বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে এরশাদকে স্পিকারের ‘স্বীকৃতি’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমোদন দিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, কার্যপ্রণালি বিধি ও এ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী স্পিকার এ অনুমোদন দিয়েছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর টানা তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ।



সেদিন ভোট হওয়া ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৭টি আসন পায়। আর তাদের জোটসঙ্গীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ২২টি এবং শরিক অন্য দলগুলো আটটি আসন পায়।

অন্যদিকে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সব মিলিয়ে সাতটি আসন পাওয়ায় তাদের সংসদে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের নির্বাচিতরা গত ৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপি ও তাদের শরিকরা শপথ না নেওয়ার কথা বলে আসছে।



গতবার বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভাতেও ছিল জাতীয় পার্টি। এ কারণে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ আখ্যা পেতে হয়েছিল এরশাদের দলকে। এবার জাতীয় পার্টি বা মহাজোটের শরিক অন্য কোনো দলের কেউ আওয়ামী লীগের সরকারে জায়গা পায়নি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ গত ৪ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে জানান, তার দল নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা নেবে। ‘পদাধিকার বলে’ তিনিই হবেন জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি দলের সভাপতি এবং প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা। আর দলের কো চেয়াম্যান জি এম কাদের হবেন উপনেতা।



সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা মন্ত্রী এবং উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। ‘বিরোধী দলীয় নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) অধ্যাদেশে তাদের সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ করা রয়েছে। সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেতা ও উপনেতার পৃথক কার্যালয়ও রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদে ‘সরকারি দলের বিরোধীতাকারী’ সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত সংসদীয় দলের নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিরোধী দলের নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে রিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ‘স্বীকৃতি’ প্রদান করেছেন।



যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

বরগুনা সদর উপজেলায় শামীম ইমতিয়াজ বাদশাহ মৃধা (৩০) নামের এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের কামড়াবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন এ খবর নিশ্চিত করেছেন।



নিহত বাদশাহ মৃধা বরগুনা উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের সোহরাব মৃধার ছেলে। সে বরগুনা উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। তার মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত বাদশার স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মহসিন নামের এক যুবকের সঙ্গে বাদশার বাবা সোহরাব মৃধার কথা কাটাকাটি হয়। এসময় সোহরাব মৃধাকে মারধর শুরু করেন মহসিন ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় মঙ্গলবার রাতে মহসিন ও তার সহযোগীরা মিলে বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করে।



নিহতের বাবা সোহরাব মৃধা অভিযোগ করে বলেন, কামড়াবাদ স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ফাঁকা জায়গায় বাদশাকে আটকিয়ে মহসিনের নেতৃত্বে রাকিব ও জাকারিয়া দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এসময় বাদশা দৌড়ে পাশের স্ট্যান্ডে যায় এবং মোবাইল ফোনে আমাকে সব কিছু জানায়। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দলীয় কর্মীর নিহতের খবর পেয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ছুটে আসেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবির, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল আহসান মহারাজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরগুনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এ বিষয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের আটকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলায় শামীম ইমতিয়াজ বাদশাহ মৃধা (৩০) নামের এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের কামড়াবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন এ খবর নিশ্চিত করেছেন।



নিহত বাদশাহ মৃধা বরগুনা উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের সোহরাব মৃধার ছেলে। সে বরগুনা উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। তার মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত বাদশার স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মহসিন নামের এক যুবকের সঙ্গে বাদশার বাবা সোহরাব মৃধার কথা কাটাকাটি হয়। এসময় সোহরাব মৃধাকে মারধর শুরু করেন মহসিন ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় মঙ্গলবার রাতে মহসিন ও তার সহযোগীরা মিলে বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

নিহতের বাবা সোহরাব মৃধা অভিযোগ করে বলেন, কামড়াবাদ স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ফাঁকা জায়গায় বাদশাকে আটকিয়ে মহসিনের নেতৃত্বে রাকিব ও জাকারিয়া দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এসময় বাদশা দৌড়ে পাশের স্ট্যান্ডে যায় এবং মোবাইল ফোনে আমাকে সব কিছু জানায়। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।



দলীয় কর্মীর নিহতের খবর পেয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ছুটে আসেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবির, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল আহসান মহারাজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরগুনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের আটকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

www.banglatribune.com › দেশ › বরিশাল

একজন হাফেজে কুরআন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, অভিনন্দন

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। চারদলীয় জোট সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন জোট সরকারের একজন আলেম এম পি সাহেবের বাসায় কোন একটা কাজে গিয়ে ছিলাম। উনি আমাদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, চারদলীয় জোট সরকার এমন একজন লোককে ধর্ম মন্ত্রীর দায়িত্বে বসিয়েছে, যার ধর্মের কোন জ্ঞান নেই।

আসলে তাই, একজন ধর্ম সম্পর্কে মুর্খ ব্যক্তিকে ধর্ম মন্ত্রণালায়ের মত গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বে বসিয়ে ছিল। যার দ্বারা ইসলামের কোন তেমন উল্লেখযোগ্য কাজ আদায় করা সম্ভব ছিলো না।



এরপর যতবারই ধর্মমন্ত্রী যেই হয়েছেন, অতীব দুঃখের বিষয়, ইসলামী শিক্ষায় সুশিক্ষিত নন।

কিন্তু এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা চমক দেখালেন। একজন হাফেজে কোরআনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলেন।

শেখ আব্দুল্লাহ সাহেব আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। তিনি এদেশের প্রাচীণতম দ্বীনি প্রতিষ্ঠান, আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী( রহঃ) এর প্রতিষ্ঠিত গওহর ডাঙ্গা মাদ্রাসায় হেফজ শাখায় পড়া শুনা করে অত্যান্ত কৃতিত্বের সমাপ্ত করে ছিলেন।

শেখ আব্দুল্লাহ সাহেবের আলেম সমাজের সাথে তাঁর বেশী উঠা বসা। তিনি রাজনৈতিক ভাবে আওয়ামী লীগ সংগঠনের সাথে জড়িত থাকলেও তবে আলেম উলামাদের সাথে গভীর সম্পর্ক।



সর্ব প্রথম শেখ আব্দুল্লাহ সাহেবের ভাষন শুনে ছিলাম, হাটহাজারী মাদ্রাসার উলামা সন্মেলনে। সেখানে হাজার হাজার আলেমদের সামনে অত্যান্ত জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছিলেন। সেদিন তাঁর কথায় বুঝে ছিলাম, লোকটা শুধু জেনারেল শিক্ষিত নয়, বরং এ্যারাবিক লাইনে তাঁর যথেষ্ট দখল রয়েছে।

কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির পিছনের জনাব শেখ আব্দুল্লাহ সাহেবের বড় অবদান রয়েছে। সনদের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আলেম উলামাদের আন্তরিক সহযোগীতা করেছেন।



প্রসঙ্গত, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আলেম উলামার যে শোকরানা মাহফিল হলো তাতেও অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন নতুন ধর্মমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ। নিজে কওমী মাদরাসাকে ভালোবাসেন। আলেম উলামার ডাকে সাড়া দেন। তিনি ঘোষণাও দিয়েছেন আলেমদের জন্য কাজ করবেন। দেশের আলেম সমাজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তিনি সফল হবেন বলেও আশা করেন আলেমগণ।

এবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন। তিনি বলেছেন, আলেমদের খেদমতে নিজেকে উজাড় করে দিবেন। অত্যান্ত হৃদয় গ্রাহী কথা তাঁর। আলেমদের ব্যাপারে তিনি অনেক উদার সেটা প্রমাণ করে তাঁর কথায়।
অভিনন্দন জানাই মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহকে।



সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

লেখক : সমাজ বিশ্লেষক

৩৩৫ দিন দিন ধরে বন্দি : কারাগারে কিভাবে আছেন খালেদা জিয়া?

কথায় বলে- ‘সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’। হ্যাঁ তাই দেখতে দেখতে সময় প্রায় এক বছরে গড়ালো। আজ ৩৩৫ দিন কারাগারে বন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্জন অবস্থায় বন্দী রয়েছেন তিনি।



বিদায়ী ২০১৮ সালে রাজনীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের আলোচনায় ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণের ঘটনা। বিএনপির নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ছিল যে শেষ পর্যন্ত জামিনে মুক্ত হবেন তিনি। কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। বেগম খালেদা জিয়ার বন্দিদশার এই সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত বছর ৭ অক্টোবর তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। এরপর সেখানে একাধিকবার তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা। এসব মামলার বেশির ভাগেই তিনি জামিন পান। তবে কুমিল্লায় দায়েরকৃত নাশকতার একটি মামলায় জামিন পাননি তিনি।

বিচারাধীন এই মামলার চার্জ গঠন ও পরবর্তী শুনানি ১৬ জানুয়ারি ধার্য করেন আদালত। এ দিকে প্রায় তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার নিকটাত্মীয়দের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করে বলেন, বন্দীদের জন্য যে আইনসম্মত অধিকার তা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে বেগম জিয়াকে। এই নিষ্ঠুর আচরণ কিসের ইঙ্গিতবাহী? ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল দেখা করার অনুমতি চেয়ে সর্বশেষ গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছে বিএনপি।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খালেদা জিয়া কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারেন তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না আইনজীবীরা। তবে আইনজীবী ও বিএনপি নেতাদের মতে, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সরকারের ওপরই নির্ভর করছে। সরকারের শীর্ষ মহলের বাধায় তিনি জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন না। বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অন্যতম বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গতকাল সোমবার নয়া দিগন্তকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথে একমাত্র বাধা হচ্ছে রাষ্ট্র। আদালত জামিন দেয়ার পরও অবৈধভাবে তাকে আটক রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আসলে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন কায়সার কামাল।

নির্জন কারাগারে ৭৪ বছর বয়সী খালেদা জিয়া একাধিবার অসুস্থ হন বলে তার পরিবার ও দলের অভিযোগ। বেগম জিয়া গত বছরের ৫ জুন কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল বা ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করাতে সরকারের কাছে দাবিও জানায় দলটি। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে একাধিকবার দেখাও করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। কিন্তু তাদের দাবিকে সরকার গুরুত্ব দেয়নি।



দেখা করার অনুমতি মিলছে না : গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার নিকটাত্মীয়দের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। বন্দীদের যে আইনসম্মত অধিকার তা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে বেগম জিয়াকে। বিশাল লাল দেয়ালের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে অন্তরীণ রেখে বাইরের দুনিয়া থেকেও সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করার পাঁয়তারা চলছে। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে দেয়ার যে কারাবিধান সেটিকে গায়ের জোরে লঙ্ঘন করাটা বেগম জিয়াকে নিয়ে সরকারের নতুন কোনো খারাপ পরিকল্পনা কি না তা নিয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্ন আরো দীর্ঘতর হচ্ছে।

তিনি জানান, পৃথিবীর কোনো নিষ্ঠুর স্বৈরতান্ত্রিক দেশেও বন্দীদের সাথে এরূপ দুর্ব্যবহার করা হয় না, যা করা হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে। তার একান্ত সচিব, আত্মীয়স্বজন ও দলের সিনিয়র নেতারা সাক্ষাতের জন্য বারবার আবেদন করার পরও কারাকর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেনি। কারাবিধি অনুযায়ী ৭ দিন পরপর বন্দীদের সাথে সাক্ষাতের নিয়ম। অথচ বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এই বিধান করা হলো ১৫ দিন পরপর। এখন সেই ১৫ দিনের বিধানকেও সরকারের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষ অগ্রাহ্য করছে। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার নিকটাত্মীয়দের দেখা করতে না দেয়াটা কঠিন মানসিক নির্যাতন। এ নিয়ে দেশবাসী উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার আত্মীয়স্বজনদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো: আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন। ওই দিনই তাকে আদালতের পাশে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিত্যক্ত ওই কারাগারে একমাত্র বন্দী তিনি।

বিক্ষোভে উত্তাল মিরপুর

সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছে পোশাকশ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকে তারা মিরপুরের কালশী সড়কে অবস্থান নেন। তাদের সরিয়ে দিতে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।



প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে ২২ তলা পোশাকশ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নেন। তাদের অবস্থানের কারণে বর্তমানে সড়কটিতে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একবার সরে গেলেও শ্রমিকরা আবার অবস্থান নেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক করিম বলেন, মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে তারা মূল সড়কে অবস্থান নিয়েছে। ওসি নজরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধাওয়া-পালটাধাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

এর আগে গত তিনদিন এয়ারপোর্ট, উত্তরা, টঙ্গী, গাজীপুর সড়কে অবস্থান নেন তারা। রোববার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তরায় সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা।



সোমবার দুপুরের দিকে বিমানবন্দরের সামনের সড়কে একটি বাসে শ্রমিকরা আগুন ধরিয়ে দেন বলে ঘটনাস্থল থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের সামনের চত্বরসংলগ্ন রাস্তায় এনা পরিবহনের বাসটি ভাংচুরের পর তাতে আগুন দেন শ্রমকিরা।

অবরোধের ফলে উত্তরার জসীমউদ্দীন, আজমপুর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে ভার্সেটাইল অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ কে ফজলুল হক আজমপুর চৌরাস্তায় এমে শ্রমিকদের কাজে ফেরার অনুরোধ করেন। পরে মালিকপক্ষ ও পুলিশের আশ্বাসে দুপুর পৌনে ২টার দিকে তারা সড়ক থেকে সরে যান।

ফেয়ারী শিপিং লাইন্স লিমিটেডের ঢাকা টু হাতিয়া রুটে চলাচলকারী লঞ্চ এমভি তাসরিফ ১ ও ২ এবং ঢাকা টু চরফ্যাশন রুটে চলাচলকারী এমভি তাসরিফ ৩ লঞ্চের ক্যান্টিন, চায়ের ও পানের দোকান জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা।

লঞ্চ মালিক ও ক্যান্টিন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুরান ঢাকার ছোটন কমিশনার ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা বাবুর নেতৃত্বে লঞ্চের ক্যান্টিন, চায়ের ও পানের দোকান জোর পূর্বক দখলে নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ঐসব দোকানের দৈনিক ভাড়াও আদায় করছেন একদল সন্ত্রাসী।

বিএনপি সমর্থক হওয়ার কারণেই ক্যান্টিন জোরপূর্বক দখল করে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ক্যান্টিন ব্যবসায়ীদের।””’



ক্যান্টিন ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিটি ক্যান্টিন ৫০ লাখ, পানের দোকান ১০ লাখ ও চায়ের দোকান ৫ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করে লঞ্চ মালিকের কাছ থেকে চুক্তিতে নেয়া হয়। কিন্তুু হঠাৎ করে ক্যান্টিন, চায়ের দোকান ও পানের দোকান ক্ষমতাশীনরা জোরপূর্বক দখলে নেয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌ-চালাচল ও যাত্রী পরিবহন সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল জানান, ক্যান্টিন দখলের বিষয়ে লঞ্চ মালিক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিবো। এ ধরণের অবৈধ দখল অন্যায় ও খারাপ চর্চা, পূর্বেও যার যার ব্যবসা সে পরিচালনা করেছে এ ধরনের কার্যক্রম ছিলো না এখনো তা হতে দেওয়া হবে না।

ফেয়ারী শিপিং লাইন্স লিমিটেডের ঢাকা টু হাতিয়া রুটে চলাচলকারী লঞ্চ এমভি তাসরিফ ১ ও ২ এবং ঢাকা টু চরফ্যাশন রুটে চলাচলকারী এমভি তাসরিফ ৩ লঞ্চের ক্যান্টিন, চায়ের ও পানের দোকান জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা।



লঞ্চ মালিক ও ক্যান্টিন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুরান ঢাকার ছোটন কমিশনার ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা বাবুর নেতৃত্বে লঞ্চের ক্যান্টিন, চায়ের ও পানের দোকান জোর পূর্বক দখলে নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ঐসব দোকানের দৈনিক ভাড়াও আদায় করছেন একদল সন্ত্রাসী।

বিএনপি সমর্থক হওয়ার কারণেই ক্যান্টিন জোরপূর্বক দখল করে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ক্যান্টিন ব্যবসায়ীদের।

ক্যান্টিন ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিটি ক্যান্টিন ৫০ লাখ, পানের দোকান ১০ লাখ ও চায়ের দোকান ৫ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করে লঞ্চ মালিকের কাছ থেকে চুক্তিতে নেয়া হয়। কিন্তুু হঠাৎ করে ক্যান্টিন, চায়ের দোকান ও পানের দোকান ক্ষমতাশীনরা জোরপূর্বক দখলে নেয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।



এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌ-চালাচল ও যাত্রী পরিবহন সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল জানান, ক্যান্টিন দখলের বিষয়ে লঞ্চ মালিক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিবো। এ ধরণের অবৈধ দখল অন্যায় ও খারাপ চর্চা, পূর্বেও যার যার ব্যবসা সে পরিচালনা করেছে এ ধরনের কার্যক্রম ছিলো না এখনো তা হতে দেওয়া হবে না।

সুত্রঃ ‌জাস্টনিউজ

আইসিইউ তে হাসানুল হক ইনু

আইসিইউ তে হাসানুল হক ইনু””

জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দুপুরে বুকে ব্যাথা অনুভব করায় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে আইসিইউ তে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার দুপুরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রথমে তাকে কয়েক ঘন্টা আইসিইউতে রাখা হয়। পরে কেবিনে স্থানান্তর করা হয় বলে জানা যায়।



এদিকে বঙ্গভবনে আজ ছিল নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। দুপুরের পর থেকেই তাই ভীড় জমছিল। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার বেশ আগেই দরবার হল পরিপূর্ণ। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবী এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সংখ্যাই বেশি। আর ছিলেন সামরিক-বেসামরিক আমলা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।

আওয়ামী লীগের যে সিনিয়র নেতারা এবার মন্ত্রিসভায় ডাক পাননি, তাদের অনেককেই দেখা গেছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। সামনের দিকের কাতারেই বসেছিলেন সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী। ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এম মুহিত।

মহাজোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাম্যাবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া এবং জাসদের শিরিন আখতারকে দেখা গেছে। তবে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেখা যায়নি অনুষ্ঠানে। জানা যায় অভিমান ক্ষোভে বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানে গেলেন না সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ আসনে হাসানুল হক ইনু জয়ী হন। তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল তথা জাসদের একাংশের নেতা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা। উৎস – দৈনিক আমাদের সময়

রাজধানীতে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার

রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে। নিহত দুই শিশু হলো- ওই এলাকার বাসিন্দা পলাশ মিয়ার মেয়ে নুসরাত জাহান ও ফরিদুলের মেয়ে ফারিয়া আক্তার। তাদের একজনের বয়স ৫ ও অপরজনের সাড়ে ৪ বছর।



সোমবার রাতে কোনাপাড়ার শাহজালাল রোডের নাসিমা ভিলা নামে ওই বাড়ির নিচতলার কক্ষ থেকে ওই দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ডিএমপির ডিএমরা জোনের অতিরিক্ত এসপি ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, নিচতলায় একটি কক্ষে খাটের নিচ থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল।

তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আবু হায়াত বলেন, শিশুদের শরীরের আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

নতুন সরকারের যাত্রা শুরু”””

টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করল আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টার কিছু পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণ করেন। তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রথমে শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো নতুন সরকারের। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।



বিকাল ৩টা ৩৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে লাল গালিচায় মোড়া মঞ্চে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ৫৬ অনুচ্ছেদের তিন দফা অনুযায়ী প্রথমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শেখ হাসিনা এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস তৈরি করলেন। তিনি মোট চারবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। শপথবাক্য পাঠ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী করমর্দন করেন। অতিথি-দর্শক এলাকায় প্রথম সারিতেই বসা ছিলেন ছোট বোন ও বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। প্রধানমন্ত্রী সেদিকে যাওয়ার আগেই শেখ রেহানা উঠে দাঁড়ান এবং বড় বোনকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বোনকে বুকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেলেন প্রধানমন্ত্রী। দুই বোন পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে রাখেন। এ সময় পুরো দরবার হলে পিনপতন নীরবতা। সবাই দাঁড়িয়ে যান। এ সময় আওয়ামী লীগের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে তার কপালে চুমু খান। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজের আসনে বসে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান দেখেন। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবন থেকে ফেরার সময় রাস্তার দুই পাশে সমবেত জনতা তাঁকে একনজর দেখার জন্য রাজউক এভিনিউ ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়লাভ করে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ, তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকরা এবং জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। ওই দিনই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি তাঁকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান।

শপথ নেওয়ার জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা গতকাল দুপুরের পর থেকেই বঙ্গভবনে আসতে শুরু করেন। তারা একে অপরের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন, মেতে ওঠেন হাস্যরসে। দরবারের প্রবেশমুখেই ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সবার সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিন স্তরের নিরাপত্তা পেরিয়ে তাঁদের দরবার হলে প্রবেশ করতে হয়। সেখানে প্রায় এক হাজার অতিথি বসার ব্যবস্থা ছিল। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে আগে মন্ত্রী ছিলেন বা জ্যেষ্ঠ নেতা এমন ৩৬ জন বাদ পড়েছেন। বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরাও। মন্ত্রিসভায় নতুন এসেছেন ৩১ জন। এর মধ্যে ২৭ জন একেবারেই নতুন।



এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি জোটের বর্জনের মধ্যেই দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়। ১২ জানুয়ারি গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। ওই সময় শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ৪৮ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী ছিলেন। পরে কয়েক দফা মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হলে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২ সদস্যের। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টেকনোক্র্যাট তিন মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হয়।

গতকাল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শেখ রেহানা ছাড়াও তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক স্ত্রী পেপপিকে নিয়ে এসেছিলেন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই এমপি শেখ হেলাল উদ্দিন ও শেখ সালাউদ্দিন জুয়েলও শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা নতুন সরকারের অভিষেকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা, ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন- বাসসের প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, একুশে টিভির সিইও মনজুুরুল আহসান বুলবুল এবং চ্যানেল আইয়ের বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, ফরিদুর রেজা সাগর, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন। সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান প্রমুখ।



মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ওবায়দুল কাদের, কৃষি মন্ত্রণালয় মো. আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসাদুজ্জামান খান, তথ্য মন্ত্রণালয় ড. হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় আনিসুল হক, অর্থ মন্ত্রণালয় আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এম এ মান্নান, শিল্প মন্ত্রণালয় নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় জাহিদ মালেক, খাদ্য মন্ত্রণালয় সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিপু মুনশি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নুুরুজ্জামান আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় মো. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, ভূমি মন্ত্রণালয় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয় মো. নূরুল ইসলাম সুজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মোস্তাফা জব্বার।



১৯ জন প্রতিমন্ত্রী : শিল্প মন্ত্রণালয় কামাল আহমেদ মজুমদার, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইমরান আহমদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় নসরুল হামিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মো. আশরাফ আলী খান খসরু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্নুজান সুফিয়ান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মো. জাকির হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মো. শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্বপন ভট্টাচার্য, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাহিদ ফারুক, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় মো. মুরাদ হাসান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় কে এম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ডা. মো. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মো. মাহবুব আলী এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

তিনজন উপমন্ত্রী : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় হাবিবুন নাহার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ কে এম এনামুল হক শামীম এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

বিএনপিকে সমর্থন করার কারণে তাসরিফ লঞ্চের ক্যান্টিন, চা-পানের দোকান দখল করলো যুবলীগ নেতা

ফেয়ারী শিপিং লাইন্স লিমিটেডের ঢাকা টু হাতিয়া রুটে চলাচলকারী লঞ্চ এমভি তাসরিফ ১ ও ২ এবং ঢাকা টু চরফ্যাশন রুটে চলাচলকারী এমভি তাসরিফ ৩ লঞ্চের ক্যান্টিন, চায়ের ও পানের দোকান জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা।

লঞ্চ মালিক ও ক্যান্টিন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুরান ঢাকার ছোটন কমিশনার ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা বাবুর নেতৃত্বে লঞ্চের ক্যান্টিন, চায়ের ও পানের দোকান জোর পূর্বক দখলে নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ঐসব দোকানের দৈনিক ভাড়াও আদায় করছেন একদল সন্ত্রাসী।

বিএনপি সমর্থক হওয়ার কারণেই ক্যান্টিন জোরপূর্বক দখল করে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ক্যান্টিন ব্যবসায়ীদের।



ক্যান্টিন ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিটি ক্যান্টিন ৫০ লাখ, পানের দোকান ১০ লাখ ও চায়ের দোকান ৫ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করে লঞ্চ মালিকের কাছ থেকে চুক্তিতে নেয়া হয়। কিন্তুু হঠাৎ করে ক্যান্টিন, চায়ের দোকান ও পানের দোকান ক্ষমতাশীনরা জোরপূর্বক দখলে নেয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌ-চালাচল ও যাত্রী পরিবহন সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল জানান, ক্যান্টিন দখলের বিষয়ে লঞ্চ মালিক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিবো। এ ধরণের অবৈধ দখল অন্যায় ও খারাপ চর্চা, পূর্বেও যার যার ব্যবসা সে পরিচালনা করেছে এ ধরনের কার্যক্রম ছিলো না এখনো তা হতে দেওয়া হবে না।

ফেয়ারী শিপিং লাইন্স লিমিটেডের ঢাকা টু হাতিয়া রুটে চলাচলকারী লঞ্চ এমভি তাসরিফ ১ ও ২ এবং ঢাকা টু চরফ্যাশন রুটে চলাচলকারী এমভি তাসরিফ ৩ লঞ্চের ক্যান্টিন, চায়ের ও পানের দোকান জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা।



লঞ্চ মালিক ও ক্যান্টিন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুরান ঢাকার ছোটন কমিশনার ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা বাবুর নেতৃত্বে লঞ্চের ক্যান্টিন, চায়ের ও পানের দোকান জোর পূর্বক দখলে নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ঐসব দোকানের দৈনিক ভাড়াও আদায় করছেন একদল সন্ত্রাসী।

বিএনপি সমর্থক হওয়ার কারণেই ক্যান্টিন জোরপূর্বক দখল করে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ক্যান্টিন ব্যবসায়ীদের।

ক্যান্টিন ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিটি ক্যান্টিন ৫০ লাখ, পানের দোকান ১০ লাখ ও চায়ের দোকান ৫ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করে লঞ্চ মালিকের কাছ থেকে চুক্তিতে নেয়া হয়। কিন্তুু হঠাৎ করে ক্যান্টিন, চায়ের দোকান ও পানের দোকান ক্ষমতাশীনরা জোরপূর্বক দখলে নেয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।



এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌ-চালাচল ও যাত্রী পরিবহন সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল জানান, ক্যান্টিন দখলের বিষয়ে লঞ্চ মালিক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিবো। এ ধরণের অবৈধ দখল অন্যায় ও খারাপ চর্চা, পূর্বেও যার যার ব্যবসা সে পরিচালনা করেছে এ ধরনের কার্যক্রম ছিলো না এখনো তা হতে দেওয়া হবে না।

সুত্রঃ ‌জাস্টনিউজ

ধাপে ধাপে উপজেলা নির্বাচন শেষ করবে ইসি

আগামী মার্চে প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ইসি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল জানুয়ারির শেষ দিকে অথবা ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করা হতে পারে। এ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।



উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে দেশের সব উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ তথ্য ইসিকে জানাতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে উপজেলার নাম উল্লেখ করে সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ, উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের শপথগ্রহণ এবং প্রথম বৈঠকের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। প্রায় একই ধরনের তথ্য দিতে ১০ আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি, এপ্রিলে এইচএসসি ও জুনে পবিত্র রমজান বিবেচনায় মার্চ ও মে মাস ভোট গ্রহণের জন্য সুবিধাজনক সময়। তবে এখনও বিষয়টি নিয়ে ইসির সভায় আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, কমিশন আমাদের যে নির্দেশনা দেবে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ইসির এক যুগ্ম সচিব জানান, উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৯৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরের জুন-জুলাইয়ে সাত ধাপে বাকি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন হয়। ওই বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময় উপজেলা পরিষদগুলোতে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের প্রথম সভা থেকে মেয়াদ শুরু হয়।

এ কারণে ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি উপজেলা পরিষদ ভোট গ্রহণের উপযোগী হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য পাওয়ার পর কোন উপজেলাগুলো নির্বাচনের উপযোগী হয়েছে তা পরিষ্কার হবে। বোঝা যাবে কয়টির নির্বাচন একই সঙ্গে করা যাবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রাথমিক কাজগুলো এগিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট শাখা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ তালিকায় পরবর্তী সময় সংযোজিতদের অন্তর্ভুক্ত করে উপজেলা নির্বাচনের নতুন ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সামগ্রীও কিনেছে ইসি। ব্যালট পেপারের কাগজ, স্ট্যাম্প প্যাড, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাশ সিল, লাল গালা, অমোচনীয় কালি ইসির ভাণ্ডারে মজুদ রয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিভিন্ন ফরম, প্যাকেট ও ব্যালট ছাপানোর কাগজও কেনা হয়েছে।



সূত্র জানায়, ভোটের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনা চলছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কারণে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে যাতে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেদিক বিবেচনা করা হচ্ছে।

সব বিবেচনায় নিয়ে ভোটের তারিখ নির্ধারণের চিন্তা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি ধাপে কতটি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তার ওপর নির্ভর করে বাজেট নির্ধারণ করা হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি ৯৭টি উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন হয়েছিল। ওই মাসের ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ১১৭টি উপজেলায় ভোট হয়। এবারও মার্চে দুই থেকে তিন ধাপে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা। সেই হিসেবে জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে তফসিল হতে পারে। সবকিছুই কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যা নিয়ে আলোচনা
রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপির মধ্যম সারির নেতারা। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কেউ ছিলেন না, তবে ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব এবং সম্পাদকীয় মন্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকটি সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হয়ে চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।

বৈঠক শেষে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জাগো নিউজকে বলেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। অন্য কোনো বিষয় নয়।

বৈঠকে ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, বেগম সেলিমা রহমান, এম মোরশেদ খান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ অংশ নেন।



দুর্নীতি করলে ছাড় নয়, বললেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী””’

ক্রীড়াঙ্গনে কেউ দুর্নীতি করলে ছাড় দেবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মো. জাহিদ আহসান রাসেল।

সোমবার বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ আসে। ক্রীড়াঙ্গনের দুর্নীতি দূর করতে কতটা সোচ্চার থাকবেন- জানতে চাইলে নতুন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। আজকে আমি এখানে এসেছি, সততা আমার বড় একটি বিষয়। এটা আমার বাবারও ছিল, আমিও সততাকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স। এই বিষয়ে কেউ যদি কোনো কিছু করে তবে আমি কাউকে ছাড় দেব না।’

এক প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খুশি হয়েছি। গাজীপুর-২ আসন বাসীর পক্ষ থেকে আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছেন আমি সেই আস্থার প্রতিদান দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’



তিনি বলেন, ‘এর আগে আমি ১০ বছর ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম। আমি আশা করছি, এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে একটি আদর্শ মন্ত্রণালয় হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

‘এই মন্ত্রণালয় নিয়ে সবসময় একটি কথা উঠে যে অবকাঠামোর দিকে বেশি নজর দেয়া হয়, প্রশিক্ষণের দিকে বেশি নজর দেয়া হয় না। আমি অবশ্য এটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব ট্যালেন্ট হান্টিংয়ের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্যালেন্টগুলোকে ঢাকায় এনে সারা বছর যদি প্রশিক্ষণ দেয়া যায় সেই বিষয়টিকে আমি গুরুত্ব দেব।’

নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেখা যায় কোনো গেমস আসলে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সারাবছর কোনো ট্রেনিং দেয়া হয় না। এটা যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে হতে পারে সেজন্য আমার পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

বিএনপি থেকে আ’লীগে এসেছিল সুবর্ণচরের ধর্ষক : বিচারপতি মানিক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধর্ষণের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আগে বিএনপি করতো বলে দাবি করেছেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাগো বাংলা ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নাগরিকদের অংশগ্রহণে ‘নির্বাচন-২০১৮: অপরাজনীতির প্রস্থান ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ দাবি করেন।



প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘ওই ধর্ষণের ঘটনায় রাজনীতির সম্পর্ক কিন্তু খুবই কম। মহিলা সমিতির দুইজন ইতোমধ্যে নোয়াখালীর সুবর্ণচর ঘুরে এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাটি নেহায়েত ব্যক্তিগত কারণে ঘটেছে। তিনি (অভিযুক্ত ব্যক্তি) অতীতে বিএনপিতে ছিলেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের অত্যন্ত নিম্নস্তরের নেতা ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো সরকার ওই ঘটনায় ‘আউট অব দ্য ওয়ে’তে পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে নয় জনকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আমিও চাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে সাবেক বিচারপতি মানিক বলেন, ‘নির্বাচনে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। এ নির্বাচনে বহু দেশের পর্যবেক্ষক এসেছেন নেপাল, ভারত, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি), যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে। কেউ কিন্তু মৌলিক অনিয়মের কোনো কথা বলেননি। ছোটখাটো দুই একটি ঘটনা ঘটেছে।’



তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশেই একশ ভাগ অনিয়মহীন নির্বাচন হয় না। এমনকি যুক্তরাজ্যের মতো দেশেও হয় না, এখনও হয় না। যেখানে আমি আমার জীবনের বড় সময় কাটিয়েছি। সুতরাং একেবারে একশত ভাগ ধোয়া তুলসিপাতার নির্বাচন হবে, এটা আশা করা যায় না। তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে এতো নিষ্কলুষ নির্বাচন, এতো প্রচ্ছন্ন নির্বাচন আমি আগে কখনও দেখিনি, অনেক পর্যবেক্ষকই দেখেননি।’

জাগো বাংলা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাসির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মো. আলী সিকদার, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল মান্নান চৌধুরী, সাংবাদিক সুভাষ সিংহ রায়, নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম প্রমুখ।

বিপাকে পড়েছেন বিজেপি চেয়ারম্যান পার্থ””’

অসংখ্য ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে পার্থর নামে । বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নামে এসব আইডি থেকে কটূক্তি করা হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি গুলশান থানায় ডায়রিও করেছেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ আজ রবিবার (৬ জানুয়ারি) জানান, তার ব্যবহৃত একটি ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়েছে। সেটা ব্যবহার করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন কটূক্তি করা হচ্ছে।

এছাড়া আমার ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে। এসব আইডি থেকে সরকার দলীয় ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার কটূক্তি করা হচ্ছে।



সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ এ জনপ্রিয় নেতা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। ঢাকা-১৭ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। এ আসন থেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক) নির্বাচিত হন।

তবে ভোটের দিন দুপুরে বিভিন্ন কেন্দ্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে আন্দালিব রহমান পার্থ নির্বাচন বর্জন করেন।

তিনি জানান, তার ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজ সচল রয়েছে। আন্দালিব রহমান তার ফেসবুক অনুসারীদের এ নিয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।

পার্থ বলেন, আমার নামে অসংখ্য ভুয়া আইডি খুলে এসব থেকে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে আমি থানায় একাধিকবার জানিয়েছি। জিডি করেছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।



বাদ মতিয়া, আমু, তোফায়েল, নাহিদ, ইনু, মেননসহ ৩৬

নতুন মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন প্রতিমন্ত্রী স্থান পাচ্ছেন। আগামীকাল সোমবার বিকেলে তাঁদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। আজ বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম নতুন মন্ত্রীদের তালিকা ঘোষণা করেন। এ তালিকায় নতুনদের প্রাধান্য রয়েছে। নতুনদের জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন বর্তমান মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতা।



বিগত মন্ত্রিসভার ২৫ মন্ত্রী, ৯ প্রতিমন্ত্রী ও ২ উপমন্ত্রী এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। আর আগের মন্ত্রিসভার জন প্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত ৩ জানুয়ারি মারা যান।

নতুন তালিকায় বেশ বাদ পড়াদের তালিকায় রয়েছেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন তিনি অবসর নিতে চান। এবারের সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থীও হননি। বাদ পড়াদের তালিকায় আরও রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী মুহাঃ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পরিবেশ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ,



পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, মৎসমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বিমানমন্ত্রী এ. কে. এম শাহজাহান কামাল ও ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি।

মন্ত্রীদের মধ্যে টেকনোক্রাট দুই মন্ত্রী নুরুল ইসলাম ও মতিউর রহমান ভোটের আগেই পদত্যাগ করেন।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বাদ পড়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক (চুন্নু), বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাবিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী।



বাদ পড়েছেন দুই উপমন্ত্রীও। এরা হলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আরিফ খান জয়। আরিফ খান জয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি।

প্রসঙ্গত, নতুন মন্ত্রীসভায় জাতীয় পার্টির কেউ নেই। আগের মন্ত্রীসভায় দলটির তিনজন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রি ছিলেন। বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকার কারণে এবার তারা মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না বলে শপথের পরদিনই দলটির চেয়ারম্যান এরশাদ জানিয়েছেন।



মহাজোটের শরীক জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপির) কেউই মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। আগের মন্ত্রিসভায় জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ছিলেন।