আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর রণক্ষেত্র

নারায়ণগঞ্জে পরিবহন চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মদনপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। রবিবার দুপুরে মদনপুরে আমির গ্রুপ ও খলিলুর রহমান খলিল মেম্বার গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ৪ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, খলিল মেম্বারের পক্ষে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে মিছিল করছে তার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। মূলত মদনপুর বাসস্ট্যান্ডের চাঁদাবাজি ও স্থানীয় পরিবহন সেক্টরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষ। এর আগেও একাধিকবার এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষেরই থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত খলিল মেম্বার মদনপুরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার নিজস্ব পল্ট্রি ফিডের দোকানে বসে ছিলেন। এসময় আমির গ্রুপের আমির সোহেলসহ অর্ধ শতাধিক ক্যাডার এসে তাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। প্রায় সকলেই দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে খলিলের উপর হামলা করে।

একই সময়ে শাহ আলম নামে এক হকার বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও মাটিতে ফেলে কোপায় ক্যাডাররা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে খলিল গ্রুপের সদস্যরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমির গ্রুপের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা চালায় ও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে আমির গ্রুপও আবার পাল্টা হামলা করলে দুই পক্ষের হামলা পাল্টা হামলায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।

বন্দর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, গুরুত্বর আহত অবস্থায় খলিল মেম্বার ও শাহ আলমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছে পুলিশ।

বিডি-প্রতিদিন

পরীক্ষার্থীকে পান কিনতে পাঠালেন কক্ষ পরিদর্শক

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলাকালে এক কক্ষ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীকে দিয়ে পানের খিলি কিনতে কেন্দ্রের বা্ইরে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ওই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কক্ষ পরিদর্শক মাওলানা মো. মহিউদ্দিন উপজেলার আব্দুল আজিজ দাখিল মাদরাসার আরবি বিষয়ের শিক্ষক।

জানা গেছে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর ওই কেন্দ্রের ৭ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালনকালে মাওলানা মো. মহিউদ্দিন এক পরীক্ষার্থীকে উত্তর বলে দেয়ার আশ্বাসে ১০ টাকা হাতে দিয়ে কেন্দ্রের বা্ইরে পানের দোকান থেকে খিলি কিনতে পাঠান। ওই পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের গেট পার হতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে আটকে দেয়। পুলিশ সদস্যরা পরীক্ষা চলাকালে বাহিরে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এক শিক্ষক তাকে পানের খিলি কিনে আনার জন্য পাঠিয়েছেন বলে সে জানায়।

এরপর ওই পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি কেন্দ্র সচিব জলিলুর রহমান আকন্দকে জানালে তিনি সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শককে অফিস কক্ষে ডেকে পাঠান। পরে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদ আলম জোমাদ্দার অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মো. মহিউদ্দিনকে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে মাওলানা মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমি ভুল করে তাকে পানের খিলি আনতে পাঠিয়েছিলাম। এটা আমার উচিত হয়নি। কেন্দ্র সচিব জলিলুর রহমান আকন্দ জানান, পুলিশ সদস্যরা এ ঘটনা জানানোর পর ওই কক্ষ পরিদর্শককে তাৎক্ষণিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আবারো ঘোমর ফাঁস নয়াপল্টনে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ে ভয়াবহ তথ্য ফাঁস করে যা বলল পুলিশ

বিএনপির নেতাকর্মীরা বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন।বুধবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টন মোড়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, বিনা উসকানিতে তারা আমাদের উপর আক্রমণ করেছে। এতে আমাদের ১৫-২০ সদস্য আহত হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, পুলিশ শুধু তাদের রাস্তায় থেকে সরে যেতে বলেছিল, যেন যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু, তারা এ কথা না শুনে হঠাৎ করে বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর হামলা করে। পরে তারা আমাদের (পুলিশের) ২টি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।উপ-পুলিশ আরও বলেন, এখন পর্যন্ত পুলিশ ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় কাউকেই এখন পর্যন্ত আটক করা হয়নি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

জানা যায়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের শোডাউনে দুই কর্মীর ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করার পরই সংঘর্ষ শুরু হয়। নেতাকর্মীরা পুলিশকে ধাওয়া করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণও ঘটানো হয়েছে। পুলিশও তাদের পাল্টা ধাওয়া করে লাঠিপেটা করে। নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলিও ছুঁড়ে পুলিশ।

মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, শটগানের ফাঁকা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। উপস্থিত নেতাকর্মীরা আশপাশের মার্কেট, হোটেল, শপিং মল ও গলিতে অবস্থান নেয়।এ ঘটনার সময় বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে ও পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় নয়াপল্টনে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার (১২ নভেম্বর) থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে। গত দুদিন মনোনয়নপত্র নিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এতে করে বিএনপি অফিসের সামনে ও তার আশপাশের এলাকায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাই আজ বুধবার (১৪ নভেম্বর) যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই সকাল থেকেই দেখা যায় পুলিশের ব্যারিকেড।পুলিশের দাবি, ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছেন তারা।

সূত্র:বিডি২৪লাইভ

নয়াপল্টনে অগ্নিসংযোগকারী কে ধরিয়ে দিতে ডিএমপির ঘোষণা

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীকে ধরিয়ে দিতে, নাম ঠিকানা জানিয়ে সহায়তা করার জন্য ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আজ সন্ধ্যায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ডিভিশনের ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

ফেসবুক পেজে ০১৭১৩৩৭৩১৪৭ এই নম্বর উল্লেখ করে নাম ঠিকানা ও তথ্য জানিয়ে সহায়তা করতে বলা হয়।

এরআগে দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ হয়। এসময় পুলিশের দুটি সেডান গাড়ি ও একটি ভ্যানে আগুন দেয় দুস্কৃতিকারীরা।

এই সংঘর্ষের সময় কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুলের দিকে রাস্তার উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বিকাল সোয়া ৩টার পর থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন ড.কামাল

প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) বসবেন ড.কামাল হোসেন এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে একথা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এসময় তিনি আরো বলেন, শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) তারিখ প্রিন্টিং মিডিয়ার মূল পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সঙ্গে ড.কামাল হোসেন মত বিনিময় করবেন। এরপরে ইলেকট্রিনিক মিডিয়ার সঙ্গেও কথা হবে। আসন ও প্রতীকের বিষয়গুলো পরে হবে।’

ফখরুল বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটা আলাপ আলোচনা করে তফশিল ঘোষণার করা, কিন্তু সে অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। আমরা এতে অত্যন্ত হতাশ হয়েছি। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে আমরা যে এক মাস পিছিয়ে তফসিল ঘোষণা দিতে বলেছি, এটা অত্যন্ত জরুরি।’

মির্জা ফখরুল জানান, ড. কামালের নেতৃত্বে কাল ইসিতে যাবেন তারা। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে ড. কামাল হোসেন ছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, ও ডা. জাফরুল্লাহসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণমানুষের কথা না শুনলে ফ্যাসিজমের সঙ্গে গণতন্ত্রের পার্থক্য কী ?

কোটাকে যৌক্তিক সংস্কারের আন্দোলনে গণমানুষের দাবি রয়েছে কিনা, সেটা না খুঁজে সরকার খুঁজলো এই আন্দোলনে জামায়াত-বিএনপির সমর্থন আছে কিনা! যদি কোনো সরকার নিজেকে গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে স্বীকার করে তাহলে তাকে গণমানুষের কথা শুনতে হবে। না শুনলে ফ্যাসিজমের সঙ্গে গণমানুষের কথা না শোনা গণতন্ত্রের কোনো পার্থক্য নেই।

আমরা লক্ষ্য করলাম, লক্ষ-কোটি শিক্ষার্থীকে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কিংবা দলের কাছে নিজেকে অতি আস্থাবান হিসেবে উপস্থান করার বাসনা থেকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বা ‘জঙ্গিদের মতো’ বলে আখ্যা দিলেন অনেকে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঢালাওভাবে এমন স্পর্শকাতর দুটি শব্দ দ্বারা আখ্যা দিতে গিয়ে এ বিষয়টিকে ‘হালকা’ করে দেয়া হয়েছে। এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যের নিন্দা জানানোর ও দুঃখ প্রকাশ করার ভাষা জানা নেই।

ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে পড়েছি ছাত্রলীগের গৌরব, সংগ্রাম ও সোনালী দিনগুলোর কথা। যে ছাত্রলীগের শহীদ ভাইদের বুকের রক্ত নদী পেরিয়ে আজকের এই বাংলাদেশ, সে ছাত্রলীগ আজ কোন পথে? এতটা নিচতা, এতটা শঠতা, এতটা গণবিরোধী অবস্থান ছাত্রলীগের প্রকৃত কোনো নেতাকর্মী নিতে পারে বলে কেউ বিশ্বাস করতে চায় না।

উপাচার্যের বাসায় কেন তাণ্ডব চালানো হলো?- এই প্রশ্ন ওঠার পর শিক্ষার্থীরা ওই হামলায় অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওপর কারা হমলা করলো, আশিকুরের বুকে কে গুলি চালালো, তরিকুলের হাড় কে ভেঙে দিল তার বিচার কি সবাই চাইবেন? শিক্ষকের দিকে এক আঙ্গুল তুলে কথা বলা সেই ছাত্র কি ভেবে দেখেছে বাকি ‘তিন আঙ্গুল’ তার ‘নিজের বিবেকের’ দিকে তাকিয়ে ছিল?

আরেকটা কথা বলি, চেতনাকে পাকিস্তানিরা ব্যবহার করতো ব্যক্তি স্বার্থে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর যখনই কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতো, তখনই সেই আন্দোলনকে ‘ইসলামী’ চেতনা ব্যবহার করে দমন করা হতো। কারণ এদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ধর্ম লালন করে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণের কাছে অপ্রিয় করার জন্য পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে ‘হিন্দুস্থানের দালাল’ ট্যাগ দিয়েছিল। সেই ট্যাগ মিথ্যা প্রমাণ করে লক্ষ-কোটি মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

তাই মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস আমাদের হৃদয়ে শিহরণ জাগায়। এই চেতনাকে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করে এতো বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীর দাবিকে ঢালাওভাবে ‘জামায়াত-বিএনপির আন্দোলন’ ট্যাগ দেয়াটা খুবই দুঃখজনক। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে খাটো করা ছাড়া অন্য কিছুই নয়। কারণ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পক্ষে কেউ বলেনি। শুধু দাবি ছিল এটাকে যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনা হোক। কিন্তু এই দাবিটিকে গোটা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়াটা কত বড় ভুল সে হিসাব হয়তো একদিন ইতিহাস করবে।

দিনাজপুর থেকে জেএমবির দুই সদস্য আটক

দিনাজপুর শহর থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দুই সদস্যকে আটক করেছে দিনাজপুরের র‍্যাব-১৩ এর সদস্যরা। আটককৃতরা হলেন—জেএমবির রংপুর বিভাগের সামরিক কমান্ডার রাহাত ও তাঁর সহযোগী রিয়াজুল। র‍্যাবের এর খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাবের দাবি, আটককৃতদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল ও ৩২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব-১৩ দিনাজপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সোহেল রানা ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। আজ সকালে আটক করা হয়েছে জেএমবির দুই নেতাকে। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

গাইবান্ধায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নাশকতা মামলায় প্রভাষক আনিসুর রহমান (২৮) নামে জামায়াতের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আনিসুর রহমান নাকাইহাট ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর জলিল সরকারের ছেলে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, আসামি আনিসুর রহমান জামায়াতের একজন সক্রিয় নেতা। তার বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় তিনটি নাশকতার মামলা আদালতে বিচারাধীন।

সংলাপের সফলতা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর

সময় যতো পার হচ্ছে, ঘনিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন বলছে, আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনী তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যতিব্যস্ততা বেড়ে যাবে। তবে এর আগে নির্বাচন অনুষ্ঠান, পদ্ধতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে চলছে আলাপ-আলোচনা। যেটাকে পরিভাষা দেওয়া হয়েছে ‘সংলাপ’। বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে তেমন কোনো সংলাপ চোখে না পড়লেও এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট প্রায় সব বিরোধী জোট-দলের সঙ্গেই সংলাপে বসছে। জনগণের চোখও এখন এই সংলাপের দিকে।

এই সংলাপ ঘিরে কী ভাবছেন সাধারণ ভোটাররা? বিশেষজ্ঞদেরইবা মতামত কী? এ নিয়ে বাংলানিউজ কথা বলে সাধারণ জনতা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। তারা বলছেন, এই সংলাপের মাধ্যমেই যেন দেশে শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিগত নির্বাচনগুলোতে যে সহিংসতা হয়েছে, বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনে যেভাবে জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে, তেমন কোনো পরিস্থিতির যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য ভূমিকা রাখুক এই সংলাপ।

বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) গণভবনে বিএনপি-গণফোরামসহ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে ১৪ দলীয় জোটের। শুক্রবার (২ নভেম্বর) ক্ষমতাসীন জোট এই সংলাপ করেছে বিকল্প ধারাসহ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে। আরও বেশ কিছু জোট-দলের সঙ্গে সংলাপের সময় ঠিক করেছে ক্ষমতাসীনরা। যদিও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ‘সংলাপ ভালো হয়েছে’ বলা হলেও দাবি করা হয়েছে, ‘সমাধান মেলেনি’। তবে সাধারণ ভোটার ও বিশেষজ্ঞরা আশায় বুক বাঁধছেন। তারা বলছেন, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও সব দল জাতীয় স্বার্থে ছাড় দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে।
রাজধানীর মিরপুরে কথা হচ্ছিলো রিকশাচালক সবুজ মিয়ার সঙ্গে। তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে। থাকছেন মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের দিয়া বাড়ি সংলগ্ন এলাকায়। তিনি ঢাকা-১৪ আসনের ভোটার। সবুজ মিয়ার কাছে ‘সংলাপ’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, ‘সংলাপ হয়েছে ভালো। ভোটে যেন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, আমরা যেন নিজের ভোট নিজে দিতে পারি, সেই প্রত্যাশা করি। ভোটের আগে মারামারি কাটাকাটি ভালো নয়।’

নেতাকর্মীদের আটক করায় সংলাপের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে8 ডঃ কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জনগণের ঐক্যের ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংলাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই সংলাপের সফলতা ঐক্যবদ্ধভাবে ধরে রাখতে হবে। যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে সংলাপের সফলতা জিম্মি হতে না পারে।

আ স ম আবদুর রব’র সভাপতিত্বে জেএসডির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুটি মামলার রায়ে সাজা বাড়ানো হয়েছে।

এ রায়কে কেন্দ্র করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এতে সংলাপের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাজা বাড়িয়ে সরকার ৭ দফার এক দফা লঙ্ঘন করেছে। তাই সংলাপ নিয়ে এখনো আমরা আশাবাদী নই।

জেএসডির এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ: শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বসবেন ১৪ দলের ২২ জন

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৃহস্পতিবার গণভবনে সম্ভাব্য সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের ২২ নেতা অংশ নেবেন। বুধবার আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবাহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২২ নেতার মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৮ জন, জাসদের দুই নেতা, সাম্যবাদী দলের ১ জন ও ওয়াকার্স পার্টির ১ জন উপস্থিত থাকবেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সন্ধ্যা সাতটায় সংলাপ হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী,

শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মো. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, আবদুর রহমান,জাহাঙ্গীর কবির নানক,

দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক,

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাসদের একাংশের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল সংলাপে বসবেন।

সংলাপের জন্য গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৬ সদস্যদের একটি তালিকা দেয়। এই ১৬ জন সংলাপের জন্য গণভবনে যাবেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

এর আগে ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ আহ্বান করে চিঠি দেন ড. কামাল হোসেন। তাঁর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯ অক্টোবর সংলাপে বসার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ড. কামাল হোসেনের কাছে দলের পক্ষ থেকে গণভবনে যাওয়ার আমন্ত্রণপত্র পাঠান। আর এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সংলাপ হতে যাচ্ছে।