রেজা কিবরিয়ার ভুয়া পোস্টার বানিয়ে অপপ্রচার

হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়ার পোস্টার বিকৃতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। ওই পোস্টারটি অবিকল রেজা কিবরিয়ার মূল পোস্টারের মতোই।

কেবল একটি জায়গা লেখা হয়েছে, ‘আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) আসন থেকে মনোনীত বিএনপি জোট সরকারের হাতে নিহত সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম শাহ এএমএস কিবরিয়া সাহেবের সুযোগ্য সন্তান ড. রেজা কিবরিয়াকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।’

কিন্তু ড. রেজা কিবরিয়ার মূল পোস্টারে লেখা ছিল, ‘আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম শাহ এএমএস কিবরিয়া সাহেবের সুযোগ্য সন্তান ড. রেজা কিবরিয়াকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।’

এ বিষয়ে ড. রেজা কিবরিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরে বলেন, আইনগত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। কিন্তু কার কাছে অভিযোগ জানাবো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের কোনো অভিযোগই আমলে নেয় না। এখন সচেতন দেশবাসীর বিশ্বাস ও আস্থাই আমাদের ভরসার জায়গা।

বাবার হত্যাকাণ্ড ও বিচারপ্রসঙ্গে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘যে আদর্শের জন্যে আমার আব্বা লড়াই করেছেন সেই আদর্শ থেকে আওয়ামী লীগ অনেক দূরে চলে গেছে। আব্বা মারা গেছেন ২৭ জানুয়ারি ২০০৫। এরপর দুই বছর বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। ঠিক আছে তারা কাজটি করতে পারেনি। দুই বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল। তারাও করতে পারেনি। সাড়ে নয় বছর আওয়ামী লীগ সরকার ছিল তারা একটা সুষ্ঠু তদন্ত করার উদ্যোগ নেয়নি।’

তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘এখন কার ওপর আমার বেশি অসন্তুষ্ট হওয়া উচিত?’

বিএনপির ৫ উপজেলা চেয়ারম্যানের সাংসদ হওয়ার আশা শেষ :

উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিএনপির মনোনয়নে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা তিনজনের প্রার্থিতা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আটকে গেছে।

এছাড়া আরও দুইজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করে হাই কোর্ট সোমবার রুল জারি করেছে।

এর ফলে ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির প্রার্থী ধামরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন, বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থী আদমদিঘী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোহিত তালুকদার এবং বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী শাহজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার বাদল আর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।

ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক এবং বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিল্টন মোর্শেদের ভোটের পথও আটকে গেছে।

তমিজ উদ্দিনের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণা করলেও হাই কোর্ট তা স্থগিত করেছিল। কিন্তু তার আবেদনে হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে দিয়েছিল চেম্বার আদালত। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত বিচারকের আপিল বেঞ্চ সোমবার চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে। ফলে হাই কোর্টের আদেশই বহাল থাকছে এবং তমিজ উদ্দিন নির্বাচন করতে পারছেন না।

বগুড়ার মোহিত তালুকদার এবং সরকার বাদলের মনোনয়ন পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত হাই কোর্ট স্থগিত করায় তাদের ভোটের আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হাই কোর্টের ওই আদেশ চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। আপিল বিভাগ সোমবার ওই স্থগিতাদেশ চলমান রেখেছে।

আপিল আদালতে তিন প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও প্রবীর নিয়োগী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সানজিদ সিদ্দিকী।

সানজিদ পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আপিল বিভাগের আদেশের ফলে বিএনপি মনোনীত এ তিন প্রার্থী আর নির্বাচন করতে পারছেন না।”

ওই তিনজনের মধ্যে তমিজ উদ্দিন ও মোহিত তালুকদার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন; কিন্তু তা গৃহীত না হওয়ায় প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। আর সরকার বাদল পদত্যাগ না করেই প্রার্থী হয়েছিলেন বলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে ঢাকা-১ আসনের বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়ন পত্র নির্বাচন কমিশনে বৈধতা পেলেও হাই কোর্ট সোমবার তা স্থগিত করে দিয়েছে।

ওই আসনে কুলা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বিকল্প ধারার জালাল উদ্দিনের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার শামীম আহমেদ মেহেদী ও ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম।

আদালতের আদেশের পর আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান পদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই আশফাক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

“নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করেছিল। নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত হাই কোর্ট স্থগিত করে দিয়েছে।”

ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত হওয়ায় আশফাক আপাতত আর নির্বাচন করতে পারছেন না।

বগুড়া-৭ আসনে এবার বিএনপির মূল প্রার্থী ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এ কারণে মিল্টন মোর্শেদকে করা হয়েছিল বিকল্প প্রার্থী। পাশাপাশি সরকার বাদলও মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করে দেওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালতে গিয়েও প্রার্থিতা ফিরে পাননি। এর মধ্যে হাই কোর্টে সরকার বাদলের মনোনয়নপত্র স্থগিত করলে ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে থাকেন মিল্টন মোর্শেদ। কিন্তু ‘পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার’ কারণে তার প্রার্থিতাও স্থগিত করে দেয় হাই কোর্ট।

বগুড়া-৭ আসনের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার বিকেলে এ আদেশ দেয়।

আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী সেলিনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিল্টন মোর্শেদ তার মনোনয়নপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এ কারণে তা বাতিল করা হয়।

নির্বাচন কমিশনে আপিল করে মিল্টন প্রার্থিতা ফিরে পেলে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন ডাব প্রতীকের প্রার্থী ফেরদৌস আরা বেগম।

“শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুল জারি করেছে। ফলে আপাতত মিল্টন আর নির্বাচন করতে পারছেন না।

খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বাদল ও মিল্টনের প্রার্থিতা আটকে যাওয়ায় বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির ধানের শীষের আর কোনো প্রার্থী থাকল না।

বিএনপির ৫ উপজেলা চেয়ারম্যানের সাংসদ হওয়ার আশা শেষ

উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিএনপির মনোনয়নে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা তিনজনের প্রার্থিতা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আটকে গেছে।

এছাড়া আরও দুইজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করে হাই কোর্ট সোমবার রুল জারি করেছে।

এর ফলে ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির প্রার্থী ধামরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন, বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থী আদমদিঘী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোহিত তালুকদার এবং বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী শাহজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার বাদল আর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।

ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক এবং বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিল্টন মোর্শেদের ভোটের পথও আটকে গেছে।

তমিজ উদ্দিনের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণা করলেও হাই কোর্ট তা স্থগিত করেছিল। কিন্তু তার আবেদনে হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে দিয়েছিল চেম্বার আদালত। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত বিচারকের আপিল বেঞ্চ সোমবার চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে। ফলে হাই কোর্টের আদেশই বহাল থাকছে এবং তমিজ উদ্দিন নির্বাচন করতে পারছেন না।

বগুড়ার মোহিত তালুকদার এবং সরকার বাদলের মনোনয়ন পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত হাই কোর্ট স্থগিত করায় তাদের ভোটের আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হাই কোর্টের ওই আদেশ চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। আপিল বিভাগ সোমবার ওই স্থগিতাদেশ চলমান রেখেছে।

আপিল আদালতে তিন প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও প্রবীর নিয়োগী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সানজিদ সিদ্দিকী।

সানজিদ পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আপিল বিভাগের আদেশের ফলে বিএনপি মনোনীত এ তিন প্রার্থী আর নির্বাচন করতে পারছেন না।”

ওই তিনজনের মধ্যে তমিজ উদ্দিন ও মোহিত তালুকদার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন; কিন্তু তা গৃহীত না হওয়ায় প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। আর সরকার বাদল পদত্যাগ না করেই প্রার্থী হয়েছিলেন বলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে ঢাকা-১ আসনের বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়ন পত্র নির্বাচন কমিশনে বৈধতা পেলেও হাই কোর্ট সোমবার তা স্থগিত করে দিয়েছে।

ওই আসনে কুলা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বিকল্প ধারার জালাল উদ্দিনের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার শামীম আহমেদ মেহেদী ও ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম।

আদালতের আদেশের পর আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান পদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই আশফাক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

“নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করেছিল। নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত হাই কোর্ট স্থগিত করে দিয়েছে।”

ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত হওয়ায় আশফাক আপাতত আর নির্বাচন করতে পারছেন না।

বগুড়া-৭ আসনে এবার বিএনপির মূল প্রার্থী ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এ কারণে মিল্টন মোর্শেদকে করা হয়েছিল বিকল্প প্রার্থী। পাশাপাশি সরকার বাদলও মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করে দেওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালতে গিয়েও প্রার্থিতা ফিরে পাননি। এর মধ্যে হাই কোর্টে সরকার বাদলের মনোনয়নপত্র স্থগিত করলে ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে থাকেন মিল্টন মোর্শেদ। কিন্তু ‘পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার’ কারণে তার প্রার্থিতাও স্থগিত করে দেয় হাই কোর্ট।

বগুড়া-৭ আসনের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার বিকেলে এ আদেশ দেয়।

আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী সেলিনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিল্টন মোর্শেদ তার মনোনয়নপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এ কারণে তা বাতিল করা হয়।

নির্বাচন কমিশনে আপিল করে মিল্টন প্রার্থিতা ফিরে পেলে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন ডাব প্রতীকের প্রার্থী ফেরদৌস আরা বেগম।

“শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুল জারি করেছে। ফলে আপাতত মিল্টন আর নির্বাচন করতে পারছেন না।

খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বাদল ও মিল্টনের প্রার্থিতা আটকে যাওয়ায় বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির ধানের শীষের আর কোনো প্রার্থী থাকল না।

ভোট সুষ্ঠু না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে: কামাল

আগামী ৩০ ডিসেম্বর সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের অবস্থা ‘ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে’ বলে হুঁশিয়ার করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন।

সোমবার ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচনের আর ১০/১২ দিন বাকি আছে। নির্বাচন হতে দেন। সুষ্ঠু ইলেকশন না হতে দেওয়া, জনগণ যেভাবে পরিবর্তন আনতে চায় তা না হতে দেওয়া, জোর করে রাষ্ট্রকে আবারো মানে গত পাঁচ বছর যেটাকে আমি বলি বিনা নির্বাচনে এটাকে এভাবে ভোগ করা হয়েছে…।

‘‘এটা করলে আমি সর্তকবাণী দিতে চাই, তাহলে দেশের অবস্থা ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে। যেটা কারো কাম্য নয়।”

নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য সর্তক দৃষ্টি রাখার এবং নির্ভয়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান গণফোরাম সভাপতি কামাল।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সময় এসেছে দেশের মানুষের রুখে দাঁড়ানোর। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের মালিকানা নিজের হাতে নিন। ক্ষমতার মালিক জনগণ এটা সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে লিখে দেয়া হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করেছিলেন। এই মালিকানার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছিল।”

পরিবর্তন এবং জনগণের ‘মালিকানা’ ফিরিয়ে আনতে ৩০ ডিসেম্বর দলে দলে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ঐক্যফ্রন্টের নেতা।

তিনি বলেন, “ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করে অনিয়ম রুখবে। ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত নিজেদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া দেখে বাড়ি ফিরবে। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এক গণঅভ্যুত্থানের দিন হবে ৩০ ডিসেম্বর। এটা সকলকে মনে রাখবে হবে। ভোটের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দেশের মালিকানা পুনরুদ্ধার করতে হবে।”

নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ত নেতা-কর্মীদের ‘গণগ্রেপ্তার বেআইনি’ মন্তব্য করে কামাল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন গ্রেপ্তার হচ্ছে। সেদিন ৬৮১ জনের একটা গ্রেপ্তারের তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা ২/৩দিনে এখন ১৯ শ হয়ে গেছে। এটা লজ্জার বিষয়, এটা জাতীয় লজ্জার বিষয়। এটা শুনে আমাদের ১৬/১৭ কোটি মানুষ লজ্জা পাবে… যে স্বাধীনতার জন্য এত জীবন দিয়েছিল, এমনকি বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিনের মতো নেতাকে জীবন দিতে হল, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে সেই বাংলাদেশে জনগণকে এভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”

পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “বেআইনি হুকুম কোনো হুকুম হতে পারে না। এটা আইন।… বেআইনি আদেশ মানা একটা অপরাধ। এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আইজি সাহেব, আমি বিনীতভাবে বলতে চাই, আপনার একটা সুনাম ছিল- এটাকে রক্ষা করেন। পুলিশ বাহিনীকে এই ধরনের এলোপাতারি অ্যারেস্ট থেকে সরে থাকতে বলেন।”

নির্বাচনের প্রচারে পুলিশ ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন গণফোরাম সভাপতি।

তিনি বলেন, “আমি প্রায় ৫০ বছরের উপরে এসবের সঙ্গে জড়িত আছি। এরকম অবস্থা আমি জীবনে দেখি নাই, আপনারাও দেখেন নাই। আপনারা কী দেখেছেন প্রত্যেক প্রার্থীর ওপর আক্রমন হচ্ছে? এটা এখন হচ্ছে।”

কামাল বলেন, জনগণ যখন রাষ্ট্রের মালিক থাকে না, তখন রাষ্ট্রের মালিক হয়ে পড়ে কায়েমী স্বার্থবাদী দেশি-বিদেশি নানা গোষ্ঠী।

“এটার মাশুল দিতে হয়েছে দেশের জনগণকে। দেশে সীমাহীন দুর্নীতি। হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি। কীভাবে সম্ভব হল? যারা দায়িত্বে আছেন তাদের দায়িত্বহীনতার কারণেই।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এই ইশতেহারে বাংলাদেশের জনগণের দাবি-দাওয়াগুলো উঠে এসেছে। এটা সাম্প্রতিককালে একটা বৈপ্লবিক ইশতেহার হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

ঢাকার হোটেল পূর্বাণীতে এ অনুষ্ঠানে ৩৫ দফা প্রতিশ্রুতি রেখে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহার পড়ে শোনান নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।

ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে মূলমঞ্চে কামালের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ও মান্না ছাড়াও জেএসডির আসম আবদুর রব, শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, রেজা কিবরিয়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন।

কদমতলীতে প্রচারণায় সালাহ উদ্দিন :

ঢাকা-৪ আসনে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে এ প্রচারণা চালানো হয়।

বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ডিএসসিসির ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের (কদমতলী থানা) মাদ্রাসা রোড এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন সালাহ উদ্দিন।

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মাথায় কদমতলীর পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বার্তা নিয়ে যান সালাহ উদ্দিন। বিকেল পর্যন্ত চলা এই প্রচারণার পুরো সময়টা গ্রেপ্তার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার আতঙ্কে ছিলেন বলে জানান বিএনপির লোকজন। কারণ, এর আগেও প্রচারণার সময় এবং প্রচারণার পরে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের।

গতকাল প্রচারণায় অংশ নেওয়া কদমতলী থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হামলা, মামলা, নির্যাতনের ভয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বড় পরিসরে মাঠে নামতে পারছেন না তাঁরা। তারপরও দিনে দিনে প্রচারণায় দলের লোকজন বাড়ছে।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে ও বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রচারণায় ভোটাররা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু পুলিশের বাধা বা গ্রেপ্তার–আতঙ্কে তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা ঠিকমতো করতে পারছেন না।

কদমতলী থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, নাসিমা তালুকদারের বিরুদ্ধে থানায় আগে মামলা ছিল। সে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সালাহ উদ্দিন আহমেদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

৩৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা – সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেবে ঐক্যফ্রন্ট :

ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়সসীমা তুলে দেবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম চলমান রাখবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের তালিকা করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। এমন ৩৫ দফা অঙ্গীকারের ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের ইশতেহার ঘোষণা করে। ইশতেহার পাঠ করেন জোটের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ঐক্যফ্রন্টের ৩৫ দফা ইশতেহারের মধ্যে আছে—রাষ্ট্র পরিচালনায় পরাজিতদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে। তারা নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করবে।

পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান রাখার পাশাপাশি তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হবে।

ইশতেহারে আরও আছে—মতপ্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা থাকবে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশে সরকারি বিধি-নিষেধ থাকবে না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার কাছে উন্নত নাগরিক সুবিধাসহ কয়েকটি শহর গড়ে তোলা হবে।

ঐক্যফ্রন্ট বলছে, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী বাদে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা থাকবে না। অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী ছাড়া আর কারও জন্য কোটা থাকবে না।

৩০ বছরের বেশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালুর জন্য রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দেখতে কমিশন গঠন, পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, ডাকসুসহ ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রশাসনের হাতে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি চালু হবে।

আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্ট দুর্নীতি দমনে ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতির তদন্তের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান বাতিল করা হবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে ঐক্যফ্রন্টের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা, সব জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, সিসিইউ, আইসিইউ, এনআইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ক্যানসারের কেমোথেরাপি সেন্টার গড়ে তুলবে ঐক্যফ্রন্ট। ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ কমানোর কথাও বলেছে তারা। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর সংস্কারসহ খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক ধার্য করা হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, রিমান্ডে নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যেকোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদাপোশাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া মামলাজট কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপের সঙ্গে উচ্চ আদালতের বার্ষিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে। বিভাগীয় সদরে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স করা হবে ৭০ বছর।

কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো, শিল্পোন্নয়ন, ক্ষমতায় যাওয়ার দুই বছরের মধ্যেই শ্রমিকদের মজুরি ১২ হাজার টাকা করার কথা বলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ লুটপাটে জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যাংক পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হবে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

বয়স্ক ভাতা চালু, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ না করাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেবে ঐক্যফ্রন্ট। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রথার পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মনোনয়নের বিধান করে দুই মেয়াদের পর আর সংরক্ষিত আসন না রাখার কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর করা হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফার আলোকে সড়ক আইন সংশোধন করা হবে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বরত সাংবাদিক নিগ্রহের বিচারের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ প্রবাসী কর্মীদের বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের মজুরি বোর্ড নিয়মিত করা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাতে উৎসাহ প্রদানসহ সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ইন্টারনেট ও মোবাইল খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় করা, তাদের ওপর হামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করার কথা জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলাদা ইশতেহারও নিয়ে আসছে বিএনপি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর এবার দলের আলাদা ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার গুলশানের লেইক শোর হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে বলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন।

সোমবার রাতে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও তাদের নির্বাচনী ইশতেহার দেবে। তা ঘোষণা হবে সকাল ১০টায় সোনারগাঁও হোটেলে।

সোমবার বিএনপির নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। পূর্বাণী হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য তাদের ৩৫ দফা ও ১৪ প্রতিশ্রুতির কথা ইশতেহারে বলেছে। ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথাও তাদের ইশতেহারে রয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাইরে বিএনপির আরেকটি জোট রয়েছে ২০ দল। এই জোটে জামায়াতে ইসলামীও রয়েছে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন
৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় ২৫ সদস্যের ‘নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করেছে বিএনপি।

কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সদস্য সচিব জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকছেন সেলিমা রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু ও আহমেদ আজম খান।

সদস্যরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত মেজর কামরুল ইসলাম, এএসএম আবদুল হালিম, অধ্যাপক তাজমেরী ইসলাম, আতাউর রহমান ঢালী, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল লতিফ খান, অধ্যাপক সাহিদা রফিক, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, এস এম ফজলুল হক, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অধ্যাপক মোস্তাহিদুর রহমান, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, সানাউল্লাহ মিয়া, অধ্যক্ষ মাজহার হোসেন, অধ্যাপক এ বি এম ওবাদুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম মনি।

হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগে আ লীগ: রিজভী

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করেন, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের আলামপুর গ্রামে নাপিত বাড়ির (বাবু ডাক্তার বাড়ি) শিশির শীল ও মনিন্দ্র শীলের দুইটি টিনের পাকা বসত ঘরসহ চারটি ঘর আওয়ামী লীগের সমর্থকরা জ্বালিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, “এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোনাগাজী থানা পুলিশ আলাউদ্দিন বাবুলকে আটক করেছে। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

“আমি শিশির শীষ ও মনিন্দ্র শীলের বসত বাড়ি আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দোষীদের শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।”

কদমতলীতে প্রচারণায় সালাহ উদ্দিন :

ঢাকা-৪ আসনে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে এ প্রচারণা চালানো হয়।

বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ডিএসসিসির ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের (কদমতলী থানা) মাদ্রাসা রোড এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন সালাহ উদ্দিন।

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মাথায় কদমতলীর পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বার্তা নিয়ে যান সালাহ উদ্দিন। বিকেল পর্যন্ত চলা এই প্রচারণার পুরো সময়টা গ্রেপ্তার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার আতঙ্কে ছিলেন বলে জানান বিএনপির লোকজন। কারণ, এর আগেও প্রচারণার সময় এবং প্রচারণার পরে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের।

গতকাল প্রচারণায় অংশ নেওয়া কদমতলী থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হামলা, মামলা, নির্যাতনের ভয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বড় পরিসরে মাঠে নামতে পারছেন না তাঁরা। তারপরও দিনে দিনে প্রচারণায় দলের লোকজন বাড়ছে।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে ও বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রচারণায় ভোটাররা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু পুলিশের বাধা বা গ্রেপ্তার–আতঙ্কে তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা ঠিকমতো করতে পারছেন না।

কদমতলী থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, নাসিমা তালুকদারের বিরুদ্ধে থানায় আগে মামলা ছিল। সে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সালাহ উদ্দিন আহমেদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

৩৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা – সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেবে ঐক্যফ্রন্ট :

ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়সসীমা তুলে দেবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম চলমান রাখবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের তালিকা করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। এমন ৩৫ দফা অঙ্গীকারের ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের ইশতেহার ঘোষণা করে। ইশতেহার পাঠ করেন জোটের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ঐক্যফ্রন্টের ৩৫ দফা ইশতেহারের মধ্যে আছে—রাষ্ট্র পরিচালনায় পরাজিতদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে। তারা নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করবে।

পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান রাখার পাশাপাশি তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হবে।

ইশতেহারে আরও আছে—মতপ্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা থাকবে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশে সরকারি বিধি-নিষেধ থাকবে না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার কাছে উন্নত নাগরিক সুবিধাসহ কয়েকটি শহর গড়ে তোলা হবে।

ঐক্যফ্রন্ট বলছে, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী বাদে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা থাকবে না। অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী ছাড়া আর কারও জন্য কোটা থাকবে না।

৩০ বছরের বেশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালুর জন্য রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দেখতে কমিশন গঠন, পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, ডাকসুসহ ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রশাসনের হাতে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি চালু হবে।

আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্ট দুর্নীতি দমনে ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতির তদন্তের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান বাতিল করা হবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে ঐক্যফ্রন্টের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা, সব জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, সিসিইউ, আইসিইউ, এনআইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ক্যানসারের কেমোথেরাপি সেন্টার গড়ে তুলবে ঐক্যফ্রন্ট। ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ কমানোর কথাও বলেছে তারা। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর সংস্কারসহ খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক ধার্য করা হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, রিমান্ডে নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যেকোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদাপোশাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া মামলাজট কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপের সঙ্গে উচ্চ আদালতের বার্ষিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে। বিভাগীয় সদরে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স করা হবে ৭০ বছর।

কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো, শিল্পোন্নয়ন, ক্ষমতায় যাওয়ার দুই বছরের মধ্যেই শ্রমিকদের মজুরি ১২ হাজার টাকা করার কথা বলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ লুটপাটে জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যাংক পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হবে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

বয়স্ক ভাতা চালু, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ না করাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেবে ঐক্যফ্রন্ট। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রথার পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মনোনয়নের বিধান করে দুই মেয়াদের পর আর সংরক্ষিত আসন না রাখার কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর করা হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফার আলোকে সড়ক আইন সংশোধন করা হবে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বরত সাংবাদিক নিগ্রহের বিচারের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ প্রবাসী কর্মীদের বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের মজুরি বোর্ড নিয়মিত করা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাতে উৎসাহ প্রদানসহ সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ইন্টারনেট ও মোবাইল খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় করা, তাদের ওপর হামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করার কথা জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্যফ্রন্টের প্রতিশ্রুতি ‘ভূতের মুখে রাম নাম’: আ. লীগ

ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলমান রাখা এবং দুর্নীতির রোধের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে তাকে ‘জাতির সঙ্গে তামাশা’ হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ।

সোমবার ঐক্যফ্রন্ট ইশতেহার ঘোষণার পর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন।

সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলমান রাখা এবং দুর্নীতি রোধ করার যে অঙ্গীকার এসেছে, আওয়ামী লীগ তা কীভাবে দেখছে।

জবাবে আব্দুর রহমান বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের উত্তসূরিদের নিয়ে তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে। আর যুদ্ধাপরাধীরা ঐক্যফ্রন্টের আশ্রয় প্রশ্রয়েই আছে। সুতরাং যুদ্ধাপরাধের বিচার তারা করবে এটা একটা হাস্যকর ব্যাপার, অবিশ্বাস্য।”

একাত্তরে বাংলাদেশের বিরোধিতায় যুদ্ধাপরাধে নেতৃত্ব দেওয়া জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার আহ্বানে কখনও সাড়া দেননি বিএনপি নেতারা। বরং উল্টো যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তারা সমালোচনাও করেছেন।

সেই বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গত অক্টেবরে সাবেক কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা একে ‘সাম্প্রদায়িক জোট’ আখ্যায়িত করেছিলেন।

জোটের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে কোনো ‘বৃহত্তর ঐক্যে’ তিনি যাবেন না।

কিন্তু নির্বাচনের আগে জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের চেয়ে জামায়াতই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বিএনপি কাছে।

নিবন্ধন হারানোয় জামায়াতের অন্তত ২২ জন প্রার্থী এবার ভোট করছেন বিএনপির মনোনয়নে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে। কামাল হোসেন নিজে নির্বাচন না করলেও তার দল গণফোরাম ও ঐক্যফ্রন্টের অন্য শরিকরাও একই প্রতীকে ভোট করছেন এবার।

সেই প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, “যারা যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে মনোনয়ন পর্যন্ত দিয়েছে, তারা কী করে এই যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে? এটা জনগণের সঙ্গে নেহায়েত প্রতারণা ছাড়া আর কিছু না।”

জাতিকে ‘বিভ্রান্ত’ করে এই ইশতেহারের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট ভোটারদের সঙ্গে ‘তামাশা করছে’ বলে মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।

তিনি বলেন, “তারেক জিয়া দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত, খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন হাওয়া ভবন তৈরি করে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করেছিলেন। তিনি (খালেদা জিয়া) নিজে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত। তাদের মুখে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার কথা ভূতের মুখে রাম নাম।”

ঐক্যফ্রন্টের প্রতিশ্রুতিকে ‘রাজনৈতিক অপকৌশলের ইশতেহার’ হিসেবে বর্ণনা করে আব্দুর রহমান বলেন, “দেশের মানুষ কোনোভাবেই বিশ্বাস করে না যে তারা দুর্নীতি দূর করবে, এটা ভোটের রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করার জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল মাত্র।”

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থীদের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কামাল হোসেন যে সংশয় প্রকাশ করেছেন, তার পেছনেও চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের এই কেন্দ্রীয় নেতা।

তিনি বলেন, “বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নিজেরাই ঘটিয়েছে, তাদের মনোনয়ন বাণিজ্যে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বিএনপি নেতাদের উপর হামলা চালাচ্ছে। আর তারা এর দায়ভার, দোষ আমাদের উপর চাপানোর চেষ্টা করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

আব্দুর রহমান বলেন, “এই নির্বাচন বানচালের জন্য নানা চক্রান্তের জাল বুনছে তারা। যারা নির্বাচন বানচালের চক্রান্তে আছেন তাদেরকে হুঁশিয়ার করতে চাই, যে কোনো মূল্যে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে।“

অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

কদমতলীতে প্রচারণায় সালাহ উদ্দিন :

ঢাকা-৪ আসনে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে এ প্রচারণা চালানো হয়।

বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ডিএসসিসির ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের (কদমতলী থানা) মাদ্রাসা রোড এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন সালাহ উদ্দিন।

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মাথায় কদমতলীর পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বার্তা নিয়ে যান সালাহ উদ্দিন। বিকেল পর্যন্ত চলা এই প্রচারণার পুরো সময়টা গ্রেপ্তার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার আতঙ্কে ছিলেন বলে জানান বিএনপির লোকজন। কারণ, এর আগেও প্রচারণার সময় এবং প্রচারণার পরে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের।

গতকাল প্রচারণায় অংশ নেওয়া কদমতলী থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হামলা, মামলা, নির্যাতনের ভয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বড় পরিসরে মাঠে নামতে পারছেন না তাঁরা। তারপরও দিনে দিনে প্রচারণায় দলের লোকজন বাড়ছে।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে ও বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রচারণায় ভোটাররা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু পুলিশের বাধা বা গ্রেপ্তার–আতঙ্কে তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা ঠিকমতো করতে পারছেন না।

কদমতলী থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, নাসিমা তালুকদারের বিরুদ্ধে থানায় আগে মামলা ছিল। সে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সালাহ উদ্দিন আহমেদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

৩৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা – সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেবে ঐক্যফ্রন্ট :

ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়সসীমা তুলে দেবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম চলমান রাখবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের তালিকা করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। এমন ৩৫ দফা অঙ্গীকারের ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের ইশতেহার ঘোষণা করে। ইশতেহার পাঠ করেন জোটের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ঐক্যফ্রন্টের ৩৫ দফা ইশতেহারের মধ্যে আছে—রাষ্ট্র পরিচালনায় পরাজিতদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে। তারা নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করবে।

পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান রাখার পাশাপাশি তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হবে।

ইশতেহারে আরও আছে—মতপ্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা থাকবে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশে সরকারি বিধি-নিষেধ থাকবে না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার কাছে উন্নত নাগরিক সুবিধাসহ কয়েকটি শহর গড়ে তোলা হবে।

ঐক্যফ্রন্ট বলছে, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী বাদে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা থাকবে না। অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী ছাড়া আর কারও জন্য কোটা থাকবে না।

৩০ বছরের বেশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালুর জন্য রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দেখতে কমিশন গঠন, পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, ডাকসুসহ ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রশাসনের হাতে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি চালু হবে।

আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্ট দুর্নীতি দমনে ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতির তদন্তের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান বাতিল করা হবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে ঐক্যফ্রন্টের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা, সব জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, সিসিইউ, আইসিইউ, এনআইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ক্যানসারের কেমোথেরাপি সেন্টার গড়ে তুলবে ঐক্যফ্রন্ট। ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ কমানোর কথাও বলেছে তারা। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর সংস্কারসহ খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক ধার্য করা হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, রিমান্ডে নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যেকোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদাপোশাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া মামলাজট কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপের সঙ্গে উচ্চ আদালতের বার্ষিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে। বিভাগীয় সদরে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স করা হবে ৭০ বছর।

কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো, শিল্পোন্নয়ন, ক্ষমতায় যাওয়ার দুই বছরের মধ্যেই শ্রমিকদের মজুরি ১২ হাজার টাকা করার কথা বলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ লুটপাটে জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যাংক পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হবে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

বয়স্ক ভাতা চালু, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ না করাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেবে ঐক্যফ্রন্ট। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রথার পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মনোনয়নের বিধান করে দুই মেয়াদের পর আর সংরক্ষিত আসন না রাখার কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর করা হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফার আলোকে সড়ক আইন সংশোধন করা হবে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বরত সাংবাদিক নিগ্রহের বিচারের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ প্রবাসী কর্মীদের বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের মজুরি বোর্ড নিয়মিত করা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাতে উৎসাহ প্রদানসহ সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ইন্টারনেট ও মোবাইল খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় করা, তাদের ওপর হামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করার কথা জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত নেতাদের ভোট করার বৈধতার প্রশ্নে আদেশ মঙ্গলবার

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতার অংশগ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে করা রিট আবদনের উপর আদেশ হবে মঙ্গলবার।

এই আবেদনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ২২ জন ও স্বতন্ত্র তিনজনসহ মোট ২৫ প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাই কোর্ট বেঞ্চ আবেদনটির উপর প্রাথমিক শুনানি হয়।

আদালত বলেছে, মঙ্গলবার ফের শুনানির পর আদেশ দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, সমাজ কল্যাণ সচিব শাহ মোহাম্মদ আলী হুসাইন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’র সভাপতি হুমায়ুন কবির ও সংগঠনটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. এমদাদুল হক জামায়াত নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে এ আবেদন করেন।

আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে জামায়াত নেতাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অবৈধ ঘোষণার প্রশ্নে রুল চাওয়া হয়েছে।

শুনানিতে রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী তানিয়া আমীর বলেন, জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে ২০০৯ সালে রিট আবেদন করা হয়। তার উপর জারিকৃত রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৩ সালে হাই কোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করে।

হাই কোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি (১)(বি) (২) ও ৯০সি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও সংবিধানপরিপন্থি। এই রায় এখনও বহাল আছে।

ওই রায়ে ইসির নিবন্ধন হারানো জামায়াত দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তাই তাদের নেতারা জোটসঙ্গী দল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন, তিনজন হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

তানিয়া আমীর বলেন, “জামায়াতের নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে ইসি হাই কোর্টের রায় ও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের বিভিন্ন বিধির সঙ্গে প্রতারণা, প্রবঞ্চনা করেছে।”

শুনানির পর্যায়ে আদালত বলে, জামায়াত নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি পারবে না, সেটা দেখার দায়িত্ব ইসির। কমিশনের কাজ আদালত করবে না।

সংসদ নির্বাচন দোরগোড়ায় বলে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে না চাওয়ার কথাও বলে আদালত।

বিচারক বলেন, “আপনারা (রিটকারী) কেন এত দেরিতে আদালতে আসলেন? এ বিষয়ে ইসিতে আবেদনের অনুলিপি দিয়েছেন?”

জবাবে তানিয়া আমীর বলেন, দেওয়া হয়নি।

তখন বিচারক বলেন, “কমিশনে আবেদনের অনুলিপি দিন। তাদের প্রতিনিধিকেও থাকতে বলেন। তাদের বক্তব্য শুনি।”

এরপরই আদালত মঙ্গলবার ফের শুনানি ও আদেশের জন্য রাখে।

বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে জামায়াতের ২২ জন নেতা ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

এরা হলেন, ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম খান, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পারোয়ার, পাবনা-৩ আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৫ আসনে ইকবাল হোসাইন, যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মো. শাহাদাত হোসাইন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ আসনে আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে শামীম সাঈদী, নীলফামারী-২ আসনে মো. মনিরুজ্জামান, ঝিনাইদহ-৩ মতিয়ার রহমান, বাগেরহাট-৩ আসনে ওয়াদুল শেখ, বাগেরহাট-৪ আসনে আব্দুল আলীম ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনে শামসুল ইসলাম।

হামিদুর রহমান আযাদ কক্সাবাজার-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের মনোনীত প্রার্থী।

কদমতলীতে প্রচারণায় সালাহ উদ্দিন :

ঢাকা-৪ আসনে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে এ প্রচারণা চালানো হয়।

বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ডিএসসিসির ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের (কদমতলী থানা) মাদ্রাসা রোড এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন সালাহ উদ্দিন।

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মাথায় কদমতলীর পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বার্তা নিয়ে যান সালাহ উদ্দিন। বিকেল পর্যন্ত চলা এই প্রচারণার পুরো সময়টা গ্রেপ্তার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার আতঙ্কে ছিলেন বলে জানান বিএনপির লোকজন। কারণ, এর আগেও প্রচারণার সময় এবং প্রচারণার পরে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের।

গতকাল প্রচারণায় অংশ নেওয়া কদমতলী থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হামলা, মামলা, নির্যাতনের ভয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বড় পরিসরে মাঠে নামতে পারছেন না তাঁরা। তারপরও দিনে দিনে প্রচারণায় দলের লোকজন বাড়ছে।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে ও বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রচারণায় ভোটাররা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু পুলিশের বাধা বা গ্রেপ্তার–আতঙ্কে তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা ঠিকমতো করতে পারছেন না।

কদমতলী থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, নাসিমা তালুকদারের বিরুদ্ধে থানায় আগে মামলা ছিল। সে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সালাহ উদ্দিন আহমেদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

৩৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা – সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেবে ঐক্যফ্রন্ট :

ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়সসীমা তুলে দেবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম চলমান রাখবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের তালিকা করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। এমন ৩৫ দফা অঙ্গীকারের ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের ইশতেহার ঘোষণা করে। ইশতেহার পাঠ করেন জোটের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ঐক্যফ্রন্টের ৩৫ দফা ইশতেহারের মধ্যে আছে—রাষ্ট্র পরিচালনায় পরাজিতদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে। তারা নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করবে।

পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান রাখার পাশাপাশি তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হবে।

ইশতেহারে আরও আছে—মতপ্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা থাকবে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশে সরকারি বিধি-নিষেধ থাকবে না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার কাছে উন্নত নাগরিক সুবিধাসহ কয়েকটি শহর গড়ে তোলা হবে।

ঐক্যফ্রন্ট বলছে, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী বাদে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা থাকবে না। অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী ছাড়া আর কারও জন্য কোটা থাকবে না।

৩০ বছরের বেশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালুর জন্য রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দেখতে কমিশন গঠন, পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, ডাকসুসহ ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রশাসনের হাতে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি চালু হবে।

আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্ট দুর্নীতি দমনে ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতির তদন্তের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান বাতিল করা হবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে ঐক্যফ্রন্টের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা, সব জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, সিসিইউ, আইসিইউ, এনআইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ক্যানসারের কেমোথেরাপি সেন্টার গড়ে তুলবে ঐক্যফ্রন্ট। ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ কমানোর কথাও বলেছে তারা। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর সংস্কারসহ খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক ধার্য করা হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, রিমান্ডে নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যেকোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদাপোশাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া মামলাজট কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপের সঙ্গে উচ্চ আদালতের বার্ষিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে। বিভাগীয় সদরে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স করা হবে ৭০ বছর।

কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো, শিল্পোন্নয়ন, ক্ষমতায় যাওয়ার দুই বছরের মধ্যেই শ্রমিকদের মজুরি ১২ হাজার টাকা করার কথা বলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ লুটপাটে জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যাংক পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হবে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

বয়স্ক ভাতা চালু, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ না করাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেবে ঐক্যফ্রন্ট। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রথার পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মনোনয়নের বিধান করে দুই মেয়াদের পর আর সংরক্ষিত আসন না রাখার কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর করা হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফার আলোকে সড়ক আইন সংশোধন করা হবে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বরত সাংবাদিক নিগ্রহের বিচারের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ প্রবাসী কর্মীদের বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের মজুরি বোর্ড নিয়মিত করা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাতে উৎসাহ প্রদানসহ সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ইন্টারনেট ও মোবাইল খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় করা, তাদের ওপর হামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করার কথা জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রচারে ব্যস্ত ফিরোজ রশীদ , ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী অনেকটাই নীরব

আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদ নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী অনেকটাই নীরব।

ঢাকা–৬ আসনের প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদ গতকাল সোমবার পুরান ঢাকার ওয়ারী এবং সূত্রাপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছেন। ভোটারদের তিনি বিজয়ের মাসে স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান। কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ভবিষ্যতে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দরকার। তিনি যত দিন ক্ষমতায় থাকবেন দেশের মানুষ ভালো থাকবে, শান্তিতে থাকবে। তাই যেখানে লাঙ্গল সেখানে নৌকা। লাঙ্গল জিতলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন। লাঙ্গল জিতলে মহাজোট সরকার গঠন করবে।

এর আগে গত রোবাবার বিজয় দিবসের সকালে তিনি পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, পাতলাখান লেন, শ্যামবাজার, লালকুঠি এলাকায় গণসংযোগ করেন। সন্ধ্যায় বাহাদুর শাহ পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর পক্ষে ভোট চান অভিনেতা এ টি এম সামসুজ্জামান।

এই আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীকে গতকাল নির্বাচনী প্রচারে দেখা যায়নি। তবে বিজয় দিবসের বিকেলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি গোপীবাগ রামকৃষ্ণ মিশন এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি এলাকার জলাবদ্ধতা, পানি–গ্যাসের সংকটসহ নাগরিক সমস্যাগুলো দূরীকরণের আশ্বাস দেন।

কদমতলীতে প্রচারণায় সালাহ উদ্দিন :

ঢাকা-৪ আসনে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে এ প্রচারণা চালানো হয়।

বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ডিএসসিসির ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের (কদমতলী থানা) মাদ্রাসা রোড এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন সালাহ উদ্দিন।

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মাথায় কদমতলীর পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বার্তা নিয়ে যান সালাহ উদ্দিন। বিকেল পর্যন্ত চলা এই প্রচারণার পুরো সময়টা গ্রেপ্তার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার আতঙ্কে ছিলেন বলে জানান বিএনপির লোকজন। কারণ, এর আগেও প্রচারণার সময় এবং প্রচারণার পরে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের।

গতকাল প্রচারণায় অংশ নেওয়া কদমতলী থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হামলা, মামলা, নির্যাতনের ভয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বড় পরিসরে মাঠে নামতে পারছেন না তাঁরা। তারপরও দিনে দিনে প্রচারণায় দলের লোকজন বাড়ছে।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে ও বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রচারণায় ভোটাররা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু পুলিশের বাধা বা গ্রেপ্তার–আতঙ্কে তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা ঠিকমতো করতে পারছেন না।

কদমতলী থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, নাসিমা তালুকদারের বিরুদ্ধে থানায় আগে মামলা ছিল। সে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সালাহ উদ্দিন আহমেদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

৩৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা – সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেবে ঐক্যফ্রন্ট :

ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়সসীমা তুলে দেবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম চলমান রাখবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের তালিকা করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। এমন ৩৫ দফা অঙ্গীকারের ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের ইশতেহার ঘোষণা করে। ইশতেহার পাঠ করেন জোটের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ঐক্যফ্রন্টের ৩৫ দফা ইশতেহারের মধ্যে আছে—রাষ্ট্র পরিচালনায় পরাজিতদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে। তারা নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করবে।

পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান রাখার পাশাপাশি তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হবে।

ইশতেহারে আরও আছে—মতপ্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা থাকবে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশে সরকারি বিধি-নিষেধ থাকবে না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার কাছে উন্নত নাগরিক সুবিধাসহ কয়েকটি শহর গড়ে তোলা হবে।

ঐক্যফ্রন্ট বলছে, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী বাদে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা থাকবে না। অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী ছাড়া আর কারও জন্য কোটা থাকবে না।

৩০ বছরের বেশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালুর জন্য রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দেখতে কমিশন গঠন, পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, ডাকসুসহ ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রশাসনের হাতে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি চালু হবে।

আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্ট দুর্নীতি দমনে ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতির তদন্তের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান বাতিল করা হবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে ঐক্যফ্রন্টের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা, সব জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, সিসিইউ, আইসিইউ, এনআইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ক্যানসারের কেমোথেরাপি সেন্টার গড়ে তুলবে ঐক্যফ্রন্ট। ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ কমানোর কথাও বলেছে তারা। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর সংস্কারসহ খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক ধার্য করা হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, রিমান্ডে নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যেকোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদাপোশাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া মামলাজট কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপের সঙ্গে উচ্চ আদালতের বার্ষিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে। বিভাগীয় সদরে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স করা হবে ৭০ বছর।

কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো, শিল্পোন্নয়ন, ক্ষমতায় যাওয়ার দুই বছরের মধ্যেই শ্রমিকদের মজুরি ১২ হাজার টাকা করার কথা বলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ লুটপাটে জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যাংক পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হবে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

বয়স্ক ভাতা চালু, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ না করাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেবে ঐক্যফ্রন্ট। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রথার পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মনোনয়নের বিধান করে দুই মেয়াদের পর আর সংরক্ষিত আসন না রাখার কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর করা হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফার আলোকে সড়ক আইন সংশোধন করা হবে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বরত সাংবাদিক নিগ্রহের বিচারের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ প্রবাসী কর্মীদের বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের মজুরি বোর্ড নিয়মিত করা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাতে উৎসাহ প্রদানসহ সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ইন্টারনেট ও মোবাইল খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় করা, তাদের ওপর হামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করার কথা জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কদমতলীতে প্রচারণায় সালাহ উদ্দিন

কদমতলীতে প্রচারণায় সালাহ উদ্দিন :

ঢাকা-৪ আসনে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে এ প্রচারণা চালানো হয়।

বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ডিএসসিসির ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের (কদমতলী থানা) মাদ্রাসা রোড এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন সালাহ উদ্দিন।

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মাথায় কদমতলীর পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বার্তা নিয়ে যান সালাহ উদ্দিন। বিকেল পর্যন্ত চলা এই প্রচারণার পুরো সময়টা গ্রেপ্তার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার আতঙ্কে ছিলেন বলে জানান বিএনপির লোকজন। কারণ, এর আগেও প্রচারণার সময় এবং প্রচারণার পরে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের।

গতকাল প্রচারণায় অংশ নেওয়া কদমতলী থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হামলা, মামলা, নির্যাতনের ভয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বড় পরিসরে মাঠে নামতে পারছেন না তাঁরা। তারপরও দিনে দিনে প্রচারণায় দলের লোকজন বাড়ছে।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে ও বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রচারণায় ভোটাররা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু পুলিশের বাধা বা গ্রেপ্তার–আতঙ্কে তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা ঠিকমতো করতে পারছেন না।

কদমতলী থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, নাসিমা তালুকদারের বিরুদ্ধে থানায় আগে মামলা ছিল। সে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সালাহ উদ্দিন আহমেদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

৩৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা – সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেবে ঐক্যফ্রন্ট :

ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়সসীমা তুলে দেবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম চলমান রাখবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের তালিকা করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। এমন ৩৫ দফা অঙ্গীকারের ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের ইশতেহার ঘোষণা করে। ইশতেহার পাঠ করেন জোটের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ঐক্যফ্রন্টের ৩৫ দফা ইশতেহারের মধ্যে আছে—রাষ্ট্র পরিচালনায় পরাজিতদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে। তারা নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করবে।

পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান রাখার পাশাপাশি তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হবে।

ইশতেহারে আরও আছে—মতপ্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা থাকবে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশে সরকারি বিধি-নিষেধ থাকবে না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার কাছে উন্নত নাগরিক সুবিধাসহ কয়েকটি শহর গড়ে তোলা হবে।

ঐক্যফ্রন্ট বলছে, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী বাদে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা থাকবে না। অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী ছাড়া আর কারও জন্য কোটা থাকবে না।

৩০ বছরের বেশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালুর জন্য রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দেখতে কমিশন গঠন, পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, ডাকসুসহ ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রশাসনের হাতে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি চালু হবে।

আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্ট দুর্নীতি দমনে ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতির তদন্তের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান বাতিল করা হবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে ঐক্যফ্রন্টের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা, সব জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, সিসিইউ, আইসিইউ, এনআইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ক্যানসারের কেমোথেরাপি সেন্টার গড়ে তুলবে ঐক্যফ্রন্ট। ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ কমানোর কথাও বলেছে তারা। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর সংস্কারসহ খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক ধার্য করা হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, রিমান্ডে নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যেকোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদাপোশাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া মামলাজট কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপের সঙ্গে উচ্চ আদালতের বার্ষিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে। বিভাগীয় সদরে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স করা হবে ৭০ বছর।

কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো, শিল্পোন্নয়ন, ক্ষমতায় যাওয়ার দুই বছরের মধ্যেই শ্রমিকদের মজুরি ১২ হাজার টাকা করার কথা বলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ লুটপাটে জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যাংক পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হবে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

বয়স্ক ভাতা চালু, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ না করাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেবে ঐক্যফ্রন্ট। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রথার পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মনোনয়নের বিধান করে দুই মেয়াদের পর আর সংরক্ষিত আসন না রাখার কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর করা হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফার আলোকে সড়ক আইন সংশোধন করা হবে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বরত সাংবাদিক নিগ্রহের বিচারের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ প্রবাসী কর্মীদের বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের মজুরি বোর্ড নিয়মিত করা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাতে উৎসাহ প্রদানসহ সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ইন্টারনেট ও মোবাইল খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় করা, তাদের ওপর হামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করার কথা জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

৩৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা -সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেবে ঐক্যফ্রন্ট

ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়সসীমা তুলে দেবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম চলমান রাখবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের তালিকা করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। এমন ৩৫ দফা অঙ্গীকারের ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের ইশতেহার ঘোষণা করে। ইশতেহার পাঠ করেন জোটের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ঐক্যফ্রন্টের ৩৫ দফা ইশতেহারের মধ্যে আছে—রাষ্ট্র পরিচালনায় পরাজিতদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে। তারা নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করবে।

পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান রাখার পাশাপাশি তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হবে।

ইশতেহারে আরও আছে—মতপ্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা থাকবে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশে সরকারি বিধি-নিষেধ থাকবে না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার কাছে উন্নত নাগরিক সুবিধাসহ কয়েকটি শহর গড়ে তোলা হবে।

ঐক্যফ্রন্ট বলছে, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী বাদে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা থাকবে না। অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী ছাড়া আর কারও জন্য কোটা থাকবে না।

৩০ বছরের বেশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালুর জন্য রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দেখতে কমিশন গঠন, পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, ডাকসুসহ ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রশাসনের হাতে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি চালু হবে।

আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
আজ সোমবার সকালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সাজিদ হোসেন
ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্ট দুর্নীতি দমনে ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতির তদন্তের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান বাতিল করা হবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে ঐক্যফ্রন্টের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা, সব জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, সিসিইউ, আইসিইউ, এনআইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ক্যানসারের কেমোথেরাপি সেন্টার গড়ে তুলবে ঐক্যফ্রন্ট। ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ কমানোর কথাও বলেছে তারা। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর সংস্কারসহ খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক ধার্য করা হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, রিমান্ডে নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যেকোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদাপোশাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া মামলাজট কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপের সঙ্গে উচ্চ আদালতের বার্ষিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে। বিভাগীয় সদরে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স করা হবে ৭০ বছর।

কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো, শিল্পোন্নয়ন, ক্ষমতায় যাওয়ার দুই বছরের মধ্যেই শ্রমিকদের মজুরি ১২ হাজার টাকা করার কথা বলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ লুটপাটে জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যাংক পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হবে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

বয়স্ক ভাতা চালু, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ না করাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেবে ঐক্যফ্রন্ট। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রথার পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মনোনয়নের বিধান করে দুই মেয়াদের পর আর সংরক্ষিত আসন না রাখার কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর করা হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফার আলোকে সড়ক আইন সংশোধন করা হবে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বরত সাংবাদিক নিগ্রহের বিচারের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ প্রবাসী কর্মীদের বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের মজুরি বোর্ড নিয়মিত করা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাতে উৎসাহ প্রদানসহ সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ইন্টারনেট ও মোবাইল খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় করা, তাদের ওপর হামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করার কথা জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অন্য রকম এক প্রার্থী :

একাদশ সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে লড়ছেন দুই শিল্পপতিসহ মোট আটজন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে এক প্রার্থী দোকানে কাজ করেন। নাম তাঁর দেলওয়ার হোসেন। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে হাতমাইকে ভোট চাইছেন তিনি। নির্বাচনের খরচ সংগ্রহে লোকজনের কাছে চাইছেন সহায়তা।

দেলওয়ার হোসেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী। তাঁর প্রতীক কাস্তে। দেলওয়ারের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সাংসদ আক্কাস আলী সরকার, আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ আবদুল মতিন, বিএনপির তাসভীরউল ইসলাম। আক্কাস আলী ও তাসভীরউল ইসলাম শিল্পপতি।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উলিপুর উপজেলা সদরের গবার মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৬০ বছর বয়সী দেলওয়ার হোসেন হাতমাইকে কাস্তে প্রতীকে ভোট চাইছেন। তাঁর এই প্রচারণা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন পথচারী, দোকানদার, রিকশাওয়ালা, দিনমজুরসহ অনেক মানুষ। নির্বাচনের খরচের জন্য সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ২, ৫ ও ১০ টাকা করে অর্থ সহায়তা করতেও দেখা যায়।

দেলওয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি উলিপুর উপজেলা শহরের একটি বীজের দোকানে কাজ করেন। সেখান থেকে পাওয়া সামান্য বেতনেই চলে সংসার। স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে তাঁর। বাড়ি উপজেলার ধনবাড়ী ইউনিয়নে। সম্পদ বলতে ৬ শতক জমি ও ভিটাবাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া আর কিছু নেই তাঁর। এগুলোই নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৮ বছর ধরে সিপিবির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি। গরিব ও শ্রমিকশ্রেণির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যুক্ত তিনি।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘দারিদ্র্য দূরীকরণে ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। প্রধানমন্ত্রী এখন বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। অথচ কুড়িগ্রাম দেশের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা। সেই জেলার উন্নয়নে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? একমাত্র টেক্সটাইল মিলটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। কার স্বার্থে বন্ধ করা হয়েছে? ঢাকায় তো একটাও বন্ধ করা হয়নি। শেখ হাসিনা বলেছিলেন ক্ষমতায় গেলে আদমজী জুটমিল খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু খোলেননি। তাহলে শ্রমিক ভাইয়েরা যাবেন কোথায়?’

ড. কামালকে জামায়াত ও ‘ইতিহাস বিকৃতকারীদের’ সঙ্গ ত্যাগের আহ্বান :

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে জামায়াতে ইসলামী ও ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের’ সঙ্গ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে কয়েকজন তরুণ। এই মর্মে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণ প্রজন্ম’ সংগঠনের নামে রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি দেন তারা।

রোববার রাতে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতা।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কিছু তরুণ শিক্ষার্থী এসে স্মারকলিপি দিয়ে যান। স্মারকলিপিতে ড. কামালকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা, জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গ ত্যাগ করা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের সঙ্গ ত্যাগ করার আহ্বান জানান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ড. কামাল হোসেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গঠন করেছেন, যা সংবিধানের চার মূলনীতির মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ব্যক্তি হিসেবে কামাল হোসেনকে জামায়াতের সঙ্গ ছেড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনিতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের সর্ববৃহৎ অংশ বিএনপির ২০ দলীয় জোটের (বর্তমানে ২৩ দল) প্রতিনিধি। ওই জোটে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও রয়েছে।

আরও পড়ুন-

ফখরুলের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ :

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার রাত ৮টার দিকে রুহিমানপুর মাদারগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবু সায়েম পরাগ গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদর উপজেলা রুহিমানপুর মাদারগঞ্জ এলাকায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবু সায়েম পরাগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পোস্টার লাগাতে যায়।

এ সময় একই এলাকার যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লাগে। সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবু সায়েম পরাগ গুরুতর আহত হয়। তাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত আবু সায়েম পরাগ বলেন, বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুলের পোস্টার লাগালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ছেঁড়ে ফেলে বাধা দেয়। পরে পোস্টার লাগাতে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে আমার মাথা ফেটে যায়।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপানোর জন্য যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। আমরা বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার লাগানোর বিষয়ে কোনো বাধা দেইনি। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

ঠাকুরগাঁও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুরুজ্জামান নুরু বলেন, প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় হামলা ও বাধা দিচ্ছে। প্রশাসনকে জানালেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে আমরা সতর্ক রয়েছি।

ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা আজ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার আজ সোমবার সকালে হোটেল পূর্বাণীতে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। রোববার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন।

এ সময় ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর ক্ষমতাসীনদের অব্যাহত হামলার অভিযোগ তুলে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এ বিশিষ্ট আইনজীবী।

নির্বাচনের প্রচারের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণসহ নানা ঘটনা তুলে ধরতে পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। প্রচারের শুরু থেকেই বিভিন্ন স্থানে বিরোধী জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ করছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আশঙ্কা রয়েছে কি না- এই প্রশ্নের জবাবে কামাল বলেন, আশঙ্কা তো আছেই যে নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে দেয়া হবে না। তারা বুঝতে পারছে, মানুষের জনমত। আপনারাও (সাংবাদিক) এটা জানার চেষ্টা করলে জানতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমরা শুধু আপনাদের তথ্যগুলো দিচ্ছি। এ ব্যাপারে (বানচাল) আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আপনারা দেখুন। ‌‘আপনারাই তথ্য দিচ্ছেন, ভোটারদের হুমকি দেয়া হচ্ছে, যারা মিছিল করছেন, তাদের ওপর আক্রমন করা হচ্ছে, প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে, প্রার্থীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে।’

ড. কামাল বলেন, এসব ঘটনার পরে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয় না। অবাক কাণ্ড! যারা শিকার হচ্ছেন আক্রমণের, তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, আর যারা আক্রমণ করছে, তারা বহাল তবিয়তে আছে।

প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে এসব ঘটনা যদি ঘটতে থাকে, স্বাভাবিকভাবে আশঙ্কা হবে ভোটের দিন কী হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে কামাল বলেন, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য। আপনারা (গণমাধ্যম) গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন, যাতে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, জগলুল হায়দার আফ্রিক, নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী, বিকল্পধারার নুরুল আমিন পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

দেশসংবাদ

অন্য রকম এক প্রার্থী :

একাদশ সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে লড়ছেন দুই শিল্পপতিসহ মোট আটজন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে এক প্রার্থী দোকানে কাজ করেন। নাম তাঁর দেলওয়ার হোসেন। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে হাতমাইকে ভোট চাইছেন তিনি। নির্বাচনের খরচ সংগ্রহে লোকজনের কাছে চাইছেন সহায়তা।

দেলওয়ার হোসেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী। তাঁর প্রতীক কাস্তে। দেলওয়ারের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সাংসদ আক্কাস আলী সরকার, আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ আবদুল মতিন, বিএনপির তাসভীরউল ইসলাম। আক্কাস আলী ও তাসভীরউল ইসলাম শিল্পপতি।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উলিপুর উপজেলা সদরের গবার মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৬০ বছর বয়সী দেলওয়ার হোসেন হাতমাইকে কাস্তে প্রতীকে ভোট চাইছেন। তাঁর এই প্রচারণা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন পথচারী, দোকানদার, রিকশাওয়ালা, দিনমজুরসহ অনেক মানুষ। নির্বাচনের খরচের জন্য সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ২, ৫ ও ১০ টাকা করে অর্থ সহায়তা করতেও দেখা যায়।

দেলওয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি উলিপুর উপজেলা শহরের একটি বীজের দোকানে কাজ করেন। সেখান থেকে পাওয়া সামান্য বেতনেই চলে সংসার। স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে তাঁর। বাড়ি উপজেলার ধনবাড়ী ইউনিয়নে। সম্পদ বলতে ৬ শতক জমি ও ভিটাবাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া আর কিছু নেই তাঁর। এগুলোই নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৮ বছর ধরে সিপিবির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি। গরিব ও শ্রমিকশ্রেণির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যুক্ত তিনি।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘দারিদ্র্য দূরীকরণে ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। প্রধানমন্ত্রী এখন বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। অথচ কুড়িগ্রাম দেশের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা। সেই জেলার উন্নয়নে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? একমাত্র টেক্সটাইল মিলটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। কার স্বার্থে বন্ধ করা হয়েছে? ঢাকায় তো একটাও বন্ধ করা হয়নি। শেখ হাসিনা বলেছিলেন ক্ষমতায় গেলে আদমজী জুটমিল খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু খোলেননি। তাহলে শ্রমিক ভাইয়েরা যাবেন কোথায়?’

ড. কামালকে জামায়াত ও ‘ইতিহাস বিকৃতকারীদের’ সঙ্গ ত্যাগের আহ্বান :

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে জামায়াতে ইসলামী ও ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের’ সঙ্গ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে কয়েকজন তরুণ। এই মর্মে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণ প্রজন্ম’ সংগঠনের নামে রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি দেন তারা।

রোববার রাতে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতা।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কিছু তরুণ শিক্ষার্থী এসে স্মারকলিপি দিয়ে যান। স্মারকলিপিতে ড. কামালকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা, জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গ ত্যাগ করা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের সঙ্গ ত্যাগ করার আহ্বান জানান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ড. কামাল হোসেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গঠন করেছেন, যা সংবিধানের চার মূলনীতির মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ব্যক্তি হিসেবে কামাল হোসেনকে জামায়াতের সঙ্গ ছেড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনিতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের সর্ববৃহৎ অংশ বিএনপির ২০ দলীয় জোটের (বর্তমানে ২৩ দল) প্রতিনিধি। ওই জোটে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও রয়েছে।

আরও পড়ুন-

ফখরুলের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ :

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার রাত ৮টার দিকে রুহিমানপুর মাদারগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবু সায়েম পরাগ গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদর উপজেলা রুহিমানপুর মাদারগঞ্জ এলাকায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবু সায়েম পরাগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পোস্টার লাগাতে যায়।

এ সময় একই এলাকার যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লাগে। সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবু সায়েম পরাগ গুরুতর আহত হয়। তাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত আবু সায়েম পরাগ বলেন, বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুলের পোস্টার লাগালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ছেঁড়ে ফেলে বাধা দেয়। পরে পোস্টার লাগাতে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে আমার মাথা ফেটে যায়।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপানোর জন্য যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। আমরা বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার লাগানোর বিষয়ে কোনো বাধা দেইনি। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

ঠাকুরগাঁও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুরুজ্জামান নুরু বলেন, প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় হামলা ও বাধা দিচ্ছে। প্রশাসনকে জানালেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে আমরা সতর্ক রয়েছি।