1. [email protected] : BD News : BD News
  2. [email protected] : Breaking News : Breaking News
ওয়ান-ইলেভেনের সংস্কারপন্থীরা কে কোথায়? | News12
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন

ওয়ান-ইলেভেনের সংস্কারপন্থীরা কে কোথায়?

Staff Reporter
  • Update Time : বুধবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৮২ Time View

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত একটি অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা। কিন্তু ক্ষমতায় বসে ওয়ান-ইলেভেনের সরকার রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। দেশের সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন বিদেশী দূতাবাস ওয়ান-ইলেভেন সরকারের মূল কলকাঠি চালিয়েছিল।

কিন্তু সুশীল সমাজ এবং কূটনৈতিক মহল ছাড়াও ওয়ান-ইলেভেন সরকারের পক্ষে কাজ করেছিল প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের অনেক শীর্ষ নেতারা। তারা রাজনৈতিক সংস্কারের নামে দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা এবং আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে একটি তৃতীয় শক্তির অভ্যুত্থানের জন্য প্রচেষ্টা নিয়েছিল। আর এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দুই নেত্রীকে পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাজনৈতিক দলে বিভক্তির চেষ্টা করা হয়েছিল।

যদিও ওয়ান-ইলেভেনের সেই রাজনৈতিক সংস্কারের নীলনকশা বাস্তবায়িত হয়নি কিন্তু এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে যে সমস্ত নেতারা ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সমর্থন জানিয়েছিল এবং সংস্কারবাদী হয়ে উঠেছিল তারা এখন কেমন আছে তা নিয়েই এই প্রতিবেদন। আসুন দেখে নিই তাদের অবস্থা।

১. আমির হোসেন আমু: আমির হোসেন আমু ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি তাঁর বাসভবনে একটি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যে সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দুইবারের বেশি কেউ থাকতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। স্পষ্টতই শেখ হাসিনাকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই এই সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমির হোসেন আমু এখনও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। এখনো তিনি আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচিত। যদিও তিন দফা আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার সময় মাত্র এক দফা তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

২. তোফায়েল আহমেদ: তোফায়েল আহমেদ ছিলেন আরেকজন সংস্কারপন্থী নেতা যিনি সংস্কার প্রস্তাব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন। তোফায়েল আহমেদও এখন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতিতে এখন সক্রিয় নয়। তিনিও তিন দফার মধ্যে এক দফা আওয়ামী লীগের মন্ত্রী হয়েছিলেন।

৩. ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন: ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সেই সময় একজন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারপন্থী নেতা ছিলেন। তিনি এখনো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তবে তিনি এমপি বা মন্ত্রী হতে পারেননি।

৪. অধ্যাপক আবু সাইয়িদ: অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ছিলেন ওয়ান-ইলেভেনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারপন্থী নেতা। সেই সময় তিনি আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীতে ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। এরপর তিনি ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে তিনি গণফোরামের যোগদান করেন। গণফোরাম এখন বিভক্ত হলে তিনি মোস্তফা মহসিন মন্টুর গণফোরামের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

৫. প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক: প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক আওমলীগের চার হেভিওয়েট নেতার একজন যিনি সংস্কারপন্থী ছিলেন। তিনি ২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

৬. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আর একজন সংস্কারপন্থী ছিলেন যিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ভেতর গণতন্ত্রহীনতার কথা বলেছিলেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পরবর্তীতে রেলওয়ে মন্ত্রী হন, সেখান থেকে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

৭. সাঈদ খোকন: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাঈদ খোকন ওয়ান-ইলেভেনের সময় কিংস পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি একজন সংস্কারপন্থী হিসেবে পরবর্তীতে রাজনীতিতে কিছু কোণঠাসা হলেও একসময়ের ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মনোনয়ন পাননি। এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

৮. মুকুল বোস: মুকুল বোস আওয়ামী লীগের আরেকজন সংস্কারপন্থী নেতা যিনি ওয়ান-ইলেভেনের পর রাজনীতিতে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে আছেন। তিনি এখন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।

৯. মাহমুদুর রহমান মান্না: মাহমুদুর রাহমান মান্না ওয়ান-ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সংস্কারপন্থীদের মধ্যে অন্যতম তাত্ত্বিক মনে করা হতো তাকে এবং সামরিক সেনাসমর্থিত সরকারের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন এবং আওয়ামী লীগ ছেড়ে নাগরিক ঐক্য গঠন করেন। এখন তিনি সরকারবিরোধী একজন নেতা হিসেবে পরিচিত।

১০. সুলতান মোহাম্মদ মনসুর: সুলতান মনসুর আহমেদ ওয়ান-ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন, আওয়ামী লীগ ছেড়ে দেন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এমপি হিসেবেই আসছেন।

এছাড়াও বেশ কয়েকজন সংস্কারপন্থী ছিল যাদের অনেকেই এখন আওয়ামী লীগে রয়েছে। বিএনপির মধ্যে থেকে সংস্কারপন্থীদের মধ্যে ছিলেন:

১. আবদুল মান্নান ভূঁইয়া: তিনি বিএনপি মহাসচিব ছিলেন। সংস্কারপন্থী হওয়ার কারণে বেগম খালেদা জিয়া তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। বহিষ্কার অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

২. মেজর (অব:) হাফিজউদ্দিন: মেজর (অব:) হাফিজউদ্দিন সংস্কারপন্থী হলেও এখন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আছেন এবং সরকারবিরোধী বক্তব্য রাখেন।

৩. লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান: লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান সংস্কারপন্থী ছিলেন। এজন্য বিএনপি নেতাদের হাতে তিনি লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছেন।

৪. এমরান সালেহ প্রিন্স: এমরান সালেহ প্রিন্স সংস্কারপন্থী নেতা ছিলেন। তিনি মান্নান ভূঁইয়ার একজন বিশ্বস্ত অনুচর ছিলেন। এখন তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচিত হন।

এছাড়াও প্রয়াত সাইফুর রহমানসহ বেশকয়েকজন নেতা সংস্কারপন্থী ছিলেন। এই সংস্কারপন্থীদের মধ্যে অনেকে মারা গেছেন। আর যারা বেঁচে আছেন তারা আবার বিএনপিতে নানাভাবে পুনর্বাসিত হয়েছেন।

বাংলা ইনসাইডার

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Releted
কপিরাইট : সর্বস্বর্ত সংরক্ষিত (c) ২০২২
Develper By ITSadik.Xyz