তি অর্জন করেছে তাতে আন্দোলনের স্পেস খুব বেশি দেবে বলে মনে হয় না। তবুও রয়ে সয়ে সংগঠন গুছিয়ে নরমে-গরমে আন্দোলনের পাশাপাশি সংসদেও ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপিকে ভূমিকা রাখতে হবে। এবারের সংসদে জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকছে। মহাজোটের শরিক ১৪ দলের নেতারাও মন্ত্রীত্বের বাইরে থাকছেন। রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মঈনউদ্দিন খান বাদল আছেন। এমনকি অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরীরা ক্ষমতার বাইরে সংসদে বসছেন। জাতীয় ইস্যুতে বা কোনো মন্ত্রীর ব্যর্থতায় অতীতে যেমন তারা চুপ করে থাকেননি তেমনি এবারও থাকবেন না। এ ক্ষেত্রে এই সংসদ আলোচিত ও আলোকিত এবং সব বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ জন যোগ দিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সুলতান মনসুরের জন্য কথা বলার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। সংসদে কথা বললে বিতর্ক যেমন মানুষের দৃষ্টি কাড়বে তেমনি জনমনে প্রভাব ফেলবে। আর গণমাধ্যম উদার নীতি নিয়ে কাভারেজ দেবে।



ড. কামাল হোসেন আর যাই হোক একজন অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ ও বিচক্ষণ আইনজ্ঞ এবং রাজনীতিবিদ। হঠকারী উগ্র নেতিবাচক সিদ্ধান্ত তার কাছ থেকে মানুষ আশা করে না। ড. কামাল হোসেন সংসদের ভিতরে বাইরে বিরোধী দলের জন্য সব পথ কার্যকরভাবে খোলা রাখতে চাইলে তাদের শপথ নিয়ে সংসদে নিয়মিত ভূমিকা রাখতে বলুন। যে কোনো ইস্যুতে কথা বলতে বলুন। যে অভিযোগ বাইরে করছেন সেটি সংসদে করতে বলুন। এমনকি নতুন নির্বাচন চাইলে সেই দাবিটিও যুক্তি, বিচার-বিশ্লেষণ করে সংসদে উত্থাপন করার সুযোগ নিতে বলুন। শেখ হাসিনা ইতিহাস গড়েছেন। ড. কামাল এখন কী করবেন? যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিন। সুলতানদের সংসদে দিন।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here