শীঘ্রই দক্ষিণ এশিয়ার এক নম্বর গরিব রাষ্ট্র হওয়ার গৌরব অর্জন করবে ভারত

0
657

আজ থেকে সিকি শতাব্দী অর্থাৎ পঁচিশ বছর আগে প্রথমবারের মতো আগরতলা গিয়েছিলাম। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা সম্পর্কে আমার আগ্রহ ছিল সেই ছেলেবেলা থেকেই। কারণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ববর্তী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং মুক্তিকালীন সময়ে আগরতলাবাসীর ভূমিকার কারণে স্থানটি সম্পর্কে আমার একধরনের মিশ্রঅনুভূতি ছিল।

ফলে যখন জানতে পারলাম, আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং আমাকে সেখানে বেড়াতে যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তখন কালবিলম্ব না করে সেখানে বেড়াতে গেলাম। বাংলাদেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে একদিন গভীর রাতে আগরতলা শহরে গিয়ে পৌঁছলাম। বাংলাদেশ মিশনের ভিআইপি গাড়ি আমাদের সীমান্ত থেকে নির্দিষ্ট হোটেলে নিয়ে গেল। সেখানে বন্ধু সস্ত্রীক আমাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

আমার জীবনের দ্বিতীয় ভারত ভ্রমণ ছিল কলকাতা হয়ে দিল্লি-আগ্রা-জয়পুর-আজমিরসহ অন্যান্য এলাকা। প্রায় কুড়ি বছর আগে ঢাকা থেকে বিমানে কলকাতা নগরীতে গিয়ে ভারত সম্পর্কে আমার দ্বিতীয়বার মোহভঙ্গ হয়েছিল। পরে যতবার ভারত ভ্রমণে গেছি ততবারই নিজেকে বারবার প্রশ্ন করেছি- কেন এলাম! এখানে না এলে কি আমার একেবারে বয়ে যেত, নাকি আহামরি কোনো ক্ষতি হয়ে যেত। বাংলাদেশের পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশী নাগরিকদের নিয়ে ভারতীয় কাস্টম ও ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং বাহারি নাজেহালের হালনাগাদ চিত্র বোঝার জন্য সংসদ সদস্যের লাল পাসপোর্ট নিয়ে দুইবার ভারত ভ্রমণ করেছি। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাইনি। ভারত সরকারের কর্তাব্যক্তিরা ছাড়াও সে দেশের হোটেল-মোটেল, বিমান কর্মচারী এবং সড়ক ও রেলপথের ড্রাইভার-হেলপার ও কন্ডাকটররা পর্যন্ত বাংলাদেশীদের সম্পর্কে অত্যন্ত বাজে ধারণা পোষণ করে। আমরা যখন সেই ২০-২৫ বছর আগে ভারতের পাঁচ তারকা হোটেল, বিমানের বিজনেস ক্লাস অথবা রেলওয়ের প্রথম শ্রেণীতে মালসামান নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম, তখন সেখানকার লোকজন মনে করেছিল- বাঙালেরা হয়তো ভুল করে ভুল স্থানে এসেছে। পরে যখন তারা বুঝতে পারল আমরা ভুল করিনি, তখন ভারী আশ্চর্য হয়ে অদ্ভুত সব অপমানজনক প্রশ্ন করে আমাদের ভারত ভ্রমণের ফন্দি-মন্দি তালাশ করতে শুরু করল।

ভারত ভ্রমণের সময় আমরা যেখানেই গেছি, সেখানেই বাংলাদেশী পরিচয়টা আমাদের জন্য সম্মানজনক বলে মনে হয়নি। কলকাতার লোকজনের কৃপণতা এবং হীনম্মন্যতা আমাকে নিদারুণ ব্যথিত করেছে। অন্যান্য অঞ্চলের লোকজনের অহঙ্কার এবং বাংলাদেশ নাম শোনার পর আমাদের দরিদ্র-অসহায় এবং ভারতের করুণাপ্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার যে অভিব্যক্তি তারা কথাবার্তা এবং অঙ্গভঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলত, তা দেখে আমাদের শরীর ঘেন্নায় রিরি করে উঠত। ব্যবসায়িক জীবনে আমি ভারতীয়দের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করতে গিয়ে দেখেছি, তারা প্রায় সবাই এক ধরনের কর্তৃত্ব নিয়ে আমাদের সাথে লেনদেন করার চেষ্টা করে এবং ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসকে তারা এতটাই ক্ষমতাশালী মনে করে যে, তাদের ধারণা তারা দূতাবাসের মাধ্যমে অনেক অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম। বছর চারেক আগে ভারত থেকে এক ক্লায়েন্ট পাথর আমদানির জন্য আমাদের কাছ থেকে একটি জাহাজ ভাড়া নেয়, যা আমরা আমাদের ভারতীয় এজেন্টের মাধ্যমে হংকং থেকে সংগ্রহ করি। সেই জাহাজের ভাড়া নিয়ে আমি যে দুর্ভোগ দুর্দশার মধ্যে পড়ি, যা আমার দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে কল্পনাও করতে পারিনি কোনো দিন।

আমার ক্ষুদ্র জীবনে ভারত সম্পর্কে বিরূপ অভিজ্ঞতার পাঁচালী মনে হওয়ার কারণ হলো ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ অন্যান্য কট্টরপন্থী বিজেপি নেতার বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের বর্তমান শাসকদলের সাম্রাজ্যবাদী আচরণ। ভারতীয় পার্লামেন্টে সাম্প্রতিক কালে পাস হওয়া নাগরিকত্ব বিল, ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে সীমান্তে পুশইন করার চেষ্টা এবং প্রায় ত্রিশ লাখ বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিককে দেশ ছাড়া করার হুমকি ধামকির কারণে সৃষ্ট সমস্যার জন্য সারা ভারত যেভাবে উত্তাল হয়ে পড়েছে এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে ফাটল শুরু হয়েছে তা শেষ অবধি কোন পরিণতিতে গিয়ে ঠেকে তা ভেবে শঙ্কিত না হয়ে পারছি না।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতারা দশমুখে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন, বাংলাদেশের কারণে ভারতীয় অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমাজব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে। তারা দাবি করছে, প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী নাগরিক নাকি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে এবং প্রতিদিনই অগণিত বাংলাদেশী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত চলে যাচ্ছে অভাবের তাড়নায়। তারা আরো প্রচার চালাচ্ছে, বাংলাদেশের পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা হিন্দুদের জন্য ক্রমেই বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ দেশে হিন্দু নির্যাতনের হার নাকি পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি। এ কারণে তারা তাদের নতুন নাগরিকত্ব বিলে বাংলাদেশী হিন্দুদের ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভের প্রক্রিয়াটি সহজলভ্য করার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে, যা গত ১২ বছর ধরে চলা ভারত-বাংলাদেশ ঢলাঢলি বা দহরম-মহরমের সাথে একেবারেই বেমানান।

ভারত অত্যন্ত সুকৌশলে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে তাদের বিশ্বস্ত দালাল বা তাঁবেদার সৃষ্টি করে ফেলেছে। এসব তাঁবেদার ভাত খায় বাংলাদেশে কিন্তু কুলি ফেলে ভারতে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন কৌশলগত এবং স্পর্শকাতর স্থানে দালালদের অবাধ যাতায়াত এবং সেসব স্থানে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থরক্ষাসহ দেশের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্টকারী বিষবাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে পরস্পরবিরোধী ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রবল হয়ে উঠেছে। এসব বিপরীতমুখী ক্ষোভ-বিক্ষোভের কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ভারত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বমহলে এই ধারণা বিদ্যমান যে, গত ১২ বছরে এই দেশের সংখ্যালঘুরা যে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা-আনুকূল্য এবং সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে তা তাদের পক্ষে হিন্দুস্তানে পাওয়া অকল্পনীয় ও অসম্ভব ছিল। সরকারি পদ-পদবি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি থেকে শুরু করে গ্রাম্য মাতব্বরিতেও সংখ্যালঘুদের আধিপত্য এ দেশের সর্বত্র দৃশ্যমান। তাদের তাপে ও চাপে দেশের নব্বই শতাংশ সংখ্যাগুরু লোকজন দিবানিশি থরথর করে কাঁপে।

সংখ্যালঘুদের উল্লিখিত জমিদারি তথা সামন্ততান্ত্রিক জৌলুশের কারণে বঞ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতরা রীতিমতো হতাশ। কিন্তু তারা বিভন্ন প্রভাবশালী দেশী-বিদেশী চক্রের ভয়ে টুঁ শব্দ উচ্চারণ করতে পারছে না। অন্য দিকে, সাম্রাজ্যবাদী ভারত তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দশমুখে প্রচার চালাচ্ছে যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে অহরহ। বাংলাদেশে মৌলবাদ বেড়ে যাচ্ছে- র‌্যাডিক্যাল ইসলামপন্থীরা ক্রমেই শক্তি অর্জন করছে এবং তালেবান বা আইএসের মতো সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে, যা কিনা ভারত রাষ্ট্রের জন্য বিরাট এক হুমকি। সুতরাং ভারত যেকোনো মূল্যে অর্থাৎ দরকার পড়লে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হলেও বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ নির্মূলে ব্যবস্থা নেবে। ভারতের এসব জঘন্য প্রচার-প্রপাগান্ডা আমরা বাংলাদেশে বসে শুনতে পাই না। কারণ এ দেশের ভারতীয় তাঁবেদাররা সব কিছুর ওপর এমনই প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছেন যে, তাদের হুকুমের বাইরে বেশির ভাগ পত্রপত্রিকা এক ফোঁটা কলমের কালি ঝরিয়ে দুই-চারটি সত্য বাক্য প্রকাশে নারাজ এবং সমজাতীয় ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। তারা ভারতের বিরুদ্ধে একটি টুঁ শব্দ উচ্চারণ তো দূরের কথা- বরং যারা ভারতের বিপক্ষে ন্যায্য কথা বলেন তাদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে সেসব দেশপ্রেমিক লোকজনকে দেশদ্রোহী বানিয়ে শূলে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রপাগান্ডা চালাতে থাকে।

বাংলাদেশের এই ভূখণ্ড সম্পর্কে ভারতের দাদাগিরি এবং সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব বাঙালি মহাপুরুষদের মধ্যে খুব অল্প ক’জনই বুঝতে পেরেছিলেন এবং রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। বাংলার বাঘ শেরেবাংলা একে ফজলুল হক সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মহাত্মা গান্ধী, নেহরু কিংবা সুভাষ বোসের চেয়েও পদ-পদবি এবং প্রভাব প্রতিপত্তিতে এগিয়ে ছিলেন। তিনি দিল্লি-কলকাতাকেন্দ্রিক উগ্রবাদী হিন্দু নেতাদের আগ্রাসী মনোভাবের কারণেই কংগ্রেসের অর্থাৎ সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক থাকা সত্ত্বেও সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতির পদ গ্রহণ করেছিলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে শেরেবাংলাই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কোনো একটি দেশের প্রধানতম রাজনৈতিক দলের দুটো গুরুত্বপূর্ণ পদ একই সাথে অলঙ্কৃত করেছিলেন। শেরেবাংলা ছাড়াও নওয়াব আলী চৌধুরী, খাজা সলিমুল্লাহ, আবুল হাসিম, বগুড়ার মুহাম্মদ আলী এবং শওকত আলী ভ্রাতৃদয় প্রমুখ বাঙালি রাজনীতিবিদরা সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ভারতীয়দের থেকে এগিয়ে ছিলেন। শিল্প-সাহিত্য, সাংবাদিকতাও বাঙালির প্রভাব ছিল উল্লেখ করার মতো। মওলানা আকরম খাঁর পত্রিকা দৈনিক আজাদ, নাসির উদ্দিনের সওগাত ছাড়াও কবি মোজাম্মেল হকের মোসলেম ভারতের জনপ্রিয়তার কাছে ভারতীয় কোনো পত্রিকাই দাঁড়াতে পারছিল না। ফলে স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে অর্থাৎ ১৯৪০ থেকে ১৯৪৮ সাল অবধি এমন একটা অবস্থা বিরাজ করছিল যে, বাঙালিরাই ভারত শাসন করবে এবং সেখানে পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশের লোকজনই নেতৃত্বে থাকবে।

উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মানস পিতা এবং উগ্রপন্থী কংগ্রেস নেতা গুজরাটের অধিবাসী সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে উগ্রবাদীরা এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যার কারণে ভারত বিভক্তি অপরিহার্য হয়ে পড়ে এবং তাদের চক্রান্তের কারণেই লাহোর প্রস্তাবে পেশকৃত ঝঃধঃবং শব্দ থেকে এস অক্ষরটি বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। শুধু তাই নয়- পুরো চক্রান্তটিকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য ভারতবর্ষে একাধিকার ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়া হয়, যার ফলে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাংবাদিকতায় শীর্ষ অবস্থানে থাকা বাঙালিরা কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হন। অন্য দিকে, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ আন্তর্জাতিক মানের মুসলিম ব্যক্তিত্ব যথাক্রমে দিল্লি এবং পিন্ডি-ঢাকায় চলে যেতে বাধ্য হন।

১৯৪৯-৫০ সালে গুজরাটের বল্লভ ভাই প্যাটেল বাংলাদেশকেন্দ্রিক যে নোংরা খেলাটা শুরু করেছিলেন সেই খেলা ফাইনালে রূপ দেয়ার জন্যই তার সুযোগ্য মানসপুত্রদ্বয় অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ ২০১৯-২০ সালে এসে নতুন করে খেলতে আরম্ভ করেছেন। এই খেলায় যদি তারা জিতে যান তবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অবস্থা যে কী হবে তা একমাত্র আল্লাহই বলতে পারেন। তাদের খেলায় ইতোমধ্যে ভারত উত্তাল হয়ে উঠেছে। তারা চাচ্ছেন যে, বাংলাদেশও উত্তাল হোক। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এবার আর ভারতীয় তালিতে বাংলাদেশ উত্তাল হবে না কিংবা ভারতীয় তাঁবেদাররা যেভাবে অতীতকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে- এবার আর সেই খেলা খেলতে দেয়া হবে না। আমাদের রাষ্ট্র ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে কড়া পাহারা বসেছে- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশীরা আমাদের বিজিবিকে সীমান্ত রক্ষায় দিবানিশি সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অতীতের রেওয়াজ ভেঙে নতুন সুরে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলা আরম্ভ করেছে।

অমিত শাহ এবং তার সহযোগীরা দশমুখে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এ কথা বলার চেষ্টা করছেন যে, বাংলাদেশের লোকজন খুবই দরিদ্র, তারা অভাবের তাড়নায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পঙ্গপালের ভারতে ঢুকছে। তারা আরো বলে বেড়াচ্ছেন যে, বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীরা ভারতের পরিবেশ কলুষিত করে তুলছে, অর্থনীতি ধ্বংস করছে এবং ভারতে বসে ভারতবিরোধী চক্রান্ত করছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে খোদ ভারতের জনগণই ফুঁসে উঠেছে। বড় বড় রাজনীতিবিদ-মন্ত্রী-এমপিরা সরকারকে সমালোচনা করে বলতে আরম্ভ করেছেন, কোন দুঃখে বাংলাদেশের লোকজন ভারত যাবে। কারণ বিশ্বের সব অর্থনৈতিক জরিপে বাংলাদেশ হলো দক্ষিণ এশিয়ার প্রধানতম ধনী রাষ্ট্র। অন্য দিকে, ভারতের দারিদ্র্যসীমা শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ এবং মিয়ানমার থেকেও নিম্নস্তরে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত কেবল নেপালের চেয়ে ধনী রাষ্ট্র। চলতি অর্থবছরে ভারতের জিডিপির হার মাত্র সাড়ে চার ভাগ। এভাবে যদি আরো বছর দুয়েক চলে তবে ভারত দরিদ্রতায় নেপালকে হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এক নম্বর গরিব রাষ্ট্র হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। সুতরাং বাঙালিরা যদি পাগল হয়ে না যায় তবে তারা মরে গেলেও ভারত যাবে না।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য