ভোটের দিন ৪টার পর ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক থাকবে

0
17

নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা বলেছেন, ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিতে হবে। ভোটের দিন ইন্টারনেটের গতি কমানো বা বাড়ানোর ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করলেও বিকেল ৪টার পর ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের ইটিআই ভবনে নির্বাচনের দিন সফটওয়্যার সংক্রান্ত ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ই এম এস), ক্যান্ডিডেট ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস) ও রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরএমএস) প্রশিক্ষণে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন হেলালুদ্দীন আহমদ।

ওই অনুষ্ঠানে ইটিআই-এর পরিচালক মোস্তফা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে ইসি সচিব বলেন, ‘বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছিল। তারা আমাদের বলেছেন, ভোটের দিন ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিতে হবে। ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিলে আপনাদের কী কোনো অসুবিধা হবে?

প্রশিক্ষণার্থীদের অসুবিধা হবে বলে সমস্বরে জানালে ইসি সচিব বলেন, ‘আপনারা তো রেজাল্ট পাঠাবেন ৫টার পর থেকে। যদি ৫টার পর থেকেই ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক থাকে তাহলে তো সমস্যা নেই। তাহলে আমরা চিন্তাভাবনা করে দেখবো। অর্থাৎ বিকেল ৪টার পর ফুল স্পিডে ইন্টারনেট থাকলে আপনারা ওকে।’

সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ৩০০ আসনে নির্বাচন করা বিশাল ব্যাপার। আমাদের দেশে রাজনীতিক সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে আমাদের জন্য কাজ করা সুবিধা। বাংলাদেশে টিভিতে টক শো হলেই দেখবেন নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথাবার্তা চলছে। নির্বাচন কমিশনে আপনাদের চেয়ে এক্সপার্ট আর কেউ নাই।

আপনারা উপজেলা অফিসে আপনাদের কাজ। মানুষের ভোটার আইডি কার্ড কারেকশন, বয়স কমানো বাড়ানো ইত্যাদি কাজ। নির্বাচন উপলক্ষে এসব আপাতত বন্ধ রয়েছে। তাহলে আপনাদের এখন কাজ কী? জাতীয় নির্বাচনে কাজ আছে

আমরানির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অনেক কাজ করেছি। এখনও চলছে। আগামীকাল শেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন-

দুই আসনই বিএনপির প্রার্থীশূন্য :

নির্বাচনী প্রচারণার মাঝামাঝি এসে বগুড়ার দুটি আসন বিএনপির প্রার্থী শূন্য হয়ে গেল। গত সোমবার উচ্চ আদালতের পৃথক আদেশে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া) এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের দুজনের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়।
আসন দুটি দেড় যুগ ধরে বিএনপির দখলে ছিল।

এবার এই দুই আসনে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে আসন দুটিতে নৌকার প্রার্থীও নেই। ফাঁকা মাঠে গোল দিতে যাচ্ছে জাপা।

বেশ কয়েকজন ভোটার বলেন, এমনিতেই দুই আসনে নৌকার প্রার্থী নেই। এরপর আবার প্রচারণার মাঝামাঝি এসে মাঠ ছাড়তে হচ্ছে ধানের শীষের প্রার্থীদের। লাঙ্গলের প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্রসহ অন্য প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ভোট হবে ‘পানসে’।

গত সোমবারও ধানের শীষের জমজমাট প্রচারণায় মুখর ছিল বগুড়া-৭ নির্বাচনী এলাকা। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ মিলটন ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দিনভর গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়েছেন। ধানের শীষের প্রচারণায় সরগরম ছিল ভোটের মাঠ। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ে পাল্টে গেছে সেই চিত্র।

মোরশেদ মিলটনের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আগেই রিট করেন বগুড়া-৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌস আরা বেগম। আদালত রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়। ফলে মোরশেদ মিলটনের নির্বাচন করার বিষয়টি আটকে যায়।

মোরশেদ মিলটনের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারী ফোরদৌস আরা গাতবলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ আজম খানের স্ত্রী। এবার এই আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোটের প্রার্থী জাপার বর্তমান সাংসদ আলতাফ আলী।

গাবতলী উপজেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্ম। এ কারণে বগুড়া-৭ ‘জিয়া পরিবারের আসন’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত এই আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে ‘একতরফা’ নির্বাচনে জেপির (মঞ্জু) এ টি এম আমিনুল ইসলামকে হারিয়ে সাংসদ হন জাপার আলতাফ আলী। তিনি ভোট পান ১৭ হাজার ৮৭৯। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯।
এবার এই আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হলে দলীয় প্রার্থী হন মোরশেদ মিলটন। ভোটের মাঠে লড়াইয়ের জন্য তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেই প্রার্থী হয়েছিলাম। এখন পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার অজুহাত তুলে প্রার্থিতা আটকে দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের এ রকম হুটহাট সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মনোবল হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক নেতা-কর্মী হতাশ। বিএনপির প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতে এটা সরকারের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র। সরকারের একই ষড়যন্ত্রের কারণে খালেদা জিয়া এই আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেননি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অনেক দিন পরে বিএনপির অংশগ্রহণ করায় উৎসবের আমেজ ছিল দলীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থক এবং ভোটারের মধ্যে। শাহাজানপুর উপজেলার গন্ডগ্রাম এলাকার ভোটার চান মিয়া, আবদুর রহমান, আবদুল মতিনসহ ১০ জন বলেন, অনেক দিন মানুষ ভোট দিতে পারেন না। ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহ নিয়ে বসে আছেন। কিন্তু ভালো প্রার্থী না থাকলেও তো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাভ নেই। জাতীয় পার্টির সাংসদের মতো ‘মৌসুমী’ নেতা দিয়ে তো এলাকার উন্নয়ন হবে না। ধানের শীষের প্রার্থী মাঠে ছিলেন বলেই ভোটে আগ্রহ ছিল। এখন নৌকা নেই, ধানের শীষ নেই, এমন ভোট দিতে যাওয়ার মানেও নেই।

ধানের শীষের প্রার্থীশূন্যের একই চিত্র বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনেও। এখানে প্রথমে বিএনপি থেকে ধানের শীষের প্রাথমিকভাবে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয় বিএনপির সাবেক সাংসদ ও মানবতাবিরোধী মামলায় পলাতক আসামি আবদুল মোমিন তালুকদার, তাঁর স্ত্রী মাছুদা মোমিন ও ভাই আবদুল মোহিত তালুকদারকে। বাছাইয়ের সময় উপজেলা পরিষদের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় বাতিল হয় মোহিতের মনোনয়নপত্র।

মোনিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকায় দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় মাছুদাকে। পরে হাইকোর্ট আদেশ দেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরাও স্বপদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন। শেষ মুহূর্তে এসে বিএনপির দলীয় প্রার্থী করা হয় আবদুল মোহিত তালুকদারকে। পরে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এতে আবারও আটকে যায় আবদুল মোহিতের নির্বাচন করার বিষয়টি।

১৯৯১ সাল থেকে আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। ২০০৮ সালে ধানের শীষ নিয়ে সাংসদ হন আবদুল মোমিন। ২০১৪ সালে ‘একতরফা’ ভোটে সমঝোতার ভিত্তিতে আসনটি জাপাকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ হন জাপার নুরুল ইসলাম তালুকদার। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪২৪ জন। এবারও এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন নুরুল ইসলাম। আর আইনি জটিলতায় নির্বাচন করতে পারছেন না বিএনপির প্রার্থী।

গতকাল এই আসনের ভোট ভাবনা নিয়ে কথা হয় দুপচাঁচিয়ার গুনাহারা ইউনিয়নের গোলাম মোস্তফা, আদমদীঘি উপজেলার শিবপুর গ্রামের শাহাজান আলী, নসরপুরের মোছা. তাপসী রাবেয়া, সান্তাহারের মো. রুবেল হোসেন, মোছা. নাসরিন আক্তারসহ সাতজন বলেন, প্রধান দুই দলের প্রার্থী মাঠে না থাকলে জাতীয় নির্বাচন মনে হচ্ছে না। প্রধান দুই দল নির্বাচনে না থাকলে উৎসাহ থাকে না। ভোট দেওয়ারও আগ্রহ নেই। নির্বাচন নিয়ে শেষ মুহূর্তে নাটক শুরু হয়েছে। এখানে জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংসদ ছিলেন পাঁচ বছর। কিন্তু তাঁকে এলাকার কেউ দেখেননি।

আবদুল মোহিত তালুকদার বলেন, ‘আমার প্রার্থিতা আটকে দেওয়াটা অবৈধ সরকারের জুলুম–নির্যাতনের নতুন খেলা। আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here