সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশ নেওয়া সম্ভব !

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিছুদিন পরেই। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের মাঠে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় কারাগারে থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, সাবেক মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, বর্তমান ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

এমন বাস্তবতায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না। সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা হয় ।

আইনজ্ঞরা বলছেন সাজা স্থগিত হলে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। সে ক্ষেত্রে কারাগারের ভেতরে থেকেও নির্বাচন করতে পারবেন খালেদা জিয়ার।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রার্থীর অযোগ্যতা নিয়ে সংবিধানে যা বলা আছে,

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৬ (২) এ বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি (ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন।

(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন।

(গ) তিনি কোন বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন

(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যুন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।

(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যে কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন।

(চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করিতেছে না, এমন পদ ব্যতিত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা

(ছ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন।

৩[(২ক) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফাতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হইয়া কোন বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিলে এবং পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি-

(ক) দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিলে; কিংবা

(খ) অন্য ক্ষেত্রে, পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিলে-

এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন না।]

৪ (৩) এই অনুচেছদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন ব্যক্তি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী হইবার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন না।]

(৪) কোন সংসদ-সদস্য তাহার নির্বাচনের পর এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হইয়াছেন কিনা কিংবা এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে কিনা, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

(৫) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফার বিধানাবলী যাহাতে পূর্ণ কার্যকারিতা লাভ করিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাদানের জন্য সংসদ যেরূপ প্রয়োজন বোধ করিবেন, আইনের দ্বারা সেইরূপ বিধান করিতে পারিবেন।

খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, নৈতিক স্খলনের জন্য কারও যদি দুই বছরের অধিক সাজা হয়, তাহলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করব। আপিলে সাজা স্থগিত চাইব। সাজা স্থগিত হলে তিনি (খালেদা জিয়া) নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কোনো সমস্যা হবে না।’

নির্বাচনে গ্রেফতারের ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি ঐক্যফ্রন্টের

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও জেএসডি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, সংসদ নির্বাচনে গ্রেফতারের ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচনে পুলিশ ও আনসারের যথেষ্ঠ ক্ষমতা নেই।

এজন্য কোনো বিশৃঙ্খলা হলে সেনাবাহিনী যাতে গ্রেফতার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে সেটা আমরা বলেছি। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তারা। সিইসির সভাপতিত্বে বৈঠকটি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

আ স ম রব বলেন, আমাদের প্রস্তাব উনারা (ইসি) বিবেচনায় নিয়েছেন। আমরা বলেছি, ইসি তো নিরপেক্ষ সংস্থা। আরও বলেছি নির্বাচনের পরও অর্থাৎ ২০১৯ সালের পরও তো দেশে আপনাদের থাকতে হবে। সেই কথাটা ভেবেই আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন।

ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে বলেছি আমরা চাই না, কেউ চায় না ভোটাররাও চায় না নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হোক। পোলিং এজেন্টদেরও নিরাপত্তা দিতে হবে। নির্বাচনের আগে ও পরে সাদা কাগজে তাদের কাছ থেকে কোনো সই নেওয়া যাবে না। ফল গণনার পর প্রথমেই তাদের দেখাতে হবে।

জেএসডি সভাপতি বলেন, ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ আছে। সেই সংলাপের ফলাফল জেনেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

এর আগে বৈঠকে যোগ দিতে আ স ম আব্দুর রবের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন ভবনে আসে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরকতউল্লাহ বুলুসহ আরো পাঁচ নেতা।

সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশ নেওয়া সম্ভব !

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিছুদিন পরেই। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের মাঠে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় কারাগারে থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, সাবেক মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, বর্তমান ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

এমন বাস্তবতায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না। সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা হয় ।

আইনজ্ঞরা বলছেন সাজা স্থগিত হলে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। সে ক্ষেত্রে কারাগারের ভেতরে থেকেও নির্বাচন করতে পারবেন খালেদা জিয়ার।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রার্থীর অযোগ্যতা নিয়ে সংবিধানে যা বলা আছে,

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৬ (২) এ বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি (ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন।

(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন।

(গ) তিনি কোন বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন

(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যুন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।

(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যে কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন।

(চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করিতেছে না, এমন পদ ব্যতিত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা

(ছ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন।

৩[(২ক) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফাতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হইয়া কোন বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিলে এবং পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি-

(ক) দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিলে; কিংবা

(খ) অন্য ক্ষেত্রে, পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিলে-

এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন না।]

৪ (৩) এই অনুচেছদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন ব্যক্তি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী হইবার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন না।]

(৪) কোন সংসদ-সদস্য তাহার নির্বাচনের পর এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হইয়াছেন কিনা কিংবা এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে কিনা, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

(৫) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফার বিধানাবলী যাহাতে পূর্ণ কার্যকারিতা লাভ করিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাদানের জন্য সংসদ যেরূপ প্রয়োজন বোধ করিবেন, আইনের দ্বারা সেইরূপ বিধান করিতে পারিবেন।

খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, নৈতিক স্খলনের জন্য কারও যদি দুই বছরের অধিক সাজা হয়, তাহলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করব। আপিলে সাজা স্থগিত চাইব। সাজা স্থগিত হলে তিনি (খালেদা জিয়া) নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কোনো সমস্যা হবে না।’

সংবিধানে বলা আছে কেউ দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলে নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তাহলে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধানে নাগরিকের অধিকারের কথাও বলা আছে।’

কারাগারের ভেতর থেকে সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মজুমদার বলেন, ‘সাজা সাসপেনশন (স্থগিত) হলে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার কথা উল্লেখ করেন।

খালেদা জিয়ার সাজা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অভিযুক্ত হলে দুই বছরের অধিক সাজা হলে সাজার পরবর্তী পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন- এই হলো বিধান।’

শফিক আহমেদ বলেন, ‘কিন্তু সাজাটি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত যেতে হবে। নিম্ন আদালতে সাজা হলে হাইকোর্টে আপিল হবে, তারপর আবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল হবে। সে পর্যন্ত গিয়ে যদি সাজা টিকে যায়, তাহলে তিনি সাজা খাটার পরবর্তী পাঁচ বছর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হবেন।’

দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, ‘খালেদা জিয়া দুটি মামলায় অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত। বিচারিক আদালতে দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন ১২ বছরের। উচ্চ আদালতে একটি ৫ বছর সাজা বাড়ানো হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছন। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে কারও নৈতিক পদস্খলের কারণে দুই বছরের সাজা হলে তিনি সাজা খাটার পরবর্তী ৫ বছর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আমি মনি করি খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’

তবে এ ক্ষেত্রে ভিন্ন নজির দেখা যায়। অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বিশেষ জজ আদালত ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই এক রায়ে ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে ১৩ বছরের সাজা দেয়। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়ন পত্র দাখিল করলে ১৩ বছরের সাজার কারণে ৩ ডিসেম্বর চাঁদপুরের রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইসিতে আপিল করলেও ইসি রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মহিউদ্দীন খান আলমগীর ২০০৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করলে আদালত সেদিনই তার আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন। কিন্তু মহিউদ্দিন খান আলমগীরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে ইসিকে নির্দেশ দেন চেম্বার বিচারপতি। পরে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

আবার ২০০৭ সালের ১৩ জুন অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’র সহকারী পরিচালক নূরুল আলম মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ এনে সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন। সে মামলায় ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মায়াকে ১৩ বছর কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মায়া চৌধুরী। ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর শুনানি শেষে ১৩ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে খালাসের রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এ রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের আবেদনের পর ২০১৫ সালের ১৪ জুন মায়াকে হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় বাতিল করে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে হাইকোর্টে নতুন করে আপিল শুনানির নির্দেশও দেওয়া হয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা আপিলের শুনানি শেষে এ মামলাটি হাইকোর্ট পুনরায় শুনানির আদেশ দেয়। শুনানি শেষে আদালত চলতি বছরের ৮ অক্টোবর মায়া চৌধুরীকে এ মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশ নেন এবং এখন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বানচাল করতে পারবেনা: আব্দুর রাজ্জাক

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপিকে সাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। যতই তার চেষ্টা করুক না কেন তা কোনদিন সফল হবে না। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তবে তাদের অবস্থা হবে মুসলিম লীগের মত। এদেশে তাদের কোন অস্তিত্বই থাকবে না।

টাঙ্গাইলের মধুপুর কলেজ মাঠে উপজেলা চেয়ারম্যান সরোয়ার আলম আবুর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঐক্যফ্রন্টে যে কয়টি দল রয়েছে সেগুলো খুব ছোট ছোট দল। বাংলাদেশের জনগণের কাছে তাদের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই।

খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তির দেয়ার আওয়ামী লীগ সরকারের কোন সুযোগ নেই। তাকে মুক্তি বা খালাস দেয়া আইনের বিষয়। উচ্চ আদালত যদি মনে করেন খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেবে সেক্ষেত্রে তিনি তার কোন আত্মীয়স্বজন অসুস্থ থাকলে দু-একদিনের জন্য মুক্তি দিতে পারে। অথবা খালেদা জিয়া যদি অসুস্থ হন তিনি যদি চিকিৎসার জন্য বিদেশ চলে যাবেন তাহলেও তাকে প্যারলে মুক্তি দেয়া হতে পারে।

থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইনলাম, মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরোয়ার আলম আবু, পৌর মেয়র মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।

‘আজ আমি অনেক সৌভাগ্যবান, আমার আর চিন্তা নেই’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন কাদের সিদ্দিকীকে পাশে বসিয়ে বললেন, আজ আমি অনেক সৌভাগ্যবান। আমার আর কোনো চিন্তা নেই।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদানের ঘোষণা শেষে সোমবার দুপুরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মতিঝিলে ড. কামালের সাথে দেখা ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যান৷

এসময় ড. কামাল হোসেন বলেন, এমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন, ঝুঁকি নিয়েছেন। এখন আমার আর কোনো চিন্তা নেই। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ায় আমরা খুবই গর্বিত।

ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, আমি এখন অবসরে চলে গেলেও আমার আর কোনো অতৃপ্তি থাকবে না।

এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার ঘোষণা দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

সোমবার দুপুরে মতিঝিলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের সাথেও একাত্মতা প্রকাশ করেন তিনি।

শোকরানা মাহফিলের মোড়কে শাপলার হত্যাকাণ্ড অস্বীকারের আয়োজন : বাবুনগরী

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করাকে উপলক্ষ করে শোকরানা মাহফিলের মোড়কে ৫ মে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড অস্বীকারের আয়োজন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আল্লাম বাবুনগরী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘শোকরানা মাহফিল’ এ প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, হেফাজতের পক্ষ থেকে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে জানতে পেরেছি সোহরাওয়ার্দীতে অনুষ্ঠিত শোকরিয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জয়নাল আবেদীন ‘শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি, এটা মিথ্যা প্রচারণা’ এমন বক্তব্য নির্জলা মিথ্যাচার, নির্লজ্জতা ও সীমাহীন ঔদ্ধত্বপূর্ণ।

বাবুনগরী বলেন, ‘শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি’ মর্মে তার দেয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের আলেম সমাজ ও তাওহিদি জনতা চরমভাবে ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত।

দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিডিয়ার বদৌলতে ২০১৩ সালের ৫ মে সন্ধ্যায় ও রাতে সরকারের প্রশাসন কর্তৃক শাপলা চত্বরে মহান আল্লাহ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের শাস্তির দাবিতে অবস্থানরত শান্তিপ্রিয় আলেম সমাজ ও তাওহিদি জনতার ওপর নির্মম ও নিষ্ঠুর হামলা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে। যাতে অনেক মুসলমান শাহাদাতবরণ করেন এবং হাজার হাজার নবীপ্রেমিক জনতা আহত হন, পঙ্গুত্ববরণ করেন বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়।

বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব বলেন, আমি স্বয়ং সেই রাতে ব্যাপক নিগ্রহের শিকার হই এবং পরের দিন সকালে আমিসহ অনেকেই গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন আরও অনেক আলেম, মাদ্রাসাছাত্র ও সাধারণ মানুষ। ওইদিন শাপলা চত্বরে অবস্থানরত লাখ লাখ তাওহিদি জনতা, দেশি-বিদেশি মিডিয়াকর্মী ও ঢাকাবাসী এ হামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী।

শুধু তাই নয়, সন্ধ্যার আগ থেকেই সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উগ্রসদস্যদের বর্বরোচিত আক্রমণে অবরোধকারী তাওহিদি জনতার গুলিবিদ্ধ লাশ নানাদিক থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আসতে থাকে। যার ভিডিও ফুটেজ প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে রয়েছে। প্রায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এ খবর খোলামেলা প্রকাশিত হয় বলে বিবৃতিতে দাবি করেন বাবুনগরী।

তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সে ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা নিঃসন্দেহে চরম অমানবিক, মজলুম নবীপ্রেমিক জনতার সঙ্গে উপহাস আর শহীদদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব বলেন, হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে যেখানে নিঃশ্বর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল, সেখানে সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ও দম্ভোক্তির শামিল।

তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দীতে উপস্থিত লাখ লাখ ইলমে নববীর ধারক বাহক, দেওবন্দিয়ত ও হক্কানিয়তের নিশানবরদার উলামায়ে কেরাম, বুজুর্গানে দীন ও দ্বীনের রাহবররা এত বড় ডাহামিথ্যা বক্তব্য কী করে সহ্য করলেন- তা ভেবে পাচ্ছি না। এত বড় মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করতে দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে কারো অন্তরে ঈমানি তরঙ্গ ফুঁসে উঠল না, এটাই তাজ্জবের বিষয়। তাহলে এটা কী কওমি সনদের স্বীকৃতির বিনিময়ে শোকরানা সভার মোড়কে শাপলার হত্যাকাণ্ডের অস্বীকারের আয়োজন?

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, সবার মনে রাখা প্রয়োজন- ৫ মে শাপলার শাহীদানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমরা কেউ আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পাব না।

ভয়ঙ্কর অপরাধীদের ফেরেশতা বানানোর পাঁয়তারা : ইনু

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভয়ঙ্কর অপরাধীদের ফেরেশতা বানানোর পাঁয়তারা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কচুক্ষেতে মিলি সুপার মার্কেটের সামনের চত্বরে জাসদের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা বলা আর খালেদা-তারেকের মুক্তি দাবি আসলে নির্বাচনকে জিম্মি করে ভয়ঙ্কর অপরাধীদের ফেরেশতা বানানোর পাঁয়তারা। এ কারণেই ঐক্যফ্রন্ট তাদের সাত দফা পরিষ্কার করতে পারেনি, আমার পাঁচ প্রশ্নের জবাবও দিতে পারেনি।’

তথ্যমন্ত্রী এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন পুনরায় উত্থাপন করে বলেন, ‘রাজবন্দীর সংজ্ঞা কী, রাজবন্দীর তালিকা কীভাবে তৈরি করবেন এবং তাতে কাদের নাম থাকবে? রাজনৈতিক মামলার সংজ্ঞা কী, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় ব্যক্তি খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া কী? সংবিধানের কোনো জায়গায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর বিধান আছে? সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার নিয়ম কী? আইনের শাসন এবং নল, যার হাতে তার কাছে কি বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া যায়?’

এ ছাড়া গণতন্ত্রের বিকল্প সামরিকতন্ত্র নয়, মুক্তিযোদ্ধার বিকল্প রাজাকার নয়, উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প আগুন-সন্ত্রাসের নেত্রী খালেদা জিয়া নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে শান্তি আর উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে রাজাকার-জামায়াত সমর্থিত বিএনপিকে ক্ষমতার বাইরেই রাখতে হবে, শেখ হাসিনার সরকারকেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে।’

এ সময় কাফরুল থানা জাসদ সভাপতি রাস মাসুদউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় জাসদ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা ১৫ আসনে মুহাম্মদ সামছুল ইসলাম সুমন, ঢাকা ১৭ আসনে মীর হোসাইন আখতার ও ঢাকা ১৪ আসনে নূরুল আখতারের নাম প্রস্তাব করেন হাসানুল হক ইনু।

সিইসিকে মান্না: মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দল। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বৈঠকে বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনের প্রতি কোনো অনাস্থার কথা বলতে আসেননি। তবে এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা নেই।

মান্নার বক্তব্যের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন, আপনাদের (রাজনৈতিক দল) ওপরও তো জনগণের আস্থা নেই। সিইসির এম বক্তব্যের পর মান্না উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ‘মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ।’

জানা যায়, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের প্রতি মানুষের আস্থা আছে কি না এ নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। তবে বৈঠকের পরে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় নয়, ভেতরে গলার আওয়াজ এমনই ছিল।

বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জাসদের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম রবের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বরকতউল্লা বুলু, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ ও সুলতান মনসুর।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। এ সময় অপর চার কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদত হোসেন চৌধুরী ও কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপিকে রাস্তায় উঠতে দেয়া হবে না : খালিদ

দ্বিতীয় দফায় বুধবার ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের পর বিএনপি কোনো বিশৃঙ্খলা করলে তাদের রাস্তায় উঠতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে সোমবার জেলার বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খালিদ বলেন, ‘নির্বাচন হবে। কিন্তু কেউ যদি সে নির্বাচন বানচাল করতে রাজপথে নামার চেষ্টা করে তাদের সমুচিত জবাব দেয়া হবে। কোনো রকম বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য বরদাশত করা হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের চলমান সংলাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আলোচনা হয়েছে, আবারো আলোচনা হবে। কিন্তু সাংবিধানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে আপনারা যদি ব্যর্থ হন সে দায় আওয়ামী লীগ নেবে না। প্রধানমন্ত্রী উদার মনে যখন আলোচনার টেবিলে বসেছেন; সেখান থেকে আপনারা রাস্তায় আসার চেষ্টা করবেন না। জনগণ তা মেনে নেবে না।’

ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে খালিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন তিনি সংবিধান বিশেষজ্ঞ পদবী বিক্রি করে খেয়েছেন। সে ধারণা আজ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আজকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় তিনি হেরে গিয়ে আরো বিশেষজ্ঞ নিয়ে মিটিং করছেন। ড. কামাল আইন ও রাজনীতি দুই ক্ষেত্রেই ব্যর্থ।
খালিদ বলেন, আমরা ন্যায়, সত্য ও সংবিধানের পক্ষে আছি। আমাদের আছে সাহসী নেতৃত্ব। সকল ভেদাভেদ ভুলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের বিজয় অনিবার্য।

বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ লতিফের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর সঞ্চালনায় জনসভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কাশেম অরু, পৌর মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগর, সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সবুর, অধ্যাপক রিয়াজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রমাকান্ত রায়, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ইদ্রিস আলী, ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ, মোসাদ্দেক হোসেন, মুকুল চন্দ্র রায়, আমজাদ হোসেন, সবুল চন্দ্র রায়, ফারুক আজম, নাজমুল হোসেন স্বপন প্রমুখ।

তফসিল পেছানোর দাবিতে ষড়যন্ত্র দেখছেন ইনু

যারা নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি তুলেছেন, তারা আসলে নির্বাচন বানচাল করারই ষড়যন্ত্র করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

সোমবার বিকালে রাজধানীর কচুক্ষেত এলাকায় মিলি সুপার মার্কেটের সামনের চত্বরে জাসদের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ইনু এই মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একইসাথে নির্বাচন-গণতন্ত্রের কথা বলা আর খালেদা-তারেকের মুক্তি দাবি আসলে নির্বাচনকে জিম্মি করে ভয়ংকর অপরাধীদের ফেরেশতা বানানোর পাঁয়তারা। এ কারণেই ঐক্যফ্রন্ট তাদের সাত দফা পরিষ্কার করতে পারেনি, আমার পাঁচ প্রশ্নের জবাবও দিতে পারেনি।’

জাসদের কাফরুল থানার সভাপতি রাস মাসুদউর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় জাসদ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৫ আসনে মুহাম্মদ সামছুল ইসলাম সুমন, ঢাকা-১৭ আসনে মীর হোসাইন আখতার ও ঢাকা ১৪ আসনে নূরুল আখতারের নাম প্রস্তাব করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এরা সামনের কাতারে থেকে বিএনপি-জামায়াতের জঙ্গি তা-ব মোকাবেলা করেছেন।’

‘গণতন্ত্রের বিকল্প সামরিকতন্ত্র নয়, মুক্তিযোদ্ধার বিকল্প রাজাকার নয়, উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প আগুনসন্ত্রাসের নেত্রী খালেদা জিয়া নয়’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে শান্তি আর উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে রাজাকার-জামায়াত সমর্থিত বিএনপিকে ক্ষমতার বাইরেই রাখতে হবে, শেখ হাসিনার সরকারকেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে।’

জাসদ সভাপতি বলেন, ‘সরকারের কাছে নয়, নির্বাচন-তফসিল পেছানোর দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে করুন, খালেদা-তারেকের মুক্তির দাবির জন্য আদালতের বারান্দায় যান।’

তথ্যমন্ত্রী এসময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন পুনরায় উত্থাপন করে বলেন, ‘রাজবন্দির সংজ্ঞা কী, রাজবন্দির তালিকা কীভাবে তৈরি করবেন এবং তাতে কাদের নাম থাকবে? রাজনৈতিক মামলার সংজ্ঞা কী, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় ব্যক্তি খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া কী? সংবিধানের কোন জায়গায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর বিধান আছে? সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার নিয়ম কী? আইনের শাসন এবং নল যার হাতে তার কাছে কি বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া যায়?’