1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
উত্তাপ বাড়ছে ভোটের মাঠে | News12
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

উত্তাপ বাড়ছে ভোটের মাঠে

Staff Reporter
  • Update Time : বুধবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৫৬ Time View

তিন দিন পরই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোটযুদ্ধ। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ৭ মেয়র প্রার্থীসহ ১৮৯ প্রার্থীর প্রচারণায় উৎসবমুখর নগরী। নানা প্রতিশ্রুতি আর আশার বাণী নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। আচরণবিধি লঙ্ঘন ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল তাদের প্রচারণা। তবে হেভিওয়েট দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের মধ্যে বাকযুদ্ধ নির্বাচনী মাঠ গরম করলেও পরিস্থিতি এতোদিন অশান্ত হয়নি। তৈমূর আলমও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন ছাড়া জোরালো কোনো অভিযোগ তোলেননি। কিন্তু আকস্মিকভাবে তৈমূর আলম খন্দকারের সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটকের মধ্য দিয়ে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ভোটের মাঠে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অশান্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে।

গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তৈমূর আলম খন্দকারের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে।

তবে নির্বাচনের ৫ দিন আগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী সমন্বয়কারীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ভালোভাবে নেননি সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগেরও অনেকে এটিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তারা বলেন, এই ঘটনায় বিরূপ প্রভাব পড়বে নৌকার ভোটে।

এদিকে তৈমূর আলম বলেন, ক্ষমতাসীনরা তার পুরনো চেহারায় ফিরে গেছে। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠছে। প্রচারণায় অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের আটক ও বাড়ি-ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটা ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমি এসপি অফিসের সামনে বসে পড়বো। এবং সেখানে বসেই নির্বাচন পরিচালনা করবো। যত কিছুই করা হোক নির্বাচন থেকে সরে যাবো না।

অন্যদিকে শামীম ওসমান ও আইভীকে ঘিরে চলমান বিরোধ শেষ হয়েও যেন হচ্ছে না।

দলীয় নেতাকর্মীদের তথ্য মতে, নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর অনেকটা ব্যাকফুটে চলে যান শামীম ওসমান বলয়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। নির্বাচন নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটেন শামীম ওসমান। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আইভী ও তার বলয়ের নেতাকর্মীদের বক্তব্য-বিবৃতি উত্তাপ ছড়ায় ভোটের মাঠে। আইভী প্রচারণায় নেমে নানা প্রশ্ন তোলেন শামীম ওসমানের নীরবতা নিয়ে। তার সঙ্গে ইনিয়ে বিনয়ে সুর মেলান নির্বাচনী কাজে নারায়ণগঞ্জে ছুটে আসা আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। এক পর্যায়ে আইভী তারই দলের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে গডফাদার এবং তৈমূর আলম গডফাদারের ক্যান্ডিডেট বলে বক্তব্য দিয়ে যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেন। শুধু তাই নয়, রীতিমতো আইভীর পক্ষে মাঠে না নামায় মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এখানেই শেষ নয়, রাতের আঁধারে বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেতার বাড়ি বাড়ি হানা দেয় পুলিশ ও ডিবি। এই যখন অবস্থা তখন সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান। যদিও তিনি বলেছেন, তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের সংবাদ সম্মেলন ছিল এটি। তারপরও তিনি বলেছেন, আজ থেকে নৌকার পক্ষে নামলাম। হাতি যত বড়ই হোক কাঁধে নিয়ে দৌড় দিবো। তবু নৌকা ডুবতে দিবো না। শামীম ওসমানের সংবাদ সম্মেলনের পর আওয়ামী লীগ শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে আইভী বলেছেন, কে আসবে আর কে আসবে না তা দেখার বিষয় আমার না। তাছাড়া ‘উনি (শামীম ওসমান) কিসের পক্ষে প্রচারণা করবেন জানি না, আমার জানার প্রয়োজনও নেই’। ফলে নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েই গেল। এতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে নির্বাচন নিয়ে।

ওদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে আটক করার পর গত বছরের ২৮শে মার্চের হরতালে হেফাজতের সহিসংতার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা ২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই দু’টি মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ায়েন্ট রয়েছে বলেও পুলিশ জানায়। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে ফোন করে ঘটনা জানান তৈমূর আলম। কিন্তু আশানুরূপ বক্তব্য না পেয়ে রাত পৌনে ১০টায় তিনি ছুটে যান পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। সেখানে পুলিশ সুপারের সাক্ষাৎ না পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তৈমূর আলম বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। আটক মনিরুল ইসলাম পোলিং এজেন্ট নিয়ে আমার জন্য কাজ করছিল, সেই পোলিং এজেন্টদের নামের তালিকাসহ পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। এর আগেও দু’জনকে আটক করা হয়েছে। যেসব চেয়ারম্যান আমার পক্ষে নির্বাচনে নেমেছিল তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামালের বাড়ি থেকে তার কেয়ারটেকারকে ধরে নিয়ে গেছে। আমার মাইকিং করা অবস্থায় বন্দর থেকে একটি ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। সোমবার রাতে অহিদ ও জোসেফের বাড়িতে পুলিশ গেছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। এভাবে আমার নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারপরও আমরা গণতন্ত্রের স্বার্থে এ যুদ্ধ চালিয়ে যাবো।

তৈমূর আলম খন্দকারের ব্যক্তিগত সচিব আলাল জানান, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম ও মনিরুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ড থেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা মাসুম ঢালী, ২২নং ওয়ার্ডে আশরাফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে পুলিশ পরিচয়ে গভীর রাতে ছাত্রদল নেতা জোসেফের বাড়িতে যায় পুলিশ। প্রথমেই তারা বাসার দারোয়ানের মোবাইল ফোন জব্দ করে। এরপর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে জোসেফকে খুঁজতে থাকে। সেই সঙ্গে জোসেফের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্য বলতে থাকে, জোসেফকে বলে দিস নৌকার পক্ষে যেন কাজ করে। অন্যথায় তাকে ছাড় দেয়া হবে না। এ সময় জোসেফ নিজেকে আড়াল করতে গিয়ে বাসার ওপর থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এতে পা ভেঙে যায়।

পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, ‘যারা নির্বাচনে সহিংসতা করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতেই আমাদের অভিযান।’ তিনি জানান, বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম রবির বিরুদ্ধে সহিংসতার দু’টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শামীম ওসমান কীভাবে মাঠে থাকবেন: আইভী

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, উনি (শামীম ওসমান) কীভাবে মাঠে থাকবেন? উনি একজন সংসদ সদস্য। আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে তারা মাঠে থাকলে। আমি আবারো গণমাধ্যমের কাছে বলি আমার আস্থা সব সময় জনগণের প্রতি, আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। এর বাইরে আর কিছু বলতে চাই না। গতকাল সকালে ১২ নং ওয়ার্ডের খানপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি বলিনি তারা (শামীম ওসমান) আমার সঙ্গে নেই। আমার দল যেহেতু আমাকে নমিনেশন দিয়েছে তাহলে নিশ্চয়ই দল আমার পাশে আছে। দলের ভেতর থেকে কে আসবে, কে আসবে না সেটা আমার দেখার বিষয় না, সেটা কেন্দ্রীয় নেতারা দেখবেন। আমি সব সময় বলে এসেছি আমার সঙ্গে আমার জনতা আছে। প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, যেকোনো প্রার্থীর ভেতরে শঙ্কা থাকে। আমি তার বাইরে কেউ না। আমি অবশ্যই চাইবো নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ সুন্দর থাকুক। প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ থাকে, অ্যাক্টিভ থাকে। আমার ভোটাররা যেন ভোট দিতে যেতে পারে সে ব্যবস্থা যেন করা হয়। যেকোনো প্রার্থী অভিযোগ জানাতে পারে। কিন্তু বিগত দিনের ইতিহাস নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের পরিবেশ যতই টান টান থাকুক নির্বাচনের দিন এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে যায়। আশা করি, এবারো সেই রকম পরিবেশ থাকবে। তৈমূর আলমের অভিযোগ তার কর্মীদের বাসায় তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, জানি না বিষয়টি। আমি প্রচারণায় ব্যস্ত। তবে আমরাই তো বলি সব ধরনের অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করা হোক। শহরের মধ্যে যারা মাদক ব্যবসায়ী, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। এটা সব প্রার্থীরই চাওয়া থাকে। তাছাড়া উনি (তৈমূর আলম) তো বলেছেন অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করা হোক। উনি বলেছেন- পরিবেশটা যেন সুষ্ঠু থাকে, আমিও বলি পরিবেশটা যেন সুষ্ঠু থাকে। আমি চাই না নারায়ণগঞ্জে এমন কোনো সমস্যা হোক। আমার নেতাকর্মীরা ভোট চাচ্ছে, উনার নেতাকর্মীরাও ভোট চাচ্ছে।

এসপি অফিসের সামনে বসে নির্বাচন পরিচালনা করবো: তৈমূর

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ঘুঘু দেখেছেন ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি, ২৪ ঘণ্টা পর টের পাবেন। তার এই বক্তব্যের পর ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আপনারা আমাকে ফাঁদ দেখানো শুরু করেছেন। গতকাল সকালে ১২ নং ওয়ার্ডের মিশনপাড়ায় তার প্রধান নির্বাচনী ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, তারা সর্বক্ষণ বলে থাকে বিএনপি নির্বাচনে আসে না, ভয় পায়। এখন আপনারা দেখেন রাজনৈতিক দলগুলো কেন নির্বাচন বয়কট করে। কেন তারা আসতে চায় না এর জলজ্যান্ত প্রতিচ্ছবি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত রায়। তিনি বলেন, তারা যে ঘুঘু দেখানোর কথা বলেছে সে ঘুঘু যদি দেখানো হয় তাহলে আমি মনে করি এখানে সবচেয়ে বেশি ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। হয়তো তিনি বিষয়টা জানেন না বা তার নজরের বাইরে গিয়ে অতি উৎসাহীদের প্ররোচনায় এ ধরনের জুলুম-অত্যাচার করা হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, অবশ্যই আপনি নারায়ণগঞ্জের জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন। তৈমূর আলম বলেন, এই নির্বাচনে যদি আপনি পুলিশ দিয়ে এভাবে হয়রানি করেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি। সরকারের অনেক বড় বড় কর্মকর্তাদের বিলেত যাওয়ার ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আপনার নিজের ভাবমূর্তির প্রশ্নের বিষয়টা বিবেচনায় রাখবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই আমাকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেয়নি। ১৬ই ডিসেম্বর ২০ হাজার নেতাকর্মীর একটা বিজয় র‌্যালিতে আমার সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে আমি সে সমাবেশে যাইনি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে বার বার অভিযোগের পরও সরকারি দল এমপি ও বড় বড় নেতাদের এনে উস্কানিমূলক ও ভয়ভীতি ছড়ানোর মতো কথাবার্তা বলছে।

তৈমূর আলম বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আমার ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতা মোশাররফ হোসেন জানিয়েছে তার বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি করেছে। মাজহারুল ইসলাম জোসেফের বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। তিনি যুবদলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি আমার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক। তার হাতে দায়িত্ব ছিল এজেন্ট ও নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা ও সহযোগিতা করা। কালকে যখন আমি জানতে পারলাম রবিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৎক্ষণাৎ এসপি অফিসে যাই। তিনি অফিসে নেই। টেলিফোনে বললাম রবিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কেন? তারা বললেন তার নামে ওয়ারেন্ট আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে রবি প্রকাশ্যে আমার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন। ওয়ারেন্ট থাকলে তো তখনই তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারতো। এখন কেন করলো?

স্বতন্ত্র এই প্রার্থী বলেন, বন্দর থেকে ধামগড় ইউনিয়নের কামাল হোসেন চেয়ারম্যান আমাকে সমর্থন করায় তার বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে। তার কেয়ারটেকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এভাবেই আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। থানায় যখন আমরা খোঁজ নেই তারা বলে আমরা কিছু জানি না। এসপি সাহেবকে বলতে চাই- আপনি যদি এর ব্যবস্থা না নেন তাহলে আপনার অফিসের সামনে বসে পড়া ছাড়া আমার অন্য কোনো উপায় থাকবে না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শত শত লোকজন নিয়ে এসপি’র অফিসের সামনে বসে পড়বো। এবং সেখানে বসেই নির্বাচন পরিচালনা করবো।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে তৈমূর আলম ১২ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। প্রচারণায় নেমে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কালকে (সোমবার) এসপি অফিসে গিয়েছিলাম তাকে পাইনি। আজকে (মঙ্গলবার) গিয়ে বলবো আমার কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে আপনার অফিসের সামনে বসে পড়বো। এখান থেকেই আমি আমার নির্বাচন পরিচালনা করবো। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৈমূর আলম বলেন, আমি শঙ্কিত হবো না কেন? নেতাকর্মীদের বাড়িতে যখন পুলিশ হামলা করে। এজেন্টকে যখন পুলিশ ধরে নিয়ে যায় হেফাজতের মামলায়, তখন তো শঙ্কা সৃষ্টি হবেই। তিনি বলেন, ভাইবোনকে জিজ্ঞেস করে নির্বাচনে দাঁড়াইনি। তারা এক দলেরই লোক। তাদের মধ্যে বিভাজন পরিষ্কার। আমরা মামলা খেয়ে খেয়ে এবং গ্রেপ্তার হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছি। তৈমূর আলম বলেন, এতদিন জনগণ প্রার্থী পায়নি, আমরাও রাজি হইনি। এখন আমরা রাজি হয়েছি, জনগণ মনের মতো প্রার্থী পেয়েছে। যে প্রার্থী সব সময় জনতার থাকবে।

উৎসঃ মানবজমিন

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz