সীমান্তে চীনের অবস্থান: সামরিক কমান্ডারদের বৈঠক, নতিস্বীকার করছে ভারত

0
240

ভারত ও চীনের সামরিক কমান্ডাররা ২২ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ দফায় দিনভর বৈঠক করেছেন। এ ব্যাপারে দুই দেশ যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে। লাদাখের অচলাবস্থা নিয়ে এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্ররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও তার চীনা প্রতিপক্ষ ওয়াং ইয়ি মস্কোতে আলোচনা করেন। তবে সর্বশেষ দফা সামরিক কমান্ডারদের বৈঠক নিয়ে, যাতে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও ছিলেন, অনেক আশা করেছিলেন যে এতে ওয়াং ও জয়শঙ্করের বৈঠকে একমত হওয়া বিষয়গুলোর প্রতিফলন অথবা এর কাছাকাছি কিছু ঘটবে।

হ্যা, প্রতিফলন ঘটেছে। তবে ওয়াং-জয়শঙ্করের বৈঠকের পর দেয়া যৌথ বিবৃতির মতো ২২ সেপ্টেম্বরের যৌথ বিবৃতিও ছিলো প্রাণহীন। এতে বুঝা যায় ভারত-চীন আলোচনাই এখন অচলাবস্থার কবলে পড়েছে। অনেক বিশ্লেষক এরই মধ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে সর্বশেষ যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ কোন প্রতিশ্রুতি না থাকার মানে হলো পূর্ব লাদাখে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) চীনের অনুকূলে পরিবর্তিত হয়ে যে নতুন স্থিতাবস্থা তৈরি হয়েছে তা মেনে নিতে ভারত প্রস্তুত।

এর আগে ওয়াং-জয়শঙ্কর বৈঠকের যৌথ বিবৃতি বিশ্লেষণ করে আমি বলেছিলাম যে ভারত যে ফলাফল পেতে চায় তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। ভারত চায় চীন যেন এলএসি-তে এপ্রিল-পূর্ব অবস্থানে ফিরে যায়। আসলে যৌথ বিবৃতিতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর কোন প্রতিফলন ঘটেনি, শুধু আলোচনাই হয়েছে। ভারতের জন্য খারাপ বিষয় হলো সামরিক কমান্ডারদের বৈঠকেও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। বিবৃতিতে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার কথা শুধু অনুল্লেখই থাকেনি এতে দুই পক্ষ একমত হয়েছে যে তারা ফ্রন্টলাইনে নতুন করে আর সেনা পাঠাবে না। এর সঙ্গে রয়েছে মাঠের পরিস্থিতি একতরফা পরিবর্তন থেকে তারা বিরত থাকবে। এতেই বুঝা যায় মাঠের পরিবর্তিত বাস্তবতা ভারত মেনে নিয়েছে।

সরকারি সূত্র সাংবাদিক অজয় শুক্লাকে বলেছে, সামরিক কমান্ডারদের বৈঠকে পিএলএ তাদের অবস্থান কঠোর করে প্যাংগং হ্রদের দক্ষিণে অবস্থিত পাঁচ বা ছয়টি পর্বত চূড়া থেকে ভারতীয় সেনাদের প্রত্যাহার দাবি করে। গত মাসের শেষ দিকে ভারতের গোপন স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স অভিযান চালিয়ে এসব চূড়া দখল করে। এসব চূড়ার দখল ছাড়া হলে এরপর পিএলএ ভারতের দাবি অনুযায়ী এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে। এসব চূড়া থেকে ভারত চীনা অবস্থানগুলোর উপর নজর রাখতে পারবে এবং এর ফলে ভারত নিয়ন্ত্রিত চসুল বোল এলাকায় পিএলএ’র আরো অগ্রাভিযান রুখে দেয়া যাবে বলে শুক্লা উল্লেখ করেন।

বর্তমান অচলাবস্থার উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখা ক্রিস্টোফার ক্লারি বলেন, চলমান অচলাবস্থার ব্যাপারে ভারতের জবাবের ক্ষেত্রে একটি মজার বেসামরিক-সামরিক দৃষ্টিভঙ্গী লক্ষ্য করা যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এ ব্যাপারে বেশ আপোষকামী মনোভাব গ্রহণ করলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের অবস্থান বেশ কঠোর। এটা তাদের দায়িত্বগত কারণে হতে পারে। দি প্রিন্ট-এর মতে ২২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয় চীনারা যেন বলতে না পারে যে ভারতের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তরা একই সুরে কথা বলছেন না।

কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনা এখন যেভাবে এগুচ্ছে তাতে গোটা শীতকালজুড়ে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে মনে হচ্ছে। এতে ভারত ও চীন দুই পক্ষকেই অনেক মূল্য দিতে হবে। দুর্ঘটনা বা ষড়যন্ত্র না হলে তার আগে দুই পক্ষের মধ্যে কোন সংঘাত বাধবে না। সামরিক কমান্ডারদের সপ্তম দফা বৈঠকের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর