1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
রানী এলিজাবেথের পরে জাতিসংঘে যাবেন সদ্য স্বাধীনতা ঘোষনাকারী মনিপুর সরকার | News12
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

রানী এলিজাবেথের পরে জাতিসংঘে যাবেন সদ্য স্বাধীনতা ঘোষনাকারী মনিপুর সরকার

Staff Reporter
  • Update Time : বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১০৬ Time View

ভারতীয় রাজ্য মনিপুরের ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা মঙ্গলবার বলেছেন, তারা একতরফাভাবে ভারত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার পাশাপাশি ব্রিটেনে একটি প্রবাসী সরকার গঠন করেছেন।

ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভের বছর দুয়েক পর ১৯৪৯ সালে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মনিপুর। কিন্তু কয়েক দশক ধরে রাজ্যটিতে বিদ্রোহ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ লেগেই আছে। কাতারভিত্তিক আল-জাজিরার খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।

স্ব-ঘোষিত মনিপুর রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নারেংবাম সমারজিত বলেন, প্রবাসী সরকার এখন জাতিসংঘের সমর্থন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

লন্ডনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা এখন আইনগত বৈধ প্রবাসী সরকার পরিচালনা করবো। আজ থেকে এই সরকারের কাজ চলবে।

এর আগে ২০১২ সালে মনিপুরে প্রথম প্রকাশ করা স্বাধীনতার ঘোষণা জোরে জোরে পড়ে শোনান তিনি।

এমন ঘোষণার পরই প্রশ্ন এসেছে কেন মনিপুরকে ভারত থেকে স্বাধীন ঘোষণা করা হলো? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভি।

মনিপুরের পূর্বদিকে মিয়ানমারের অবস্থান। এর উত্তরে রয়েছে ভারতের নাগাল্যান্ড সীমান্ত, পশ্চিমে আসাম ও দক্ষিণে মিজোরাম সীমান্ত।

এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানাচ্ছে, ভারতের স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালে দেশটির অংশ হয় সাবেক ব্রিটেন শাসিত মনিপুর। তবে তখন থেকেই সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন এবং সহিংস আন্দোলন চালাচ্ছেন।

বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) মনিপুরকে দখল করতে পারে বলে উদ্বেগ ছিল রাজ্যটির সর্বশেষ শাসক বোধচন্দ্র সিংহের। আর সেই উদ্বেগ থেকেই তিনি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।

তবে তার ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ছিল বর্তমানে ভারতের সেভেন সিস্টারের অন্তর্ভুক্ত এই রাজ্যের বাসিন্দাদের মনে। যেখানকার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২৮ লাখ।

ভারতের সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পিস স্ট্যাডিজের তথ্যানুযায়ী, মনিপুরে বিদ্রোহীরা ১৯৬৪ সালের ২৪ নভেম্বর ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (ইউএনএলএফ) গঠন করেন। যদিও বর্তমানে স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

মনিপুরকে ভারতের সঙ্গে একীভূতকরণ ও স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা না দেয়ায় এই বিদ্রোহী সংগঠনের সূচনা হয়। এরপর একই দাবিতে ১৯৭৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সৃষ্টি হয় পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ), ১৯৭৭ সালের ৯ অক্টোবর পিপলস রেভ্যুলিউশনারি পার্টি অব ক্যাংলেইপাক (পিআরইপিএক), ১৯৮০ সালের এপ্রিলে ক্যাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টির (কেসিপি) সূচনা হয়। তারা প্রত্যেকেই স্বাধীন ও সার্বভৌম মনিপুরের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন।

ভারতীয় থিংক ট্যাংকের মতে, এই বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর নীতি হচ্ছে তারা কখনোই পুলিশের ওপর কোনো হামলা চালায় না। তারা মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনী ও প্যারা-মিলিটারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় কারণ এই বাহিনীগুলো সরাসরি ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে।

এমন বিদ্রোহের কারণে ১৯৮০ সালে ভারত সরকার মনিপুরকে ’সমস্যাপ্রবণ এলাকা’ বলে ঘোষণা করে যা এখনও বলবৎ আছে। এছাড়া ভারত সরকার এই রাজ্যে ভারতীয় সেনা আইন স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট ১৯৫৮ আরোপ করেছে।

এই আইন আরোপ করায় এখানকার মানুষের অনেক মানবিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই এই আইনের বিরুদ্ধে তখন থেকেই আন্দোলন করে আসছেন মনিপুরের বাসিন্দারা।

রাজ্যটি যখন এমন সব বিষয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তখন লন্ডনে প্রবাসী সরকার গঠনের ঘোষণা আসলো রাজ্যের দুই নেতা ইয়ামবিন বিরেন এবং নরেংবাম সমরজিতের পক্ষ থেকে।

তারা মনিপুরকে স্বাধীন বলে ঘোষণা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন সেখানকার রাজা লেইশেম্বা সানাজাওবার পক্ষ থেকেই এমন ঘোষণা দেয়া হচ্ছে।

এরইমধ্যে তারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার দাবি নিয়ে তারা পূর্বতন শাসক ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে যাবেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রিভি কাউন্সিলের অনুমতি পেলে জাতিসংঘে গিয়ে সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চাইবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz