নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোটের দিন রাতে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলার আরেক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার গভীর রাতে ফেনী সদর উপজেলার সুলতানপুরে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতের নাম ছালাউদ্দিন (৩৫)। তার বাড়ি সুবর্ণচরের চর জুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামে। তিনি মামলার নয় নম্বর আসামি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালী গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি জাকির হোসেন বলেন, ছালাউদ্দিনসহ এখন পর্যন্ত এই মামলার ৫ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনসহ আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তিনি জানান, মামলার অন্য আসামিদের ধরতে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বাকিরা অবৈধ হলেও গণফোরামের দুজন বৈধ’””’

নির্বাচনের সামগ্রিক ফল প্রত্যাখ্যান করলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোক্তা ড: কামাল হোসেনের দল গণফোরাম সংসদে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটির দুজন প্রার্থী ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তারা হলেন – সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান।


গণফোরাম সভাপতি ড: কামাল হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান- প্রকৃত অর্থে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের শপথ নেয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে গতকাল ঢাকায় শিশু কল্যাণ পরিষদে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা হয়। সেই সভাতেই বিষয়টি আলোচনা হয় এবং দল থেকে সংসদে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে দলের নেতারা জানান।

কামাল হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, আমরা মনে করি সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান- প্রকৃত অর্থে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। তারা বিরোধী দল হয়ে সংসদে থাকলেন। অনেক তথ্য জানতে পারবেন এবং তা বাইরে তুলে ধরতে পারবেন।

তিনি বলেন, যদিও বাকী নির্বাচনকে অবৈধ মনে করেন তারা কিন্তু এ দুজনের জয়লাভকে তারা বৈধ মনে করেন। কিন্তু বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন যে তাদের যে পাঁচজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে তারা শপথ নেবেন না।

এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে গণফোরামের প্রধান মিত্র বিএনপি’র ঘোষণার বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, বিএনপি যদি তাদের কারণগুলো জানান তাহলে হয়তো আমরা দেখতে পারি। আমাদের দিক থেকে আমরা মনে করে আমাদের দুজন সংসদে গেলে সেটা আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখবো।



কামাল হোসেন বলেন, আমাদের দুজন মোকাব্বির খান ও সুলতান মনসুর, এই দুজনই আমরা মনে করি যে তারা তো প্রকৃত অর্থে নির্বাচিত হয়েছেন। সেই কারণে আমরা মনে করি তারা বিরোধী দলের হয়ে সংসদে থাকলেন। অনেক কিছু তথ্য জানলেন। তথ্য বাইরে এসে তুলে ধরতে পারবেন, ইত্যাদি। যদিও আমরা বাকী নির্বাচনকে মনে করি অবৈধ, কিন্তু এনাদের দুজনের নির্বাচন আমরা মনে করি বৈধ।

সংসদে যাচ্ছে ড. কামালের গণফোরাম”””

অবশেষে শপথ নিচ্ছেন ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের দুই বিজয়ী প্রার্থী। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ড. কামাল নিজেই। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে গণফোরাম।

ভোটে বিজয়ী গণফোরামের দুই প্রার্থী হলেন সিলেট-২ আসন থেকে মোকাব্বির খান ও মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। এর মধ্যে সুলতান মনসুর বিজয়ী হয়েছে ধানের শীষ প্রতীকে। উল্লেখ্য বিএনপি শপথ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এতে দ্বিমত ঐক্যফ্রন্ট তথা ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের। ঐক্যফ্রন্টের শরীক গণফোরামের দুই নির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নিতে চান। তাদের মতে সংসদের বাইরে শুধু নয় সংসদের ভেতরে থেকেও সরকারের সমালোচনা করা প্রয়োজন। এই যুক্তিতে শপথ নিতে চান তারা।

এর আগে আজ সকালে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন গণফোরামের নেতা ড. কামাল। বৈঠক শেষে বিকাল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গণফোরামের দুই প্রার্থীর শপথ নেওয়ার বিষয়ে তারা ইতিবাচক। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর ও গণফোরাম নেতা লতিফুল বারী হামিমও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে বিএনপি প্রার্থী শপথ নেবে না বলে ঘোষণা করেছেন দলটি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বৃহস্পতিবার তিনি জানান, নির্বাচনের ফলকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা মনে করি, এ কলঙ্কজনক নির্বাচন বাতিল করে আবার অনুষ্ঠিত করতে হবে এবং এটা অবিলম্বে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন নির্বাচন প্রত্যাখান করলে আবার শপথ নেব কিভাবে। আমি পরিষ্কার বলছি শপথ নেব না।



staf.news
admin@news12.us

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *