ফরিদপুর মডেলে শুদ্ধি অভিযান হবে সারাদেশে

0
521

ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনা একটি বার্তা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়ে দিলেন যে, সন্ত্রাসী অপকর্মকারীরা যারা আওয়ামী লীগের ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করছে, দলের বদনাম করছে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক না হোক, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন তাঁর নিজস্ব গতিতে চলবে এবং তাঁরা যে অপরাধগুলো করেছে সেই অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুর মডেলের মাধ্যমে তিনি এই নতুন শুদ্ধি অভিযান পদ্ধতি চালু করলেন। ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের যে নেতৃবৃন্দ, যারা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন যাবত দাপিয়ে বেড়িয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিলেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

জানা গেছে এই কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে যথাযথভাবে আইন প্রয়োগের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে যারা বিতর্কিত ছিল, যারা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, অপারেশন ফরিদপুরের ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ কিছু জানতেন না, শেখ হাসিনা এককভাবে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি এই শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ফরিদপুর মডেল সারাদেশের মানুষকে আশ্বস্ত করেছে যে সব অপরাধীর বিরুদ্ধেই আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফরিদপুরের মানুষ এই অ্যাকশনে অত্যন্ত খুশী এবং তাঁরা মনে করছেন যে, শেখ হাসিনার দৃষ্টি সবদিকেই নিবন্ধিত আছে। আর এই কারণেই ফরিদপুরের অপারেশন মডেলের আদলে সারাদেশে শুদ্ধি অভিযান করা হবে। কারণ দুবছর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৮ হাজার অপকর্মকারী এবং দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারীর তালিকা তুলে দিয়েছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের হাতে। কিন্তু দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা এই ব্যাপারে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেননি, বরং এদের মধ্যে অনেকেই এই সময়ে আরো প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। এই সময়ে পাপিয়া-সাহেদরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে আওয়ামী লীগকে সমালোচিত করেছে এবং আওয়ামী লীগের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আর তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন সাংগঠনিক পথে যাচ্ছেন না, তিনি যাচ্ছেন আইনের পথে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এই ধরনের তথাকথিত গডফাদার বা সন্ত্রাসীরা প্রশাসনকে কব্জা করে সবকিছু করছেন- সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কঠিন বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে। ফরিদপুরের মতো অন্তত ১২ টি জেলায় এমন কিছু মুষ্টিমেয় ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী রয়েছে যারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতায় নানান ধরনের অপকর্ম করছে এবং তাঁরা কখনোই আওয়ামী লীগে ছিলেন না। জানা গেছে যে, ফরিদপুরের আদলে খুব শীঘ্রই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি জেলায় একইরকম অপারেশন শুরু হবে এবং সেখানেও সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা যিনি সম্প্রতি বিদেশে আছেন, তাঁর জেলাতে পরবর্তী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে এবং সেখানেও ঐ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি ঐ শহরে রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা টেন্ডার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এছাড়াও দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলাতেও একইরকম অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে এবং সেখানেও কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় দলে হাইব্রিডদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।দলে জামাত-শিবির ঢুকে দলের বদনাম করছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, শেখ হাসিনার অ্যাকশনের ব্যাপারটি সুস্পষ্ট। যারা অপরাধী, যারা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে, প্রশাসনকে সঠিকভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না, যারা টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত- তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তাঁরা যেন আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কোনরকম সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে না পারে এবং দলীয় নেতারা তাঁদের প্রতি কোনরকম অনুকম্পা যেন না দেখায় এবং তাঁরা যেন পালিয়ে যেতে না পারে এজন্য এই সমস্ত অভিযানগুলো পরিচালিত করা হবে খুবই গোপনে। যেমনটা ফরিদপুরে করা হয়েছিল। ফরিদপুরে অভিযান শুরুর আগে সেখানকার স্থানীয় নেতারাও এই সম্পর্কে জানতেন না। ঠিক তেমনিভাবে অন্যান্য জেলাগুলোতে তালিকানুযায়ী যারা টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি করছে তাঁদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আইনের আওতায় আসলে তাঁরা সাংগঠনিকভাবে এমনিতেই বাদ পড়ে যাবে এবং বাদ পড়লে দলের ইমেজ বাড়বে বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

বাংলা ইনসাইডার