স্কাইপি বন্ধ করা সরকারের নিম্নরুচির পরিচয় : বিএনপি

দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার রুখতেই গুলশান কার্যালয়ের স্কাইপি ও ইন্টারনেট যোগাযোগ সরকার বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব বললেন, বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। তার এই বক্তব্যের পরপরই আমরা জানতে পারলাম বিটিআরসি স্কাইপি বন্ধ করে দিয়েছে। গুলশান অফিস থেকে আমাকে জানিয়েছে যে, সেখানে সকল ইন্টারনেট লাইন বন্ধ হয়ে গেছে, স্কাইপি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।এর উদ্দেশ্য একটাই– বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে না পারেন। আমি সরকারের এহেন ন্যাক্কারজনক সংকীর্ণ মানসিকতার নিন্দা ও ধিক্কার জানাই এবং অবিলম্বে স্কাইপি খুলে দেবার আহবান জানাচ্ছি।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকার আগামী নির্বাচনকে নিজেদের অনুকূলে নেয়ার জন্য ক্লান্তিহীনভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তৎপরতাকে বাধা প্রদান করার জন্য সরকার সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ করে যাচ্ছে। স্কাইপি বন্ধ করার ঘটনা সরকারের নিম্নরুচির পরিচায়ক। স্কাইপি বন্ধ করার মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী জোটের একচেটিয়া দখলে থাকবে।

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আওয়াজ ভেসে উঠলেই সরকার যে মূর্ছা যায় আর সেজন্য দুর থেকে ভেসে আসা শব্দকেও আটকানোর জন্য তারা উঠেপড়ে লাগে। সরকার কর্তৃক তারেক রহমানের আওয়াজকে বাধা দেয়ার অর্থই হচ্ছে গণতন্ত্রের গলাটিপে ধরা।

রাজধানীতে যশোরের মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর, ছাত্র দলের আব্বাস, মো. হোসেন, আশরাফুল ইসলাম রবিন, জাকির হোসেন, মাহবুবুল আলম, খুলনার শাহিনুর আলমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে আটকের পর অস্বীকার করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাদেরকে জনসমক্ষে হাজির করার দাবি জানিয়েছেন রিজভী। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ধানমন্ডি থানার সভাপতি শেখ রবিউল আলম রবিকে সাদা পোষাকে পুলিশ রাতে গ্রেফতার করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান তিনি।

আমি তারেককে ভালবাসি : এমাজউদ্দীন আহমদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, আমি তারেক রহমানকে দেখি একজন শিক্ষকের দৃষ্টি দিয়ে। ভাল ছেলে। বিনয়ী, সদাশয়, মৃদুভাষী।

তারেক রহমানের সাথে দীর্ঘদিনের পরিচয় উল্লেখ করে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, সুশীল তরুণ হিসাবে তার বক্তব্য ঋজু। চিন্তা-ভাবনা সুস্পষ্ট। কৃত্রিমতা এখনো তাকে স্পর্শ করেনি। স্পর্শ করেনি দুর্বুদ্ধিপ্রসূত কোন জটিলতা। সম্ভবত এ কারণে তারেকের বন্ধু যতজন, শত্রু ও প্রায় ততজন।

তারেক রহমানের মধ্যে অমিত সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, তাকে সতর্কতার সাথে পথ চলতে হবে। লর্ড এ্যাক্টনের লেখা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার একটি বিষক্রিয়া রয়েছে এবং নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বিষক্রিয়া সর্বব্যাপক।’ কিন্তু যে যোগ্য ব্যক্তি ক্ষমতা অথবা অর্থবিত্তের উপেক্ষা করে চলেন, ক্ষমতা অথবা অর্থবিত্ত তার পেছনেই ছোটে।

তারেক রহমানকে একথা বলছি এ জন্যে যে, তার পিতা রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পর্কে নিরাসক্ত ছিলেন বলেই তারই অজ্ঞাতে এবং অনিচ্ছায়, ১৯৭৫ সালের ৭ নবেম্বরে ক্ষমতার শূন্যতা পূরণে তাঁকেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। বেগম খালেদা জিয়া প্রচুর অনুনয়-বিনয়ের পরেই রাজি হন বিএনপির হাল ধরতে, কিন্তু তিনিই তো সবচেয়ে দীর্ঘকাল প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বাংলাদেশের সেবা করেছেন।

এমাজউদ্দীন তারেক রহমানকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, সর্বদা বিবেককে জাগ্রত রাখতে হবে। বুদ্ধির পরিবর্তে প্রজ্ঞার নির্দেশ মেনে চলতে হবে। মস্তিষ্কের চেয়ে অন্তকরণের নির্দেশনাই এদেশে অধিক কার্যকর হয়েছে, সবসময়। তারও পথনির্দেশনা দিক তার বিবেক, তার অন্তঃকরণ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ এই লেখাটি লিখেন।

সূত্র : বিএনপির ফেসবুক পেইজ থেকে নেয়া

এই মাত্র পাওয়া ….. প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেছেন বি. চৌধুরী

একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের হয়ে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে গেছেন বিকল্প ধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে বি চৌধুরী একাই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাড়ি গণভবনে ঢোকেন। তিনি একাই গেছেন বলে তার ছেলে মাহি বি চৌধুরী জানান।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সাথে জোট বেঁধে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই দুই দলের আসন সমঝোতার বিষয়ে এখনও কোনো খবর আসেনি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠনের সময় মহাসচিব ছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি হন তিনি।

এরপর দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে রাষ্ট্রপতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন তিনি।

বড় দলের সুনজরের আশায় ধর্মভিত্তিক দল

আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছ থেকে বিভিন্ন আসনে ছাড় পাওয়ার আশায় রয়েছে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দল। এই দলগুলোর একক শক্তিতে ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই তারা বড় দলের সমর্থন ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

‘নৌকা’ ও ‘ধানের শীষ’ নিয়ে নির্বাচন করতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে যে প্রতিযোগিতা চলছে, তাদের একটি অংশ আবার গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে ছিল বিএনপির বলয়ে। এবার তারা নৌকায় উঠতে চাইছে।

এই দলগুলোর নেতারা আবার আলোচিত ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামীতে আছেন। অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ভোট নিয়ে কোনো মাথাব্যথা না থাকার কথা বললেও তাদের সংগঠনের নেতাদের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নজর রাখবে।

২০১০ সালের মার্চে আল্লামা আহমদ শাহ শফির নেতৃত্বে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দলের নেতারা গঠন করেন হেফাজতে ইসলাম। এই সংগঠনের নেতারা ইসলামী ঐক্যজোট, নেজামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম, খেলাফতে আন্দোলন, খেলাফতে মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ও খেলাফত ইসলামীরও নেতা।

তবে হেফাজত শুরু থেকেই দাবি করছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা অভিলাষ নেই। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ এ প্রসঙ্গে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো চিন্তা হেফাজতে ইসলামের নেই। হেফাজত নির্বাচন করবে না। হেফাজতভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো দলগত ও জোটগতভাবে নির্বাচনের চিন্তা-ভাবনা করছে। আর হেফাজত হলো অরাজনৈতিক, ঈমানি, আত্মশুদ্ধির একটি সংগঠন। হেফাজত রাজনীতি করে না, করবেও না।’

নৌকায় উঠছে বিএনপির সাবেক শরিক

১৭ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে ২০১৬ সালে ২০-দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া ইসলামী ঐক্যজোট এবার ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়াত নেতা মুফতি ফজলুল হক আমিনীর এই জোট এবার কমপক্ষে চারটি আসনে ছাড় চাইছে আওয়ামী লীগের কাছে।

জোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামীর জন্য নরসিংদী-৩ ও ঢাকা-৫, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ জন্য চট্টগ্রাম-৭, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনীর জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসাইনের জন্য কুমিল্লা-১ আসন চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাসানাত আমিনীর আসন নিশ্চিত ধরে নিচ্ছেন তারা। কুমিল্লা-১ আসনও পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন তারা। এখন জোর চেষ্টা চলছে চট্টগ্রাম-৭ এবং নরসিংদী-৩ আসনের জন্য।

ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী ঢাকা টাইমসকে বলেন, “দল ও জোটগতভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে আমাদের। যদি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতা হয়, সে ক্ষেত্রে জোটগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইসলামী ঐক্যজোটের মজলিসে শুরার অনুমোদনে নৌকা প্রতীকে ভোট করা হবে। আর তা না হলে আমাদের নিজস্ব প্রতীক ‘মিনার’ নিয়েই নির্বাচন করব।”

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক দল তরীকত ফেডারেশনকে চট্টগ্রাম-২ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ছাড় দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এবার আরও বেশি আসন চাইছে তারা।

জাকের পার্টির দাবি আছে ফরিদপুর-২ আসন। সেখানে দলের চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল মোজাদ্দেদী প্রার্থী হতে চান। সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি করছেন নেতাকর্মীরা, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

বিএনপির সঙ্গে যারা

২০-দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিস বিএনপিকে চিঠি দিয়ে ১০টি আসন চেয়েছে। দলের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদের ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জোট ও দলগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা। জোট থেকে যাদের মনোনয়ন দেয়া হবে, তারা জোটগতভাবে নির্বাচন করবে। আর কয়েকজন দল থেকেও প্রার্থী হবেন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।’

আবদুল কাদের বলেন, ‘আমরা ১০-১২টা আসন চেয়েছি। জোটের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া এলেও সংখ্যাটা নিয়ে এখনো দেনদরবার চলছে।’
বনিবনা না হলে জোট ছাড়ার কোনো চিন্তা আছে কি না, এমন প্রশ্নে সরাসরি ‘না’ বলেন আহমাদ আবদুল কাদের।

২০ দলের আরেক শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আফেন্দি বলেন, ‘আমাদের ৫২ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। সেখান থেকে বাছাই করা ১৫-২০ জন প্রার্থীর তালিকা জোটের কাছে জমা দিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সময় হলে ডাকা হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেখ তন্ময়কে নিয়ে আশায় আ.লীগ

তফসিল ঘোষণার পর থেকে বাগেরহাট-২ (সদর) আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই আসনটিতে বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়ে আসছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

কে হচ্ছেন এই আসনে বড় দুই দলের প্রার্থী এটাই এখন এখানকার আলোচনার মূল বিষয়। গত কয়েক দিন ধরে চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানের আড্ডায় এই আলোচনা চলছে। তবে সাধারণ ভোটাররা চাইছেন রাজনৈতিক দলগুলো এই আসনে শিক্ষিত, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে।

বাগেরহাট সদর ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-২ আসন গঠিত। এই আসনটিতে রয়েছে একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়ন। প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস এই আসনে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই আসনটি জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

এই আসনে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৮১ হাজার ৬৯১। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪১ হাজার ৭৭০ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৩৯ হাজার ৯২১ জন।

এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মীর শওকাত আলী বাদশা। ১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাঁচটি সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই আসন থেকে তিনবার আওয়ামী লীগ আর দুইবার বিএনপির প্রার্থীরা বিজয় হয়েছেন। আর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হন। বাগেরহাট-২ আসনটি এখন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। আগামী নির্বাচনেও এই আসন ধরে রাখতে চায় ক্ষমতাসীনরা। আর বিএনপি মনে করে এই আসনে তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি তারা পুনরুদ্ধার করতে পারবে।

এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন বর্তমান এমপি মীর শওকাত আলী বাদশা, বঙ্গবন্ধুর নাতি শেখ সারহান নাসের তন্ময়, সাবেক এমপি মীর সাখাওয়াত আলী দারু’র স্ত্রী ফরিদা আক্তার বানু লুচি। তবে বঙ্গবন্ধুর নাতিকে নিয়ে এখানে আশা দেখছে আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী এটি এম আকরাম হোসেন তালিম, সহসভাপতি ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম খান।

সাংগঠনিকভাবে বাগেরহাটে আওয়ামী লীগ যেকোনো সময়ে চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন অনেক বেশি চাঙা। অন্যদিকে জেলা বিএনপিতে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কোন্দল অনেকটাই প্রকাশ্যে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূচি দলীয় কার্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সাংসদ মীর শওকাত আলী বাদশা ঢাকা টাইমসকে বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে পরপর দুইবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- করেছি। দলের সাংগঠনিক অবস্থা যেকোনো সময়ের থেকে শক্ত ও মজবুত। গত দশ বছরে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। এরপরেও দলের স্বার্র্থে এই আসন থেকে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে একজন কর্মী হিসেবে তাকে নিয়ে মাঠে নেমে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করব।

বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে প্রহসনের নির্বাচন চলছে। এটা কোন নির্বাচন নয়, সিলেকশন। এই সরকার আবারো সিলেকশনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। একারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এই আসনে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।’ অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থী এই আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এরশাদের রংপুর ঘাঁটি এখন দুই ভাগ

এক সময়কার জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে পরিচিত রংপুর এখন দৃশ্যত দুই ভাগে বিভক্ত। সংসদে বিরোধী দলটির কাছ থেকে জেলার আসনগুলোর সিংহভাগ দখলে নিয়ে ভাগ বসিয়েছে মহাজোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগ।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনের চারটিই দখলে নেয় ক্ষমতাসীন দল। বর্তমান চার সংসদ সদস্যকেই ফের মনোনয়নের জোরালো দাবি রয়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে। অন্যদিকে জাপার তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষনেতারা আসনগুলো ফিরে পেতে জোর প্রচেষ্টা চালালেও এবারের নির্বাচনে অর্ধেক অর্ধেক ভাগাভাগি হতে পারে বলে গুঞ্জন চলছে রংপুরে।

সর্বশেষ গতকাল বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে মহাজোট প্রধান আওয়ামী লীগের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে রংপুরের ছয়টি আসনের তিনটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বর্তমান তিন সংসদ সদস্য রংপুর-৪ আসনে টিপু মুনশী, রংপুর-৫ আসনে দলের কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান ও রংপুর-৬ আসনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম রয়েছে।

ফলে সরকারি দলে মোটামুটি স্বস্তি ফিরলেও রংপুর-২ আসনেও বর্তমান এমপি আবুল কালাম মোহাম্মাদ আহসানুল হক চৌধুরী বা দলেরই অন্য কাউকে চাইছে তৃণমূল। অন্যদিকে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তৃণমূল জাপায়।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান বলছেন, ১৯৯১ সালে দুটি আওয়ামী লীগ পেলেও ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নির্বাচনগুলোতে রংপুরের ছয়টি আসনেই একক আধিপত্য ছিলো এরশাদ ও জাতীয় পার্টির। ২০০৮ সালের নির্বাচনে কিছুটা নড়বড়ে আর ২০১৪ সালে ৮০ শতাংশই বদলে যায়। ছয়টি আসনের চারটিই দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। আর এই ধারা অব্যাহত রাখতে যত প্রচেষ্টা দরকার ছিল, তার সব কিছুই করেছে টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকা দল আওয়ামী লীগ। সে কারণেই এরই মধ্যে তিনটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। কোনোভাবেই এরশাদকে ছাড় দিতে চায় না। একইভাবে ছাড়তে চায় না জাপাও।

সূত্র বলছে, কমপক্ষে পাঁচটি আসন চায়- এমন শক্ত অবস্থানে আছে জাপা। শেষ পর্যন্ত কী হবে তা নির্ভর করছে এরশাদ-হাসিনার শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে। এরপর জোটগতভাবে ২০০৮ ও ২০১৪ সালেও জাতীয় পার্টি আসনটি দখলে রাখে। এবারও এরশাদের প্রার্থী হিসাবে মশিউর রহমান রাঙ্গার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ নিয়ে রংপুর-২ আসন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের থাকলেও ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দখলে রাখে জাতীয় পার্টি। আর ২০১৪ সালে ফের হাতছাড়া হয়ে চলে যায় আওয়ামী লীগের ঘরে। এবার এ আসনটিতে এখনো আওয়ামী লীগ প্রার্থিতা ঘোষণা করেনি। সেদিক থেকে জাপা প্রায় চূড়ান্ত।

রংপুর সিটি করপোরেশন আর সদর উপজেলা নিয়ে রংপুর-৩ আসনটিও ১৯৯৬ সাল থেকে এরশাদের দখলে আছে। এবারও তিনি একমাত্র প্রার্থী। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেবে না বলে চাউর রয়েছে।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনেও ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত একক নিয়ন্ত্রণে রাখে জাতীয় পার্টি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ-জাপা মহাজোট হলেও পৃথক পৃথক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। জয়ী হয়ে আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের কাছে। ২০১৪ সালেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন।

মিঠাপুকুর উপজেলা নিয়ে রংপুর-৫ আসন। এই আসনটি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি দখলে রাখলেও ২০০৮ ও ২০১৪ সালে চলে যায় আওয়ামী লীগের ঘরে। একইভাবে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জাপা আর ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ।

রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি ম-ল বলেন, ‘রংপুরের মানুষের মধ্যে আর আগের সেই সস্তা আবেগ নেই। তারা আর এরশাদকে চান না। আমরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ তো চাইই না।’

তিনি বলেন, তিনটি আসন কেন ছয়টিতেই আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিলে একটাতেও এরশাদের প্রার্থীরা জিততে পারবেন না। আমরা দলকে সেভাবেই গুছিয়েছি। আপাতত আমরা তিনটি আসনে প্রার্থীর নাম জানতে পেরেছি। আশা করছি, রংপুর-২ আসনেও আমাদের প্রার্থী দেয়া হবে।’

এদিকে তিনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন জাতীয় পার্টির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলেও মনে করেন তারা।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রংপুর নগর জাপার সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘রংপুরে একক অধিপত্য জাতীয় পার্টির। এখানে আওয়ামী লীগকে ছাড় দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাদের তিনটি আসন ছেড়ে দিলে এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে বলে আমি মনে করি।’

তার দাবি, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে জাতীয় পার্টি এখন অনেক শক্তিশালী। সুতরাং দলকে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আসন দল না শরিকের ?

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কিছু আসনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ঝামেলায় পড়েছে আওয়ামী লীগ। কারণ সেখানে দলের শক্তিশালী প্রার্থীর পাশাপাশি জোটের শরিক দলেরও প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল প্রার্থিতা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। যদিও এখনো দেওয়া হয়নি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আর প্রাথমিকভাবে দলটি ৩০০ আসনেই প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করেছে, যদিও এর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০টি আসনে তাদের প্রার্থী থাকবে না। কারণ, সেগুলো ছেড়ে দিতে হবে শরিক দলগুলোকে।

২০০৮ সালের মতোই মহাজোট করে এবার নির্বাচনে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। বরং ওই বছরের তুলনায় এবার জোটের আকার হচ্ছে আরও বড়। সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট, বিএনপির সাবেক নেতা নাজমুল হুদার তৃণমূল আওয়ামী লীগ, বিএনপির সাবেক শরিক ইসলামী ঐক্যজোটসহ আরও কিছু ধর্মভিত্তিক দলও যুক্ত হচ্ছে এই জোটে।

নতুন দল যুক্ত হওয়ায় আসনের দাবিদার যেমন বেড়েছে, তেমনি দলের নেতারাও যারা নির্দিষ্ট কিছু আসনে কয়েক বছর ধরে তৎপর, সেগুলো ছেড়ে দিতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে এসব আসন নিয়ে বারবার আলোচনায় বসতে হচ্ছে।

ঢাকা-১৮ আসনে গত দুবারের সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন এবারও ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে জাতীয় পার্টি আসনটি চাইছে দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের জন্য।

ঢাকা-১৭ আসন চেয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহাজোটের শরিক বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ। এখান থেকেই আবার প্রার্থী হতে চান চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়েখ্যাত সারাহ বেগম কবরী।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টি থেকে জেতেন মোহাম্মদ নোমান। তিনি এবার মহাজোটের প্রার্থী হতে চান। তবে সেখানে আছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ। তিনি ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্যও।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকার বিপরীতে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। তবে এবার আসনটি চাইছেন দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য এ এইচ এম মাসুদ দুলাল। তিনি গত কয়েক বছর ধরেই এখানে কাজ করছেন। সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাতও সেখানে দাবিদার।

এই দুটি আসনের মতোই যেসব আসনে জোটের শরিকদের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় সবখানেই দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। তারা তাকিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।

আবার জোটের শরিকেরাও চাহিদা দিয়েছে আকাশচুম্বী। ১৪ দলের শরিকেরা ১৭৯ আসনের তালিকা দিয়েছে, জাতীয় পার্টি চেয়েছে ৭৬টি। তবে বিষয়টি ‘কামান পেয়ে পিস্তল’ পাওয়ার মতো হবে, এটা জানেন তারাও। মূলত গত নির্বাচনে যেসব আসনে ছাড় পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলো পেলেই খুশি তারা।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সর্বোচ্চ ৭০ আসনে ছাড় দেওয়ার কথা প্রচার করতে বলেছেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, ২০১৪ সালে যেসব আসনে অন্যদের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তার সবগুলোতেও ছাড় দেওয়া হবে, এমন নয়।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটে ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে তিনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে এর প্রতিটি আসনেই এবার ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনোনয়ন চাইছেন।

ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে না দিয়ে নৌকা নিয়ে দাঁড়াতে চান ২০০৮ সালে জয়ী সানজিদা খানম এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সহকারী সচিব আওলাদ হোসেনসহ কয়েকজন।

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের বিপক্ষে তৎপর রয়েছেন আওয়ামী লীগেরই একাধিক প্রভাবশালী নেতা। তাদের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আব্দুল মান্নান খান।

গত নির্বাচনে আব্দুল মান্নান খানকে হারিয়ে নির্বাচিত হন সালমা ইসলাম। এবারও তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে চান। তার ছেলে শামীম ইসলাম নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ঢাকা-১১ আসন থেকে।

ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল-পল্টন) আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে ২০০৮ সাল থেকেই ছাড় দিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। এবার সেখানে চোখ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউছারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।

নোয়াখালী-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি সংগঠন ও জনগণের কাছে সমান জনপ্রিয়। এ আসন থেকে মহাজোটের মনোনয়ন দাবি করছেন বিকল্পধারার মহাসচিব আব্দুল মান্নান।

২০০৮ সালের নির্বাচনে মান্নান নোয়াখালীর ওই আসন ছাড়াও ঢাকা-১২ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকেও ভোট করেন। তবে জিততে পারেননি একটিতেও। নোয়াখালী সদর আসনে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় মান্নানকে লক্ষ্মীপুর-৪ দেওয়া যায় কি না, এ নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে সেখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি গত পাঁচ বছরে এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন। তিনি এবারও জয়ের প্রত্যাশায়। এই আসনে নৌকার মনোনয়ন পান আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী।

বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করতে চান। এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আছেন আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।

সিলেট-৬ আসন থেকে মহাজোটের মনোনয়ন চান বিকল্পধারার নেতা শমসের মবিন চৌধুরী। এ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ আসনটি ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করতে চান চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

নড়াইল-১ থেকে জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া নৌকা প্রতীক চাচ্ছেন। এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি।
নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। এই আসনটি গতবার ছাড় দেওয়া হয়েছিল ওয়ার্কার্স পার্টিকে। ফলে বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ হাফিজুর রহমানের কপাল পুড়ছে।

নেত্রকোনা-৫ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হতে চাইছেন জাসদের সহসভাপতি লুৎফা তাহের। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ওয়ারেস হোসেন বেলাল। তিনি লুৎফা তাহেরের দেবর।

ময়মনসিংহ-৪ আসনে ধর্মমন্ত্রী নাকি জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদকে প্রার্থী করবে মহাজোটÑএই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠেছে। কারণ, ২০০৮ সালে জয়ী আওয়ামী লীগ আর রওশনকে ছাড় দিতে চাইছে না। আবার রওশনও এই আসন থেকে নিজের শক্তিতে জিতেছেন ১৯৯৬ সালে।

ময়মনসিংহ-৮ আসনে আওয়ামী লীগ বরাবর শক্তিশালী। তবে গত নির্বাচনে আসনটিতে ছাড় দেওয়া হয় জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামকে। তিনি সংসদে এরই মধ্যে পরিচিত হয়ে উঠেছেন জোরালো বক্তব্য রেখে। তাই তার দল আসনটি আবার চাইছে। তবে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তার এবার ছাড় দিতে চাইছেন না।

গাজীপুর-৪ আসনে মনোনয়ন চান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ও গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য শহিদুল্লাহ শিকদার। এ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সিমিন হোসেন রিমি।

জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম মাদারীপুর-৩ আসন থেকে মনোনয়ন চাইছেন। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়–য়া চট্টগ্রাম-১ আসনের মনোনয়ন চাইছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোশাররফ হোসেন বর্তমান সংসদ সদস্য।

সাতক্ষীরা-১ আসনে গত নির্বাচনে নৌকা নিয়ে জেতেন ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানসহ অর্ধডজন নেতা।

একইভাবে চট্টগ্রাম-৫ আসনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সিলেট-২ আসনে ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনে সেলিম উদ্দিন, রংপুর-১ আসনে মসিউর রহমান রাঙ্গা, কুমিল্লা-২ আসনে আমির হোসেন, কুমিল্লা-৮ আসনে নুরুল ইসলাম মিলন ও বরিশাল-৬ আসনে নাসরিন জাহান রতœা, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মজিবুল হক চুন্নুর আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা দলের মনোনয়ন চান। খোদ জাতীয় পার্টির শক্তিশালী অবস্থান থাকা রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামেও আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্য জিতে এসেছেন লড়াই করে। কিন্তু সেগুলো জাতীয় পার্টি দাবি করছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, এবার ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপি ভোটে আসায় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাচ্ছেন তারা। এ কারণে জোটের মধ্যে ঐক্য জরুরি বলে মনে করছেন। তাই প্রার্থী বাছাইয়ে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগের অনেক নেতার কপাল পুড়তে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা স্পষ্ট হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

ইতালিতে বিএনপির কর্মী সভা

বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী প্রচারণামূলক আলোচনা সভা করেছে ইতালি বিএনপি তরিনো শাখা। স্থানীয় একটি হলরুমে এ সভা হয়।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য এম আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে ছাত্রনেতা মোশারফ হোসেন শিবলুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইতালি শাখার যুগ্ম সম্পাদক কামরুল হাসান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা ও তরিনো বিএনপি নেতা অলিল হাওলাদার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তরিনো বিএনপির উপদেষ্টা এম ডি মিলন, প্রবীণ বিএনপি নেতা এবি এম আসাদ উল্লাহ, ফজল হক, মো. হান্নান, হেলাল দেওয়ান, শামিমুল হুদা, রবিউল ইসলাম, নুরুল আলম, হিরন পাটওয়ারী, রঞ্জিত পাল, আনোয়ার হোসেন, এম লুৎফুর রহমান শেকুল, বাবুল হাওলাদার, ইমুনুল ইসলাম দারু, কামাল হোসেন প্রমুখ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- ইমাম হোসেন (রিটু), কামাল উদ্দীন, তপন মিয়া, হুমায়ন কবীর, কবির উদ্দিন, শিবলু মোহাম্মদ, ছালাম মোহাম্মদ, রাসেল, আব্দুল ওয়াদুদ, এনায়েত মাতাব্বর, মাসুদ ব্যাপারী, মাস্টার সুমন, কাজী কফিল উদ্দিন, মারজুক রাসেল, সুজন, হাসান, মোহাম্মদ জুয়েল, সাদ্দাম হোসেনসহ তরিনো বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সকল কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিত ছিলেন।

লড়াইয়ে তিন রাষ্ট্রপতির পুত্র

ভিভিআইপি জেলা হিসেবে খ্যাত কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে শতাধিক নেতা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন তিন রাষ্ট্রপতিপুত্র। কারা পাবেন দলের মনোনয়ন, এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে জোর জল্পনা-কল্পনা। তবে তিন রাষ্ট্রপতিপুত্রের মনোনয়ন নিশ্চিত এ ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই।

কিশোরগঞ্জকে জাতীয় নির্বাচনে ভিভিআইপি বলার কারণ বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ এ জেলার তিন কৃতী সন্তান দেশের এই সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করেছেন। দেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন এ জেলার সৈয়দ নজরুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের গত মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন জিল্লুর রহমান, যার বাড়ি ভৈরবে।

এই তিন রাষ্ট্রপতির ছেলেরা নিজ নিজ এলাকার বর্তমান এমপি এবং এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বর্তমান সরকারের জনপ্রশাসনমন্ত্রী। জিল্লুর রহমানের ছেলে বিসিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ও রাসেল আহমেদ তুহিন।

জেলার ছয়টি আসনেই এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে ওজনদার প্রার্থী মনোনয়ন চেয়েছেন। পাশাপাশি আছেন মাঝারি পর্যায়ের নেতারাও।
সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন জমা পড়েছে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে, ২৪টি। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে ১৪ ও বিএনপি থেকে ১০ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এরপর কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে সর্বোচ্চ ২৩টি মনোনয়ন ফরম জমা পড়ে দুই দলে। আওয়ামী লীগ থেকে ১৯টি ও বিএনপির চারটি। আর কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের এক ডজন ও বিএনপির ১০ জন।

কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর)

বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গুরুতর অসুস্থ আশরাফুল নির্বাচন করতে পারবেন কি-না, এ সংশয় থাকায় তার দুই ভাইসহ ১০ জন নেতা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তারা হলেন, সৈয়দ আশরাফের দুই ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুক্তিযোদ্ধা ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেজ ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ শরীফ সাদী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি ডা. দীন মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ গুলশান আরা বেগম এবং বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পাঠাগার সম্পাদক অধ্যক্ষ এমএ হান্নান।

বিএনপি থেকেও অন্তত ১২ নেতা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন, সাবেক এমপি মো. মাসুদ হিলালী, সাবেক ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রুহুল হোসাইন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শরীফ, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ালীউল্লাহ রাব্বানী, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল মিয়া, কিশোরগঞ্জ সদরের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি প্রয়াত মাওলানা আতাউর রহমান খানের ছেলে মাওলানা উবায়দুর রহমান নদভী, হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মবিন, বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের ছোট ভাই মির্জা খোকন এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. আবদুস সালামের ছেলে আফজাল সালাম।

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া )

এই আসনে বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনসহ অন্তত এক ডজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। অন্যরা হলেন সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ, কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেণু, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান বাদল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর, আওয়ামী লীগ নেতা মঈনুজ্জামান অপু, কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক তারিকুল মোস্তাক রানা, জেলা কৃষক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মান্নান, প্রয়াত সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. মো. আবদুল মান্নানের ছেলে অটিজম বিশেষজ্ঞ ডা. মাজহারুল মান্নান পার্থ এবং প্রয়াত কমান্ডার মোহাম্মদ বজলুর রহমানের ছেলে ড. জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।

বিএনপির আট প্রার্থী হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশফাক আহমেদ জুন, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল, জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাঁকন, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামাল উদ্দিন ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আবুল হোসেন মোশাহিদ।

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ ও তাড়াইল )

বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু। এবারের নির্বাচনেও তিনি ক্ষমতাসীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তবে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড়তে নারাজ।

এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে অন্তত ১৯ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন, দুবারের সাবেক সাংসদ ড. মিজানুল হক, করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহবুব ইকবাল, জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহসভাপতি মো. এরশাদ উদ্দিন, বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হক, আইটি ব্যবসায়ী শেখ কবির আহমেদ, করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাইয়ুম, লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. আনিছুর রহমান আনিছ, আওয়ামী লীগ নেতা এমরান আলী ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক মাখন, মেজর (অব.)ড. মোসলেহ উদ্দিন বাবুল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপকমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ হায়দার, ড. মুজিবুর রহমান আঙ্গুর, অধ্যক্ষ আম্মান খান, কবি মাসুদ খান, খন্দকার মনিরুজ্জামান নয়ন প্রমুখ।

বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম ওসমান ফারুক, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল মো. গাউস ও জেলা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. এরশাদ আহসান সোহেল এবং সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম )

বর্তমান সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

বিএনপি থেকে জমা দিয়েছেন ৫ নেতা- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, সৈয়দ মহিতুল ইসলাম অসীম, সাবেক এমপি ফরহাদ আহমেদ কাঞ্চনের ছেলে ড্যাব নেতা ডা. ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী লাকী এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি সুরঞ্জন ঘোষ।

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী)

বর্তমান সাংসদ মো. আফজাল হোসেন ছাড়াও অন্তত ১৪ নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ফরম জমা দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আলাউল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ নূরুন্নবী বাদল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য শহীদুল্লাহ মুহাম্মদ শাহ্ নূর, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুব্রত পাল, নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসহাক ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ও নিকলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কারার সাইফুল ইসলাম, জেলা কৃষকলীগ সহ-সভাপতি ফারুক আহম্মেদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন, নিকলী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান বোরহান, বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহজাহান মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মোবারক হোসেন মাস্টার এবং জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম রতন।

বিএনপির ১০ মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সালেহুজ্জামান খান রুনু, বাজিতপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এহেসান কুফিয়া, নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, বিএনপি নেতা বদরুল আলম শিপু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা ইশতিয়াক আহমেদ নাসির, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুল আলম রাজন, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী মাসুক মিয়া, প্রয়াত সাংসদ মুজিবুর রহমান মঞ্জুর ছেলে মাহমুদুর রহমান উজ্জ্বল ও নিকলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সাইদ।

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর )

বর্তমান সাংসদ নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে মনোনয় ফরম জমা দেগন ভৈরব পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইফতেখার হোসেন বেনু।
বিএনপিতেও দুজন মনোনয়ন জমা দেন। জেলা বিএনপি সভাপতি আলম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফুল আলম ও ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

জানুন বিস্তারিত ….. ড. এরতেজা হাসানকে নিয়ে স্বপ্ন সাতক্ষীরাবাসীর

ড. এরতেজা হাসানকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তাকেই তৃণমূল আওয়ামী লীগ পছন্দ করছে বলে জানা গেছে।

এই প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, ‘অনেকদিন পরে আওয়ামী লীগ থেকে একজন ধর্মপ্রাণ নেতা আমাদের মাঝে এসেছেন।

যিনি গেল কয়েক বছরে সাতক্ষীরাবাসীর পাশে থেকে মন জয় করেছেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন হয়তো প্রত্যাশা করছেন। যার নাম ড. এরতেজা হাসান জজ। তিনি এফবিসিসিআই পরিচালক ও দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাও।

তাকে ঘিরে সাতক্ষীরা সদর আসনে দলের মধ্যে প্রাণ এসেছে। এই এলাকার মানুষগুলো ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী থাকা সচেতন নাগরিকও। ঠিক সে কারণে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে থাকা শক্তিকে রুখতে এরতেজার উপরে মানুষগুলো আস্থা রাখতে শুরু করেছে।

এক কথায় জামায়াতকে হারাতে তার মতো নেতাকেই এই মুহূর্তে দরকার বলে এলাকাবাসী মনে করছে। তিনি ছাড়া এই আসন থেকে দলের জেতার সম্ভাবনা কম। আর বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন না করলে অন্য হিসাব।

তবে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রশ্নে এখন বর্তমান সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক রবির সঙ্গে ড. এরতেজার লড়াইটাই টক অব দ্যা টাউন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী হতে মাওলানা আব্দুল খালেকই নির্বাচন করবেন বলে জানা যায়। পুরো সাতক্ষীরা শহরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ড. এরতেজার ব্যতিক্রমী প্রচারণাও চলছে। শেখ হাসিনার উন্নত নেতৃত্বের গুনাবলী তুলে ধরে পোস্টার ও ফ্যাস্টুন শোভা পাচ্ছে। সেদিক দিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক অনেকটাই পিছিয়ে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মীর মোস্তাক নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করলেও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেননি। শেখ হাসিনাকেও ঠকিয়েছেন। নেই তার কোন উঠান বৈঠক কিংবা বড় ধরনের সভা-সমাবেশ।

এমন কি নিজে মুক্তিযোদ্ধা হয়েও জামায়াত সখ্যতায় থেকে নানা সময়ে তাদের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে ঘুরবার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছেন। যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনও বিব্রত। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ না নিয়ে মীর মোস্তাক কার্যত আত্মকেন্দ্রিক আখের গোছানোর কাজে নিয়োজিত আছেন– এমন অভিযোগ প্রায় সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। এই আসনে ধর্মীয় সংস্কৃতি স্পর্শকাতর পর্যায়ে থাকার দরুণ আওয়ামী লীগ বেশ সুবিধাজনক পর্যায়ে এই মুহূর্তে অবস্থান করছে। তারা একজন নতুন নেতা পেয়েছেন। সকল দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জামায়াতে ইসলামীকে টক্কর দিয়ে ড. এরতেজা হাসান এর মত জাতীয় পর্যায়ের তাবলীগ নেতাই কেবল জিততে পারেন– এমন মতও রাখছে এলাকাবাসী।

অন্যদিকে এরতেজা নিজে ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেও আদৃত। তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরায় প্রধানমন্ত্রীর নামে একটা ইপিজেড আমি করতে চাই। আমাদের মৎস্যসম্পদ, কৃষিসম্পদ হতে শুরু করে শিল্পের বিকাশে একটা কার্যকরী শহর হিসেবে সাতক্ষীরার উন্নয়নে কাজ করার অভিলাষে নিজেকে সঁপে দিতে চাই। তবে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলব, আমরা গর্বিত জাতি। কারণ, প্রায় ৪৭ বছরের বাংলাদেশ দুইজন বিশ্বমানের নেতৃত্ব পেয়েছে। একজন বঙ্গবন্ধু, আরেকজন জননেত্রী শেখ হাসিনা। মানুষকে মনে রাখতে হবে যে, শেখ হাসিনা দেশের জন্য যে সিদ্ধান্তই দেবেন তা নিয়ে অপচিন্তা না করে একবাক্যে বলতে হবে তিনি সঠিক রায় দিয়েছেন। তিনি বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেত্রী। আমরা কিছুই করতে পারব না যদি তার আদর্শে চলতে না পারি। তিনি আমাদের মা। সন্তান হিসেবে তার হাতকে শক্তিশালী করা ছাড়া আর কোন রাস্তাও উন্মুক্ত নেই। রাজনীতি মানেই একজন শেখ হাসিনা। তার সমকক্ষ অন্য কেউ এই দেশে নেই।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শিক কর্মী হিসেবে ড. কাজী এরতেজা হাসান নিজ প্রতিষ্ঠান দৈনিক ভোরের পাতায় বঙ্গবন্ধু কর্ণার তৈরি করেছেন। এমনটা বাংলাদেশের কোনো পত্রিকায় নেই। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বইয়ে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেছেন। এনিয়ে নানামুখী হুমকির সম্মুখীন হলেও তিনি দমে যাননি। আদর্শের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় দেন ধর্মপ্রাণ এই এরতেজা হাসান।

উল্লেখ্য,সাতক্ষীরা দুই আসনে তিন লাখ ৫৬ হাজার ভোটারের মধ্যে এক লাখ ৭৯ হাজারই নারী ভোটার। নারী ভোটাররা একজন ধর্মপ্রাণ মানুষকেই ভোট দিবেন বলে এক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছেন ড. কাজী এরতেজা হাসান।

সংবাদটি শেয়ার করুন