1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
ইসরায়েলি সফটওয়্যার দিয়ে কারা নজরদারি চালাচ্ছে ভারতে? | News12
January 21, 2022, 9:13 pm

ইসরায়েলি সফটওয়্যার দিয়ে কারা নজরদারি চালাচ্ছে ভারতে?

Staff Reporter
  • Update Time : Saturday, November 2, 2019
  • 108 Time View

ইসরায়েলে তৈরি একটি সফটওয়্যার দিয়ে ভারতের বেশ কয়েকজন সামাজিক কর্মকর্তা, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকের হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারি চালানোর কথা স্বীকার করেছে ফেসবুক মালিকানাধীন মেসেজিং সংস্থাটি।

পেগাসাস নামের ওই নজরদারি সফটওয়্যার যাদের ফোনে ইন্সটল করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।

যদিও ওই ইসরায়েলি কোম্পানিটি বলেছে, তারা শুধু সরকারি এজেন্সিকেই ওই সফটওয়্যার দেয়, তবে ভারত সরকার ওই সফটওয়্যার দিয়ে নজরদারি চালানোর কথা অস্বীকার করছে।

মানবাধিকার কর্মীরা অবশ্য সন্দেহ করছেন যে সরকার-বিরোধী আওয়াজ তুলছেন যারা, তাদের ওপরে কারা নজর রাখছে কোটি কোটি টাকা খরচ করে, সেটা বোঝা কঠিন নয়।

এমনিতে হোয়াটসঅ্যাপে ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন’ থাকে, যাতে যিনি মেসেজ পাঠাচ্ছেন আর যাকে পাঠানো হচ্ছে – শুধু তারাই দেখতে পারবেন।

কিন্তু পেগাসাস নামের ওই সফটওয়্যারটি যাদের ফোনে ইন্সটল করা হয়েছিল, তাদের ‘এনক্রিপশন ব্রিচ’ করা হয়েছে বলে হোয়াটসঅ্যাপ নিজেই জানিয়েছে।

যে ভাবে হ্যাকিং হলো

এই নজরদারির শুরু এপ্রিল-মে মাস নাগাদ। ওই সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল এসেছিল বেশ কয়েকজনের কাছে – যাদের কেউ মানবাধিকার কর্মী, কেউ পত্রিকার সম্পাদক বা সাংবাদিক, কেউ দলিত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আর কেউ আবার এমন কয়েকজনের আইনজীবী, যাদের বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী কাজের অভিযোগ আনা হয়েছে।

টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিটিজেন ল্যাব’ হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যৌথভাবে এ বিষয়টি তদন্ত করছিল।

স্পাইওয়্যার কীভাবে কাজ করে?

ভিডিও কলের মাধ্যমেই স্পাইওয়্যারটি মোবাইল ফোনে ইন্সটল হয়ে যায়। যদি সেই ফোন রিসিভও না করা হয়, তবুও সফটওয়্যারটি ফোনে ইন্সটল হয়ে যায় – অর্থাৎ যার ফোনে নজরদারি চালানো হবে বলে টার্গেট করা হয়েছে, তার বিশেষ কিছু করার নেই বলেই মন্তব্য সাইবার বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কুমার রায়ের।

তিনি জানান, সাধারণত কোনও লিঙ্কে ক্লিক করলে ফোন বা কম্পিউটারে এরকম স্পাইওয়্যার ইন্সটল হয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ আর ফোনের অপারেটিং সিস্টেমগুলোর একটা গলদ খুঁজে বার করেছিল ওই সংস্থাটি।

সেটা ব্যবহার করে গোটা ফোনেরই দখল নিয়ে নিচ্ছিল তারা। এনক্রিপ্টেড মেসেজ ডিক্রিপ্ট হয়ে যাচ্ছিল আবার ফোনের মাইক আর ক্যামেরা দিয়ে আপনি যা বলছেন বা দেখছেন, সেগুলোও দেখা যাচ্ছিল।

হোয়াটসঅ্যাপ অবশ্য এখন সেই গলদটা খুঁজে বার করেছে আর একটা আপডেট দিয়েছে ব্যবহারকারীদের। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী জুড়ে বহু মানুষের হোয়াটসঅ্যাপের দখল নিয়ে নিয়েছিল পেগাসাস।

হোয়াটসঅ্যাপ বলছে ইসরায়েলি সংস্থা এন.এস.ও পেগাসাস নামের ওই স্পাইওয়্যার তৈরি করেছে যা দিয়ে দুদিক থেকেই এনক্রিপ্টেড এই মেসেজিং ব্যবস্থার মধ্যে ঢুকে পড়ে নজরদারি চালানো যায়।

হোয়াটসঅ্যাপ মামলাও করেছে ওই ইসরায়েলি সংস্থাটির বিরুদ্ধে।

এন.এস.ও এক বিবৃতিতে অবশ্য বলছে, তারা শুধু সরকার এবং সরকারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী এবং গোয়েন্দা দপ্তরগুলোকে এই সফটওয়্যারটি বিক্রি করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অস্ত্র হিসাবে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারত সরকার

হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারি চালানোর এই ঘটনা সামনে আসার পরে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিজেপি সরকারের দিকেই আঙ্গুল তুলছে। ভারত সরকার বলছে, তারা এই নজরদারির সঙ্গে যুক্ত নয়।

কিন্তু মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক বা মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে, সেইসব ব্যক্তি এবং তাদের আইনজীবীদের ওপরে তাহলে কারা নজর রাখছিলেন কোটি কোটি ডলার খরচ করে?

সাইবার বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কুমার রায় বলছেন, যাদের হোয়াটসঅ্যাপে এই পেগাসাস ইন্সটল করা হয়েছিল, তারা যা কাজকর্ম করেন, সেকারণেই ভারতের রাষ্ট্রীয় এজেন্সিগুলি এই নজরদারিতে যুক্ত আছে বলে সন্দেহ হচ্ছে। এরা সকলেই সামাজিক কর্মকর্তা বা সাংবাদিক বা আইনজীবী যারা দলিত আর আদিবাসীদের সঙ্গে কাজ করেন।

হোয়াটসঅ্যাপ বলছে, পদক্ষেপ নেয়ার পর তাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz