মেয়েটি বিয়ে করতে চাওয়ায় বন্ধুদের সাথে নিয়ে গণধর্ষণ করল প্রেমিক

0
49

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় গণধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাঁচজনের মধ্যে দুইজন এ তথ্য জানিয়েছে বলে শনিবার (২৩ মে) বিকালে ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন দৈনিক অধিকারকে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন।

নিহতের বাড়ি ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেকুল গ্রামে। সে গাজীপুর শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজারের এলাকায় এ এ ইয়ার্ন নামের একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা-হলেন ভালুকা উপজেলার মো. রকিবুল ইসলাম (১৯), জয়নাল (২০), মামুন (১৮), রাব্বি (২২) ও ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার হরিণধরা গ্রামে হৃদয় মিয়া (১৮)। সে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানা যায়, নিহত শ্রমিক গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজারের এলাকায় এ এ ইয়ার্ন নামের একটি কারখানায় চাকরি করতেন। রবিবার (১৫ মার্চ) রাতে মেয়েটি নিখোঁজ হন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মেয়েটির বাবা গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর পূর্ব পাশে বিলাইজোরা খালের ব্রিজের নিচে থেকে একটি অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শুক্রবার (২০ মার্চ) মেয়েটির বাবা লাশটি দেখে তাঁর মেয়ের বলে শনাক্ত করে। পরে মেয়েটির বাবা ভালুকা মডেল থানায় নিজে বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নূর হোসেন ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে মামলার (তদন্ত) কর্মকর্তা ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন বলেন, রকিবুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মেয়েটির। তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দিলে রকিবুল যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। গত (শনিবার ১৪ মার্চ) রকিবুল আরও কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে মেয়েটিকে গণধর্ষণের পরিকল্পনা করেন। পরের দিন রাত ১০টায় মেয়েটির কারখানা ছুটি শেষে ভালুকা উপজেলার কড়ুইতলা মোড়ের উত্তর পাশে একটি গভীর বাগানে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।

সেখানে মেয়েটির হাত বেঁধে রাব্বি, মামুন, রকিবুল, আশিক, হৃদয় ও জয়নাল ধর্ষণ করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ফলে ঘটনাস্থলেই মেয়েটির মৃত্যু হয়। পরের দিন (সোমবার ১৬ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে মেয়েটির লাশ বিলাইজোরা খালের ব্রিজের পাশে ফেলে রেখে যায় আসামিরা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রকিবুল ইসলাম, হৃদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (২৩ মে) জয়নাল, মামুন ও রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। রকিবুল ও হৃদয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মামলা তদারক কর্মকর্তা ভালুকা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খোরশেদ আলম দৈনিক অধিকারকে বলেন, হত্যা মামলাটি ছিল ক্লু-লেস মামলা। রহস্য উদঘাটনে বেশ বেগ পেতে হতে হয়েছে। কারণ ওই মেয়ের পরিবারের অন্য সদস্যরা বাক-প্রতিবন্ধী। তারা কোন ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেনি। মামলার রহস্য উদঘাটন করতে একদিকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং অন্যদিকে মামলার (তদন্ত) কর্মকর্তাকে ছদ্মবেশ ধারণ করে আসামিকে শনাক্ত করতে হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।