বাবা মুক্তিযোদ্ধা হলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটাতে আর্মিতে চান্স নেয়নি মেজর সিনহা

0
735

আপনি কি জানেন ভাই যে উনি মুক্তিযোদ্ধা কোটাতে আর্মিতে তে চান্স নেয়নি, পরিক্ষা দিয়েই চান্স পেয়েছে। প্রথমবার যখন পায়ের লিগামেন্টের জন্য ফেল হয়ে যায়, তখন তার বাবা কে বলা হয়েছিল সুপারিশ করার জন্য, তার বাবা বলেছিল মুক্তিযুদ্ধ আমি আমার ছেলের চাকরির জন্য করিনি, পরেরবার আবার পরিক্ষা দিক।

১৯৭৬ সালে বিসিএস দিয়ে চাকরিতে জয়েন করার পরেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব হিসাবে রিটায়ার্ড করার সময় তার বাবার উত্তরা তে সরকার থেকে লটারিতে পাওয়া একটা ৩ কাঠার প্লট ছাড়া আর কিছুই নেই। সেখানে বাড়ি ৩ তালা করেছিলেন লোন নিয়ে, যেই লোন তিনি শেষ করে যেতে পারেননি, সিনহা দিয়েছে। একটা ব্যাক্তিগত গাড়ি ছিল টয়োটা করল্লা ১৯৮০ মডেলের, ছিলনা কোন ড্রাইভার। খোজ নিয়ে দেখবেন ভাই….

ভাইয়া আপনি যা জানতে চান আমাকে জিগ্যেস করতে পারেন। আমার সবচেয়ে কাছের খালাতো ভাই এবং বন্ধু ছিল সে। পাওয়ার তার আজকে থেকে নয়, অনেক আগে থেকেই ছিল, মানে চাকরিতে থাকা কালিন আরও বেশি ছিল। এবিউস করতে দেখিনি কখনোই। আমার লাইসেন্স ছিল না গাড়ির, তার গাড়ি চালাচ্ছিলাম, সে ছিল পাশে বসা। সার্জেন্ট ধরার পর আর্মি পরিচয় না দিয়ে নিজে সার্জেন্ট এর হাতে ধরে সরি বলেছে। তারা তিন ভাই বোন, বড় বোন ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পলিটিকাল সাইন্সে এম.ফিল করেছেন, ছোট বোন আইবিএ থেকে বিবিএ করে ইউএসএ তে স্কলারশিপে এম.বি.এ করে এখন সেখানেই আছে। বাবা ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। এমন পরিবারের ছেলে ইয়াবা মদ গাজা খায়না। সকাল সন্ধা দুবার করে জিম করতো প্রতিদিন।

এস এস এফ তে নেওয়ার আগে অন্তত কয়েকবার তার প্রিভিয়াস ক্রিমিনাল রেকর্ড চেক করা হয়েছে।

তথ্যগুলো ও ছবি আমার পেজে (মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন) পাঠিয়েছে মেজর রাশেদের বন্ধু ও আপন খালাতো ভাই।

পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া মেজরের ব্যাপারে সেনাসদরের বক্তব্য:

“ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত: সেনাসদর

এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত জানিয়ে সেনাসদর বলছে: মেজর (অব.) সিনহা গাড়ি থামিয়ে তাদের পরিচয় দিলে প্রথমে তাদের যাওয়ার জন্য সংকেত দিলেও এসআই লিয়াকত তাদের পুনরায় থামায় এবং তাদের দিকে পিস্তল লক্ষ্য করে গাড়ি থেকে নামতে বলে। মেজর সিনহা হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নামার পরপরই এসআই লিয়াকত তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করে। জানা যায় যে, এসআই লিয়াকত কোনরূপ কথাবার্তা না বলেই গাড়ি থেকে নামার পরপরই মেজর সিনহাকে করে লক্ষ্য গুলি করে।”

কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুর চেক পোস্টে পুলিশের গুলিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা: শাজাহান আলিকে আহ্বায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের এই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

কক্সবাজার জেলার একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধি এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন।

জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহে এলিদ মইনুল আমিনের স্বাক্ষরে এক আদেশে শনিবার সন্ধ্যায় এই তদন্ত কমিটি করার কথা জানানো হয়।

নিহত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর। তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বীর হেমায়েত সড়কের মৃত এরশাদ খানের ছেলে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় একটি চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়।

কক্সবাজারের পুলিশ বলছে, রাশেদ তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে।

ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি এ ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে দুটো মামলা দায়ের করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

তবে ঘটনার যে বিবরণ পুলিশ দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ওই ঘোষণা আসে।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, কমিটি ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত দেবে।