1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
২০১৩ সাল। কাশিমপুর কারাগার। প্রধান বক্তা আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান... | News12
January 21, 2022, 2:38 am

২০১৩ সাল। কাশিমপুর কারাগার। প্রধান বক্তা আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান…

Staff Reporter
  • Update Time : Friday, November 1, 2019
  • 168 Time View

বিষয়টি সম্পর্কে আমার কোনো পূর্ব ধারণা ছিল না। অথচ ভদ্রলোক ক্রমাগতভাবে আমাকে কেবল তা শুনিয়েই যাচ্ছিলেন, আর আমি নিজের অজ্ঞতাকে যথাসম্ভব আড়াল করে তার সাথে সায় দিতে বাধ্য হচ্ছিলাম। আমার সাধারণ স্বভাব হলো- কোনো কিছু না জানলে কিংবা না বুঝলে অকপটে তা বলে ফেলি এবং প্রশ্ন করে বিষয়টি জেনে নেই।

আমার আরো একটি বিদঘুটে স্বভাব হলো- সাধারণত চুপচাপ থাকতে পারি না। চোখের সামনে অন্যায় হলে সাধ্যমতো প্রতিবাদ করি। আর তা না পারলে সঙ্ঘাত এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকি। সুতরাং স্বভাব অনুযায়ী ভদ্রলোকের সাথে তাল মেলানো আমার জন্য কষ্টকর হচ্ছিল, কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে নিজের দুর্বলতার কথা তাকে বলতে পারছিলাম না।

কারণ, তিনি ছিলেন অতিশয় জ্ঞানী-সজ্জন এবং আমার প্রতি স্নেহশীল। অধিকন্তু তিনি মনে করতেন, আমিও জ্ঞানী এবং লেখাপড়া জানা মানুষ। সুতরাং আমি যে সাধারণ একটি স্যাডিস্ট শব্দের মানে জানি না- এ কথা মুখ ফুটে বলতে না পারার বেদনায় বারবার নীল হয়ে যাচ্ছিলাম।

আমি যে সময়টির কথা বলছি সেটি ছিল ২০১৩ সাল। স্থানটি ছিল কাশিমপুর কারাগার এবং যে ভদ্রলোকের কথা বলছি তিনি হলেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

কাশিমপুর কারাগারে আমরা রোজ বিকেলে তাত্ত্বিক আলোচনা শুরু করতাম, যার প্রধান বক্তা হলেন মাহমুদুর রহমান এবং শ্রোতা ছিলেন জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী এবং আমিসহ আরো কয়েকজন। মাহমুদুর রহমান বিশ্বের মজলুম জনগোষ্ঠী এবং স্বৈরাচারী শাসকদের নির্মম অত্যাচারের অন্তর্নিহিত কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রায়ই স্যাডিস্ট শব্দটি ব্যবহার করতেন।

তিনি বলতেন যে, কেবল স্যাডিস্টরাই অত্যাচার করতে পারে। কারণ, অত্যাচার করাটা স্যাডিস্টদের কাছে অন্যতম প্রধান বিনোদন হিসেবে গণ্য হয়। আমি আলোচনার বিষয়বস্তু বুঝতাম এবং তার মতামত ও ব্যাখ্যা-বিবৃতির সাথে একমত হতাম; কিন্তু স্যাডিস্ট শব্দের মানে না বোঝার কারণে আলোচনার মর্মকথা পূর্ণাঙ্গভাবে অনুধাবন করতে পারতাম না। ফলে একদিন নিজের দুর্বলতার কথা বলতেই তিনি উচ্চৈঃস্বরে হেসে উঠলেন এবং প্রথমত শিক্ষকদের মতোন করে আমাকে স্যাডিস্ট শব্দের ভাব সম্প্রসারণ শেখাতে লাগলেন।

আজ অনেক দিন পরে কেন আমার মনে হঠাৎ স্যাডিস্ট শব্দের কথা মনে এলো সে কথা বলার আগে শব্দটির অন্তর্নিহিত দূষণ সম্পর্কে দু’চারটি কথা বলা আবশ্যক। আমাদের দেশের গতানুগতিক অভিধানগুলোতে স্যাডিস্টের অর্থ হলো সেসব মানুষ, যারা সব সময় বলাৎকার করার জন্য উদগ্রীব থাকে। আমরা বলাৎকার বলতে সাধারণত ধর্ষণ বুঝলেও শব্দটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনেক গভীরে।

মানুষ যখন কোনো জিনিস বিকৃতভাবে এবং জোর খাটিয়ে ভোগ করতে চায় এবং সেই ভোগটি যখন অন্যের রক্তক্ষরণ হাহাকার- আর্তচিৎকার এবং নির্যাতনের মধ্যে লুকায়িত থাকে, তখন তাকে বলাৎকার বলা হয়। মানুষের ভোগসংক্রান্ত বলাৎকারের লিপ্সাটি কখনো শারীরিকভাবে হয়ে থাকে আবার কখনো মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবেও ঘটে থাকে।

অন্যের সহায়-সম্পত্তি, মান-সম্মান, অধিকার, পদ-পদবি, ক্ষমতা ইত্যাদি যখন বল প্রয়োগের মাধ্যমে হরণ করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সব রকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব, লজ্জাশরম এবং নীতি-নৈতিকতাকে কবর দিয়ে ভোগে মত্ত হয়ে ওঠে, তখন ওইসব লোক তা গোষ্ঠীকে বলাৎকারকারী বা স্যাডিস্টরূপে আখ্যায়িত করা হয়।

স্যাডিস্ট সম্পর্কে উপরোল্লিখিত মতামত আমাদের প্রাচ্য দেশে প্রচলিত। কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়ায় স্যাডিস্ট শব্দটি আরো ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হয়। যেসব নারী-পুরুষ চিন্তা-চেতনায় ভূত বা ভূতনীর মতো প্রেতাত্মায় রূপান্তরিত হয়ে যায়- যারা কবরস্থানে গিয়ে সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করতে পারে এবং মৃত ব্যক্তির লাশের ওপর বসে পোলাও, কোরমা, কালিয়া, কোপ্তা এবং ফিরনি-জর্দা খেয়ে নাকে তেল দিয়ে সুখনিদ্রা যেতে পারে তাদেরই পশ্চিমা দুনিয়ার পণ্ডিতেরা স্যাডিস্টরূপে চিহ্নিত করেন।

তাদের মতে, স্যাডিস্টরা অত্যাচার করতে শুধু ভালোবাসে না বরং অত্যাচার না করলে তারা রীতিমতো অসুস্থ হয়ে মরণ যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে। অন্য মানুষের দুঃখ বেদনা-কান্না-অশ্রুজল, আর্তচিৎকার, স্যাডিস্টদের যারপরনাই সুখানুভূতি দিয়ে থাকে। কামুকের কামার্য চরিতার্থ কিংবা ধর্ষকদের নির্বিবাদ ধর্ষণকর্মে তারা যে বিকৃত ইন্দ্রিয় সুখ লাভ করে তার চেয়েও বেশি মাত্রার সুখ অনুভব করে থাকে স্যাডিস্টরা যখন মানবতার আর্তচিৎকার শুনতে পায়।

ধর্ষণকামী অপরাধীরা সাধারণত তিনভাবে ইন্দ্রিয় সুখে আবিষ্ট হয়। তারা এককভাবে ধর্ষণ করে- আবার দলবদ্ধভাবে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে এবং সঙ্গী-সাথীদের ধর্ষণকর্ম এবং ধর্ষিতার আর্তচিৎকার অবলোকন ও শ্রবণ করে। টিপিক্যাল ধর্ষকদের মতো স্যাডিস্টরাও তিনভাবে ইন্দ্রিয় সুখ লাভ করে থাকে। তারা নিজেরা অপকর্ম করে- দলবদ্ধভাবে করে এবং তাদের তাঁবেদারদের দিয়ে করানো কুকর্মের দৃশ্য দেখে এবং কুকর্মের কাহিনী শুনে ইন্দ্রিয় সুখ লাভ করে।

স্যাডিস্টদের কুকর্মের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হলো রাজনীতি। রাজনীতির বাইরে দুর্ভিক্ষ, মহামারী, যুদ্ধ কিংবা অন্য যেকোনো প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ-দুর্বিপাক থেকেও স্যাডিস্টরা আনন্দ লাভ করে থাকে। মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যা, অসুখ-বিসুখ, দুঃখ-বেদনা এবং অসহায় অবস্থা দেখে স্যাডিস্টরা মজা পায়।

তারা মৃত্যপথযাত্রীর শরীরে আঘাত করে- অসহায়কে ঠকিয়ে, দুর্বলকে অত্যাচার করে এবং সাহায্যপ্রার্থীকে অপমান করে মহাতৃপ্তি লাভ করে থাকে। স্যাডিস্টরা সব সময় প্রাণান্ত চেষ্টা করে নিজেদের দল ভারী করার জন্য এবং সেই কাজ করতে গিয়ে তারা ইবলিশ অথবা খান্নাসদের মতো করে নিজেদের মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে নতুন নতুন স্যাডিস্টদের পয়দা করতে থাকে।

রাজনীতিতে যারা স্যাডিস্ট তারা সাধারণত দুই প্রজাতির এবং দুই প্রকৃতির হয়ে থাকে। প্রথম প্রজাতি হলো- বেসামরিক স্যাডিস্ট এবং দ্বিতীয় প্রজাতির নাম সামরিক স্যাডিস্ট। প্রকৃতিগত দিক থেকে একশ্রেণীর স্যাডিস্ট হয়ে থাকে রাগচণ্ডাল ও চরিত্রহীন। অন্য প্রকৃতির স্যাডিস্টরা ঠাণ্ডা মেজাজের এবং প্রচণ্ড দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে থাকে।

বেসামরিক স্যাডিস্টরা যদি রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ করে তবে তারা রাষ্ট্রের সামরিক শক্তি নিঃশেষ না করা পর্যন্ত ক্ষান্ত হয় না। অন্য দিকে, সামরিক স্যাডিস্টরা ক্ষমতা পেয়েই রাজনীতির সব একক ধ্বংস করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। রাজনীতির স্যাডিস্টদের উল্লিখিত চতুর্মুখী বৈশিষ্ট্যের বাইরে অন্য সাধারণ স্যাডিস্টদের সব বৈশিষ্ট্য তাদের মধ্যে বিরাজমান থাকে।

স্যাডিস্টরা কতটা নির্মম ও নিষ্ঠুর হতে পারে তা বোঝানোর জন্য আমি ইসলামের ইতিহাসের কুখ্যাত একজন মহিলা স্যাডিস্টের কাহিনী বলার পর বিশ্ব ইতিহাস থেকে আরেকজন পুরুষ স্যাডিস্টের কাহিনী বলে শিরোনামের যথার্থতা প্রমাণের চেষ্টা করব। প্রথম ঘটনাটি আল্লাহর রাসূল সা:-এর জমানার। মহিলার নাম ছিল হিন্দা বিনতে উতবাহ।

হিন্দা ছিলেন প্রখ্যাত কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের স্ত্রী। হিন্দার আরেক বিখ্যাত পরিচয় হলো তিনি ছিলেন উমাইয়া খিলাফত তথা উমাইয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আমির মুয়াবিয়ার মা এবং ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার দাদী। হিন্দার পিতা উতবাহ ছিলেন বিখ্যাত কুরাইশ নেতা এবং সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সঙ্গতির দিক থেকে ছিলেন মক্কার তিন-চারজন শীর্ষ নেতার মধ্যে অন্যতম।

হিন্দা মুসলিম ইতিহাস তথা বিশ্ব ইতিহাসে কুখ্যাতি অর্জন করেছেন কলিজা খেকো হিন্দা হিসেবে। মানবজাতির ইতিহাসে হিন্দার মতো দ্বিতীয় কোনো নারী বা পুরুষ পাওয়া যায়নি, যে কেবল একজন মানুষের কলিজা খাওয়ার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়েছিল এবং তার টার্গেট করা মানুষটি যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল তখন সে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষটির বুকের ওপর বসে রাক্ষুসীর মতো লোকটির বুকের পাঁজর ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে সেখান থেকে কলিজা বের করে সবার সামনে চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়েছিলেন।

ইতিহাস বিখ্যাত ওহুদের যুদ্ধে ঘটনাটি ঘটেছিল এবং হিন্দা যার কলিজাটি খেয়েছিলেন তিনি ছিলেন হুজুরে পাক সা:-এর চাচা মহাবীর আমীর হামজা। ওহুদ যুদ্ধের পূর্ববর্তী বদরের যুদ্ধে হিন্দার পিতা উতবাহ হজরত আমীর হামজার হাতে নিহত হওয়ার কারণে হিন্দা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি আমীর হামজাকে মেরে তার কলিজা চিবিয়ে চিবিয়ে খাবেন।

মহিলা স্যাডিস্টের কাহিনীর পর এবার আমি কুখ্যাত এক পুরুষ স্যাডিস্টের কথা বলব, যার নাম ইতিহাসে অস্তাইজেস বলে লিখিত রয়েছে। ইতিহাসের জনক হিরোডোটাস তার অমর লেখনীর মাধ্যমে অস্তাইজেসের ঘটনাকে মহাকালের জন্য মস্তবড় এক সাক্ষী বানিয়ে রেখেছেন। অস্তাইজেস ছিলেন মিডিয়া সাম্রাজ্যের প্রবল প্রতাপশালী সম্রাট, যিনি কিনা ৫৮৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ৫৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত মোট ৩৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। বর্তমান ইরান, মধ্য এশিয়া, লিবিয়া এবং রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ে মিডিয়া সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। অস্তাইজেস তার জামাতা প্রথম ক্যামবিসেসকে তারই সাম্রাজ্যের ছোট একটি প্রদেশের শাসক নিয়োগ করেছিলেন। যাকে কেন্দ্র করেই অস্তাইজেসের স্যাডিস্টপনার নির্মমতা কুখ্যাতি পেয়েছে।

অস্তাইজেস একরাতে স্বপ্নে দেখলেন যে, তার মেয়ে রাজকুমারী ম্যান্ডানে এবং জামাতা প্রথম ক্যামবিসেসের ঘরে এক পুত্রসন্তান জন্ম নেবে নির্ধারিত সময়ে যার মাধ্যমে তার সাম্রাজ্য ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। অস্তাইজেস কাল বিলম্ব না করে তার কন্যাকে জামাতার কাছ থেকে ছিনিয়ে এনে নিজ প্রাসাদে গৃহবন্দী করে রাখলেন, যাতে রাজকুমারী স্বপ্নে বর্ণিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেন গর্ভধারণ করতে না পারেন। এরপর তিনি খুশি মনে রাজকুমারীকে কোনো কিছু বুঝতে না দিয়ে তার স্বামীর প্রাসাদে পাঠিয়ে দিলেন।

এ ঘটনার কিছু দিন পর অস্তাইজেস পুনরায় স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি নিয়তির কাছে পরাজিত হয়েছেন অর্থাৎ রাজকুমারী ম্যান্ডানে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় অস্তাইজেস কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়লেন। অনেক ভেবেচিন্তে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, নবজাতক দৌহিত্রকে তিনি যেকোনো মূল্যে খুন করে ফেলবেন।

অস্তাইজেস তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং অনুগত সেনাপতি হারপাগাসকে হুকুম দিলেন ক্যামবিসেসের প্রাসাদ থেকে নবজাতককে নিয়ে এসে খুন করে ফেলার জন্য। সম্রাটের হুকুম পেয়ে হারপাগাস নবজাতককে ছিনিয়ে আনলেন কিন্তু শিশুটিকে খুন করলেন না। তিনি রাজ রক্ত দিয়ে নিজের হাত রঞ্জিত করে মহাপাপী হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এক কৌশল অবলম্বন করলেন। তিনি শিশুটিকে একজন মেষপালকের কাছে লালন-পালন করার দায়িত্ব দিয়ে অন্য একটি শিশুকে হত্যা করে সম্রাটকে আশ্বস্ত করলেন যে, তার হুকুম যথারীতি তামিল হয়েছে। এ ঘটনার ১০ বছর পর সম্রাট অস্তাইজেস জানতে পারলেন যে, তার দৌহিত্রকে মারা হয়নি। তিনি প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ হলেন এবং অনুধাবন করলেন যে, তার পক্ষে নিয়তির ফাঁদ অতিক্রম করা সম্ভব হবে না। তিনি তার দৌহিত্রকে পুনরায় ক্ষতি করা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখলেন বটে কিন্তু সেনাপতি হারপাগাসকে উপযুক্ত শিক্ষা দেয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলেন।

সম্রাট অস্তাইজেস একরাতে খুব ঘটা করে বিশাল এক নৈশভোজের আয়োজন করলেন তার সেনাপতি হারপাগাসের জন্য। খাবার টেবিলে হারপাগাসকে আলাদা একটি টেবিলে বসিয়ে বিশেষ একধরনের মাংস পরিবেশন করা হলো, সম্রাট দাঁড়িয়ে থেকে নিজ হাতে হারপাগাসকে আপ্যায়ন করলেন এবং বারবার জিজ্ঞাসা করলেন, রান্নাটা কেমন হয়েছে, মাংস স্বাদ কেমন লাগছে। হারপাগাস তার অভিব্যক্তিতে যথাসম্ভব কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টি ফুটিয়ে তুলে বিনীত স্বরে জানালেন- বাদশাহ নামদার! রান্নাটি-নিদারুণ সুন্দর হয়েছে এবং মাংসের যে স্বাদ আমি পাচ্ছি তার সাথে মর্ত্যলোকের কোনো মাংসের তুলনা হয় না। মাংসের ঘ্রাণ-রস এবং রূপ আমার শরীর-মন-মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে মুখ-কণ্ঠনালী এবং পাকস্থলীতে যে আবেশ সৃষ্টি করছে তা আমি আপনাকে বুঝাতে পারব না। আপনার পরম দয়া এবং আমার প্রতি আপনার অবারিত করুণা যদি না থাকত তবে আমি কোনো দিন এমন মাংসজাত তরকারি খেতে পারতাম না। সুতরাং আমি আপনার বদান্যতায় যারপরনাই কৃতজ্ঞ এবং ধন্য।

খানাপিনা শেষে হারপাগাস যখন সম্রাটের কাছ থেকে বিদায় নিতে যাবেন তখন অস্তাইজেস মৃদু হেসে বললেন- প্রিয় হারপাগাস! তুমি কি জানো যে কিসের মাংস দিয়ে তুমি আপ্যায়িত হলে! হারপাগাস মাথা নিচু করে জবাব দিতে গিয়ে বহুকষ্টে অশ্রু সংবরণ করে বললেনÑ মহামহিম সম্রাট। জ্বি-আমি বুঝতে পেরেছি! আমার একমাত্র কিশোর পুত্রকে হত্যা করে তার মাংস রান্না করে হয়েছে এবং সেই মাংসেই আমি খেয়েছি।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz