খালেদা জিয়া প্যারলে মুক্তি চান না : মওদুদ

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্যারলে মুক্তি চান না। ১/১১ সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। আমাদের নেত্রী যাননি।

আমাদের নেত্রীর এভাবে মুক্তি নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। যত দিন তাকে নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া হবে তত দিন আন্দেলন চলবে।

জনগনকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তারা চাইলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এই কথা বলেন।

এর আগে গত রোববার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন,
খালেদা জিয়া যদি প্যারলে তাহলে আলোচনার পথ খোলা আছে।

এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হতেই পারে। তবে তার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি অনেক রাজনীতি করেছে। তিনি বলেন, সংলাপে আমরা আর বেশি সময় দিতে চাচ্ছি না।

কারণ এখন তো আমাদের ইলেকশন রিলেটেড কিছু কাজ করতে হবে।

‘খালেদা জিয়াকে জেলখানায় রেখে উনারা ভাবছেন এই দেশে থাকবেন’

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ চলছে। বেলা দুইটায় এই সমাবেশ শুরু হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ হচ্ছে।

সরকারকে ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেছেন, খালেদা জিয়া জেলখানায় অার উনারা ভাবছেন এই দেশে থাকবেন। সোজা পথে ঘি উঠবে না। বাঁকা পথে হাঁটতে হবে।

সুলতান মনসুর বলেন, সংলাপে বসতে বাধ্য হয়েছে সরকার। একবার না অারেকবার বসতে চেয়েছে। ৭ দফা বাস্তবায়ন চাই। খালেদা জিয়া জেলখানায় অার উনারা ভাবছেন এই দেশে থাকবেন। সোজা পথে ঘি উঠবে না। বাঁকা পথে হাটতে হবে। কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সংলাপে যদি মেনে নেয় তবে ভালো।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আজকের এই জনসভার প্রধান অতিথি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। প্রধান বক্তা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ এ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

খালেদা জিয়ার ব্যাজ লাগিয়ে ‘চাঁদাবাজি’

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাজ লাগিয়ে চলছে ‘চাঁদাবাজি’।

একটি ব্যাজ লাগিয়ে সালামি হিসেবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দাবি করছেন। কেউ দিতে রাজি না হলে তাদের হেনস্তা করে ব্যাজ খুলে নেয়া হচ্ছে।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিতর ও বাইরে তিন-চারজনের গ্রুপ হয়ে কিছু তরুণ-যুবককে এই চাঁদাবাজি করতে দেখা গেছে। তারা নিজেদের ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কর্মী দাবি করছেন।

মৎস্য ভবনের দিক দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকতেই চোখে পড়ে দুই যুবক সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের ব্যাজ লাগিয়ে দিচ্ছেন। এরপর আস্তে করে সালাম দিয়ে সম্মানি চাইলেন। চক্ষুলজ্জায় লোকটি ২০ টাকা দিলেন। কিন্তু যুবকরা তা নিতে চাইলেন না। কমপক্ষে ১০০ টাকা দাবি করেন। লোকটি তাতে রাজি না হওয়ায় তার পোশাকে লাগানো ব্যাজ খুলে নেয় যুবকরা।

এরকম ব্যাজ লাগিয়ে টাকা আদায় করছিল সুমন ও আরিফ নামে দুই যুবক। আরিফ নিজেকে বাংলা কলেজের ছাত্র ও আদাবর ছাত্রদলের কর্মী বলে দাবি করেন। আর সুমন নিজেকে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল কর্মী দাবি করেন।

ব্যাজ লাগানোর কারণ জানতে চাইলে আরিফ বলেন, আমরা স্বেচ্ছায় ব্যাজ লাগাচ্ছি। এগুলো বানাতে আমাদের কিছু টাকা খরচ হয়েছে, এজন্য অামরা সম্মানি চাচ্ছি।

তাহলে অনেকের ব্যাজ খুলে নিচ্ছেন কেন? জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফ বলেন, ‘আপনার সমস্যা কি? সম্মানি না দেয়ায় ব্যাজ খুলেছি’। এভাবে ব্যাজ লাগিয়ে টাকা আদায় করা ঠিক হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি করছি তাতে আপনার কোনো সমস্যা আছে। আপনি আপনার কাজ করেন’।

এদিকে মোস্তাফা নামে এক বিএনপি কর্মী বলেন, নেত্রীর ব্যাজ লাগিয়ে দিচ্ছে ভালো কথা। টাকা আদায় করছে কেন? আর এটি যদি সম্মানি হয়ে থাকে তাহলে যে যা দিবে তাই নেবে। কিন্তু তারা জোর-জবরদস্তি করে টাকা আদায় করছে। তারা নেত্রীর নাম বলে চাঁদাবাজি করছে। এটি ঠিক হচ্ছে না। দলের নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। জাগোনিউজ

জেলে আমায় নে, মাকে ছেড়ে দে : পাগলা রিজভী

বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ডাকেন ‘পাগলা রিজভী’ বলে। আদুরে এই ডাকে রাগ, কষ্ট নেই। কারণ, তিনি বিএনপিকে ভালোবাসেন।

চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একনিষ্ঠ ভক্ত রিজভী। প্রিয় নেত্রীকে কারাগারে নেয়ার পর থেকে বেশিরভাগ সময় কাফনের কাপড় পরে ঘুরে বেড়ান। দলীয় কোনো কর্মসূচি থাকলে সবার আগেই কাফনের কাপড় পরে হাজির হয়ে যান।

মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভাতে আগে ভাগেই হাজির বিএনপি অন্তঃপ্রাণ এই রাজনৈতিক কর্মী। পুরো শরীরে নানা স্লোগান লিখে তিনি ১২টার দিকেই চলে আসেন সোহরাওয়ার্দীতে।

রিজভীর বুকে লেখা ছিল, ‘জেলে নিলে আমায় নে আমার মাকে ছেড়ে দে’, পিঠে লেখা ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক গণতন্ত্র মুক্তি পাক’, ‘মাথায় বাঁধা ব্যান্ডে লেখা, ‘দাবি একটাই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’।

রিজভী হাওলাদারের বসবাস নারায়ণগঞ্জে হলেও দিনভর থাকেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ঘুরে বেড়ান।

রিজভী হাওলাদার বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল সাতটায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে আসি। সারাদিন সেখানেই থাকি। রাত ১১টার দিকে ফিরে যাই।’

কর্মসূচি না থাকলে কাফনের কাপড় খুলে সাধারণ পোশাকে থাকেন রিজভী। তবে বড় কোনো কর্মসূচির দুই একদিন আগে থেকেই এই কাফনের কাপড় গায়ে তোলেন তিনি।

এই পোশাক কবে খুলবেন- এমন প্রশ্নে জবাব আসে, ‘যেদিন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে সেদিন কাফনের কাপড় ছাড়ব। তার আগে না।’

নির্বাচন হবে না : গয়েশ্বর

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি পূরণ না হলে বাংলাদেশে কোনও নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, আমরা দাবি আদায় করবো। কারও কাছে ভিক্ষা চায় না।’

মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলবো, খালেদা জিয়াকে কেন প্যারোলে জামিন বা মুক্তি নিতে হবে? সময় এসেছে, আপনাদের (আওয়ামী লীগ) প্যারোলে কবরে যেতে হবে।’’

সমাবেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের করণীয় একটাই, আজকের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে হাজার হাজার লোক উপস্থিত করা। এটাই হবে মুক্তির একমাত্র পথ।’ তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের কাজ হচ্ছে, বিচার বিভাগের চিকিৎসা করা। যেসব বিচারক চোখ বন্ধ করে রাখেন, সুষ্ঠু বিচার করতে পারেন না, তাদের চিকিৎসা করা। যেন তারা সুষ্ঠু বিচার করতে পারেন।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে আরও বক্তব্য রাখবেন গণফোরামা সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা।

আসছে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নতুন জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সমাবেশ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এ সমাবেশ থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দেয়ার আভাস দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

সোমবার রাতে মতিঝিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা আদায়ে তারা সরকারকে সময় বেঁধে দেবেন।

বুধবার পর্যন্ত অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি মেনে নিতে হবে। অন্যথায় হরতাল-অবরোধ-লংমার্চ-নির্বাচন কমিশন ঘেরাও’র মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

যদিও ঐক্যফ্রন্ট এখনই হরতাল ও অবরোধের মত কঠোর কর্মসূচিতে যেতে চাচ্ছে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাবি আদায় সম্ভব না হলে হরতাল ও অবরোধের মত কঠোর কর্মসূচিতে যাবে তারা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সোমবার সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। এর পরই শুরু হয়েছে মঞ্চ নির্মাণের কাজ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ এ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

আর প্রথমবারের মতো মঞ্চে উঠবেন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

এর আগে সোমবার রাতের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল জনসভা থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘সংলাপে মৌখিক আশ্বাসের পরেও সারা দেশে গণগ্রেপ্তার চলছে। এসব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৭ নভেম্বরের সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের নামের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামীকাল মঙ্গলবার সেটি ঠিক করে জানানো হবে। তবে সংলাপে আলোচনার বিষয়বস্তু ঠিক করা হয়েছে।’

ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র জানান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করায় ধন্যবাদ জানানো হয় বৈঠকে এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি জোটের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ওপর রংপুরের আদালতে আক্রমণের ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারসহ আইনি প্রক্রিয়ায় মইনুল হোসেনের মুক্তি দাবি করা হয়।

এ ছাড়া জোটের সমন্বয় কমিটির প্রধান মমিনুল হক চৌধুরীর জামিন প্রলম্বিত হওয়ায় নিন্দা জানায় ঐক্যফ্রন্ট।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঐক্যফ্রেন্টর নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছাড়াও বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু, কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রাজধানীতে প্রথমবারের মতো জনসভার অনুমতি পেয়েছে সদ্যগঠিত সরকার বিরোধী এই জোট।

এ ছাড়া ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসতে গণভবনে যাবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল

সদ্য গঠিত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। তবে এদের সিংহভাগই বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।

জানা যায়, দুপুর ২টায় জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, বেলা ১২ থেকেই রাজধানী ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন।

সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তিসহ ৭ দফা দাবির সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, প্রধান বক্তা জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব এবং সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে হাজার হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার এবং দলীয় ও জাতীয় পতাকা নিয়ে জড়ো হচ্ছে। এদের অনেকেই ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে বাসে করে জনসভায় এসেছেন।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ মোড়, মৎস্য ভবন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের সদস্যদেরও দেখা গেছে।

অন্যদিকে জনসভা মঞ্চে বেলা পৌনে ১২টা থেকে জাসাসের নেতৃত্বে সঙ্গীত পরিবেশন শুরু হয়। জনসভা শুরুর আগ পর্যন্ত এই সঙ্গীতায়োজন চলবে।

মঞ্চে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুনির খান ও সহদপ্তর সহম্পাদক সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুসহ প্রমুখ উপস্থিত আছেন।

দাবি না মানলে রোডমার্চ ও ইসি অভিমুখে পথযাত্রা

বুধবার (৭ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে দাবি না মানলে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাজশাহীর উদ্দেশে রোডমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা রোড মার্চ করে রাজশাহীতে যাব। সেখানে ৯ নভেম্বর আমরা সমাবেশ করবো।

সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি ও ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

জনসভায় শুরুতেই পরিত্র কোরআন তেলাওয়াত পাঠ করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হক। পরে গীতাপাঠ করেন বিএনপি নেতা বাবু রমেশ দত্ত। এরপর ত্রিপিটক পাঠ করা হয় এবং বাইবেল পাট করেন যুবদলের নেতা এ্যালবার্ট প্রি কস্টা।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ঐক্যফ্রন্টের দাবি মানার আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করা হবে। তবে কবে পথযাত্রা করা হবে তা তিনি উল্লেখ করেননি।

খুলনা এবং বরিশালেও জনসভা হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তবে কবে নাগাত করা হবে, সেবিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে তারিখ বলেননি।

জনসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুল রব।

জনসভা উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছিলো। অনেক পায়ে হেঁটে আবার অনেকেই বাসে করে এসে জনসভায় যোগ দিয়েছে।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে শাহবাগ মোড়, মৎস্য ভবন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে কঠোর নিরাপত্তার বলর গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও দেখা গেছে।

অপরদিকে শাহবাগ মোড়, শিল্পকলা একাডেমির সামনে ছোট ছোট ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদেরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া অনেকেই রমনা পার্কের ভিতরেও অবস্থান নেয়।

এর আগে, বেলা পৌনে ১২টা থেকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাসাসের নেতৃত্বে জনসভায় গান পরিবেশন করা হয়। জনসভা শুরুর আগ পর্যন্ত এই গান পরিবেশন করা হয়।

জনসভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুব্রত চৌধুরী, আব্দুল মালেক রতন, তানিয়া রব, নুরুল আলম বেপারীসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া জয়নাল আবেদীন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমান উল্লাহ আমান, সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলালসহ জনসভায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

২০ দলীয় জোট নেতা মাওলানা নূর হোসেন কাসেমী, আন্দালিব রহমান পার্থ, সৈয়দ মুহাম্মাদ ইবরাহিম, মোস্তফা জামাল হায়দার, রেদোয়ার আহমেদ, আব্দুল লতিফ নিজামী, আহমেদ আব্দুল কাদের সভায় বক্তব্য রাখেন।

বিএনপিকে ভুলে যান: কাদের সিদ্দিকী

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু চান, লড়াইয়ে জিততে চান, তাহলে বিএনপিকে আপাতত ভুলে যান। আমি খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই না। আমরা চাই শেখ হাসিনার মুক্তি কবে হবে। বলা হয়, বিএনপি রাজাকারের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে, যা সঠিক নয়। রাজাকারের গাড়িতে পতাকা আওয়ামী লীগই দিয়েছে। মহিউদ্দিন ও আশিকুর রহমানের গাড়িতে পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, বোন, একবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে দেখুন- জনতা কী চায়। তিনি বলেন, আমি বিএনপিতে যোগ দেইনি, আমি ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘চাড়াল’ সম্বোধন করেন তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের চাড়াল। ওর কথার দাম নেই। একটি চাড়ালের কথার মূল্য আছে, ওবায়দুল কাদেরের কথার মূল্য নেই।

এদিকে দুপুর ১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হয়। তবে জনসভা শুরুর আগেই ঢাকা এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে থাকে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে বক্তব্য শুরু এবং জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু দি‌য়ে জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের বক্তব্য শেষ কর‌লেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। বক্ত‌ব্যের শুরু‌তে ড. কামাল হো‌সে‌নের প‌রি‌চিত করা‌তে গি‌য়ে তি‌নি ব‌লেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিব যা‌কে সা‌থে নি‌য়ে পা‌কিস্তানি‌দের বিরু‌দ্ধে কূট‌নৈ‌তিক তৎপরতা চালা‌তেন, আইন পরামর্শ নি‌তেন সেই ড. কামাল উপ‌স্থিত র‌য়ে‌ছেন। বঙ্গবন্ধুর নি‌র্দেশনায় যি‌নি ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন ক‌রে‌ছিল সেই আসম আব্দুর রব উপ‌স্থিত র‌য়ে‌ছেন।

‌তি‌নি ব‌লেন, এই সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেখা‌নে দা‌ড়ি‌য়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিব স্বাধীনতার সংগ্রা‌মের ল‌ক্ষে বক্তব্য দি‌য়ে‌ছি‌লেন। এই সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেখা‌নে পা‌কিস্তানী বা‌হিনী আত্মসমর্পণ ক‌রে‌ছিল। মু‌ক্তির সংগ্রা‌মের ল‌ক্ষ্যে সারা বাংলার মানুষ‌কে ঐক্যবদ্ধ ক‌রে মানু‌ষের আশা আকাঙ্খা ফি‌রি‌য়ে আন‌বো।

চট্টগ্রামের কালুরঘাটের বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামেই দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন কল্যাণ পা‌র্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রা‌হিম।

সৈয়দ ইব্রাহিম ব‌লেন, ১৯৭১ সা‌লে চট্টগ্রা‌মের কালুরঘাত বেতার কে‌ন্দ্র থে‌কে প্রথ‌মে বঙ্গবন্ধুর না‌মে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়। প‌রে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা ক‌রেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বেগম জিয়াকে সরকার জেলের মধ্যে মেরে ফেলতে চায়। কিন্তু আমরা এটা হতে দেবো না। জান যাবে, জীবন দেবো- কিন্তু খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকারে শেখ হাসিনা থাকতে পারবেন না। শেখ হাসিনা ও বর্তমান ইসির অধিনে কোন নির্বাচন হবে না। সংসদ বাতিল করতে পারবো। দাবি না মানলে, রাজপথে দাবি আদায় করবো।

মান্না বলেন, ৫ বছরে সরকার ভোটের নামে ভোট চুরি করেছে। ৫ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে ভোটার ছিল না। সামনে নির্বাচন। মাত্র ২ মাস সময় আছে। মানুষ বলে এবার কী ভোট দিতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা ভালো মানুষ। ড. কামাল আন্তর্জাতিক আইনজীবী বিজ্ঞ। সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন ড. কামাল। তিনি সংলাপে ৭ দফা দাবির কথা বলেছেন। কিন্তু ৭ দফার একটাও মানা হয়নি।

মান্না আরো বলেন, গণতন্ত্র চাই, সন্ত্রাস চাই না, আগুন সন্ত্রাস চাই না।

আজ ভুলেননি ড. কামাল

এর আগের ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকটি সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাতে ভুলে গিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। বিষয়টি মঞ্চেই তাকে স্মরণ করিয়ে দেন বিএনপি নেতারা। তবে বুধবারের সমাবেশে আর ভুল হয়নি তার। এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বক্তব্যের শুরুর দিকে তিনি বলেন, আজ‌কে শুরু‌তেই বেগম খা‌লেদা জিয়ার মু‌ক্তির দা‌বি জানা‌চ্ছি।

মঙ্গলবার বি‌কে‌লে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যা‌নে সরকা‌রের পদত্যাগ, ‌নি‌রপেক্ষ সরকা‌রের অধী‌নে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন, বিএন‌পি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়াসহ সকল রাজবন্দী‌দের মু‌ক্তি তথা ৭ দফা দা‌বি আদা‌য়ের ল‌ক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের জনসভায় তিনি এই দা‌বি জানান।

ড. কামাল ব‌লেন, আজ‌কে অভিনন্দন জানাই, আপনারা অনেক বাধা বিপ‌ত্তি পার ক‌রে এখা‌নে এসেছেন। আপনারা এদেশের মা‌লিক হি‌সে‌বে এখা‌নে এসেছেন। সং‌বিধা‌নে স্পষ্ট লেখা আছে জনগণ দে‌শের মা‌লিক।এদেশে যা হ‌চ্ছে তা মে‌নে নেয়া যায় না। আজ‌কে যেভা‌বে দে‌শে আইনের শাসন অনুপ‌স্থিত। যা‌কে তা‌কে জে‌লে নেয়া হ‌চ্ছে।

সরকা‌রের সমা‌লোচনা ক‌রে তি‌নি ব‌লেন, এরা গণতন্ত্র মা‌নে না। এটা হয় না যে সরকারি দল আই‌নের উর্ধ্বে , আর বি‌রোধী দলের নেতাকর্মী‌দের হয়রা‌নির শিকার হ‌তে হয়। স্বাধীন বাংলা‌দে‌শে এটা বন্ধ হ‌তে হ‌বে। সরকার য‌দি নির্বা‌চিত সরকার হয় তাহ‌লে এটা কর‌তে পা‌রে না, আর এই সরকার তো অনির্বাচিত সরকার।

তি‌নি আরো ব‌লেন, এই সরকা‌রের কথায় এক পয়সাও দাম নেই। এই সরকার সং‌বিধান ১৬ আনা উপেক্ষো ক‌রে ক্ষমতার অপব্যবহার কর‌ছে। আমা‌দের তাদের বিরু‌দ্ধে শক্তভা‌বে দাড়া‌তে হ‌বে। ‌একটা জি‌নিস প্রমাণ ক‌রে‌ছি বাধা বিপ‌ত্তি মানুষ মে‌নে নেয় না। ঐক্যবদ্ধ হ‌য়ে‌ছি সুষ্ঠু নির্বাচ‌নের জন্য। আপনা‌দের ভো‌টা‌ধিকা‌রের পাহাড়া দি‌তে হ‌বে। সুষ্ঠু ভোট, সুষ্ঠু নির্বাচন না হ‌লে দে‌শে স্বাধীনতা থা‌কে না। স্বাধীনতার লক্ষ ছিল দে‌শের মা‌লিক জনগণ, এটা বুঝ‌তে হ‌বে।

তিনি বলেন, আমরা দেশব্যাপী জনসভা কর‌বো। আমা‌দের যে প্রাপ্য সেটা ফি‌রে পা‌বো, আমা‌দের অধিকার আমরা ফি‌রে পা‌বো। এদেশের মা‌লিক জনগণ, জনগণ জে‌গে‌ছে।