নিউজ১২ নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের পর ধীরে ধীরে শাহবাগ ছাড়তে শুরু করেছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। তবে দাবি আদায় না হলে আগামীকালও সকাল ১০টায় একইভাবে রাজপথ অবরুদ্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাবি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান।

এদিকে বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শাহবাগ ছাড়তে শুরু করলে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে থাকে। শিক্ষার্থীদের শাহবাগ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে শাহরিয়ার হাসান বলেন, ‘আমরা বিউপি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একাত্মতা ঘোষণা করেছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করেছি। আজকের মত আমাদের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করছি।’ তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মেয়রের বৈঠক হচ্ছে।

রাতের মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ না হলে আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আমরা আবারও অবস্থান রাজপথে নেবো।’ গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে নদ্দা এলাকায় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন বিইউপি ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। বিকেলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে মঙ্গলবারের মতো বুধবার সকালেও শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। বিইউপিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ শিক্ষার্থী এতে যোগ দিয়েছেন। অপরদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

এরইমধ্যে গতকাল সুপ্রভাত পরিবহনের ঘাতক বাসটির নিবন্ধন সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একইসঙ্গে বুধবার এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আবরার আহমেদ চৌধুরীর পরিবারকে ‘জরুরি খরচ’ বাবদ ১০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

আগের দিনের মতো বুধবারও আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘তোমাদের অনুরোধ করব, তোমরা শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাও। তোমাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে দেয়া হয়েছে। আমরা সেগুলো নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলাপ করেছি। যতগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব, এখনই করছি। বাকিগুলোও যত দ্রুতসম্ভব বাস্তবায়ন হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে যেন একটি নিরাপদ শহর গড়তে পারি।’

staf.news
admin@news12.us