নির্বাচনের অনিয়ম আড়াল করতে জামায়াত ইস্যু এখন সামনে আনা হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে টানাপোড়েন চলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে। স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটিকে ছাড়ার চাপে রয়েছে ফ্রন্টের নেতৃত্বে থাকা বিএনপি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর জোটের অন্যতম শরিক ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে। বিদেশিদের দিক থেকেও একই চাপ রয়েছে।

বিএনপির মধ্যম সারির অনেক নেতা মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকায় বিএনপি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের জোট থেকে বের করে দেয়া উচিত।



তবে ভোটের হিসাবসহ নানা কৌশলগত কারণ দেখিয়ে দলটিকে দূরে ঠেলে দিতে চাইছে না বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। জামায়াত নেতারা বলছেন, জোট হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের। সুতরাং বিএনপি চেয়ারপারসনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন, আর কেউ নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জামায়াতকে নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও নানা রকমের সংকটে ছিল বিএনপি। ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরামসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে জোট গড়তে দেরি করে মূলত জামায়াতের কারণে।

একপর্যায়ে ২০ দলীয় জোটের বাইরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোট গড়া হলেও জামায়াত নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে আসন ছেড়ে দেয়ায় নির্বাচনের পর অসন্তোষ ব্যক্ত করেন ড. কামাল হোসেন।

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন শনিবার বলেছেন, নির্বাচনে জামায়াতের ২২ নেতাকে যে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হবে, তা তিনি জানতেন না।



জামায়াতের সঙ্গে একই প্রতীকে ভোট করাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জামায়াত ছাড়তে বিএনপিকে চাপ দেয়া যেতে পারে। অবশ্য ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের নেতারা ড. কামালের বক্তব্যের বিরোধিতা না করলেও ২০ দলীয় জোটের শরিকরা একে নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, জামায়াত ছাড়তে দেশি-বিদেশি চাপ আছে, এটা ঠিক। কিন্তু এটাও সত্য একাদশ সংসদ নির্বাচনের অনিয়ম আড়াল করতে জামায়াত ইস্যু এখন সামনে আনা হয়েছে।

জামায়াতের সঙ্গে ১৯৯৯ সাল থেকে বিএনপির জোট। এই জোট আদর্শিক নয়, আন্দোলন ও ভোটের জোট। ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে গত বছর। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট রয়েছে, তা জেনেই ঐক্যফ্রন্টে এসেছে শরিক দলগুলো। জামায়াত ঐক্যফ্রন্টের নয়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক। তাই এ নিয়ে বিতর্ক অহেতুক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টে কোনো ফাটল ধরার সুযোগ নেই। এই জোট অটুট থাকবে।



কারণ আমরা অভিন্ন দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছি। জামায়াত নিয়ে গণফোরামের সভাপতি হিসেবে ড. কামাল হোসেন বক্তব্য দিয়েছেন। তা ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নয় বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ড. কামাল হোসেনের জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি না করার প্রস্তাবকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।

একই সঙ্গে তার কাছে আমাদের দাবি, তিনি (ড. কামাল) যেন আওয়ামী লীগের কাছে আহ্বান জানান, যেসব জামায়াত নেতাকে আওয়ামী লীগ ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে, যাদের ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ে চেয়ারম্যান, মন্ত্রী-এমপি বানিয়েছে তাদের যেন বাদ দেয়া হয়। তাতে জনগণ খুশি হবে। তিনি বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশন দিয়েছে। হাইকোর্টেরও একটি রায় আছে।

এরপর জামায়াতকে কেন আওয়ামী লীগ বাদ দিচ্ছে না। এখন শুনছি দল হিসেবে জামায়াতের বিচার করতে আইন সংশোধন করা হবে। এটা নিয়েও তারা রাজনীতি করতে চায়।



সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময়ই জামায়াতকে নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন সামনে চলে আসায় কিছুটা গোঁজামিল দিয়েই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়।

পরে বিষয়টি সামনে চলে আসে নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে। বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দেয়ায় তা মেনে নিতে পারেননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতা।

এ নিয়ে মতবিরোধ ছিল বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যেও। বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, জামায়াত প্রথমে তাদের জানিয়েছিল তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করবেন।



বিএনপিও সিদ্ধান্ত নেন তাদের আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী দেবে না, যা জামায়াত নেতাদের জানিয়েও দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জামায়াত তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই একমত ছিলেন না। পরে স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্যের কারণে ২২ আসনে জামায়াত নেতাদের ধানের শীষের প্রতীক দেয়া হয়।



এ নিয়ে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গণফোরামের এক নেতাদের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী ওই নেতার বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, বিএনপি-জামায়াতের কোনো প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়নি। তারা সবাই বিএনপির প্রার্থী। এ নিয়েও সে সময় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল।

বিএনপির মধ্যম সারির অনেক নেতা জামায়াতকে জোটে রাখার বিপক্ষে। ছাত্রদলের একজন সহ-সভাপতি যুগান্তরকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি এবং তরুণ প্রজন্ম মনে করে জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধীদের দল।



তরুণ ভোটাররাও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া এবং বিএনপিদলীয় ধানের শীষ প্রতীক দেয়াকে ভালো চোখে দেখেননি। বিএনপিসহ ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক বেশি মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। অথচ জোটে জামায়াত থাকার কারণে আওয়ামী লীগসহ বাম দলের নেতারাও নানা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে।

ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ড. কামাল সাহেবের বক্তব্য আমরা পূর্ণ সমর্থন করি। আমাদের ঐক্যফ্রন্টের মূল কথাই ছিল আমরা জামায়াতকে নেব না।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার অধিকার থাকলে জামায়াতেরও আছে। কিন্তু অন্যরা মানবতাবিরোধী অভিযোগে অভিযুক্ত নয়। জামায়াত ক্ষমা চাইলে তাদের রাজনীতি করতে দেয়া উচিত।



তিনি বলেন, একটি জিনিস প্রমাণিত ভোটের বাজারে জামায়াতকে দিয়ে বিএনপি কোনো লাভবান হয়নি। এখন জামায়াত যদি ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি করতে চায় তা হলে আমরা ভেবে দেখব। তা না হলে বিএনপির উচিত তাদের বর্জন করা।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, জামায়াত ধানের শীষে নির্বাচন করলেও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নেই। তাই তারা এ বিষয়টির সুরাহা চান। জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, আমরা বিএনপির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট করেছি, ২০ দলের সঙ্গে নয়। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় বিএনপিই জামায়াত ত্যাগ করবে।

জামায়াত সূত্র জানায়, জামায়াত ছাড়ার চাপ যেমন বিএনপিতে রয়েছে, তেমনি ২০ দলীয় জোট ছাড়ার চাপ রয়েছে জামায়াতেও। দলটির একটি অংশ মনে করে, শুধু বিএনপির সঙ্গে জোটের কারণে গত ১০ বছর তারা সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাদের নেতাকর্মীরা বাড়িতে থাকতে পারেন না। গত ১০ বছরে বহু নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।



গ্রেফতার হয়েছেন দুই লাখের অধিক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে অন্তত ২৫ হাজার। ২০১৩ ও ২০১৫ সালের আন্দোলনে বিএনপির পাশে জামায়াত ছাড়া আর কেউ দাঁড়ায়নি। এত ত্যাগ শিকারের পরও বিএনপির কাছ থেকে তারা মূল্যায়ন পাননি। তাদের মতে, যেহেতু জোট হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের।

তিনি এখন কারাগারে বন্দি আছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন, আর কেউ নয়। এছাড়াও জোট না ছাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে নিজে থেকে জোট ছাড়লেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের গুজব তৈরি করবে, যা জামায়াতের রাজনীতি শেষ করে দিতে পারে



এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, নির্বাচন ও রাজনীতির জন্য জোট হয়েছে। আমরা তো জোটে আছি।

ভেঙে দেয়ার বিষয়ে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই জোট অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, এই জোটের প্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে আমাদের নেতারা আলোচনা করেই জোটটি করেছিলেন। তাই শীর্ষ নেতারা কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত জোট থাকবে।

সুত্রঃ https://www.jugantor.com/…/ঐক্যফ্রন্টে-টানাপোড়েন-জ…

জোট ফ্র‌ন্টের স‌ঙ্গে বৈঠ‌কের পর উপজেলা ভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ প্রতিদিন : আসন্ন উপ‌জেলা নির্বাচ‌ন নি‌য়ে দ‌লীয় সিদ্ধা‌ন্তের আগে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের শ‌রিক‌দের মতামত জান‌বে বিএন‌পি। এজন্য শীঘ্রই এ দু‌’টি জো‌টের স‌ঙ্গে বৈঠ‌কের সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। মঙ্গলবার রা‌তে রাজধানীর গুলশা‌নে বিএন‌পি চেয়ারপার্সনের রাজ‌নৈ‌তিক কার্যাল‌য়ে দ‌লের নী‌তি‌ নির্ধারক‌দের এক বৈঠ‌কে এ সিদ্ধান্ত হয়। রাত ৭টায় এই বৈঠক শুরু হ‌য়ে চ‌লে সা‌ড়ে ৯ টা পর্যন্ত।



এছাড়া নির্বাচ‌নে অনিয়‌মের অভি‌যোগ এনে শীঘ্রই ধা‌নের শী‌ষের প্রার্থীরা মামলা করবে। এজন্য সব তথ্য-প্রমান প্রস্তুত রাখার জন্য প্রার্থী‌দের প্র‌তি নির্দেশনা দেয়ার বিষ‌য়েও বৈঠ‌কে আলোচনা ক‌রেন নী‌তি‌ নির্ধারকরা।



সূত্র জানায়, ‌বিএন‌পির নী‌তি ‌নির্ধারক‌দের বৈঠ‌কে আগা‌মী ১৯ জানুয়ারি দ‌লের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূ‌চির বিষ‌য়ে বিস্তা‌রিত আলোচনা হয়। দ‌লের প্র‌তিষ্ঠাতার জন্ম‌দিন উপল‌ক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের পক্ষ থেকে অন্তত সাত থে‌কে আট দিনের কর্মসূচি নেওয়ার বিষ‌য়ে প্রাথ‌মিকভা‌বে সিদ্ধান্ত হ‌য়ে‌ছে।
সূত্র আরও জানায়, বৈঠ‌কে উপ‌জেলা নির্বাচন নি‌য়ে বিএন‌পির নী‌তি‌নির্ধারকরা তা‌দের মতামত দেন। বে‌শিরভাগ সদস্য উপ‌জেলা নির্বাচ‌নে অংশ না নেওয়ার বিষ‌য়ে পরামর্শ দেন। সে‌ক্ষে‌ত্রে দ‌লের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হ‌তে চাই‌লে বিএন‌পি আপ‌ত্তি কর‌বে না ব‌লেও নী‌তি ‌নির্ধারকরা বৈঠ‌কে জানান। ত‌বে এ ব্যপা‌রে দ‌লীয় সিদ্ধা‌ন্তের আগে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের শ‌রিক‌দের মতামত নেয়ার বিষ‌য়ে সিদ্ধান্ত হয়।



এদি‌কে, বৈঠ‌কের বিষ‌য়ে বিএন‌পির একজন নী‌তি‌নির্ধারক ব‌লেন, রবিবার পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর স্থাপিত ঢাকার নয় নম্বর বিশেষ জজ আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির সময় আমা‌দের চেয়ারপার্সন বেগম খা‌লেদা জিয়ার স‌ঙ্গে অল্প কিছুক্ষন কথা ব‌লে‌ছেন মহাস‌চিব। কি কথা হ‌য়ে‌ছে তা নী‌তি‌নির্ধারক‌দের বৈঠ‌কে অব‌হিত ক‌রেন বিএন‌পি মহাস‌চিব। চেয়ারপারসন দল‌কে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ব‌লে‌ছেন। পাশাপা‌শি যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ২০ দল‌ ও ঐক্যফ্রন্টের স‌ঙ্গে পরামর্শের জন্য ব‌লে‌ছেন। বি‌শেষ ক‌রে ২০ দ‌লের শ‌রিক‌দের স‌ঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার নির্দেশ দি‌য়ে‌ছেন।



বিএন‌পি মহাস‌চিব মির্জ‌া ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপ‌তি‌ত্বে বৈঠ‌কে উপ‌স্থিত ছি‌লেন ‌স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হো‌সেন, ব্যা‌রিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

আ’লীগকে বাদ দিয়ে আলাদা চলার প্রস্তুতি নিচ্ছে শরিকরা

আওয়ামী লীগনতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা দেখছে না আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪–দলীয় জোটের শরিকেরা। সরকারের বাইরে থেকেই সংসদের ভেতরে ও বাইরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে সরকারের এ মনোভাব এখন অনেকটাই পরিষ্কার। এর ফলে এক দশক ধরে সরকারের সঙ্গে অন্য দলের মিলেমিশে থাকার ধারাবাহিকতায় একধরনের ছেদ পড়ছে। শরিক দলগুলোর সামনেও নিজেদের ঘর গোছানো ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।

সরকারপ্রধানসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট যে শরিক দলগুলোকে বিরোধী দল হিসেবে কার্যকর ভূমিকায় দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। এর আরেকটি লক্ষ্য, বিএনপিকে চাপে রাখা। তবে সরকারের লক্ষ্য যা–ই হোক, শরিক দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে সভা করে তাদের অবস্থান চূড়ান্ত করবে। ইতিমধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি পলিটব্যুরোর এবং জাসদ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে।



২০০৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কাজ করছে ১৪–দলীয় জোট। আন্দোলনের পাশাপাশি গত তিনটি নির্বাচনেও জোটবদ্ধ ছিল তারা। তবে এর আগের দুই মন্ত্রিসভায় থাকলেও এবার তাদের রাখা হয়নি। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আশা করা হলেও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তৃতা-বিবৃতিতে সেই সম্ভাবনা দেখছে না তারা। এমনকি ভবিষ্যৎ নির্বাচনেও জোট না থাকার আভাস পাচ্ছে শরিকেরা।

শরিক দলের দুজন নেতা জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আগের চেয়ে কম প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া ওই সময় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এবার শরিকদের দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে সব নৌকার প্রার্থী করা হবে। আর গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তো শরিকদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা বলেই দিয়েছেন। নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী সরকারি দলের কথায় মনে হচ্ছে তাদের আর কাউকে প্রয়োজন নেই।

এ প্রসঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা যাঁরা রাজনৈতিক দল করি, তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই রাজনীতি করি। তাই প্রধানমন্ত্রী কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা ঠিক পরিষ্কার নয়। এখন উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা।



তবে শরিক দলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটকে গত ১০ বছরে অনেক দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপিকে আরও চাপে রাখতে সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কিত দলগুলোকে বিরোধী দলের ভূমিকায় রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। তাই জাতীয় পার্টিকেও এবার পুরোপুরি বিরোধী দলের ভূমিকায় রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা সরকার ও বিরোধী দলে থাকুক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি। তাই সরকারে না থেকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ভূমিকা রাখতে পারে শরিকেরা। আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তিও বাড়াতে পারে। তবে আদর্শিক জোট হিসেবে ১৪ দল টিকে থাকবে বলেও জানান তিনি।

সূত্র জানায়, ২০ জানুয়ারি পলিটব্যুরোর সদস্যদের বৈঠক ডেকেছে ওয়ার্কার্স পার্টি। ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। আর ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে জাসদের (আম্বিয়া) একাংশ। সরকারি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়া, সরকারের বাইরে থেকে বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে সভায়। মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করা হবে।



জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক দিন ধরেই শরিক দলগুলোকে আরও শক্তিশালী হওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছেন। জাসদও দলের শক্তিমত্তা বাড়ানোর বিষয়ে আরও মনোযোগী হচ্ছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবার ৪৭ জনের নতুন মন্ত্রিসভার সবাইকে নেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ থেকে। ১৯৭৩ সালের পর শতভাগ দলীয় মন্ত্রিসভা পেয়ে খুশি হয়েছেন তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। তবে মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেয়ে হতাশ হয়েছেন ১৪–দলীয় জোটের শরিকেরা। তাঁরা মনে করছেন, শরিকদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে।

জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, রাজনৈতিক কারণে জোট হয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই তাঁরা জোটে থাকবেন। তবে জোটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে।



লম্বা বিরতির পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে ১৪৬ আসনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। সরকার গঠনের জন্য ৩২টি আসন নিয়ে জাপা ও একটি আসন নিয়ে জেএসডির সমর্থন পায় তারা। জাপা থেকে আনোয়ার হোসেন ও জেএসডি থেকে আ স ম আবদুর রবকে মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়। এরপর ২০০৮ সাল থেকে গত তিনটি নির্বাচনেই জোটবদ্ধভাবে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও গত দুই সরকারের মন্ত্রিসভায় শরিকদের রেখেছিল আওয়ামী লীগ। তবে এবার সে ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকেনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন গঠিত মন্ত্রিসভার ৪৭ জনের মধ্যে ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন উপমন্ত্রীর ৪৩ জন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাংসদ। আর টেকনোক্র্যাট কোটায় আসা তিনজনও আওয়ামী লীগের।



জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন-অর-রশিদ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়েছে। ১৪ দলের শরিক দলগুলো মন্ত্রিসভায় নেই, তবে তারা যদি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে, তাহলে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। বরং তারা যদি সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে, তাহলে গণতান্ত্রিক চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে, তা আরও এগিয়ে যাবে এবং রাজনীতিতে নতুন মাত্রা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

দেশসংবাদ

শেখ হাসিনা এমন নির্বাচন না করলেও পারতেন

বাংলাদেশের গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অবিশ্বাস্য বিজয়ের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইর্য়ক টাইমস তার এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলেছে শেখ হাসিনা এমন একটি নির্বাচন না করলেও পারতেন।

পত্রিকাটি বর্তমান সরকারের মানবাধিকারের ধারণার সমালোচনা করে বলেছে, ‘মানবাধিকার বহিঃজাগতিক কোনো আরোপিত সংস্কৃতি নয়। এটা হলো উন্নয়ন ও অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।’



টানা প্রায় ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিস্ময়কর কাজ করেছেন। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্রতম ও সবচেয়ে কম উন্নত দেশের অন্যতম এ দেশটিতে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা প্রায় ১৫০ ভাগ। চরম দারিদ্র্যে বসবাসকারী মানুষের হার শতকরা ১৯ ভাগ থেকে কমে এসেছে প্রায় ৯ ভাগে।

তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো সরাসরি কর্তৃত্বপরায়ণতার দিকে ঝুঁকে যাওয়া একটি নির্বাচন, যাতে শেখ হাসিনার দল জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতেই জয় পেয়েছে। শতকরা ৯৬ ভাগ জয় পাওয়া এক অসম্ভব ব্যাপার। এসব তার অর্জনকে খর্ব করেছে।



৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের কয়েক মাস ও সপ্তাহ আগে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বিরোধী দলগুলোকে ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা থেকে শুরু করে বিরোধী দলীয় প্রার্থীদের গ্রেফতার, তাদের সমর্থকদের ওপর নজরদারি ও বহুল সমালোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিষ্ঠুর ব্যবহার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে ‘আগ্রাসী অথবা ভীতিকর’ কোনো উপাদান পোস্ট করা হলে জেলের বিধান রয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৭ জন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার এক রিপোর্টে বর্ণনা করেছে বিচারব্যবস্থা (ইনটিমিডেটেড জুডিশিয়ারি) অথবা নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ নেই এমন একটি আতঙ্কের পরিবেশ নিয়ে। এমন আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজমান সমাজের উচ্চকিত কণ্ঠ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত।



ডিসেম্বরে দ্য টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী দৃশ্যত সর্বত্র স্বৈরতন্ত্রের বিভ্রান্তি নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন, একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ হলো একটি প্রান্তিক (পেরিফেরাল) বিষয়।

তিনি বলেছেন, ‘যদি আমি খাদ্য, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারি সেটাই হলো মানবাধিকার। বিরোধীরা বা নাগরিক সমাজ অথবা আপনার এনজিওরা যা বলছে তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। আমি আমার দেশকে জানি এবং আমি জানি কিভাবে আমার দেশের উন্নতি করতে হয়’।



শেখ হাসিনার বয়স এখন ৭১ বছর। তিনি তার দেশকে জানেন, এটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে না। তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট। তাকে ১৯৭৫ সালে যখন হত্যা করা হয় তখন হাসিনা ছিলেন দেশের বাইরে। ১৯৮১ সালে তিনি দেশে ফেরেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিতে। তারপর থেকে তিনি এর নেতৃত্বেই আছেন।

তার দল এবং আরেকজন শক্তিধর নারী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রতিবাদ করে ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। এর ফলে শেখ হাসিনাকে একটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন ক্ষমতার মেয়াদ দেয়া হয়।



গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে জেল দেয়া হয়েছে খালেদা জিয়াকে। শেখ হাসিনা আরো এক দফায় ক্ষমতায় ফিরেছেন, যা এরই মধ্যে কার্যত একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে প্রস্তুত তারা।

কিন্তু কেন? যখন জনমত জরিপ ইঙ্গিত দিয়েছিল, সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও শেখ হাসিনা ভালোভাবে বিজয়ী হবেন তাহলে কেন অপ্রয়োজনীয় নির্বাচনী ফল তৈরি করা হলো? এখন শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতি (অথরিটারিয়ান মেথড) ও নিষ্পেষণমূলকব্যবস্থা গ্রহণ কলঙ্কিত করবে তার প্রতিটি অর্জনকে। তার সমালোচক, যারা নির্বাসনে গেছেন অথবা আন্ডারগ্রাউন্ডে গেছেন, তারা শুধু আরো বেশি কঠোর হয়ে উঠবেন। তার বিদেশী সমর্থক যারা আছেন তারাও আরো সতর্ক হবেন।



যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগকারী ও সবচেয়ে বড় সিঙ্গেল কান্ট্রি বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচনী প্রচারণার সময় হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং একইসাথে এসব সমস্যা সমাধানে সব পক্ষকে নিয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রতি।
যেসব সহিংসতা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল, যা প্রচারণা ও ভোটকে কলঙ্কিত করেছে, সে বিষয়ে তদন্তের জন্য একই রকমভাবে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।



শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত গতিবিধি বলে দেয়, এমন মৃদু ভর্ৎসনায় তিনি পাল্টে যাবেন বলে মনে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশের সাথে যেসব দেশের নেতারা ব্যবসা করছেন এবং এ দেশে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের জন্য উল্লসিত, শেখ হাসিনাকেও তার মিত্রদের স্মরণ করিয়ে দেয়া উচিত, মানবাধিকার বহিঃজাগতিক কোনো আরোপিত সংস্কৃতি নয়। এটা হলো উন্নয়ন ও অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

খালেদা জিয়া অসুস্থ : আদালতে নেয়া হয়নি

অসুস্থ থাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বুধবার আদালতে হাজির করা যায়নি। ফলে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে। আগামী ২৪ জানুয়ারি শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার।



আদালতের শুনানিতে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়ার পায়ে একটি ফোঁড়া হওয়ায় তাকে আদালতে আনা সম্ভব হয়নি। তাই কারা কর্তৃপক্ষ কাস্টরি ওয়ারেন্ট পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানি করা যেতে পারে। তার কারণে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানি হচ্ছে না।



তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, আমরা জানতে পেরেছি খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার অনুপস্থিতিতে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির কোনো সুযোগ নেই।

পরে আদালত ২৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে ওইদিন সব আসামিকে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেয়। রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠসংলগ্ন অস্থায়ী ভবনে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে এ মামলার বিচারকাজ চলছে।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. গোলাম শাহরিয়ার বাদি হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

ফখরুল এখন বেপরোয়া চালক: কাদের””’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। বেপরোয়া চালক কখন যে কী করে, ‘অ্যাকসিডেন্ট’ ঘটান, তার ঠিক নেই। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক বর্ধিতসভায় তিনি এ কথা বলেন।



আন্দোলন-সংগ্রাম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে দলটির মহাসচিব ব্যর্থ বলে মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। আর এ কারণে মির্জা ফখরুলের বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে তিনি (ফখরুল) কোনো আন্দোলন করতে পারেননি। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এ ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ও পদ থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত।



‘নির্বাচনে কারচুপির দায়ে ওবায়দুল কাদেরের উচিত স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া’-বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের একদিন পর তার উদ্দেশে এমন মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বেসরকারি সংস্থা টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিআইবি এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে বর্ধিতসভায় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

সংরক্ষিত নারী আসনে জাপার ফরম বিক্রি শুরুতে বিলম্ব ”””’



নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পর সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়।

ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।



মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয় বুধবার সকাল ১০টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে গত ৯ জানুয়ারী মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু আজ বুধবার আবার ওই পদেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।



ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে আমরা বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকব। তীর্যক ভাষায় দেশের মানুষের কথা তুলে ধরব। সংসদে গণমানুষের কথা তুলে ধরা হবে। শক্ত বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করব আমরা।’
আগের চারজনকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান চিঠি স্পিকারকে দিয়েছেন। পরে আবার উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে। পদ্ধতিগত সমস্যা ছিল, তাই নতুন করে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে।’ দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচজন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান।



জাপা সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করা যাবে আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ১০ হাজার টাকা দলীয় ফান্ডে জমা দিয়ে সংগ্রহ করা যাচ্ছে মনোনয়ন ফরম।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে মনোনয়ন দেয় জাপা। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত ওই মনোনয়নপত্রটি পাঠানো হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। জাপার মনোনীতরা হচ্ছেন পারভীন ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), নাজমা আখতার (ফেনী) ও মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)। তবে পদ্ধতিগত ক্রুটি দেখিয়ে দলটি পরে আবারও মনোনয়ন ফরম বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।

ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন হয়েছে বাংলাদেশে : মাইলাম

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা উইলসন সেন্টারের সিনিয়র স্কলার ও রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম বলেছেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর পৃথিবীর গণতান্ত্রিক ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন হলো বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন। আসল কথা হলো ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ‘নির্বাচনের ফলাফল চুরি করেছে’, আর যারা নিজেদের সরকার বলে দাবি করছে তারা ‘অবৈধ’।

বাংলাদেশে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচন, ভঙ্গুর গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারিতাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দ্য ফ্রাইডে টাইমসের চলতি সংখ্যায় লেখা এক বিশেষ নিবন্ধে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন মাইলাম।



নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ এবং কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে নিবন্ধে কড়া সমালোচনা করে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইলাম বলেন, তাতে বিশ্বশান্তিরক্ষা মিশনে বাহিনীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং প্রশ্ন তৈরি হবে।

মাইলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে ২০১১ সাল থেকেই বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা ধারণা পোষণ করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগও প্রকৃতপক্ষে তা প্রমাণসহ দেখিয়ে দিলো। বিরোধীদলগুলোর ওপর যতরকমের সন্ত্রাস চালানো যায় তার সব প্রয়োগ করেই ৩০ ডিসেম্বরের ভোট হয়েছে। ভোট চুরির সব নোংরা কৌশল প্রয়োগ করে শেখ হাসিনা এবং তার দল ৯৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ ফলাফল নিজের দলের জন্য ভাগিয়ে নিয়েছেন।’



জাতীয় নির্বাচনের ভোটের চিত্র তুলে ধরে মাইলাম বলেন, ‘বিরোধী দলের প্রার্থীরা যেন তাদের আসনগুলোতে কোনো রকমের প্রচার-প্রচারণা না চালায়, বাইরে না যায়, সে জন্য হুমকি আর ভয় দেখানো হয়েছিল। মিথ্যা মামলায় অনেককে আটক করা হয়। অনেকের নামে আগেই আদালতে প্রহসনের মামলা দায়ের করা ছিল। কিছুসংখ্যক মানুষকে গুম করা হয়।

নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রাণশক্তি পোলিং এজেন্টদেরকে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। আর এ ভয়েই অনেকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সাহস করেননি। ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দেয়া হয়েছে ভোটারদেরও।



গ্রামে মহিলা ভোটারদের ভোট না দিতে ভয় দেখিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আর যারা ভোট দিতে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছে তাদেরকে হুমকি দিয়ে কিংবা পুলিশ দিয়ে বাধা দেয়া হয়েছে। আর কেন্দ্রের ভেতরে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজন ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছে। আমার এক বন্ধু জানিয়েছে, ‘সে যে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিল তার সবগুলো ভোট কাস্ট করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষে’।

ভোটের ফল ‘অস্বাভাবিক’ এমনকি তা আওয়ামী সমর্থকেরাও বিশ্বাস করবে না মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ এই কূটনীতিক লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার কী ধরনের আতঙ্ক আর সহিংস পরিবেশ তৈরি করেছিল তা লিখতে গেলে পুরো নিবন্ধেও শেষ করা যাবে না। অস্বাভাবিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার একটি ভোটের ফলাফল দেখাতে সব শক্তি ব্যয় করা হয়েছে।



পুলিশকে এবং তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগকে এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি যেটা বলি এ রকম নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের কোনো মানুষই বিশ্বাস করবে না। এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থকেরাও না। বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ সমর্থকও এ ভোটের ফলকে অতিরঞ্জন মনে করে যদিও তারা মুখ ফুটে এ কথা বলার সাহস পাবে না।’

মাইলাম লিখেছেন, ‘যারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছিলেন তারা জানতেন, নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে, কয়েকদিন আগে এবং নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগ যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে তা ছিল দলকে জেতানোর পরিকল্পনা। তাই পর্যবেক্ষকেরা হতবাক হননি। এটাও স্পষ্ট ছিল যে, আওয়ামী লীগ কী করবে তা ছক করে রেখেছে। তবে সেনাবাহিনী নির্বাচনে কেমন ভূমিকা রাখবে সেটা নিয়ে কারো আগাম ধারণা ছিল না।



আমার ধারণা, নির্ধারিত সময়েরও দুই সপ্তাহ পর সেনাবাহিনী মাঠে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আমাদের মধ্যে এখনো যাদের স্মৃতি উজ্জ্বল তাদের মনে আছে, অতীতে গণতন্ত্রের জন্য সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল আশাব্যঞ্জক। ধারণা করেছিলাম তারা মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করবে এবং নির্ভুল গণনায় সহায়তা করবে। আমরা যারা সেনাবাহিনীকে নিয়ে আশা করেছিলাম যে, এবারো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে তারা গভীরভাবে হতাশ হয়েছি।’

২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মাইলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হবে না অভিযোগ তোলে ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করেছিল প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর নিরপেক্স তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানসম্পর্কিত সংবিধানের ধারাটি বাতিল করে দেয়।
১৯৯১ সাল থেকে এই সংবিধানের ধারা অনুসারেই প্রতি পাঁচ বছর অন্তর প্রধান দু’টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছিল। শাসন যাই হোক ভোটাররা পালাবদল করে প্রতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছিল।’



তিনি বলেন, ‘কোনো বিরোধী দল ছাড়াই আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে একদলের শাসন কায়েম করে। এরপরই যুক্তি উঠে এ সরকার অবৈধ, নিরপেক্ষ কমিশনের অধীনে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা যেতে পারে। বিএনপি নির্বাচন বয়কট না করলে সরকার জয়ের কোনো সুযোগ পেত না এ রকম কথাও শুনা যায়।’

শেখ হাসিনা স্বৈরতন্ত্র আঁকড়ে ধরেছেন মন্তব্য করে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, ‘একটি রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। যদি কোনো কিছু, কোনো শক্তি জেগে উঠে বা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তাকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মতো করে পুরোপুরি দমিয়ে দেয়া হবে। এমনকি প্রধান বিরোধী দলগুলোর জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতাদের বিরুদ্ধেও যদি একই পন্থা অবলম্বন করা হয় তাহলেও অবাক হবার কিছু নেই।’



গণতান্ত্রিক যেসব জোট নির্বাচনের এই কথিত ফলাফল দেখেছে তারা বিষয়টাকে কিভাবে নেবে সে প্রসঙ্গে উইলসন সেন্টারের সিনিয়র এই স্কলার বলেন, ‘কিছু মৌলিক সত্য বিষয় তাদের বিবেচনায় নিয়ে আসতে হবে। প্রথম কথা যেসব প্রতিষ্ঠান সরকারের ভঙ্গুর নীতিসগুলোকে ধারণ করে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ন্যূনতম মূল্যবোধ যেখানে অনুপস্থিত তাদের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়, দ্বিতীয় স্পষ্টতই যে সরকার নির্বাচনে চুরি করে জয়ী হয় তাদের নির্বাচিত বলে স্বীকৃতি দেয়া যাবে না। তাদের বৈধ সরকার বলা যাবে না। যারা শক্তি প্রয়োগ করে ক্ষমতা দখল করে তারা ‘সিভিল অভ্যুত্থান’ সংঘটিত করে। তৃতীয় যে সরকার শক্তি প্রয়োগ করে সব ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয় এবং এটা নির্বাচন বলে দাবি করে তাকে ‘সেনা অভ্যুত্থানে’ ক্ষমতাদখলকারী মনে করতে হবে।’



নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে উল্লেখ করে মাইলাম আরো বলেন, ‘ভোট চুরির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের মানুষের মনের অবস্থাটা কেমন তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপের উদাহরণ টেনেই বুঝিয়ে দেয়া যায়। ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি ক্লাসরুমে পাঠ নিতে বসে আছে ১০-১১ বছর বয়সী ২০ জনের মতো শিক্ষার্থী। কাসে এসে শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে লিখলেন ২+২=৫ এবং সব ছাত্রকে নির্দেশ দিলেন এটাই সত্য, মানতে হবে।
একজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালো এবং বলল, না- এটা সত্য নয়। আমরা সবাই জানি ২+২=৪। অবশেষে প্রতিবাদ করায় ছাত্রটিকে শাস্তি দেয়া হয় এবং হত্যা করা হয়। তারপর শিক্ষক আবার পাঠে মন দিলেন এবং উচ্চস্বরে পড়া শুরু করলেন ২+২=৫। শেষ দিকে দেখা যায় ভুল লেখা থেকে পেন্সিল একবার সরে আসে এবং হিসাবে পাঁচের বদলে শিক্ষার্থীরা সেটাকে চার লেখা শুরু করে।



বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার বার্তাটা তুলনা করা যায় ব্রিটিশ উপন্যাসিক এবং সাংবাদিক জর্জ ওরওয়েলের সেই বার্তার সাথে। বার্তাটা এমন, সরকার নিজের ইচ্ছেমতো করে কোনটা সত্য সে ঘোষণা দেয় কিন্তু দিন শেষে মানুষ সেটাকে আসলে মেনে নেয় না। তারা প্রকৃত সত্যের ছাঁকুনি দিয়েই সব কিছু বিচার করে। প্রকৃত কথা হলো নির্বাচনের ফলাফল (৩০ ডিসেম্বরের ভোট) চুরি করা হয়েছে। আর যারা নিজেকে সরকার দাবি করছে তারা অবৈধ।’

তিন মামলায় জামিন পেলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই নানা আইনি জটিলতায় মুক্তি মিলছে না সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর। খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে এখন অন্তত তিন মামলায় জামিন পেতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পাশাপাশি কুমিল্লায় হত্যা মামলায় জামিন পেলেই তাঁর মুক্তি মিলবে বলে তাদের আশা।



এদিকে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আজ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে জানা গেছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মোট ৩৬ মামলার মধ্যে সাজা হয়েছে ২টিতে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালত পাঁচ বছর কারাদন্ড দেওয়ার পর হাই কোর্টে সাজা বেড়ে হয় ১০ বছর। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন।



আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে সাত বছর কারাদন্ড দিয়েছে নিম্ন আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন তাঁর আইনজীবীরা। বাকি ৩৪ মামলার মধ্যে গ্যাটকো, নাইকো, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতিসহ ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর হাই কোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে ২৩ মামলা।



গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দন্ড নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পর এই দন্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। পরে ১২ মার্চ তাঁকে চার মাসের জামিন দেয় হাই কোর্ট। এর বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর ১৬ মে তা বহাল রেখে ৩১ জুলাইর মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। পরে খালেদা জিয়া ৩১ জুলাইর মধ্যে হাই কোর্টে আপিল মামলার নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করলে আদালত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়ায়। আর চার মাসের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে আদালত কয়েক দফা জামিনের মেয়াদ বাড়ায়। কিন্তু অন্য মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকে যায়।



এ বিষয়ে বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। এর প্রমাণ হলো মানি লন্ডারিং মামলায় আদালত তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছিল। সেই বিচারককে ধরার জন্য দুদক ও পুলিশ উঠেপড়ে লাগে। বাধ্য হয়ে সেই বিচারক দেশত্যাগ করেন। সরকারের কারণে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাও। এসব ঘটনা কারও অজানা নয়। তাই বলব, সরকার প্রভাব বিস্তার না করলে খালেদা জিয়া অনেক আগেই কারামুক্তি পেয়ে যেতেন। সরকার ইচ্ছা করলেই যে কোন সময় খালেদা জিয়ার কারামুক্তি সম্ভব। তাঁর কারামুক্তি সরকারের ওপর নির্ভর করছে।’



এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ২টি দেওয়ানি ও ৩৪টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২ মামলায় বিচারিক আদালতে তাঁর সাজা হয়েছে। এ ছাড়া ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাকিগুলো হাই কোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে।’ ব্যারিস্টার এহসান আরও বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। শুধু রাজনৈতিক কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব মামলা হয়েছে।’ খালেদা জিয়াকে জনবিচ্ছিন্ন করে রাখতেই এসব মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের আগে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মতামত নেবে বিএনপি। এ জন্য শিগগিরই এ দু’টি জোটের সাথে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অংশ নেন।



বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে শিগগিরই ধানের শীষের প্রার্থীরা মামলা করবে। এ জন্য সব তথ্য-প্রমাণ প্রস্তুত রাখার জন্য প্রার্থীদের প্রতি নির্দেশনা দেয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করেন নীতিনির্ধারকেরা।

সূত্র জানায়, বিএনপি নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে আগামী ১৯ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলে কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন উপলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প থেকে অন্তত সাত থেকে আট দিনের কর্মসূচি নেয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।



সূত্র জানায়, বৈঠকে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা তাদের মতামত দেন। বেশির ভাগ সদস্য উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেন। সে েেত্র দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে বিএনপি আপত্তি করবে না বলেও নীতিনির্ধারকেরা বৈঠকে জানান। তবে এ ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্তের আগে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মতামত নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।



এ দিকে বৈঠকের বিষয়ে বিএনপি একজন নীতিনির্ধারক জানান, গত রোববার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির সময় আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে অল্প কিছুণ কথা বলেছেন দলের মহাসচিব। কী কথা হয়েছে তা নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে অবহিত করেন বিএনপি মহাসচিব। চেয়ারপারসন দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বলেছেন। পাশাপাশি যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের সাথে পরামর্শ করতে বলেছেন। বিশেষ করে ২০ দলের শরিকদের সাথে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে বেগম খালেদা জিয়া প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেছেন।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের আগে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মতামত নেবে বিএনপি। এ জন্য শিগগিরই এ দু’টি জোটের সাথে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।



বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অংশ নেন।

বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে শিগগিরই ধানের শীষের প্রার্থীরা মামলা করবে। এ জন্য সব তথ্য-প্রমাণ প্রস্তুত রাখার জন্য প্রার্থীদের প্রতি নির্দেশনা দেয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করেন নীতিনির্ধারকেরা।

সূত্র জানায়, বিএনপি নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে আগামী ১৯ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলে কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন উপলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প থেকে অন্তত সাত থেকে আট দিনের কর্মসূচি নেয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।



সূত্র জানায়, বৈঠকে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা তাদের মতামত দেন। বেশির ভাগ সদস্য উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেন। সে েেত্র দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে বিএনপি আপত্তি করবে না বলেও নীতিনির্ধারকেরা বৈঠকে জানান। তবে এ ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্তের আগে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মতামত নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।



এ দিকে বৈঠকের বিষয়ে বিএনপি একজন নীতিনির্ধারক জানান, গত রোববার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির সময় আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে অল্প কিছুণ কথা বলেছেন দলের মহাসচিব। কী কথা হয়েছে তা নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে অবহিত করেন বিএনপি মহাসচিব। চেয়ারপারসন দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বলেছেন। পাশাপাশি যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের সাথে পরামর্শ করতে বলেছেন। বিশেষ করে ২০ দলের শরিকদের সাথে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে বেগম খালেদা জিয়া প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেছেন।

সুত্রঃ উৎসঃ nayadiganta

‘নির্বাচন তো পুলিশ করে দিয়েছে’

নির্বাচন হইছে। এই নির্বাচন তো ইমপ্রুসেভ বলতে গেলে পুলিশ করে দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করে দিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটরা করে দিয়েছে, প্রশাসন করে দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে (একুশের রাত) তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ভোটের মধ্যে অনেক দেশে গঠন হয় এবং হতে পারে। যেমন: জাতীয় পার্টি মহাজোটের সাথে গিয়েছে। এটিও একটি চলমান প্রক্রিয়া।



সংলাপের বিষয় উল্লেখ করে তৈমুর আলম বলেন, এর আগেও তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করেছেন। কিন্তু সে সময় একটা দাবিও তিনি মানেননি। তারপরেও তো সংলাপ হয়েছে। আবারও সংলাপ হবে প্রক্রিয়াগতভাবে এবং প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ আরও বৃদ্ধি পাবে যদি তিনি বিরোধী দলগুলো গুরুত্ব দিয়ে তিনি দলগুলোর কথা শোনেন তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ বৃ্দ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে শুধু আওয়ামী লীগের কথাই শোনেন তা তো না। তাকে জাতির সমস্যাটা দেখতে হবে। জাতিগতভাবে আমাদের অনেক সমস্যা আছে। উন্নয়ন তো একটা পার্ট। পদ্মা ব্রিজ হচ্ছে আরও অন্যান্য এগুলো একটা পার্ট। কিন্তু তারপরেও একটা সার্বিক সমস্যা থেকে যায়।



তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার চেতনার মধ্যে কি পড়ে না যেই মানুষটা এই দেশের নাগরিক তার ভোটটা সে নিজে দিতে পারবে নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে। তার নিজের পার্টিটাকে সে চয়েজ করতে পারবে। তার প্রার্থীকে সে চয়েস করতে পারবে। এইটাও তো একটা স্বাধীনতার চেতনা।

তৈমুর আলম বলেন, যদি ৭০ সনের নির্বাচন পাক হানাদার মেনে নিত তবে কিন্তু স্বাধীনতার এই পেক্ষাপট নাও হতে পারত। দেশটা স্বাধীন হয়ে গেছে ভালো হইছে। একটা ঝামেলা মুক্ত হয়ে গেছে।



সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপ শুধু করলেই হবে না। এটা জাতি চায় না। জাতি চায় প্রধানমন্ত্রী জণগণের কিছু কথা শুনবে এবং তিনি মানবেন।

নির্বাচন হইছে। এই নির্বাচন তো ইমপ্রুসেভ বলতে গেলে পুলিশ করে দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করে দিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটরা করে দিয়েছে, প্রশাসন করে দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে (একুশের রাত) তিনি এ মন্তব্য করেন।



এসময় তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ভোটের মধ্যে অনেক দেশে গঠন হয় এবং হতে পারে। যেমন: জাতীয় পার্টি মহাজোটের সাথে গিয়েছে। এটিও একটি চলমান প্রক্রিয়া।

সংলাপের বিষয় উল্লেখ করে তৈমুর আলম বলেন, এর আগেও তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করেছেন। কিন্তু সে সময় একটা দাবিও তিনি মানেননি। তারপরেও তো সংলাপ হয়েছে। আবারও সংলাপ হবে প্রক্রিয়াগতভাবে এবং প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ আরও বৃদ্ধি পাবে যদি তিনি বিরোধী দলগুলো গুরুত্ব দিয়ে তিনি দলগুলোর কথা শোনেন তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ বৃ্দ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে শুধু আওয়ামী লীগের কথাই শোনেন তা তো না। তাকে জাতির সমস্যাটা দেখতে হবে। জাতিগতভাবে আমাদের অনেক সমস্যা আছে। উন্নয়ন তো একটা পার্ট। পদ্মা ব্রিজ হচ্ছে আরও অন্যান্য এগুলো একটা পার্ট। কিন্তু তারপরেও একটা সার্বিক সমস্যা থেকে যায়।



তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার চেতনার মধ্যে কি পড়ে না যেই মানুষটা এই দেশের নাগরিক তার ভোটটা সে নিজে দিতে পারবে নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে। তার নিজের পার্টিটাকে সে চয়েজ করতে পারবে। তার প্রার্থীকে সে চয়েস করতে পারবে। এইটাও তো একটা স্বাধীনতার চেতনা।

তৈমুর আলম বলেন, যদি ৭০ সনের নির্বাচন পাক হানাদার মেনে নিত তবে কিন্তু স্বাধীনতার এই পেক্ষাপট নাও হতে পারত। দেশটা স্বাধীন হয়ে গেছে ভালো হইছে। একটা ঝামেলা মুক্ত হয়ে গেছে।

সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপ শুধু করলেই হবে না। এটা জাতি চায় না। জাতি চায় প্রধানমন্ত্রী জণগণের কিছু কথা শুনবে এবং তিনি মানবেন।

সুত্রঃ https://www.prothomalo.com › মতামত › রাজনীতি

ব্যর্থতার দায়ে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ করা উচিত: কাদের

আন্দোলন-সংগ্রাম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ব্যর্থ বলে মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। আর এ কারণে মির্জা ফখরুলের বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক বর্ধিতসভায় তিনি এ কথা বলেন।



বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে তিনি (ফখরুল) কোনো আন্দোলন করতে পারেননি। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এ ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ও পদ থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত।

‘নির্বাচনে কারচুপির দায়ে ওবায়দুল কাদেরের উচিত স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া’-বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের একদিন পর তার উদ্দেশে এমন মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। বেপরোয়া চালক কখন যে কী করে, ‘অ্যাকসিডেন্ট’ ঘটান, তার ঠিক নেই। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।



নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বেসরকারি সংস্থা টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিআইবি এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে বর্ধিতসভায় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

ফখরুল এখন বেপরোয়া চালক: কাদের”””

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। বেপরোয়া চালক কখন যে কী করে, ‘অ্যাকসিডেন্ট’ ঘটান, তার ঠিক নেই। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।



বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক বর্ধিতসভায় তিনি এ কথা বলেন।

আন্দোলন-সংগ্রাম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে দলটির মহাসচিব ব্যর্থ বলে মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। আর এ কারণে মির্জা ফখরুলের বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে তিনি (ফখরুল) কোনো আন্দোলন করতে পারেননি। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এ ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ও পদ থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত।



‘নির্বাচনে কারচুপির দায়ে ওবায়দুল কাদেরের উচিত স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া’-বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের একদিন পর তার উদ্দেশে এমন মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বেসরকারি সংস্থা টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিআইবি এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে বর্ধিতসভায় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

সংরক্ষিত নারী আসনে জাপার ফরম বিক্রি শুরুতে বিলম্ব ”””’



নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পর সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়।

ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।



মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয় বুধবার সকাল ১০টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে গত ৯ জানুয়ারী মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু আজ বুধবার আবার ওই পদেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।



ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে আমরা বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকব। তীর্যক ভাষায় দেশের মানুষের কথা তুলে ধরব। সংসদে গণমানুষের কথা তুলে ধরা হবে। শক্ত বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করব আমরা।’
আগের চারজনকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান চিঠি স্পিকারকে দিয়েছেন। পরে আবার উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে। পদ্ধতিগত সমস্যা ছিল, তাই নতুন করে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে।’ দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচজন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান।



জাপা সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করা যাবে আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ১০ হাজার টাকা দলীয় ফান্ডে জমা দিয়ে সংগ্রহ করা যাচ্ছে মনোনয়ন ফরম।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে মনোনয়ন দেয় জাপা। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত ওই মনোনয়নপত্রটি পাঠানো হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। জাপার মনোনীতরা হচ্ছেন পারভীন ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), নাজমা আখতার (ফেনী) ও মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)। তবে পদ্ধতিগত ক্রুটি দেখিয়ে দলটি পরে আবারও মনোনয়ন ফরম বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।