নিউজ ডেস্কঃ বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঢাকায় সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলে ছিলেন-মাইকেল সুফিয়ানিক এবং জুলি কনেল।

বুধবার (১২ জুন) বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। বিএনপির দুই সদস্যের মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং সাংগঠনকি সম্পাদক শামা ওবায়েদ ছিলেন।

এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, আসলে এটা কোনো অফিসিয়াল মিটিং ছিল না। বেসিকেলি দেশের পরিস্থিতি, বর্তমান রাজনীতি সব মিলিয়েই আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলা, ৩০ ডিসেম্বর যে নিবাচন হয়ে গেল, এ নিয়ে মূলত আলোচনা হয়েছে।

আরো পড়ুন>> দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক কোনও ধরনের চাপ নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (১১ জুন) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক যৌথসভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও আন্তর্জাতিক চাপ অনুভব করছেন না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিদেশিদের কাছে বার বার ধরণা দিচ্ছে। অনুরোধ করছে। বিদেশিরা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য খারাপ এমন কথা বলেনি।

তারা বলছেন বন্দি অবস্থায় বেগম জিয়ার যেন ভালো চিকিৎসা করা হয়।’ সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি তাঁর (বেগম জিয়ার) স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে চিকিৎসকদের পক্ষে থেকে উদ্বেগের কোনও খবর আমরা পাইনি।

বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়টি দেখবে চিকিৎসকরা। সেখানে মেডিকেল বোর্ড আছে। এটা তাদের দায়িত্ব। এখন বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য উদ্বেগের পর্যায়ে আছে এমন খবর আমাদের জানা নেই। চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডও এমন কোনও তথ্য দিতে পারেনি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘বিএনপি বেগম জিয়ার জন্য কিছু করতে পারেনি। তাই নিজেদের মুখ রক্ষা ও কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নানান কথা বলছে। তারা (বিএনপি) বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে যতটুকু উদ্বিগ্ন তার চেয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতি করতেই বেশি ব্যস্ত।’

কারাবন্দি বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করায় কাদের বলেন, ‘জানি না ফখরুল সাহেব বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন কি-না। তিনি ডাক্তার কিনা তাও আমি জানি না। তিনি এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ হলেন কবে তাও আমাদের জানা নেই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন বিরোধী দলের বাস্তবে ভূমিকা পার্লামেন্টে নেই, ঘরে নেই, বাইরে নেই, আন্দোলনে নেই, রাজপথে নেই, কোনও স্থানে নেই। গত দশ বছর চলে গেল, ছোট একটি আন্দোলন তারা (বিএনপি) করতে পারেনি।’

বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখে না মন্তব্য করে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার ভালো কাজ। দেশের উন্নয়ন তাদের (বিএনপির) চোখে পরে না। তারা (বিএনপি) ধরেই নিয়েছে রাজনীতিতে শুধু বিরোধিতা করা।

মূলত বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করছে। বাস্তব অবস্থান বিচার বিশ্লেষণ করছে না। দেশের উন্নয়ন, শেখ হাসিনার উন্নয়ন দেখার জন্য তাদের (বিএনপি) পাওয়ারের চশমা পড়া উচিত। পাওয়ারের চশমাটা ব্যবহার করলে হয়তো দেখতে পারবে।’

একাদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি শপথ গ্রহণের পর বর্তমান সংসদ অবৈধ মন্তব্য করেছেন। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি তার প্রসংশা করি তিনি সংসদে এসেছেন। সংসদে এসে সংসদ ও সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।

মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হয়েও সংসদে যোগ দেননি। সেখানে মহিলা সদস্য আসছেন। আমরা চাই বিরোধিতা করুক। দায়িত্বশীল বিরোধিতা করুক। সংসদে চাই, বাইরেও চাই।’ এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

আরো পড়ুন>> বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলা বলতে পারতেন না বলে দাবি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় জিয়া মুক্তিযুদ্ধে একটি সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করলেও পাকিস্তানের ‘চর’ হয়ে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাগো বাংলা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ও আমাদের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুদ্দিন মানিক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘খুনের মূল পরিকল্পনাকারী’ ছিল জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রসিকিউটর ছিলাম আমি। মামলা থেকে এটা পরিষ্কার যে, বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তিনি।

যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের চর হিসেবে যোগ দেন। পাকিস্তানের একটি জাহাজ খালাস করতে গিয়ে মুক্তিবাহিনীর নজরে পড়ে যান। তখন জীবন বাঁচাতে মুক্তিযোদ্ধা সাজেন। জিয়াউর রহমান বাংলাও বলতে পারতেন না।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা প্রস্তাবকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ উল্লেখ করে এ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বলেন, তার ছয় দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। সেই ছয় দফা যদি সেদিন মেনে নেওয়া হতো, তাহলে সেদিনই বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হতো।

ছয় দফার প্রতি জনগণের পূর্ণ সমর্থন ছিল। বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনেরও নেতৃত্ব দেন, যা আমাদের দেশে সেভাবে প্রচারিত হয় না। সেমিনারে জাতীয় বিশ্বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন অর রশিদ লিখিত মূল প্রবন্ধ পাঠ করা হয়।

এতে ছয় দফা, দফার পটভূমি, দফা প্রচারকালে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে এর প্রভাব তুলে ধরা হয়। জাগো বাংলা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী নাসির আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল প্রমুখ।

নিউজ১২/নি

staf.news
admin@news12.us