বাংলাদেশে বিমানবন্দর উন্নয়নে চীনের সহায়তা, ‘আরো উদ্বেগে ভারত’

0
547

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের টার্মিনাল তৈরির কাজ পেয়েছে চীনা কোম্পানি। আর এনিয়ে উদ্বেগে আছে ভারত। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এমনটা দাবি করেছে হংকং ভিত্তিক পত্রিকা এশিয়া টাইমস।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘সিলেট এয়ারপোর্টের টার্মিনাল তৈরির কাজ চীনা কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে। এই খবরে ভারতের মিডিয়া এখন সরগরম। তাদের দাবি, বাংলাদেশ এখন চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এ মোমেন ভারতের ‘দ্যা হিন্দু’কে রোববার (২৬ জুলাই) বলেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করলে বাংলাদেশের কি করার আছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান তো একই বিশ্বে বাস করে। শেখ হাসিনা-ইমরান খানের আলাপ ছিল সৌজন্যমূলক। তারা কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলো। শেখ হাসিনা এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।

এশিয়া টাইমসে মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্লেষণে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিম ভিরতুল লিখেছেন, ‘বিজেপি বাংলাদেশের মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। অতীতের ভুল থেকে ভারত শিক্ষা নিতে পারেনি। সে কারণে দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীদের কাছে তার সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

এশিয়া টাইমস-এর ভাষায় দ্যা হিন্দু যে রিপোর্ট করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, চীনকে যখন ভারত তার প্রতিপক্ষ মনে করে, তখন দেশটির দিকে বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালে ঝুঁকে পড়েছে। আর এই ঝুঁকে পড়ার নিদর্শন হচ্ছে সিলেট এয়ারপোর্টে চীনা কোম্পানির কাজ পাওয়া।

উল্লেখ্য, ২ হাজার ১শ ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হবে। গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ কাজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন, একটি কার্গো ভবন, আধুনিক এটিসি টাওয়ার, ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন এবং আধুনিক ফায়ার স্টেশন স্থাপন সম্ভব হবে। এর ফলে বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৬ লাখ থেকে ২০ লাখে উন্নীত হবে।

চুক্তিপত্রে বেবিচকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান এবং কার্যাদেশ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বেইজিং আরবান কন্সট্রাকশন গ্রুপের পক্ষে বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড হ্যারল্ড হুয়াং। প্রকল্পের কাজ শেষ হতে দুই বছর ৯ মাস সময় লাগবে।