জালিয়াতি আর পাতানো নির্বাচনের পর এখন জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের আসন সংখ্যা ২৯৩। শুধু আওয়ামী লীগের নিজেদের সংসদ সদস্য সংখ্যা ২৫৯। এতটা আসন যা কেউ কখনো দেখেনি আগে। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জাতি একবার এই বাকশালী তামাশা দেখেছিল আরেকবার দেখলো ২০১৮এর ৩০ডিসেম্বর। আওয়ামী লীগের নিজেদের কাছেও এই ফলাফল প্রত্যাশিত ছিল না।



নানা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপিকে ৪০-৫০টি আসন দেয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু যাদেরকে জালিয়াতিটা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তারা একটু বেশী পারফরমেন্স দেখানোয় সব হিসেবে তালগোল পাকিয়ে গেছে।



একচেটিয়া বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ এখন অনেকটাই দিশেহারা। নিজেরাই যেন এই ফলাফল হজম করতে পারছেনা। মন্ত্রী পরিষদ গঠন হয়েছে, এখনও বৈঠক হয়নি। সিনিয়রদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে, শরীকদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে। মহাজোটের ভেতরে এখন প্রকাশ্য অসন্তোষ। ৯৯ পয়সার আওয়ামী লীগ যেভাবে টয়লেট পেপারের মত ১ পয়সার ইনু-মেননকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে তা যেন তাদের কাছেই একটি বিস্ময়। ইতিমধ্যেই রাশেদ খান মেনন দলের নীতি নির্ধারনে ওয়াকার্স পার্টির উচ্চ কমিটির বৈঠক দেখেছেন।



এমনই এক লেজে গোবরে অবস্থায় আবার ওভার ট্রাম খেলার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। তারা বিরোধী দলসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ (!) তথা শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করতে চাইছে। মজার ব্যপার হলো, বিএনপির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এরই মধ্যে বেশ প্রকাশ্যে আসলেও আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে অসংগতি এতদিন খুব একটা চোখে পড়েনি। কিন্তু এবারের বিজয়ের পর আওয়ামী মহাসচিব ওবায়দুল কাদেরের সাথে সদ্য পুন:নিয়োগ প্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের অবস্থানগত বিরোধ এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে।



ওবায়দুল কাদের বলছেন কোন সংলাপ হবেনা, পক্ষান্তরে এইচ টি ইমাম জানিয়েছেন সংলাপই করতে চান প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, সিনিয়রদের বয়স হয়ে গেছে এই অজুহাতে মন্ত্রী না বানানো হলেও বুড়া উপদেষ্টাদেরকে পুনঃনিয়োগ করার বিষয়টি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে বেশীর ভাগ নেতা ভালভাবে নেয়নি। আর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম যেভাবে মহাসচিব ওবায়দুল কাদেরকে টেক্কা দিয়েছেন তাও দলের নেতাকর্মীরা মানতে পারেননি। উপদেষ্টাদের সাথে দলের মুলধারার নেতৃত্বের সংকট এবার নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহনের পর শুরু থেকেই সামনে চলে এলো।

শেখ হাসিনার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং তারই পছন্দে তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা নির্বাচিত হওয়া সুলতানা কামাল টিআইবির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় টিআইবি সম্প্রতি নির্বাচন নিয়ে যে প্রতিবেদন ফাঁস করেছে তা নিয়ে আওয়ামী মহলে ব্যপক শোরগোল চলছে। বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও তা সঠিকভাবে এখনো উপস্থাপন করতে পারেননি। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান টিআইবি যেখানে কর্মরত সবাই কমবেশী ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতার- তারা নির্বাচনের গোমর ফাঁস করে দেয়ায় আওয়ামী লীগ বেশ চাপের মুখে পড়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনকে দিয়েই তারা টিআইবির অভিযোগ মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে। তথাপি এটা বেশ পরিস্কার যে, আগামী দিনগুলোতে বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে না হলেও আওয়ামী লীগ এবার অন্তত বুদ্ধিজীবি বা সিভিল সোসাইটির তরফ থেকে বেশ ঝামেলার মুখোমুখি হবে।



শরীক, সিভিল সোসাইটি, দলের ভেতর জুনিয়র সিনিয়র দ্বন্দ্ব এবং উপদেষ্টা আর মন্ত্রীদের মধ্যকার দুরত্ব নিরসন করা এবার মহা ক্ষমতাবান আওয়ামী লীগের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠার আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ একাই প্রায় ৩শ আসনে জয়ী হওয়ার পর অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন, এদেশে বোধ হয় বিরোধী রাজনীতি গড়ে ওঠার আর কোন সুযোগ নেই এবং আওয়ামী লীগ মনে হয় দীর্ঘমেয়াদেই ক্ষমতায় থাকবে- তাকে নামানোরও কোন শক্তি নেই।



অথচ আওয়ামী লীগ এবার তৃতীয় মেয়াদে মাত্র ক্ষমতায় আসলো। মন্ত্রীসভাও এবার ভালমত কাজ শুরু করতে পারেনি। অথচ এরই মধ্যে আভ্যন্তরীণ যেসব সংকটের ইংগিত পাওয়া যাচ্ছে তাতে একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আগামী দিনগুলোতে আওয়ামী সরকারের কাজ চালিয়ে যাওয়া খুব একটা সহজ হবেনা। নিজেদের আগুনেই জ্বলবে তারা।

সুত্র ঃ http://www.rtnn.net/bangla/

staf.news
admin@news12.us

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *