নিউজ ডেস্কঃ ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত প্রস্তাতি বাজেটকে বাস্তবতা বিবর্জিত উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ধণিক শ্রেণী খুশি হলেও দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্মমধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে হতাশার বার্তা দিচ্ছে। গত বছরের বাজেটও সরকার পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটও সরকার পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না। বৃহস্পতিবার বাজেট পেশ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

তিনি বলেন,‘…অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল অনির্বাচিত জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১শত ৯০ কোটি টাকার যে উচ্চাকাঙ্খি মোটা অংকের ঘাটতি বাজেট পেশ করেছেন, তা বাস্তবতা বিবর্জিত।

গত বছরের বাজেটও সরকার পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটও সরকার পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে মোট এডিপি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭ শত ২১ কোটি টাকা, রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮শত দশ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা, দেশীয় ঋণ ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ৩শত ৬৩ কোটি টাকা। ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩শত ৮০ কোটি টাকা। বাজেটের প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগই ঋণ নির্ভর। এই ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই সরকারের নাভিশ্বাস উঠে যাবে।

মূদ্রাস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রকৃত পক্ষে মূদ্রাস্ফীতি আরো বাড়বে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার জিডিবি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৮.২ এবং গত বছর জিডিবি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭.৮৬। সেটা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

সরকার নানা ধরনের গোজামিলের আশ্রয় নিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দাবী করলেও অর্থনীতিবিদরা তা মানতে রাজি নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘এবারের জিডিবি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে না।

করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। অথচ গত কয়েক বছর যাবতই একই পরিমাণ করমুক্ত আয়ের সীমা রাখা হচ্ছে। এটা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। বাস্তবতার নীরিখে করমুক্ত আয়ের সীমা অন্তত: ৫ লাখ টাকা হওয়া উচিত।

সরকার গত বছর রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা অর্জন করতে পারেনি এবং এবারও তা অর্জন করতে পারবে না।’ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘দেশের কর্মক্ষম বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের কোন দিক-নিদের্শনা প্রস্তাবিত বাজেটে নেই।

সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট জনবান্ধব নয়। প্রস্তাবিত বাজেটে ধণিক শ্রেণী খুশি হলেও দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্মমধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে হতাশার বার্তা দিচ্ছে। যেহেতু সরকার জনগণের নির্বাচিত নয়। তাই দেশের সীমিত আয়ের বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থককে উপেক্ষা করা হয়েছে।’ প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পরে জানানো হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আরো পড়ুন>> ভারতের আসাম রাজ্যে বর্তমান বিজেপি সরকার ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয়– বরং ভারতীয় নাগরিকদেরই উচ্ছেদ করতে শুরু করেছে। আর এক্ষেত্রেও উচ্ছেদ অভিযানের টার্গেট হচ্ছে আসামের সংখ্যালঘু মুসলিমরা।

একেক সময় ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। বর্তমানে উচ্ছেদ অভিযানের নিশানায় রয়েছে বরাক উপত্যকা। অবশ্য এই উচ্ছেদ অভিযানের জন্য আসাম সরকার একটি যুক্তি খাড়া করেছে। আর তা হলো- বনাঞ্চলের জমিতে এই নাগরিকরা ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে।

বনাঞ্চলের খালি জমিতেও বসবাস অবৈধ। এর আগে ওড়িশা– উত্তরপ্রদেশ– মধ্যপ্রদেশ– গুজরাত প্রভৃতি এলাকার বনাঞ্চল থেকে ভূমিপুত্র আদিবাসী এবং উপজাতিদের একেবারে আইনগতভাবে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যদিও মানবাধিকার কর্মী ও আদিবাসী সংগঠনগুলির আন্দোলনের ফলে বনভূমির থেকে উচ্ছেদের কাজ বর্তমানে খানিকটা মন্থর গতি নিয়েছে। আসামে এই উচ্ছেদের কাজে সাধারণত প্রশিক্ষিত হাতি ব্যবহার করা হয়। কারণ– অনেক ক্ষেত্রেই পথ-দূর্গমতার জন্য বুলডোজার ব্যবহার করা সম্ভবপর হয় না।

এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় সম্প্রতি একটি অবাক করা ঘটনা ঘটেছে কাছাড় জেলার ধলাই-রজনীখালে। কয়েক দিন ধরে চলা ওই এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১০০টি পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে দেয় হাতি– বনবিভাগের কর্মী ও পুলিশ।

এই অভিযানে ১০টি হাতি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যখন হাতি দিয়ে ওই এলাকায় স্থাপিত একটি মসজিদ ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়– দেখা যায় হাতিগুলো তাতে রাজি হচ্ছে না। গত ৭ জুন বনবিভাগের কয়েকটি হাতি নির্দেশমতো ঘরবাড়িগুলি উচ্ছেদ করে।

কিন্তু ওই গ্রামের মসজিদের সামনে এসে হাতিগুলি দাঁড়িয়ে পড়ে এবং পরে তারা বসে যায়। উল্লেখ্য, এই উচ্ছেদ অভিযানের পরিচালক জেলা বনবিভাগের আধিকারিক সানিদেও চৌধুরি এবং পুলিশ অধিকর্তারা বহু চেষ্টা করেও হাতিগুলির দ্বারা মসজিদটিকে ভাঙতে সক্ষম হননি।

এরপর হাতির মাহুতরাও হাতিগুলোকে দিয়ে মসজিদের দেয়াল ও কাঠের পিলার ভাঙতে অসমর্থ হয়। কারণ হচ্ছে– হাতিগুলো কোনোমতেই মসজিদের ধ্বংসকার্য চালাতে রাজি হয়নি। ফলে সেখানেই উচ্ছেদ অভিযান শেষ করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানে অংশগ্রহণকারী এক মাহুত রাজেন কৈলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাতি হচ্ছে ভগবানের প্রতীক। তাই তারা ভগবানের ঘর ভাঙতে রাজি হয়নি। আর সে জন্য হাতিগুলি আমাদের নির্দেশও মানেনি।’ এই বিষয়টি আসামের ধর্মপ্রাণ হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ধলাই-রজনীখালের বনাঞ্চলের এক পাশে খালি জমিতে উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলোর বসতি ছিল। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা ওই স্থানে বসবাস করছিল। এই পরিবারগুলোর বেশিরভাগই ছিল কাছাড়ের স্থানীয় মুসলিম।

তারা বার বার আবেদন করা সত্ত্বেও তাদেরকে সরকার জমির পাট্টা দেয়নি। তবে– বিদ্যুৎসহ ওই গ্রামে সাধারণ নাগরিক পরিষেবা দেয়া হয়েছিল। এই পরিবারের সদস্যদের রেশন কার্ড– আধার কার্ড– স্কুল সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য নথিপত্র রয়েছে। পরিবারগুলো এখন আসামের ঘোর বর্ষার মধ্যে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে রয়ানা হয়েছে।

নিউজ১২/নি

staf.news
admin@news12.us