লাইভ স্কোর

জিততে হলে চাই ওভার প্রতি ৮.৭৫ রান। কঠিন টার্গেটই বটে। তাই শুরু থেকে মারকুটো ব্যাটিংয়ের ইচ্ছে নিয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু খানিকবাদেই সেই ইচ্ছে গোত্তা খায়।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই দুই বলের ব্যবধানে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটন দাস মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দেন। দুর্দান্ত কায়দায় খানিকটা দৌড়ে ওয়াসিংটন সুন্দর ক্যাচটা নেন।

ক্যাচ ধরার পর শিশিরে সিক্ত ঘাসে তার পা কিছুটা পিছলেও যায়। কিন্তু ভারসাম্য খানিকটা হারালেও ক্যাচ হাত থেকে ছাড়েননি তিনি। লিটন আরেকবার সিরিজে ফিরলেন মাথা নিচু করে। ৮ বলে ৯ রান তুলে। তিন ম্যাচের সিরিজে ব্যর্থ বাংলাদেশের এই ওপেনার।

লিটনের আউটের ধাক্কা সামলে উঠার আগেই বাংলাদেশ দেখলো আরেকটি উইকেটের পতন। সৌম্য সরকার ওয়ানডাউনে খেলতে নেমে দীপক চাহারের পরের বলে ক্যাচ তুলে দেন। ত্রিশ গজের বৃত্তের কোনায় দাঁড়ানো শিভম দুবে ক্যাচটি ধরতে কোনো ভুল করেননি। শূন্য রানে আউট সৌম্য।

তৃতীয় ওভার শেষে ১২ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ডাগআউটের পরিবেশ তখন দিক হারানো নাবিক যেন! জয়ের জন্য ১৭৫ রানকে অনেক অনেক দূরের পথ মনে হচ্ছিল শুরুর চার ওভারে। স্কোরবোর্ডে ১৩ রানের সঞ্চয়ে তখন নেই ২ উইকেট। স্লো উইকেটে বাংলাদেশের সামনে বাড়ার গতিও যে ভীষণ স্লো! বলের চেয়ে রানের যোগাড় শুধু কমই নয়, অনেক কম!

খলিল আহমেদের প্রথম ওভারে দুই বাউন্ডারিতে বাংলাদেশ পায় ৮ রান। এই দুই বাউন্ডারিই আসে লিটন দাসের ব্যাট থেকে। উইকেট স্লো দেখে রোহিত শর্মা দ্বিতীয় ওভারেই স্পিন নিয়ে আসেন। লেগস্পিনার ওয়াসিংটন সুন্দর সেই ওভারে দেন মাত্র ৩ রান। তৃতীয় ওভার করতে আসেন দীপক চাহার। নিজের প্রথম ওভারে তার খরচ মাত্র ১ রান। শিকার দুই উইকেট!

সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে ভারত চারজন স্পেশালিষ্ট বোলার নিয়ে খেলতে নামে। শুরুর ছয় ওভারে ভারতের বোলাররা যে দুর্দান্ত বোলিং করেন তাতে রোহিত শর্মার এই সিদ্ধান্তকেও খুব ঝুঁকিপূর্ণ কিছু মনে হচ্ছিল না।

তবে পাওয়ার প্লে’র ষষ্ঠ এবং শেষ ওভারে লেগস্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালের প্রথম তিন বলে তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মোহাম্মদ নাঈম বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডের স্বাস্থ্য খানিকটা সমৃদ্ধ করেন। সবমিলিয়ে সেই ওভারে চাহালের খরচা হয় ১৫ রান। একটু জানিয়ে রাখি। শুরুর ৫ ওভারে বাংলাদেশের যোগাড় ছিল ২ উইকেটে মাত্র ১৮ রান!

১১ ওভারে ২ উইকেটে ৩২ রান। জেতার টার্গেট যখন ১৭৫ রান তখন এমন শুরুতে খুব আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। তবে ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমের ব্যাটিং বীরত্ব ঠিকই সাহস যোগায় দলকে। শুরুর ৩৫ বলে পাঁচ বাউন্ডারিতে আসা তার ৫৭ রান জানান দেয়, স্লো এই উইকেটেও দ্রুতগতিতে রান তোলা সম্ভব।