ড. কামালকে দেশছাড়া করার হুমকি দিলো হেফাজত

হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য কুরুচিপূর্ণ দাবি করে তাকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির ঢাকা মহানগরের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী। অন্যথায় ইসলামপ্রিয় জনতা ড. কামালকে দেশ থেকে বিতাড়িত করবে বলেও হুমকি দেন তিনি। মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।



বিবৃতিতে হাসনাত আমিনী বলেন, ড. কামাল হোসেন এক বিবৃতিতে আল্লামা আহমদ শফীকে নারী বিদ্বেষী, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী, সংবিধানবিরোধী, ফতোয়াবাজ, ধর্মের অপব্যাখাকারী আখ্যা দিয়েছেন।

হেফাজত আমীরের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থার কথা বলেছেন। আমরা মনে করি, আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ শিষ্টাচারবহির্ভূত ও আক্রমণাত্মক। তার বক্তব্যে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ মর্মাহত হয়েছেন।



বিবৃতিতে হেফাজত ইসলামের নেতা অভিযোগ করেন, ঐক্যফ্রন্টের নামে বিএনপিকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে এখন আল্লামা শফীর বক্তব্যকে ইস্যু বানিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন ড. কামাল। কাজেই হেফাজত আমীরের বিরুদ্ধে নয়, ব্যবস্থা নিতে হলে অরাজকতা সৃষ্টিকারী ড. কামালের বিরুদ্ধেই নিতে হবে।

বিবৃতিতে হাসনাত আমিনী আরো বলেন, ড. কামাল হোসেনের ইতিহাস দেশের জনগণ ভালো করেই জানে। স্বাধীনতার নয় মাস তিনি পাকিস্তানে কাটিয়েছেন। মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন একজন বিদেশি ইহুদির কাছে।



জীবনভর কাদিয়ানিদের পক্ষে ওকালতি করেছেন। এখন তিনি দেশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমের চরিত্র হননে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। হাসনাত আমিনী বলেন, বক্তব্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে ক্ষমা না চাইলে ইসলামপ্রিয় জনতা ড. কামালকে দেশ থেকে বিতাড়িত করবে।

ফখরুল এখন বেপরোয়া চালক: কাদের
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। বেপরোয়া চালক কখন যে কী করে, ‘অ্যাকসিডেন্ট’ ঘটান, তার ঠিক নেই। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।



বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক বর্ধিতসভায় তিনি এ কথা বলেন।



আন্দোলন-সংগ্রাম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে দলটির মহাসচিব ব্যর্থ বলে মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। আর এ কারণে মির্জা ফখরুলের বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে তিনি (ফখরুল) কোনো আন্দোলন করতে পারেননি। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এ ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ও পদ থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত।



‘নির্বাচনে কারচুপির দায়ে ওবায়দুল কাদেরের উচিত স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া’-বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের একদিন পর তার উদ্দেশে এমন মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বেসরকারি সংস্থা টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিআইবি এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে বর্ধিতসভায় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

সংরক্ষিত নারী আসনে জাপার ফরম বিক্রি শুরুতে বিলম্ব ”””’



নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পর সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়।

ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।



মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয় বুধবার সকাল ১০টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে গত ৯ জানুয়ারী মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু আজ বুধবার আবার ওই পদেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।



ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে আমরা বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকব। তীর্যক ভাষায় দেশের মানুষের কথা তুলে ধরব। সংসদে গণমানুষের কথা তুলে ধরা হবে। শক্ত বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করব আমরা।’
আগের চারজনকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান চিঠি স্পিকারকে দিয়েছেন। পরে আবার উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে। পদ্ধতিগত সমস্যা ছিল, তাই নতুন করে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে।’ দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচজন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান।



জাপা সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করা যাবে আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ১০ হাজার টাকা দলীয় ফান্ডে জমা দিয়ে সংগ্রহ করা যাচ্ছে মনোনয়ন ফরম।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে মনোনয়ন দেয় জাপা। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত ওই মনোনয়নপত্রটি পাঠানো হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। জাপার মনোনীতরা হচ্ছেন পারভীন ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), নাজমা আখতার (ফেনী) ও মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)। তবে পদ্ধতিগত ক্রুটি দেখিয়ে দলটি পরে আবারও মনোনয়ন ফরম বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।

রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে টিআইবি: কাদের

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। বেপরোয়া চালক কখন যে কী করে, ‘অ্যাকসিডেন্ট’ ঘটান। সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।



এ কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত বর্ধিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

‘নির্বাচনের কারচুপির দায়ে ওবায়দুল কাদেরের উচিত স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া’- বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে তিনি (ফখরুল) কোনো আন্দোলন করতে পারেননি। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এ ব্যর্থতার কারণে বিএনপি থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত।



নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বেসরকারি সংস্থা টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিআইবি এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।
ফখরুল এখন বেপরোয়া চালক: কাদের”””

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। বেপরোয়া চালক কখন যে কী করে, ‘অ্যাকসিডেন্ট’ ঘটান, তার ঠিক নেই। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।



বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক বর্ধিতসভায় তিনি এ কথা বলেন।

আন্দোলন-সংগ্রাম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে দলটির মহাসচিব ব্যর্থ বলে মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। আর এ কারণে মির্জা ফখরুলের বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে তিনি (ফখরুল) কোনো আন্দোলন করতে পারেননি। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এ ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ও পদ থেকে তার পদত্যাগ করা উচিত।



‘নির্বাচনে কারচুপির দায়ে ওবায়দুল কাদেরের উচিত স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া’-বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের একদিন পর তার উদ্দেশে এমন মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে বেসরকারি সংস্থা টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিআইবি এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে বর্ধিতসভায় উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

সংরক্ষিত নারী আসনে জাপার ফরম বিক্রি শুরুতে বিলম্ব ”””’



নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পর সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়।

ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। এসময় দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।



মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয় বুধবার সকাল ১০টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে গত ৯ জানুয়ারী মনোনয়ন দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু আজ বুধবার আবার ওই পদেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।



ফরম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে আমরা বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকব। তীর্যক ভাষায় দেশের মানুষের কথা তুলে ধরব। সংসদে গণমানুষের কথা তুলে ধরা হবে। শক্ত বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করব আমরা।’
আগের চারজনকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান চিঠি স্পিকারকে দিয়েছেন। পরে আবার উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে। পদ্ধতিগত সমস্যা ছিল, তাই নতুন করে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে।’ দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচজন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান।



জাপা সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করা যাবে আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ১০ হাজার টাকা দলীয় ফান্ডে জমা দিয়ে সংগ্রহ করা যাচ্ছে মনোনয়ন ফরম।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনে চারজনকে মনোনয়ন দেয় জাপা। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত ওই মনোনয়নপত্রটি পাঠানো হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। জাপার মনোনীতরা হচ্ছেন পারভীন ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), নাজমা আখতার (ফেনী) ও মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)। তবে পদ্ধতিগত ক্রুটি দেখিয়ে দলটি পরে আবারও মনোনয়ন ফরম বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাল জাপান

হতাহতের ঘটনাসহ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছে জাপান। সফররত জাপানের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ বিষয়ক মন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে এ উদ্বেগের কথা জানান। মোটেগি একইসাথে মানবসম্পদ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কর সংস্কারবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।



জাপান দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবার দায়িত্ব নেয়ায় শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান মোটেগি। তিনি বলেন, সব কয়টি প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে স্বাগত জানায় জাপান। কিন্তু একইসাথে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনাসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি নানাবিধ অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে জাপান আশা করে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক উন্নয়নের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রচেষ্টায় জাপান সমর্থন দিয়ে যাবে।



এ দিকে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের খবরে জানানো হয়েছে, সফররত জাপানের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণবিষয়ক মন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জাপান। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে জাপান আগ্রহী। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

মোটেগি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্পর্কের গোড়া পত্তন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের চলমান মেয়াদে বাংলাদেশ এবং জাপানের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।



জাপানের মন্ত্রীকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের পুরনো বন্ধু হিসেবে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য জাপান একটি মডেল।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং প্রতিটি গ্রামকে শহরের নাগরিকসুবিধা দিয়ে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।



প্রধানমন্ত্রী আইটি পার্কগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ এবং গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের জন্য জাপানের সহযোগিতা চান। তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকা নেয়ার জন্য জাপানের মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। জাপানের মন্ত্রী এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেন।
বৈঠকে শেখ হাসিনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের পুনরুল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সুত্রঃ উৎসঃ নয়াদিগন্ত

‘আহমদ শফীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’

হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর মেয়েদের লেখাপড়ার বিরুদ্ধে অবৈধ ফ‌তোয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইকে হবে বলে দাবি করেছেন নারী শ্রমিক নেতারা।



মঙ্গলবার ১৫ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরজ। কিন্তু আল্লামা শফী নারীদের পড়াশোনা না করার ফতোয়া দিয়েছেন। তা নিঃসন্দেহে হাদিস বিরোধী বক্তব্য।



তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সরকার দলীয় নেতা নারী, বিরোধীদলেও নারী নেতা আছেন। হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নারী। নারীরা শিক্ষিত না হলে দেশে উন্নয়নের বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এমত অবস্থায় হেফাজতের আমির শফী নারীদের পড়াশোনা না করার ফতোয়া দিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে একটি দেশের উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করার ফতোয়া। তাই, অনতিবিলম্বে আল্লামা শফীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।



এসময় তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ ও খুনের বিচারেরও দাবি জানান।

শ্রমিক নেত্রী লাভলী আক্তারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে শ্রমিক নেতা আবুল হো‌সেন ও বি‌ভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি আওয়ামী লীগের শরিক দলের কারো। পূর্বের দুই সরকারে শরিকদের অল্প-বিস্তর অংশগ্রহণ থাকলেও এবার শতভাগ আওয়ামী মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। এতে স্বভাবতই মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন তারা। মহাজোট ও ১৪ দলের শরিক অনেকেই ভাবছেন আওয়ামী লীগ এখন আর শরিকদের প্রয়োজন আছে মনে করছে না।



মন্ত্রিসভা গঠনের পরপর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছিলো আপাতত মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের বাইরে আর কারো স্থান হচ্ছে না।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন শরিক দলগুলোকে আওয়ামী নির্ভরতা কমিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিলেন তখন শরিক দলগুলোর হতাশা আরও প্রকট হলো। এখন তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও হতাশা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

অন্যদিকে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা সরকার ও বিরোধী দলে থাকুক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি। তাই সরকারে না থেকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ভূমিকা রাখতে পারে শরিকেরা। আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তিও বাড়াতে পারে।



তার এই বক্তব্যের পর শরিকরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনেও হয়তো তারা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই শরিক দলগুলোর সামনেও নিজেদের ঘর গোছানো ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। ইতিমধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি পলিটব্যুরোর এবং জাসদ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে। এ মাসের শেষভাগে এবং আগামী মাসের শুরুতে এসব সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কিছুটা অভিমান নিয়েই ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা যাঁরা রাজনৈতিক দল করি, তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই রাজনীতি করি। তাই প্রধানমন্ত্রী কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা ঠিক পরিষ্কার নয়।’



রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার শরিকদের ভেতর থেকেই একটি অনুগত এবং বাহ্যত সক্রিয় বিরোধী দল তৈরি করার চেষ্টা করছে। যাদেরকে বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। এতে সরকার ও তার শরিক উভয়েই লাভবান হবে।

সরকারের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সামনের দিনের কার্যক্রম ঢেলে সাজাচ্ছে আওয়ামী লীগের শরিকরা। যদিও ক্ষমতার অংশিদার হতে না পারার বেদনা প্রকাশ পাচ্ছে তাদের কথা, কাজে ও আচরণে।



কামালের বিবৃতিতে আল্লামা শফীকে বলা হলো, ‘নারীবিদ্বেষী, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী, সংবিধানবিরোধী ও ফতোয়াবাজ’

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টুর এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী সম্পর্কে বলা হলো-নারী বিদ্বেষী, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী, সংবিধানবিরোধী ও ফতোয়াবাজ।



সোমবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গণফোরামের এই দুই প্রধান নেতা আল্লামা আহদ শফীর ‘ নারী শিক্ষাবিরোধী বক্তব্যে’র তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে কামাল হোসেন ও মোস্তফা মোহসিন মন্টু বলেন, ‘আহমদ শফী নারী বিদ্বেষী, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী ও সংবিধানবিরোধী। এই ফতোয়াবাজ ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’



বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, ‘আহমদ শফী ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মনগড়া ফতোয়া দিয়ে দেশ ও সমাজকে আলো থেকে অন্ধকারে নিতে চান।’ বিবৃতিতে আহমদ শফীর নারী শিক্ষাবিরোধী ফতোয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতিও উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টুর এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী সম্পর্কে বলা হলো-নারী বিদ্বেষী, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী, সংবিধানবিরোধী ও ফতোয়াবাজ।

সোমবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গণফোরামের এই দুই প্রধান নেতা আল্লামা আহদ শফীর ‘ নারী শিক্ষাবিরোধী বক্তব্যে’র তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।



বিবৃতিতে কামাল হোসেন ও মোস্তফা মোহসিন মন্টু বলেন, ‘আহমদ শফী নারী বিদ্বেষী, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী ও সংবিধানবিরোধী। এই ফতোয়াবাজ ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, ‘আহমদ শফী ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মনগড়া ফতোয়া দিয়ে দেশ ও সমাজকে আলো থেকে অন্ধকারে নিতে চান।’ বিবৃতিতে আহমদ শফীর নারী শিক্ষাবিরোধী ফতোয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতিও উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

সুত্রঃ ‌ইসলাম টাইমস

সমাধানের পক্ষে মালিকরা না হলে ক্ষতি সবারই

এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শ্রমিকদের আস্থা অর্জন। আগে মজুরি ইস্যুতে শ্রমিকদের অসন্তোষ ছিল, যা পরে ভীতিতে পরিণত হয়েছে। কারখানায় কর্মবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও মালিকদের তৎপর হয়ে শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। গতকাল শ্রমিকনেতারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব কথা বলেন। তারা এও বলেন, শ্রমিকরা যদি এখন কাজে ফিরে না যায়, তাহলে পুরো অর্থনীতির পাশপাশি শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি কাজে না ফিরলে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। এ জন্য সবার ভালোর জন্য এ মুহূর্তে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। অন্যদিকে পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের চলমান সমস্যা সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মালিকরাও।



তারা শ্রমিকদের রাজপথ ছেড়ে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর সংশোধনের পরও নতুন মজুরিকাঠামো নিয়ে আন্দোলন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এরই মধ্যে অধিকাংশ শ্রমিক কাজে ফিরেছেন। মালিকরা বলছেন, এখন যারা আন্দোলন করছেন, তারা পোশাকশিল্পকে বিশ্বে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছেন। গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, ‘গতকাল শুধু আশুলিয়ার কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। কিন্তু এর আগের দিন, অর্থাৎ রবিবার রাজধানী ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়। অর্থাৎ আগের তুলনায় শ্রমিক অসন্তোষ অনেকটাই কমে এসেছে।



আমরা আশা করছি শিগগিরই এই অসন্তোষ আরও কমে আসবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু নিজে হস্তক্ষেপ করে কয়েকটি গ্রেডে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করেছেন, এ জন্য শ্রমিকদের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন দ্রুত কাজে যোগ দেন। এর পরও যদি শ্রমিকরা মনে করেন যে তাদের মজুরি বৃদ্ধি প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, শ্রমিক ফেডারেশনের এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে তাদের কারখানাভিত্তিক আলোচনায় যেতে হবে। আর এমনটি যদি করা না যায় তাহলে শ্রমিক ও মালিক উভয়েরই ক্ষতি হবে।



বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের চলমান সমস্যা সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মালিকরা। কারণ এ সমস্যা সমাধান না হলে ক্ষতি হবে সবারই। এ ক্ষেত্রে যেসব অসংগতি হয়েছে, তা সর্বশেষ ত্রিপক্ষীয় সভার সিদ্ধান্তে সমাধান হয়েছে। আমরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। শ্রমিকরাও মেনে নিয়ে কারখানায় কাজ করছেন। তবে আজ (গতকাল) ২০ থেকে ২৫টি কারখানার শ্রমিকরা কাজ করেননি। তারা মাঠে নেমেছেন। শ্রমিকরা মাঠে নামলে সবারই ক্ষতি হয়। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে দেশের।’ তিনি বলেন, ‘পোশাকশিল্প এখন জাতীয় সম্পদ। এ খাতে আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কিছু উসকানিদাতা ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী পোশাকশিল্প ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র করছে। আমি শ্রমিকদের কাজে যোগদানের অনুরোধ জানিয়ে বলব, আপনারা রাজপথ ছেড়ে কাজে যোগ দিন। এই শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে আপনারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর সংশোধনের পরও নতুন মজুরিকাঠামো নিয়ে আন্দোলন করার যৌক্তিকতা নেই।’



সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের শুরু থেকেই কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য বলেছি। শ্রমিকদের এটিও বুঝতে হবে, মজুরি বৃদ্ধিই মূল বিষয় নয়। এ ইস্যুতে প্রয়োজনে মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের সমঝোতামূলক আলোচনায় যেতে হবে। আর তা না হলে শুধু শ্রমিকদের একার নয়, মালিকদের পাশাপাশি পুরো পোশাকশিল্পেরই ক্ষতি হবে। উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। আবার শ্রমিকদের আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, সেটি হচ্ছে, তারা যদি কাজে ফিরে না গিয়ে এ ধরনের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন, তাহলে তারা শুধু আর্থিকভাবেই যে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তা নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুনাগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।



আর এমনটি হলে তাদেরই বেশি ক্ষতি হবে। আমি শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করব। আর মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মালিকদের যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে, সেগুলো বের করে শ্রমিকদের আলোচনায় বসতে হবে। আবার পোশাক উৎপাদন না হলে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বিপরীতে চলে যাবে। এতে সার্বিকভাবে শ্রমিকস্বার্থ ব্যাহত হবে।’ বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি এস এম আসলাম সানী গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের অভিযোগ, অসন্তোষ ও আন্দোলনের মুখে তা সংশোধন করে বাড়ানো হয়েছে। কিছু মালিক ইতিমধ্যে মজুরি সমন্বয় করেছেন। দু-একটা কারখানা মজুরি সমন্বয় না করায় যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তাও সমাধান হয়েছে। অধিকাংশ শ্রমিক কাজে ফিরেছেন।



এখন যারা আন্দোলন করছেন, তারা পোশাকশিল্পকে বিশ্বে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছেন। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজ্জেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শ্রমিকদের আস্থা অর্জন। আগে মজুরি ইস্যুতে শ্রমিকদের অসন্তোষ ছিল, যা পরে ভীতিতে পরিণত হয়েছে। শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে। তাদের মধ্যে থাকা অসন্তোষ দূর করতে হবে। তাদের প্রতি করা হয়রানিমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে। আমরা শুনেছি, কারখানা এলাকায় কিছু লোক লাঠি হাতে শ্রমিকদের তাড়া করছে। আবার এও জানতে পেরেছি, ভীত অনেক শ্রমিক বাড়ি চলে যাচ্ছেন। এখন শ্রমিকদের যে লোকগুলো তাড়া করছে, তারা আসলে কারা সেটি চিহ্নিত করতে হবে।



এই লোকগুলোর আচরণ বেশ রহস্যজনক। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। শ্রমিকরা যেহেতু কারখানায় কাজ করতে এসেছেন, এ জন্য তাদের কাজে ফিরে যেতেই হবে। আর কারখানায় কর্মবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও মালিকদের তৎপর হয়ে শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। এটি করা না গেলে শ্রমিকরা কাজে ফিরে যাবেন না।’ এদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ অফিস রবিবার পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরিকাঠামো গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা শ্রমিকবিক্ষোভ প্রতিরোধে শ্রম মন্ত্রণালয়ের গৃহীত এ পদক্ষেপের প্রশংসা করে।

জম্মু-কাশ্মির থেকে ‘বাংলাদেশি’ তাড়াতে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম

জম্মু-কাশ্মির থেকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। আজ সোমবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুব সংগঠন রাষ্ট্রীয় বজরং দলের (আরবিডি) এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি তোলা হয়।



গত দশ বছরে কোনও বাংলাদেশির অনুপ্রবেশ ঘটেনি উল্লেখ করে আসাম বিজেপির সংবাদ সম্মেলনের কয়েকদিনের মাথায় এই আলটিমেটাম দিলো তাদের ভাবাদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) পরিবারের সদস্য সংগঠন আরবিডি। কাশ্মিরের গভর্নর সত্য পাল মালিকের কাছে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদেরও বিতারণের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তারা।



লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে কথিত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ’কে প্রচারণার হাতিয়ার করেছিল শাসক দল বিজেপি। ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেন রিজুর বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিলো, ভারতে প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছে। তবে ১০ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) আসাম বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিগত ১০ বছরে কোনও বাংলাদেশি অবৈধ পন্থায় ভারতে প্রবেশ করেনি। এর ৩ দিন পর ১৪ জানুয়ারি (সোমবার) জম্মু কাশ্মির থেকে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা বিতাড়নের দাবি তোলা হলো।



জম্মু শহরের নারোয়াল এলাকাতেই মূলত মিয়ানমার থেকে আসার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বসবাস। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তত্বাবধানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী জম্মুতে বসতি গেড়েছে। দিল্লিসহ অন্যান্য কিছু শহরেও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার শরণার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করেছে। সোমবার উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরের নিকটবর্তী নারোয়াল বাইপাসে একটি শপিং মলের সামনে জড়ো হন। সেসময় তাদের হাতে ছিল ত্রিশুল, প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা। তারা অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নের স্লোগান দেন এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে চলে যান।
আরবিডির রাজ্য প্রধান রাকেশ বজরঙ্গি সমাবেশে বলেন, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে আমরা গভর্নরের প্রশাসনের প্রতি সতর্কবার্তা দিলাম। তিনি দাবি করেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ও রোহিঙ্গাদের অবস্থান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।



তার দাবি অনুযায়ী, এই অভিবাসীরা মাদক পাচারের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং তারা এই অঞ্চলের সংস্কৃতির জন্যও হুমকি। অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে গভর্নরকে এক সপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আরবিডি। সরকার যদি সেটাতে ব্যর্থ হয় তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে ‍হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

এর আগে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতেও রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে জম্মু কাশ্মিরে আন্দোলন হয়েছিলো। শহরটিতে রোহিঙ্গাবিরোধী বড় বড় হোর্ডিং লাগিয়েছিলো স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল প্যান্থার্স পার্টি।
শীর্ষকাগজ/



একটি মহল আমাকে বিতর্কিত করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে: আল্লামা শফী

কারো বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার না করতে এবার গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ও ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এমন সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে রোববার রাতে হেফাজতের কার্যালয় থেকে বিবৃতি দেয়া হয়।



বিবৃতিতে তিনি বলেন, কারো বক্তব্যকে ব্যাখ্যা দিতে হলে আপনাকে তাঁর কথা বুঝতে হবে। অনুধাবন করতে হবে। না বুঝে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দাঁড় করানো একধরণের অপরাধ। আর খন্ডিত বক্তব্যকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা আরো বড় অপরাধ। কোন কিছু লিখতে চাইলে সুস্থ মস্তিষ্কে চিন্তাশীল হয়ে সঠিক কথাটি লিখবেন।



বিবৃতিতে আল্লামা শফী আরও বলেন, একটি মহল আমাকে বিতর্কিত করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। আমাকে নারী বিদ্বেষী, নারী শিক্ষা বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। আমি এসব কথার জবাব দিয়েছি। জবাবটি ভালোভাবে পড়ুন এবং বুঝার চেষ্টা করুন। মিথ্যাচার করবেন না।



তিনি বলেন, আমি আবারও বলছি, নারীদের জন্যে নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার ব্যবস্থা করুন এবং তাদের জীবন ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। কেউ কারো কন্যাকে অনিরাপদ পরিবেশের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। কারণ, দৈনিক পত্রিকা খুললেই প্রতিদিন চোখে পড়ছে কোথাও না কোথাও কোন নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে অথবা খুন করা হয়েছে। নৈতিকতা অর্জন না হলে ধর্ষণ, খুন ও উত্যক্তকরণ বন্ধ হবে না। নারীর প্রতি বৈষম্যতা দূর হবে না। ইসলামই ফিরিয়ে দিয়েছে নারীর প্রকৃত সম্মান। কিন্তু কেউ কেউ আমার খণ্ডিত বক্তব্যকে ভুলভাবে প্রচার করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।



সংবাদ মাধ্যমের উদ্দেশে হেফাজত আমির বলেন, এসব হীন কাজ করবেন না। কারো বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করবেন না। আমার কথার সারাংশ হলো উচ্চশিক্ষা কিংবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াতে চাইলে বোরকা গায়ে দিয়ে পড়বে এবং তাদের শিক্ষকও মহিলা হতে হবে বলে তিনি তার বিবৃতিতে এমনটা দাবি করেন।

শীর্ষকাগজ/

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে রাস্তায় ফেলে পেটাল পুলিশ (ভিডিও)

ভোলার বাংলা স্কুল মোড়ে মোটরসাইকেল কাগজ পরীক্ষার সময় সামান্য বিষয় নিয়ে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে প্রকাশ্যে পেটাল এক পুলিশ কর্মকর্তা। এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

আহত আওলাদ হোসেন (৩২) বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ যুগ্ম সম্পাদক। রোববার বিকালে ভোলার বাংলাস্কুল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এর জেরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপাররের দফতরে অভিযোগ করেন। তারা অভিযুক্ত এএসআই শাহে আলমের শাস্তি দাবি করেন।



ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের এএসআই মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে আনেন। পড়ে তাকে কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলেন। এরপর তার বুকের ওপর লাথি দিতে থাকেন। দুই মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।

এদিকে আহত আওলাদ ও তার ভাই মো. আব্বাস উদ্দিন জানান, আওলাদ ও তার এক বন্ধু ছাত্রলীগ নেতা দুটি আলাদা মোটরসাইকেল যোগে বোরহানউদ্দিন থেকে ভোলা জেলা শহরে আসেন।



শহরের বাংলা স্কুল মোড়ে পুলিশ মোটরসাইকেল চেকিংকালে কাগজপত্র ঠিক থাকায় আওলাদকে ছেড়ে দেন। কিন্তু তার অপর সঙ্গীর হেলমেট না থাকাসহ কাগজে কিছু অসঙ্গতির জন্য মোটরসাইকেল আটকে রাখে।



ওই সময় আওলাদ অনুরোধ করতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এএসআই শাহে আলম। এক কথা দু কথায় এএসআই শাহে আলম আওলাদের ওপর চড়াও হন। গলার মাফলার ধরে টেনে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে লাথি মারতে থাকেন। স্থানীয়রা এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হন।

এ সময় বেশ কয়েকজন পথচারী ওই দৃশ্য মোবাইলে ভিডিওতে ধারণ করেন। যা ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। পরে অবশ্য এএসআই শাহে আলম এমন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

ভোলা থানার ওসি মো. ছগির মিয়া বলেন, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। বোরহানউদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এহছানুল হক কিশোর, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বেলায়েত হোসেনসহ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সমঝোতা করে দেয়া হয়েছে।



রাত সাড়ে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় সমঝোতার চেষ্টা করছিলেন ওসি ছগির মিয়া।

ভিডিও:



সুত্রঃ https://www.jugantor.com/…/ভোলায়-স্বেচ্ছাসেবক-লীগ-…

সুত্রঃ www.pbd.news/whole-country/88836

সুত্রঃ www.bangla.24livenewspaper.com › বাংলাদেশ

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার : জামায়াতের বক্তব্য

ঝিনাইদহ-৩ আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমানকে তার স্ত্রীসহ ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগকে ভিত্তিহীন মিথ্যা আখ্যায়িত করে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এবং সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার নির্বাচন বানচালের যে ষড়যন্ত্র করছে তার অংশ হিসেবেই ২৬ ডিসেম্বর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঝিনাইদহ-৩ আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের জাতীয় সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমানকে তার স্ত্রীসহ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে এবং আওয়ামী লীগের নেতারা জামায়াত ও এর নেতাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।



তিনি বলেন, অধ্যাপক মতিয়ার রহমান একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা। তার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়েই সরকার তাকে তার স্ত্রীসহ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে তার আসনটি দলীয়ভাবে দখল করার চক্রান্ত করছে। সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেআইনীভাবে ব্যবহার করে ধানের শীষ প্রতীকের পদ প্রার্থীদের একদিকে গ্রেফতার করছে, অন্যদিকে প্রার্থীদের উপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ঐক্যবদ্ধভাবে হামলা করে তাদের হত্যার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ তাদের সমর্থক সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের এবং সকল বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।



তাদের লক্ষ্য ২০ দলীয় জোটসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন বর্জনে বাধ্য করা। তাদের এ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগের নেতারা গত ২৫ ডিসেম্বর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সহায়তায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে বড় ধরনের সহিংসতা করার ষড়যন্ত্র করার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের’ ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছে। তাদের এ অভিযোগের মধ্যে সত্যের লেশমাত্রও নেই। শুধু তাই নয়, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের জাতীয় সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ২৫ ডিসেম্বর টিভি চ্যানেল ৭১-এর একটি টকশোতে ভিত্তিহীন মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে আমি স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র কোনো সম্পর্ক নেই।



অধ্যাপক মুজিব বলেন, সেনাবাহিনী কিংবা সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে জামায়াতের অপপ্রচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের জাতীয় সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের জনপ্রিয়তায় ভীত ও বিচলিত হয়েই তার বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেল ৭১-এর টকশোতে নাশকতায় জড়িত থাকার মিথ্যা অভিাযাগ করে পানি ঘোলা করছে এবং ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্র করছে। তাদের এসব মিথ্যা প্রচারণা দেশের জনগণ বিশ্বাস করে না। জামায়াতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মিথ্যা অপপ্রচার বন্ধ করে এবং ২০ দলীয় জোটের ধানের শীষ প্রতীকের জাতীয় সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমানকে স্ত্রীসহ এবং ২০ দলীয় জোট ও অন্যান্য বিরোধী দলের গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।



শামীম ওসমানের অভিযোগ ভিত্তিহীন : আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জের নেতা একেএম শামীম ওসমান গত ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন দাবি করে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতা একেএম শামীম ওসমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নাশকতা করার যে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে লক্ষ্য করে তার এ অমূলক আশঙ্কার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।



একেএম শামীম ওসমানের বক্তব্যের জবাবে আমি স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই যে, পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই, এ কথা আমরা বারবার বলা সত্ত্বেও পুনরায় এ ধরনের মিথ্যাচার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রদত্ত আওয়ামী লীগের নেতাদের মিথ্যা বক্তব্য সরকারের সমর্থক সংবাদপত্রগুলো আগ্রহের সাথে প্রচার করে। কিন্তু জামায়াতের পক্ষ থেকে ঐ সব মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলো তা ছাপে না। এতেই বোঝা যায় যে, জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যেই এ ধরনের মিথ্যাচার করা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভিত্তিহীন মিথ্যা প্রচারণা চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি একেএম শামীম ওসমানের প্রতি আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি।

সুত্রঃ ‌নয়া দিগন্ত