দেশে ফেরার চার শর্ত দিয়েছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস তারেক জিয়ার দণ্ডিত হওয়ায় এবং তার দণ্ড কার্যকর করার জন্য যুক্তরাজ্য পররাষ্ট্র দপ্তরে এক আবেদন করে। ঐ আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৯

ডিসেম্বর তারেক জিয়াকে পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘কমিটি টু প্রটেক্ট রিফিউজি’ তলব করে।



কিন্তু তারেক ১৯ ডিসেম্বর নিজে ঐ কমিটির সামনে শুনানির জন্য হাজির হননি। একজন আইনজীবী প্রতিনিধির মাধ্যমে তারেক জিয়া একটি এফিডেভিট (হলফনামা) প্রদান করেন। ঐ হলফনামায় তারেক জিয়া বলেছেন, ‘দেশে তার ফেরা নিরাপদ নয়। বাংলাদেশে ফিরলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার জীবনহানি ঘটাতে পারে।’



হলফনামায় তারেক জিয়া অবশ্য বলেছেন তিনি দেশে ফিরতে চান। নিরাপত্তা এবং উপযুক্ত পরিবেশ পরিস্থিতি নিশ্চিত হলে তারেক দেশে ফিরবেন বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ৪টি শর্ত পূরণ হলেই তারেক জিয়া দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। দেশে ফিরতে যে ৪ শর্ত তারেক দিয়েছেন, সেগুলো হলো:

১. তার এবং তার মায়ের বিরুদ্ধে সকল দণ্ড বাতিল করতে হবে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক জিয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। অর্থ পাচারের মামলায় তারেক জিয়াকে উচ্চ আদালত ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।

তারেক জিয়ার মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দু’টি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। হলফনামায় এই দণ্ডগুলো বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আত্মপক্ষ সমর্থন দিয়ে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করার শর্ত দেয়া হয়েছে।



২. চলমান মামলা প্রত্যাহার করার কথাও তারেক জিয়ার আইনজীবী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে করা ১৭টি মামলার তালিকা দিয়ে এই মামলাগুলোকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. তারেক জিয়ার পক্ষে দেয়া হলফনামায় তার রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপির বিরুদ্ধে নিপীড়ন এবং নিষ্পেষণ বন্ধের দাবী জানানো হয়েছে। হলফনামায় একটি তালিকা সংযুক্ত করে বলা হয়েছে যে, বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী বিভিন্ন মামলায় কারাবরণ করছে। হলফনামায় দাবী করা হয়েছে যে এই মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। দেশে ফেরার শর্ত হিসেবে পলাতক তারেক জিয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এসব মামলা প্রত্যাহার চেয়েছেন।



৪. তারেক জিয়ার পক্ষে দেয়া হলফনামায় তারেক জিয়া ও তাঁর পরিবারের জীবন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বড়দিন এবং নববর্ষের ছুটির পরপরই হলফনামার আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হবে।’

ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘তারেকের আইনজীবী হলফনামার মাধ্যমে যা বলেছেন, তা সবই ভিত্তিহীন।’ এটা প্রমাণিত হলে তাকে দেশে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা।

বাংলা ইনসাইডার

staf.news
admin@news12.us

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *