বাসা ভাড়া বাড়ালে আইনি পদক্ষেপ নেবেন যেভাবে

0
585

দিন দিন জীবনযাত্রার মান অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাসা ভাড়া। আয়ের সিংহভাগ খরচ হয় বাসা ভাড়ায়। শহরে একজন নিম্ন আয়ের মানুষ জীবন ধারণ ‘নুন আনতে পানতা ফুরাই’ এর মতো অবস্থা।

দেখা যায়, অনেক বাড়ির মালিক কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই এক বছর বা ছয় মাস পর পর ভাড়া বাড়িয়ে দেন। যা একজন ভাড়াটের জন্য অনেক বড় চাপ হয়ে যায়। কারণ সীমিত আয়েই তার সংসার চলে।

আবার অনেক বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়ানোর অজুহাতে ভাড়াটেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। যদি আপনি এই ধরনের সমস্যায় পড়ে থাকেন, তবে আইনি ব্যবস্থা নিলে অবশ্যই প্রতিকার পেতে পারেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের অ্যাডভোকেট আবুল হাসান গণমাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়েছেন। চলুন জেনে নেয়া যাক-

যেভাবে প্রতিকার পাবেন :

# বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়ানোর অজুহাতে আপনাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করলে আপনি বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ বা আরজি দায়ের করতে পারেন।

# বর্তমানে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ভাড়া নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ নিয়ন্ত্রক কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার দরখাস্তের বা আরজির শুনানি গ্রহণ করতে পারবেন।

# বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১ অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর পর বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়ালেও তা হতে হবে যুক্তিসঙ্গত।

# এছাড়া মাসিক ভাড়া নিয়ে কোনো লিখিত চুক্তি না থাকলে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মানি অর্ডারযোগে বাড়িওয়ালার ঠিকানায় ভাড়া প্রেরণ করতে হবে।

যা যা করবেন :

# মানি অর্ডারযোগে প্রেরণ করা ভাড়ার টাকা বাড়িওয়ালা যদি গ্রহণ না করেন, পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভাড়াটিয়াকে সিনিয়র সহকারী জজের বরাবর দরখাস্ত এবং একই সঙ্গে ভাড়ার টাকাও জমা দিতে হবে।

# একজন আইনজীবীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করতে হবে।

# ভাড়া নিয়ন্ত্রক প্রাথমিকভাবে শুনানির পর যদি সন্তুষ্ট হন যে ভাড়া প্রদানের জন্য অনুমতি দেয়া যাবে, সেক্ষেত্রে ভাড়ার টাকা প্রতি মাসেই আদালতে জমা দেয়া যাবে।

# আদালতে ভাড়ার টাকা জমা দিলে আইনতভাবে ভাড়াটিয়াকে ভাড়াখেলাপি বলার সুযোগ থাকবে না।

# বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

# আর প্রতি মাসে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়ার লিখিত রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।