1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
‘মৃ'ত ঘোষণা করতেই নাঈমুল আবরারকে নেওয়া হয়েছিল হাসপাতালে’ | News12
January 21, 2022, 8:59 pm

‘মৃ’ত ঘোষণা করতেই নাঈমুল আবরারকে নেওয়া হয়েছিল হাসপাতালে’

Staff Reporter
  • Update Time : Sunday, November 3, 2019
  • 106 Time View

দৈনিক প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি ঘটনাস্থলেই সে মারা গিয়েছিল।

আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণার জন্যই কেবল তার মরদেহ মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে (আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল) পাঠানো হয়। তবে আবরারের সহপাঠিদের দাবি, ‘চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে তাকে মৃত ঘোষণা করেননি।’ এমনকি আবরারকে যখন গুরুতর আহত অবস্থায় অনুষ্ঠানস্থল থেকে তাকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে ‘হিট স্ট্রোকে’ অসুস্থ হয়েছে বলে কথা ছড়ানো হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আবরার বিদ্যুতায়িত হওয়ার আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক তারের ত্রুটির কথা জানালেও স্বেচ্ছাসেবীরা কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এছাড়া বড় একটি ইভেন্ট হলেও তাতে অল্পবয়সী ও অনভিজ্ঞদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে রাখার ঘটনাতেও ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এমনকি আয়োজকদের পক্ষ থেকেও আবরারের মৃত্যুর বিষয়টিও পরিবারকে জানানো হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্কুলের পরিচয়পত্রে থাকা মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানায়।

শনিবার (২ নভেম্বর) রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাম্বুলেন্স চালক, আবরারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ব্রাদারের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

যেভাবে বিদ্যুতায়িত হয় আবরার

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং আবরারকে মেডিক্যাল ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া এক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে পুরো বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের মাঠকে সাতটি জোনে ভাগ করে অনুষ্ঠান করেছিল কিশোর আলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোন ২-এ ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীর ঠিক বাম পাশে আমি ও আমার কিছু বন্ধু বসে গান গেয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন এক ফ্রেন্ড ডাকলে আমি খালি পায়ে এগিয়ে যাই। ফিরে আসার সময় সেখান দিয়ে যাওয়া একটা তারে আমার পা জড়িয়ে যায় এবং বৈদ্যুতিক শক পাই। পরে বিষয়টি স্বেচ্ছাসেবীদের জানাই। তবে তারা কোনও ব্যবস্থা নেননি।

পরে ওই তারেই একজন বড় ভাই আবারও শক পান। এ নিয়েও স্বেচ্ছাসেবীদের জানানো হয়। তবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেননি। পরে আরও কয়েকজনের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলেও স্বেচ্ছাসেবীরা কোনও ব্যবস্থা নেননি। সর্বশেষ সাড়ে ৩টার দিকে আবরার ওই তারেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় আমরা বন্ধুরা আবরারকে জোন-২ এর মেডিক্যাল ক্যাম্পে নিয়ে যাই। সেখান থেকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

স্বেচ্ছাসেবীরা শুরুতেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিলে এমন দুর্ঘটনা হতো না বলে দাবি করেন এই প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী।

আবরারের মৃত্যুর জন্য দোষীদের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনআবরারকে মৃত অবস্থায় পান মেডিক্যাল ক্যাম্পের ব্রাদার সানি

ইউনিভার্সেল হাসপাতালের মেডিক্যাল ক্যাম্পের দু’জন ব্রাদার এবং কিশোর আলোর দুই স্বেচ্ছাসেবী একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আবরারকে হাসপাতলে নিয়ে যান। এদের মধ্যে একজন ব্রাদারের নাম সানি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেডিক্যাল ক্যাম্পের চিকিৎসকরা ছেলেটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বলেন।

এরপর আমি এবং আমার এক সহকর্মী মিলে তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাই। এরআগে, ক্যাম্পের চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে মারা গেছে বলে জানান। তবে তখন চিকিৎসকরা কিশোর আলোর কাউকে জানিয়েছিলেন কিনা তা আমি জানি না। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলেছে, আমি তাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে আসি।’

আবরারের চোখ খোলা দেখেছেন অ্যাম্বুলেন্স চালক মাহবুব

ইউনিভার্সেল হাসপাতালের মোট পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স আছে। বড় তিনটি, ছোট একটি এবং একটি আইসিইউর সুবিধা সংযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স। কিশোর আলোর মেডিক্যাল ক্যাম্পে আইসিইউ সুবিধাযুক্তসহ দুটি অ্যাম্বুলেন্স ছিল। আইসিউ সুবিধাযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সটির চালক ছিলেন মো. মাহবুব। আবরারকে ওই অ্যাম্বুলেন্সে করেই হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চালক মাহবুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাকে ৪টার দিকে ফোন দিয়ে স্কুলের ভেতরে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যেতে বলা হয়। তবে ভীড় থাকায় আমি ভেতরে প্রবেশ করতে পারিনি। এর কিছুক্ষণ পর একটা ট্রলিতে করে দু’জন ব্রাদার এবং দুইটা ছেলে একটা ছেলেকে নিয়ে আসে। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় তার চোখ খোলা দেখেছি। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

অসুস্থ ছেলেটির অবস্থা কেমন ছিল জানতে চাইলে মাহবুব বলেন, ‘আমি দেখেছি চোখ খোলা ছিল, একবার মনে হলো জীবিত। তবে আমি ভালো করে খেয়াল করিনি। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর জানতে পারি ছেলেটি মারা গেছে।’

মৃত ঘোষণার জন্য হাসপাতালে আনা হয় আবরারকে

আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণার জন্য নাঈমুল আবরারের মরদেহ মহাখালীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশিস কুমার চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, ‘আবরার স্কুলের মাঠেই মারা গিয়েছিল। তবে একজনকে মৃত ঘোষণা করতে হলে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতেই সেখানে থাকা দু’জন চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

এসময় কিশোর আলোর দু’জন স্বেচ্ছাসেবীও ছিল। তাকে মেডিক্যাল ক্যাম্পেই চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে কিশোর আলোর যে স্বেচ্ছাসেবীরা ছিলেন, তারা তা জানতো। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। তখন তারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিল কিনা, তা আমরা জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একজন চিকিৎসক মেডিক্যাল ক্যাম্প থেকে ফোন দিয়ে জানান কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। পরে হাসপাতালে পৌঁছালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তার হার্টবিট পাচ্ছিল না, পালস পাচ্ছিল না।

তারপরও সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা। বিকাল ৪টা ৫১ মিনিটে ছেলেটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে গীতিকার কবীর বকুল আমাকে ফোন দেন। আমি তাকে বিষয়টি জানাই। এরপর প্রথম আলোর আনিসুল হকের সঙ্গেও আমার কথা হয়। তারা সাড়ে ৬টার দিকে ছেলেটিকে দেখতে হাসপাতালে আসেন।’

সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ পাশে থাকার পরেও তাকে কেন মহাখালী নেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেখানে চিকিৎসকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল।’

নাঈমুল আবরারের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতমযেভাবে খবর পান আবরারের পরিবার

আবরার মারা যাবার পর তার স্বজনদের কাউকে পাচ্ছিল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর তার পকেট তল্লাশি করে রেসিডেন্সিয়ালের একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। সেখানে থাকা জরুরি যোগাযোগ নম্বরে ফোন দিয়ে তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর তার স্বজনরা হাসপাতালে আসেন বলে জানান ডা. আশিস কুমার।

স্বেচ্ছাসেবীরা ছিল শিশু-কিশোর

রেসিডেন্সিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, অনুষ্ঠানের যারা স্বেচ্ছাসেবী ছিল, তারা ছিল বয়সে ছোট। তারা কোনও বিষয়ে সিরিয়াস ছিল না। এত বড় অনুষ্ঠান, কিন্তু দায়িত্ব পালন করানো হয়েছে শিশু-কিশোরদের দিয়ে। যাদের জন্য অনুষ্ঠান তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকারের কথা বললেও, বাস্তবে তার উল্টো অবস্থা ছিল।

মৃত্যুর ঘটনায় রেসিডেন্সিয়াল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এদিকে আবরারের মৃত্যুর বিষয়টি তাৎক্ষণিক অনুষ্ঠানস্থলে না জানানোর বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষকরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাধিক শিক্ষক এসে সড়ক থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এক শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানালে বিশৃঙ্খলা হতো, তাই জানানো হয়নি।’

কলেজটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম আহমেদ বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে আমরা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।’

পুলিশের বক্তব্য

এদিকে আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জি জি বিশ্বাস।

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz