তারেকের বিষয়ে বৈঠকে বসছে ইসি

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার বিকাল ৩টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে, রোববার সকালে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে যোগ দেন তারেক রহমান। ওইদিন সন্ধ্যায় এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ।

ইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থীদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে কথা বলেছেন। এটি নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সুপ্রিম কোর্টের যে নির্দেশনা আছে- তারেক রহমানের বক্তব্য কোনো প্রচারমাধ্যমে প্রচার করা যাবে না। সুতরাং তারেকের এই কাজ সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের লঙ্ঘন এবং আদালত অবমাননার সামিল।

এর আগে, ইসি জানিয়েছিলো, তারেকের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসবের প্রেক্ষিতেই আজ বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন।

প্রসঙ্গত, আজও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তারেকের ভিডিও কনফারেন্সের প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা : ইসি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্সের বিষয়ে কেউ প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আপনারা বলেছেন, আমরা শুনেছি। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত এই ধরনের কোনো কিছুকে মনিটরিং করার নিজস্ব ক্যাপাসিটি নেই। যদি কেউ তথ্য প্রমাণসহ আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন, তাহলে আমরা আইনের মধ্যে থেকে যদি কিছু থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বলবো। আর যদি আইনের ভেতর কিছু না থাকে, তাহলে আমরা নিজেরা কমিশন বসে আমরা কি করতে পারি সেটা পর্যালোচনা করে দেখে তারপরে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো।

আজ রবিবার নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আজ রবিবার সকাল ৯টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের সাক্ষাৎকার নেন লন্ডনে অবস্থানরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রফিকুল ইসলাম বলেন, যদি কেউ তথ্য প্রমাণসহ আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন, তাহলে পরে আমরা আইনের মধ্যে থেকে যদি কিছু থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বলব।

তারেক রহমান যদি দেশে থাকতেন তাহলে তিনি ভিডিও কনফারেন্স করতে পারতেন কি-না? এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, যদি কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হন তাহলে অবশ্যই তার জেলে বা পলাতক থাকার কথা। কেউ জেলে থাকলে এই ধরনের কাজ করার কথা না। জেল থেকে যদি উনি জামিনে আসতেন, তাহলে করলে পরে কোনো অসুবিধা ছিল না। কিন্তু এক্ষেত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইনের কাভারেজ কতটুকু কি আছে এগুলো দেখে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারব।

এ ছাড়াও বিএনপির জমা দেওয়া মামলার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তালিকাটি আমি দেখিনি। আমরা দেখে সত্যিকারের অর্থে যদি কোনো হয়রানিমূলক মামলা হয়ে থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেবো, যেন হয়রানিমূলক মামলা না করে। কেননা, হয়রানিমূলক মামলা করলে নির্বাচনের পরিবেশ কিছুটা হলেও বিনষ্ট হবে।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, বাছাই ২ ডিসেম্বর। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।

নয়া পল্টনে সংঘর্ষ: আইজিপির তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবে ইসি

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

চট্টগ্রাম নগরের আঞ্চলিক লোক প্রশাসনের মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ইসি সচিব বলেন, ‘রাজধানী নয়া পল্টনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। ওইদিনের ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে পুলিশের আইজিকে ইসি থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের চিঠির জবাবের প্রেক্ষিতে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বর্তমানে সরকারের মন্ত্রী থাকা অবস্থায় যারা মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর অর্থাৎ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে তারা নিজ নির্বাচনী এলাকায় সরকারি কোনো গাড়ি কিংবা প্রটোকল ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে নির্বাচনী এলাকার বাইরে সরকারি কাজে তার সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন।’

বিভিন্ন দলের নির্বাচন পেছানোর দাবি প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচন পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই। ৩০ ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে। আশা করছি, সব দলের অংশগ্রহণে সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’

ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরসহ সারাদেশের শহরাঞ্চলের কিছু স্থানে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। তবে কোন কোন স্থানে ব্যবহার হবে সেই ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, বাংলাদেশি নাগরিক কিংবা ভোটার— যারা বাইরের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন, তাদের ভোটার করার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কমিশনের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাইরের একটি দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ভোটার করার জন্য একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি সফল হলে পরবর্তী সময়ে অন্যসব দেশেও এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সাড়ে তিনশ জনের বিশাল বহর নিয়ে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সাড়ে তিনশ সফরসঙ্গী নিয়ে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যে সফরে তিন ডজনের মতো চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

তৃতীয় দফায় বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবারই প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার এই সফর গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নয়া দিল্লিও।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের বছরের ১৯ অগাস্ট ভারতে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

এরপর ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গত অক্টোবর গোয়ায় দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে এই দুটির কোনোটিই দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না।

এবারের সফর দুই দেশের মধ্যে প্রগাঢ় বন্ধুত্বের পথ তৈরি করবে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল বাগলে বলছেন, “এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সফর।”

চার দিনের সরকারি সফরে শেখ হাসিনা থাকবেন নয়া দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে, ভারতের কূটনীতিকদের দৃষ্টিতেও যা বিরল ঘটনা।

এবার প্রধানমন্ত্রীর ৩৫১জন সফরসঙ্গীর মধ্যে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির নেতৃত্বে ২৫৭ সদস্যের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

এই সফরে ভারতের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, পরমাণু বিদ্যুৎ, বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও থাকছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো.শাহরিয়ার আলম।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও সফরসঙ্গী হচ্ছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো.আমিনুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর আহমেদ খান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, রেলপথ সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিন, তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ, বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো.সিরাজুল হক খান,

জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ, নৌ-পরিবহন সচিব অশোক মাধব রায়, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.মাহমুদ রেজা খান, জ্বালানি সচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী,আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো.জহিরুল হক, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান শাহজাহান খান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আখতার হোসেন ভূইয়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আলম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু।

২৫৭ ব্যবসায়ীদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, প্রথম সহ-সভাপতি শফিউল আহমাদ, চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক শেখ ফজলে ফাহিম এবং মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবীর থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী।

রাজনীতিবিদের মধ্যে সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহও রয়েছেন।

শুক্রবার সকালে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটে দিল্লি রওনা হবেন শেখ হাসিনা। রাতে বাংলাদেশের হাই কমিশনের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি।

শনিবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন শেখ হাসিনা। যাবতীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক এই সময়ই সই হবে।

বিকালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সৈন্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। রাতে নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি।

রোববার আজমির শরীফ জিয়ারত করবেন শেখ হাসিনা। এদিন বিকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনে নৈশভোজেও তিনি অংশ নেবেন।

সোমবার হোটেল তাজমহলে ব্যবসায়ীদের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বিকালে তিনি ঢাকা ফিরবেন।

সূত্র: বিডিনিউজ

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না নির্বাচন কমিশন: শাহাদাত

নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। আজ সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআিই) এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

শাহাদাত হোসেন বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন নির্বাচন কমিশন তাই করবে। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, যারাই নির্বাচনে আসুক আপনারা প্রত্যেকে দল-মত নির্বিশেষে আপনারা আপনাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন। আপনাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো রকমের প্রশ্ন উঠলে নির্বাচন কমিশন আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে এই কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না। মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদেরকে সবসময় আমরা বলে থাকি, আপনারা হলেন কমিশনের অঙ্গপ্রতঙ্গ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচন কমিশন চায়, একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ এবং সকলের গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এবার সব নিবন্ধিত দলের বাইরেও অনেক অনিবন্ধিত দল নির্বাচনে অংশ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এতে আমরা আনন্দিত।

তাজা খবর ……. নির্বাচনের আগে কোথায় যাচ্ছে এত টাকা ?

শিল্প স্থাপনে ব্যবহূত মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) আমদানি বেড়েছে ব্যাপকভাবে। বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধিও ভালো। এই পরিসংখ্যানের হিসাবে দেশে বিনিয়োগে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করার কথা। বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। নতুন শিল্প স্থাপন নেই বললেই চলে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র অনেকটা হতাশাজনক। আবার আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। শিল্প স্থাপনের নামে কোটি কোটি ডলারের এলসি খোলা হলেও বিনিয়োগ সে অনুযায়ী হচ্ছে না। অর্থনৈতিক বিশ্নেষকদের প্রশ্ন- তাহলে এত টাকা যাচ্ছে কোথায়!

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, সাধারণত নির্বাচনের বছরে নানা শঙ্কা ও ভয়ের কারণে দেশ থেকে অর্থ পাচার বাড়ে। অধিকাংশ দেশেই কমবেশি এ প্রবণতা দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা বেশি। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় বিনিয়োগ হয়নি। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তার অভাবে সম্পদশালী ব্যক্তিদের অনেকে অর্থ বিদেশে পাঠিয়ে দিতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিদর্শনেও অর্থ পাচারের নানা তথ্য উঠে এসেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশ থেকে টাকা পাচারের কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে অর্থ পাচার সংক্রান্ত ৩২টি ঘটনার অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সূত্র বলছে, রফতানি না করেও এর বিপরীতে শত শত কোটি টাকা নগদ সহায়তা নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আবার আমদানির নামে এলসি খুলে বিল পরিশোধ করলেও অনেক ক্ষেত্রে পণ্য দেশে আসছে না। কর ফাঁকির মাধ্যমেও টাকা পাচার হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনের আগে এ প্রবণতা বাড়ছে। এভাবে নানা উপায়ে দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। যদিও সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার বেড়েছে। অর্থ পাচারের দিক থেকে শীর্ষ ১০০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪০তম। এনবিআর সূত্র বলেছে, উচ্চ করহারের কারণে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি-রফতানির আড়ালে বিপুল অর্থ পাচার হয়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব উভয়ই কমেছে। আলোচ্য সময়ে দেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকার, যা আগের অর্থবছরের একই সময় ছিল প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। অপরদিকে একই অর্থবছরের ফেব্র্রুয়ারি পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে ৯৩০ কোটি ডলারের। অথচ গত অর্থবছরের এই সময়ে ছিল দেড় হাজার কোটি ডলার।

সম্প্রতি বাংলাদেশে আশানুরূপ বিনিয়োগ না হলেও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি থেমে নেই। আসলে পণ্য আমদানি হচ্ছে, নাকি আমদানির আড়ালে দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে- এ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদারকি ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এটা বন্ধ হচ্ছে না। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার মূল্যের আমদানি হয়। এর মধ্যে শুধু মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি দেখানো হয়েছে এক হাজার ৪৫৬ ডলার। অর্থাৎ এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট আমদানির ২৫ শতাংশ। এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। যেখানে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ শতাংশের বেশি। সামগ্রিক আমদানির তুলনায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।

চলতি অর্থবছরেও একই প্রবণতা অব্যাহত আছে। গত জুলাই-আগস্টে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অথচ মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। এ সময়ে ২৪৯ কোটি ডলারের মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি দেখানো হয়েছে, যা মোট আমদানির ২৬ শতাংশের বেশি। এদিকে বিপুল পরিমাণের আমদানি দায় মেটাতে গিয়ে চাপে পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ কমে নেমে এসেছে ৩২ বিলিয়নে, যা গত বছর ৩৩ বিলিয়নের ওপরে ছিল।

ব্যাংকাররা জানান, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়লে সাধারণত শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ ব্যাপক বাড়ে। কিন্তু তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। গত মার্চ পর্যন্ত শিল্প খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশের কম। অথচ সামগ্রিকভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ শতাংশ। ঋণ প্রবৃদ্ধির এ অসামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বৃদ্ধির মানে নতুন কারখানা স্থাপন বা কারখানা সম্প্রসারণ। আর এ রকম হলে ব্যাংক খাতে ঋণ চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়। তবে তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির নামে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে তার ধারণা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের আগস্ট পর্যন্ত বেসরকারি খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১০ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৫ শতাংশ বেশি। অবশ্য গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৯ দশমিক ০৬ শতাংশে উঠেছিল। তবে ঋণের নামে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে- এ রকম অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়। গত বছরের জানুয়ারিতে এক নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত কমিয়ে দেওয়া হয়।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি যেভাবে বেড়েছে সে হারে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এই প্রবণতার অর্থই হচ্ছে মূলধনী যন্ত্রপাতির আড়ালে দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের সংশ্নিষ্ট সংস্থার তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। সাবেক এই গভর্নর মনে করেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ থাকলে এত টাকা পাচার হতো না। তার মতে, নির্বাচন এলেই টাকা পাচার হয়। এ জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃৃতির উন্নয়ন প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক কর্মকর্তা ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ক্ষমতা পরিবর্তনের সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এটা অনেককে অর্থ পাচারে প্ররোচিত করে। তিনি আরও বলেন, আমদানি পর্যায়ে পাচারকৃত অর্থের বড় একটি অংশ যায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে। কারণ এসব পণ্য আমদানিতে নূ্যনতম শুল্ক্কহার থাকে। ফলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক্ক ফাঁকির মাধ্যমে টাকা পাচার করা সহজ।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অবকাঠামো খাতের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কিছু বাড়তে পারে। কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে তা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের বিষয়টি যৌথভাবে তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ঋণ বৃদ্ধির বিষয়টি সন্দেহজনক। ঋণের টাকা নির্বাচনের কাজে ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সম্প্রতি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এখানে বেশি মূল্য দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

এনবিআর সূত্র বলছে, সাধারণত শূন্য শুল্ক্ক বা যেসব পণ্যের শুল্ক্কের হার কম থাকে, সেসব পণ্য আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা বেশি হয়। বর্তমানে শিল্পে ব্যবহূত ক্যাপিটাল মেশিনারিজ বা মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক্ক ১ শতাংশ। এনবিআরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, শিল্প স্থাপনের নামে যে পরিমাণ মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হয়, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।

জানা যায়, টাকা পাচার বন্ধে আইনের সংস্কার হলেও তা কমেনি, বরং বেড়েছে। দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুদকের তিনটি আইন থাকলেও টাকা পাচার অব্যাহত রয়েছে। মূলত এই তিনটি সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় এসব আইনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনটি ২০১২ সালে আরও শক্তিশালী করা হয়। এতে টাকা পাচার সংক্রান্ত যে কোনো ঘটনা তদন্তের যুগপৎ ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এনবিআর ও দুদক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়। কিন্তু সুফল মিলছে না।

বাংলাদেশকে ‘কড়া’ বার্তা ইইউ’র

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

বৃহস্পতিবার এক নজিরবিহীন বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

পাশাপাশি বাংলাদেশে গণমাধ্যম, শিক্ষার্থী, অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের সমালোচনাও উঠে এসেছে ওই বিবৃতিতে।

বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত খুন, গুমের মতো ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেছে, সরকারকে এসব বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে জোর প্রয়োগের মতো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করতে হবে।

খানিকটা ‘কড়া’ ভাষায় লেখা ওই বিবৃতিতে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভিন্ন মেয়াদে দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিষয়েও বার্তা দিয়েছে বিশ্বের এই বৃহত্তম পার্লামেন্ট।

বিবৃতির প্রথম এক পরিচ্ছেদে বাংলাদেশের জন্য ‘কড়া’ বার্তা এলেও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়াকে গঠনমূলক ও সঠিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যার্পণে দুই দেশের অংশীদারমূলক অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “যেহেতু নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন শর্ত এখনও পূরণ হয়নি, সেহেতু অবিলম্বে দুই দেশকে এবিষয়টি সুরাহায় এগিয়ে আসতে হবে।”

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দিতে ইইউ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছে সংসদ সদস্যরা আহ্বান জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয় ওই বিবৃতিতে।

বিসিএস প্রশাসন একাডেমির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে ইসির অনাপত্তিপত্র

ঢাকা : বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির বিষয়ে অনাপত্তি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এ অনাপত্তির কথা জানানো হয়।

জানা গেছে, আগামী ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৭তম, ১০৮তম এবং ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর এ অনুষ্ঠানের কথা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফিরতি পত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির বিষয়ে অনাপত্তির কথা জানায় ইসি।

উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করা যাবে না।

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে। ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকবে বলে ইজতেমার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচনের পরে তারিখ নির্ধারণ করার কথাও হয়েছে।

গতরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ ছাড়াও পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারীও উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মসচিব ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সবাই মিলে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমার ৫৪তম আসরের তারিখ নির্বাচনের পরে ঘোষণা হবে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তখন ব্যস্ত থাকবে। এই কারণে এবারের বিশ্ব ইজতেমার তারিখ পেছানো হয়েছে। নির্বাচনের পরে এই তারিখ জানানো হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা আছে। আর ইজতেমার প্রথম পর্ব হওয়ার কথা ছিল ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি, দ্বিতীয় পর্ব হওয়ার কথা ছিল ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি।

টঙ্গীর তুরাগ তীরে প্রতি বছরের জানুয়ারিতে মুসলমানদের বৃহৎ এই জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারাদেশ থেকেই মুসল্লিরা অংশ নেন। আর এই আয়োজনের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে নানা প্রস্তুতিতে কয়েক সপ্তাহ ব্যস্ত থাকতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

আগে প্রতি বছর একসঙ্গে এই আয়োজন হলেও ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে ভাগ করে এই আয়োজন হয়ে আসছে। একেকবার ১৬টি করে জেলার মুসল্লিরা আসেন। এই হিসাবে এক বছরে অংশ নেন ৩২ জেলার মুসল্লিরা। পরের বছর মুসল্লিরা আসেন বাকি ৩২ জেলা থেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত কেন এবার নিস্পৃহ

বাংলাদেশে ২০১৪-র ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনকে যে দেশটি আগাগোড়া জোরালো সমর্থন জানিয়ে এসেছিল, সেটি ছিল ভারত।ওই নির্বাচনকে সফল করার লক্ষ্যে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব নির্বাচনের ঠিক আগে ঢাকা সফর পর্যন্ত করেছিলেন।কিন্তু পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পাঁচ বছর বাদে বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ভারত কিন্তু এবার অনেকটাই নিস্পৃহ – এই নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতের দিক থেকে তেমন কোনও সক্রিয়তাই চোখে পড়ছে না।

কিন্তু কেন ভারত এধরনের অবস্থান নিচ্ছে, বাংলাদেশে এবারের ভোটাকেই বা তারা কী চোখে দেখছে?
আসলে বাংলাদেশে ২০১৪র নির্বাচনের সময় ভারতের দিক থেকে যে ধরনের অতি-সক্রিয়তা ছিল, পাঁচ বছর বাদে এবারে তার কিন্তু ছিটেফোঁটাও নেই।

এ বছরেই নির্বাচন হয়েছে নেপাল বা মালদ্বীপেও, সেখানেও ভারতের দৃশ্যমান কোনও ভূমিকা চোখে পড়েনি। দিল্লিতে ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের সিনিয়র ফেলো স্ম্রুতি পট্টনায়ক মনে করছেন, খুব সচেতনভাবেই ভারত এবার বাংলাদেশের নির্বাচন থেকে একটা দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে।ড: পট্টনায়কের কথায়, “২০১৪-তে ভারত যেভাবে পররাষ্ট্রসচিবকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল সেই অভিজ্ঞতা কিন্তু খুব সুখকর হয়নি। সেটাকে অনেকেই ভারতের হস্তক্ষপ হিসেবে দেখেছিলেন – যদিও ভারতের আসল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে একটা সাংবিধানিক বিপর্যয় এড়ানো।”

“কিন্তু এখন বাংলাদেশের রাজনীতি যে ধরনের পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাতে ভারতের উদাসীন থাকাটাই উচিত, আর তারাও ঠিক সেটাই করছে। ভুললে চলবে না, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কও এর মাঝে অনেক পরিণত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।”বাংলাদেশে বিগত নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশ নিতে রাজি হয়নি বলেই সেই নির্বাচনকে ঘিরে অত প্রশ্ন উঠেছিল।

কিন্তু এবারে নির্বাচন অনেকটাই অংশগ্রহণমূলক হতে যাচ্ছে – ফলে ভারতেরও অত মাথা ঘামানোর কোনও প্রয়োজন নেই, বিবিসিকে বলছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী।তার কথায়, “বড় পরিবর্তন বাংলাদেশে যেটা দেখতে পাচ্ছি তা হল ভারতে যেটাকে আমরা ‘মহাগঠবন্ধন’ বলি, সেই ধাঁচে ওখানেও বিরোধীদের ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করেছে।””এখন তো আবার যুক্তফ্রন্টও চলে এসেছে। ফলে নির্বাচন সঠিক পথেই আছে মনে হচ্ছে – আর এভাবে যদি সব এগোয় তাহলে তো ২০১৪র তুলনায় সেটা সম্পূর্ণ আলাদা!”

“গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা তো এখন স্বাভাবিক পথেই আছে মনে হচ্ছে। সব দলও নির্বাচনে যোগ দিতে চাইছে, যেমনটা স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হয় আর কী। কাজেই মনে তো হয় না এই নির্বাচনকে সমালোচনা করার কোনও সুযোগ আছে বলে!”বাংলাদেশে ভারতের আর এক প্রাক্তন হাই কমিশনার ভিনা সিক্রিও মনে করেন, “যদিও এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় – তারপরও বিএনপির নির্বাচনে যোগদান খুবই ইতিবাচক ব্যাপার।”

“তারা যেভাবে জোট শরিকদের সঙ্গে কথা বলছে, আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করছে – যেমনটা স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে – সেটা অবশ্যই দারুণ বিষয়।””ভারত এখানে কী করল, বা কী করল না ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে তা খোঁজার কোনও দরকারই নেই”, পরিষ্কার মত তার।বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনী পরিবেশে এখনও পর্যন্ত ভারত-বিরোধিতার কোনও আবহ তেমন নেই, দিল্লির দৃষ্টিতে সেটাও অত্যন্ত ইতিবাচক একটা পদক্ষেপ।

ফলে আগ বাড়িয়ে সে দেশের নির্বাচন নিয়ে অতি-সক্রিয়তা দেখিয়ে ওই পরিবেশ বিগড়ে দেওয়াও কোনও বুদ্ধিমানের কাজ নয়, এটাও হয়তো ভারত মাথায় রাখছে।পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর কথায়, “আমি তো বলব এটা পারস্পরিক সম্পর্কের একটা ম্যাচিওিরিটি, যেখানে অন্য দেশকে নিজের নির্বাচনে ডোমেস্টিক ইস্যু বানানোর কোনও দরকার পড়ে না।”

“হ্যাঁ, দুদেশের মধ্যেকার অভাব-অভিযোগ বা অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে অবশ্যই দুদেশের সরকারকেই ডিল করতে হবে। সেটা কিছুটা হয়নি, কিছুটা আবার হয়েছেও।””যেমন স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছে, সমুদ্র-সীমা চুক্তি হয়েছে। প্রচুর বিনিয়োগ হয়েছে, আধুনিকীকরণের কাজও হচ্ছে। তো এগুলো তো একটা সুফল দেবেই!”, বলছিলেন তিনি।দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এই পরিণতি আর ভোটে বিএনপি-র যোগদান, এই দুটো ফ্যাক্টরই আসলে পাঁচ বছর আগের তুলনায় ভারতের অবস্থানকে আজ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিবকে পাঠানো তো দূরস্থান, বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন নিয়ে তাই এখনও কোনও বিবৃতি দেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেনি ভারত।

ভোটের আগে সেনা মোতায়েন : ইসি সচিব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দুই থেকে তিন দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

তিনি বলেছেন, ‘সংসদ নির্বাচনের দুই থেকে তিন দিন অথবা সাত থেকে ১০ দিন আগে নির্বাচনি এলাকায় সেনাবাহিনী যাবে। ওই সময় নির্বাচনী এলাকায় বিজিবিও মোতায়েন করা হবে।’

বৃহস্পতিবার সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসি সচিবালয়ের অডিটোরিয়ামে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান।

ইসি সচিব বলেন, ‘প্রিসাইডিং অফিসারদের থাকার ব্যবস্থা রাখা এখন থেকে করতে হবে। কোথায় প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে সেটাও এখন থেকে ঠিক করে রাখতে হবে। যেখান থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে এখন থেকে ঠিক করে রাখতে হবে।’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গতকাল নয়াপল্টনে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এটা যেন আর পূনরাবৃত্তি না হয়। আচরণবিধি ঠিকভাবে পালন হয় সেদিকে আপনারা নজর রাখবেন। ’

বৃহস্পতিবার নির্বাচন এই ব্রিফিংয়ে অংশ নেন চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের সহকারী রিটানিং কর্মকর্তারা।

সভাপতির বক্তব্যে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনী পোস্টার ব্যানার সরিয়ে ফেলাসহ মাঠের পরিবেশের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সাহসিকতার সাথে কাজ করার নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা শিথিলতা দেখালে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।