নির্বাচন বাতিলের দাবিতে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশীরা। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এ বিক্ষোভ সমাবেশ।

‘বাংলাদেশী আমেরিকান প্রগ্রেসিভ ফোরাম’ (বাপফ) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসময় বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে ভোট ডাকাতি আর তামাশাপূর্ণ নির্বাচনে জাতির কষ্ট আরও বাড়বে। শেখ হাসিনা জিদের বশবর্তী হয়ে নির্বাচন করছে ঠিকই কিন্তু বিশ্ববাসীর কাছে দেশও দেশের মানুষকে কলঙ্কিত করেছে।



তারা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন পরিচালনার সাথে জড়িত সকলের সাধারণ মানুষের সাথে দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করেছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের জিদের ফসল ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে দেশবাসীর অপুরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিশ্বসমাজকে যথাযথ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশে।

এসময় বক্তারা আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনের একপেশী আচরণে নির্বাচন সব প্রার্থীর জন্য প্রচারে সমান সুযোগ ছিল না। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ছিল, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। এতে বিশাল অঙ্কের অর্থের অপচয় করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকবিহীন এই প্রহসনের নির্বাচন পরিচালনা করে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইতিহাসের পাতায় ঘৃণিত হয়ে থাকবে।



তারা বলেন, ক্ষমতা ও খুনের নেশায় মাতাল এ সরকার দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সেনা-বিজিবি-র‌্যাব, পুলিশ এবং ছাত্র-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে ভোটের আগের দিন সারা দেশে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বাক্সগুলো ভরপুর রাখে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে নজিরবিহীনভাবে একটা যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে ত্রাস-ভীত সৃষ্টি করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছে সরকার। এনির্বাচন প্রমান করেছে দলীয় সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়।

এসময় বক্তারা আরো বলেন , প্রবাস থেকে আমরা ভোট ডাকাতির এই নির্বাচনের ফলাফলকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি এবং অনতিবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করছি। সমাবেশ শেষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টিনিও গুতেরাস-এর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।



প্রগ্রেসিভ ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধালণ সম্পাদক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, আহমেদ আবু উবাইদা, সাফায়েত হোসাইন সাফা, মাওলানা সিহাব উদ্দিন, আবু জাফর, নাঈম উদ্দিন, মাইনুদ্দীন হাসান।

শীতের ক্ষীপ্রতা উপেক্ষা করে এসময় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা পুনর্নির্বাচনের দাবিতে শ্লোগানে মুখরিত করে তুলেন পুরো জাতিসংঘ চত্বর। এসময় ব্যানারে ইংরেজিতে লিখা ছিল দেন, “ভোটিং রাইট হিউম্যান রাইট”।

ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

নয়া দিল্লিতে পাকিস্তান হাই কমিশনের একজন কর্মকর্তাকে আটকের প্রতিশোধ নেয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে পাকিস্তান। ওই কর্মকর্তাকে আটকের প্রতিবাদ জানানোর পরেই কেবল তাকে পুলিশ স্টেশন থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।



এতে বলা হয়, হাই কমিশনের ওই কর্মকর্তাকে আটকের পর ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। তাতে বলা হয়েছে, বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে ওই কর্মকর্তাকে।



সোমবার পাকিস্তান ভিত্তিক জিও নিউজকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে পুলিশ স্টেশনে আটক থাকা অবস্থায় পাকিস্তানি ওই কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক কিছু কাগজে সই করতে বাধ্য করানো হয়েছে। পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়, পাকিস্তান হাই কমিশনের কর্মকর্তাকে এভাবে আটক করা ভিয়েনা কনভেশনের লঙ্ঘন। এমন ঘটনার প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার আছে ইসলামাবাদের।



ওদিকে জি নিউজ লিখেছে, রোববার নয়া দিল্লির একটি মার্কেটে একজন নারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় ওই কর্মকর্তার। ওই নারী স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপরই পুলিশ পাকিস্তানের ওই কর্মকর্তাকে আটক করে। এর আগে রোববার জি নিউজ রিপোর্ট করে যে, অভিযোগকারী নারীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার পর ওই কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পাকিস্তান ক্লারিফায়েড করেছে যে, পাকিস্তান হাই কমিশনের ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয় নি।

শীর্ষকাগজ/

বিএনপি’র পুনঃনির্বাচনের দাবি : তোফায়েলের বক্তব্য””’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি যতোই পুনঃনির্বাচনের দাবি করুক না কেন, এটা বাস্তব সম্মত নয়। এটা কখনোই বাংলাদেশে হবে না।

সোমবার দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার ইলশা জংশন বাজারে অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে তোফায়েল আহমেদ এমপি এ কথা বলেছেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি একটি অস্বাভাবিক অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিলো। সামরিক স্বৈরশাসনের মধ্য দিয়ে একটি দল হয়েছে। সেই দল রাজনীতিতে টিকতে পারে না। আস্তে আস্তে সেই দল ক্ষয়িষ্ণুর পথে এগিয়ে যাচ্ছে।



তোফায়েল আহমেদ বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাষানীর দল ’৭০-এর নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করার কারণে আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আজকে বিএনপির অবস্থাও তাই হয়েছে।
তিনি বলেন, সংখ্যায় যতই কম হোক না কেন বিএনপির সংসদে আসা উচিত। বিএনপি যদি সংসদে না আসে তা হলে আবারও একটি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেন তোফায়েল আহমেদ।

এ সময় ভোলা বরিশাল সেতুর কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তোফায়েল আহমেদ।
শনিবার রাতে ভোলার ইলিশা জংশন বাজারে এবং রোববার রাতে পরাণগঞ্জ বাজারে আগুন লেগে প্রায় ৪৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। এসময় তোফায়েল ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেন।

সেদিন সংসদে দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ফ্লোর পাইনি: মাহী”””



বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে (বি চৌধুরী) রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইমপিচমেন্টে বিএনপি-জামায়াতের উদ্যোগের বিষয়ে কথা বলেছেন তার ছেলে ও বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরী।তৎকালীন সংসদের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মাহী বলেন, সেদিন সংসদে দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ফ্লোর পাইনি।



রোববার রাজধানীতে বিকল্পধারার নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে দলের পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।এদিন বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরীকে দলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ দুজন একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনয়নের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।



প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। পরে মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে না যাওয়ায় বি চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির সংসদীয় দলের সভা। পরে ২০০২ সালের ২১ জুন বি চৌধুরী রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন।

৩০ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে সেদিনকার অপমানের কথা জাতির সামনে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন মাহী বি চৌধুরী।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বিএনপি-জামায়াত অত্যন্ত অপমানজনকভাবে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। আমি তখন সংসদ সদস্য থেকেও সংসদে এ নিয়ে কথা বলতে পারিনি।



পদত্যাগের পরও বি চৌধুরীকে বিএনপি প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করেছে অভিযোগ করে মাহী বি চৌধুরী বলেন, ২০০৪ সালে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। এর পরও প্রতিনিয়ত রাজনীতির শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে তারা অশ্লীল ভাষায় একতরফাভাবে অভিযোগ করে গেছে।

তিনি বলেন, আমি পার্লামেন্টে থেকেও সে অভিযোগ খণ্ডন করার সুযোগ পাইনি। আমাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। ১৪ বছর পর সংসদে ফিরছি। অনেক দিন চুপ ছিলাম। এবার ৩০ জানুয়ারি সংসদে গিয়ে সেদিনের অপমানের কথা বলব।



সেই সময়ে বি চৌধুরীকে নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্তব্যের সমালোচনা করে মাহী বলেন, ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে পদত্যাগের পর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে নিয়ে খালেদা জিয়া বলেছিলেন- ‘ষড়যন্ত্রের শেকড় উপড়ে ফেলেছি’। কিন্তু কী সেই ষড়যন্ত্র তা তিনি কখনও বলেননি। আমরা বলতে চাই- ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক হিসেবে আপনি সেদিন কী কী ভূমিকা রেখেছিলেন সে বিষয়ে।

তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরী বলেন, সেদিন আমি সংসদে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মাননীয় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। একটি শব্দ উচ্চারণও করতে দেয়া হয়নি। তখন বি চৌধুরীর বিরুদ্ধে ‘বেইমানির অভিযোগ’ এনে মিথ্যাচার করেছিলেন বিএনপি নেতারা।

পদত্যাগের পর পর বি চৌধুরীর বাড়িতে হামলার ঘটনা সংসদে তুলতে চাইলেও সে সুযোগ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশে মন্ত্রিসভার ধাঁধা: ভারতের কম, চীনের বেশি?

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বিশ্বাসযোগ্যতা থেকে অনেক দূরে। আর যদি ২৮৮টি আসনে আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মাত্র পাঁচটিতে জয়ী হওয়ার নির্বাচনী ফলাফল যথেষ্ট বেদনাদায়ক নাও হয়, তবুও ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা প্রবাদপ্রতীম প্যান্ডোরার বাক্সের চেয়েও অনেক বেশি বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতাদের পুরোপুরি অনুপস্থিতিও অনেক দিক থেকে অবাক করা ঘটনা। স্বাধীনতা-যুগের কয়েকজন নায়কের স্থানে নতুন মুখের আগমন ঘটেছে: ঘোষিত ৪৭ মন্ত্রীর মধ্যে ৩১ জনই নতুন। এমনকি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অনুগত সদস্যরাও মন্ত্রিসভায় স্থান পান নি। এখন নির্বাচনী ডামাডোল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিশ্লেষকরা নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের দিকে তাদের মনোযোগ ফিরিয়েছেন।



অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ বেশির ভাগ বাংলাদেশিই এই মন্ত্রিসভা নিয়ে হতবুদ্ধিকর অবস্থায় পড়ে গেছেন। জাদুকররা যেভাবে টুপির ভেতর থেকে খরগোশ বের করেন, শেখ হাসিনাও এমন একটি দল (মন্ত্রিসভা) গঠন করেছেন, যা নিয়ে কোনো ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীই করা যায় নি। এই বিস্ময়ের পেছনে রহস্য কী? বিরাজমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপট বিবেচনা করলে সাধারণ বুদ্ধিতেই বোঝা যাবে যে, ছোট দেশগুলোর স্থানীয় রাজনীতিতে বড় শক্তিগুলোর হাত থাকে। কলা-কৌশলে কিংবা বলপ্রয়োগ করে ‘বড় ভাইয়েরা’ তাদের অনুকূলে চলতে ছোট দেশগুলোকে বাধ্য করে।



চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তা প্রদানের জের ধরে ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের ওপর ভারতের জোরালো প্রভাব রয়েছে এবং দেশটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিশেষভাবে ঘনিষ্ঠ। ভারত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলেও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ফ্রন্টে চীন বিশাল প্রেক্ষাপটে আবির্ভূত হওয়ায় দৃশ্যত সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে গেছে। শক্তিশালী বিশ্বশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশকারী চীন তাৎপর্যপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, এতে সম্ভবত সন্তুষ্ট নয় কেউই।



ভারত দেখছে, তাদের একটির পর একটি প্রতিবেশী পূর্বমুখে বেইজিংয়ের দিকে তাকাচ্ছে, ধীরে ধীরে দিল্লি থেকে সরে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও কী তাই ঘটছে? আঞ্চলিক রাজনীতির খেলায় কৌশলী খেলোয়াড় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভবত চীনের দিকে অধিক ঝুঁকেছেন। তার নতুন মন্ত্রিসভায় সম্ভবত ওই পদক্ষেপেরই সূক্ষ্ম প্রতিফলন ঘটেছে। নিশ্চিতভাবেই মনে হচ্ছে ভারতের সঙ্গে নাড়ির সম্পর্কটি কেটে গেছে বা কাটা পড়ার পর্যায়ে রয়েছে। আর এটিও বেশ নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে যে ভারতকে তার মুষ্ঠি শিথিল করতে হচ্ছে। তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমুর মতো আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এবং হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননের মতো সিনিয়র নেতারা ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের প্রশাসনিক বা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছিলেন। তারা সবাই অপাংক্তেয় হয়ে গেছেন। ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি, কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতো প্রভাবশালী ভারতীয় মহলের সঙ্গে এসব নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।



এটি ভারতকে বিশেষ সুবিধা দিতো এবং ওই শক্তিটিই এখন মনে হচ্ছে খোয়া গেল। যোগাযোগের প্রতিষ্ঠিত পথটি কেটে গেছে। অসিম কুমার উকিল, মৃণাল কান্তি দাস, শাফি আহমেদের মতো আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সারির ছোট, তবে তাৎপর্যপূর্ণ যেসব নেতাকে ভারত প্রতিরক্ষার দ্বিতীয় প্রাচীর হিসেবে গড়ে তুলেছিল, তারা সবাই হাসিনার আশীর্বাদ থেকে সরে গেছেন। দিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষাকারীদের মধ্যে যারা থেকে গেছেন তাদের মধ্যে সম্ভবত আছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি। তবে দিপু মনিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেয়ায় (আগে তিনি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান) তিনিও নয়াদিল্লির স্বার্থ দেখভাল করার ক্ষেত্রে সামান্যই ভূমিকা রাখতে পারবেন। একইভাবে যাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেয়া হয়েছে তাদের কেউই, তোফায়েল আহমেদ ও আমুর সঙ্গে ভারতের যেমন ঘনিষ্ঠতা ছিল, তেমন ঘনিষ্ঠ নন



এসব নেতাকে খুব বেশি পাশে সরিয়ে রাখাটা সম্ভবত দিল্লিকে দূরে রাখার একটি হিসাবি চাল। বলা হয়ে থাকে, ভারত এসব নেতার মাধ্যমে বাংলাদেশে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতো, স্বার্থ আদায় করে নিতো। তোফায়েল ও আমুর মতো নেতারা দৃশ্যপট থেকে বিদায় নেয়ায় যোগাযোগ লাইনটিই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যোগাযোগের একমাত্র যে লাইনটি রয়ে গেছে তা একেবারে সরাসরি এবং তা হলো হাসিনার সঙ্গে। মনে হচ্ছে, তিনি এমনটিই চেয়েছেন। নির্বাচন পর্যন্ত ভারত তার ঐতিহ্যবাহী মিত্র আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়ার মধ্যেই তার বিকল্প সীমিত রেখেছিল। বিএনপি অতীতে ভারতবিরোধী কার্ড খেললেও এবার তারা নয়াদিল্লির দিকে ছুটেছে। অবশ্য ওই উদ্যোগ অগ্রাহ্য করা হয়েছে এবং বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন, তাদেরকে ব্যবহার করা হয়েছে। কঠোর বাস্তবতা হলো, শুরুতে বিএনপিই ছিল চীনের বিশ্বস্ত। এবার বিএনপি সুযোগটি হাতছাড়া করেছে কিংবা বলা যায়, সে পুরনো বন্ধুকে বাদ দিয়ে ভারতের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছে। অনেকে মন্ত্রিসভা গঠনকে হয়তো মায়ের (হাসিনা) উত্তরসূরি হিসেবে ছেলেকে (সজীব ওয়াজেদ জয়) এগিয়ে আনা বলে মনে করতে পারেন।



এসব বিশ্লেষক মনে করেন, হাসিনা এমনভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন, যাতে সুযোগমতো জয়ের পক্ষে ক্ষমতা গ্রহণ করা সহজ হয়। এই মন্ত্রিসভা তার জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। অবশ্য এই দৃশ্যপটে আরো বড় একটি ছবি আছে। ভারত এখন দূরে থাকায় নিশ্চিতভাবেই যে প্রতিবেশী সুবিধা পাবে সে হলো শক্তিশালী চীন। বাংলাদেশে বিপুল বিনিয়োগ করায় ভারতীয় প্রভাবের শক্তিকেন্দ্রগুলো বিচ্ছিন্ন রাখতে চীন কার্যকরভাবে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চীন সফলভাবে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশী থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে এনেছে। সাধারণভাবে যতটুকু মনে করা হয়ে থাকে, চীনা সংশ্লিষ্টতা তার চেয়ে অনেক বেশি। এমন একটি ধারণা রয়েছে যে বাংলাদেশে চীন কেবল ব্যবসায়িক সুযোগ গ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহী। বিশাল পদ্মা সেতুসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করায় ব্যবসা নিশ্চিতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে চীনের কৌশলগত অনুপ্রবেশকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। নিশ্চিত বিনিয়োগ স্বার্থের সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-কৌশলগত বৈশ্বিক তাৎপর্য থাকার কারণে বাংলাদেশের সরকার পরিচালনাকারীকে নিরঙ্কুশভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চীন অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সে এখানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কাউকেই দেখতে চায় না। এ কারণেই দিল্লি-অন্তঃপ্রাণদের বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। চীনা কৌশলের অংশে জয়-এর বিষয়টিও বেশ ভালোভাবে থাকতে পারে।



ভারতের সঙ্গে হাসিনা জোরালো সম্পর্ক অব্যাহত রাখলেও বেইজিং চেষ্টা করে যাচ্ছে জয়কে জয় করার। মনে হচ্ছে রাজনীতির হৈহুল্লোড়ের মধ্যে প্রবেশ করার পর থেকেই জয়ও চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে ভারতপন্থি নেতারা বাদ পড়েছেন, তাদের স্থানে চীনপন্থিরা সুযোগ পেয়েছেন। এতে করে যথাযথ ধারায় জয়ের উত্তরাধিকার হওয়ার পথটি সুগম হতে পারে। কিন্তু এটি কি সাবলীল যাত্রা হবে? বাংলাদেশে ভারতের ব্যাপকভিত্তিক গ্রন্থি থাকায় একে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা কঠিন হবে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে ভারতীয় প্রভাব অনেক গভীরে এবং নয়াদিল্লি চাইলে দেশে ‘অস্থিরতা’ সৃষ্টি করার মতো ক্ষমতা তার আছে। অন্যদিকে নিজস্ব ঘরানার রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় মডেল থাকায় গণতন্ত্র, একদলীয় শাসন ও মানবাধিকার বা এসবের অভাবের মতো বিষয়গুলোর প্রতি কোনো ধরনের অনিচ্ছা বা অস্বস্তি চীনের নেই। চীনের গ্লোবাল টাইমসের সাম্প্রতিক এক সম্পাদকীয়তে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে লেখা হয়েছে: ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউসহ পাশ্চাত্যের শক্তিগুলোর মঙ্গলবারের নির্বাচন দিবসের সহিংসতা অন্যান্য অভিযোগ, যা নির্বাচনী প্রচারণার পরিবেশকে কলুষিত করেছিল, বিরোধীদের বিক্ষোভকে আরো ইন্ধন দেবে।’



সম্পাদকীয়টিতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, হাসিনা ক্ষমতায় থাকায় চীন বেশ খুশি: ‘এটা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বজায় রেখেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ল্যাঙ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন যে, চীন-বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্ব সহযোগিতা আরো এগিয়ে নিতে নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী চীন।’ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। এর কারণেই বাংলাদেশকে পাশে চায় চীন। ঢাকায় চীন-বান্ধব সরকার বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পগুলোর রাজনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়ক হবে। ভারত জোরালোভাবে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে এবং যুক্তরাষ্ট্রও করে। চীন তার পরিম-লে কোনো ধরনের উপদ্রব বরদাস্ত করবে না। ফলে বাংলাদেশে কেবল দৃঢ় উপস্থিতিই নয়, আরো অনেক বিষয় নিশ্চিত করার সব কারণই আছে চীনের কাছে। চীনসাগর থেকে বাংলাদেশের দিকে পরিবর্তনের বাতাস বইছে, আওয়ামী লীগ নিশ্চিতভাবেই পূর্ব দিকে ঝুঁকছে। কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ সত্ত্বেও জয় নিয়ে দলটি যে বাহাদুরি দেখিয়েছে, তার ব্যাখ্যা এটিই।

সুত্রঃ ‌মানবজমিন

স্বাধীনতার পর প্রথম মুসলিম মেয়র পেল কলকাতা

ভারতের কলকাতায় প্রথমবারের মতো নির্বাচিত মুসলিম মেয়র হলেন ফিরহাদ হাকিম। ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত স্বাধীন হওয়ার ৭১ বছর পর এই প্রথম কোন মুসলিম এই পদে আসীন হলেন।

উপনির্বাচনে কলকাতার একটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জয়ী হয়ে ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদে নিজের আসনকে নিশ্চিত করেছেন। ৬ জানুয়ারি ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে ফিরহাদ হাকিম প্রার্থী হন।



বুধবার (৯ জানুয়ারি) সকালে সেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়।

এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বরে কলকাতার মেয়র পদ থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায় ইস্তফা দিলে পৌর আইন সংশোধন করে ওই পদে পশ্চিমবঙ্গের পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে বসানো হয়। সংশোধিত আইন অনুসারে ছয় মাসের মধ্যে একজন কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তার মেয়র পদ রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা ছিল।

ঘোষিত ফল অনুসারে ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিজেপির প্রার্থীকে হারিয়ে তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম জয়ী হন।



ফলাফল ঘোষণার পর ফিরহাদ হাকিম বলেন, এ জয় মমতার উন্নয়নের। এই উন্নয়নের জোয়ারের কাছে ভেসে যাবে সব দল। একদিন আসবে, যেদিন আর কোনো দলই ভোট পাবে না। ১০০ শতাংশ ভোট পাবে তৃণমূল।

তিনি বলেন, সিপিএম বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিজেপিও আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এই রাজ্যে থাকবে শুধু তৃণমূল।

মূলত ব্যক্তিগত একটি ঘটনার জেরে আগের মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ধমক দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার অত্যন্ত কাছের লোক শোভন চট্টোপাধ্যায় ২০১০ সাল থেকে কলকাতার মেয়র পদে ছিলেন। গত বছরের ২২ নভেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর মমতা পশ্চিমবঙ্গের পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে এই পদে বসান।

পৌর আইন অনুসারে, মেয়র হতে হলে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হতে হবে। তবে ফিরহাদ হাকিম কোনো কাউন্সিলর ছিলেন না। ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র করার জন্য মমতা রাজ্য বিধানসভায় পৌর আইন সংশোধন করে তাকে অস্থায়ী মেয়র হিসেবে মনোনীত করেন।



সংশোধিত আইন অনুসারে, ছয় মাসের মধ্যে ফিরহাদ হাকিমকে কলকাতার পৌর করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে এই পদ রক্ষা করতে হবে। সেই লক্ষ্যে ৬ জানুয়ারি ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের উপনির্বাচনে লড়েন ফিরহাদ হাকিম।

কলকাতা করপোরেশনে রয়েছেন ১৪৪ জন কাউন্সিলর। এর মধ্যে তৃণমূলের ১২২ জন। এ ছাড়া বামফ্রন্টের ১৪, বিজেপির ৫ ও কংগ্রেসের ২ জন।

ফিরহাদ হাকিমই হলেন ভারতের স্বাধীনতা-উত্তর কলকাতা পৌর করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে কলকাতা পাঁচজন মুসলিম মেয়র পেয়েছিল।

তারা হলেন- শের-ই-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক (১৯৩৫), এ কে এম জাকারিয়া (১৯৩৮), আব্দুর রহমান সিদ্দিকী (১৯৪০), সৈয়দ বদরুদ্দোজা (১৯৪৩) ও সৈয়দ মুহাম্মদ উসমান (১৯৪৬)।



কলকাতার প্রথম মেয়র ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস (১৯২৪)। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু মেয়র হয়েছিলেন ১৯৩০ সালে এবং ডা. বিধানচন্দ্র রায় মেয়র হয়েছিলেন ১৯৩১ সালে। স্বাধীনতা-পূর্ব শেষ মেয়র ছিলেন সুধীর চন্দ্র রায় চৌধুরী (১৯৪৭)।

পুনর্নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় সংলাপ করবে ঐক্যফ্রন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখানের পর পুনর্নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় সংলাপসহ তিনটি কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।অন্য কর্মসূচি দুটি হচ্ছে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দ্রুত মামলা দায়ের এবং নির্বাচনের পর সহিংসতাকবলিত এলাকা সফর।



মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) রাতে জোটের স্টিয়ারিং কমিটির এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানান ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । তবে সংলাপের দিনক্ষণ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে। অন্য দলগুলোকে মামলা করার ব্যাপারে অনুরোধ করা হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বিবৃতি তিনি পড়ে শোনান। এতে বলা হয়, থা জানান জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সঙ্গে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিবৃতি পড়ে শোনান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জনগণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করেছে। গণতন্ত্রের মূল কথা হচ্ছে, জনগণের জন্য জনগণের শাসন; অর্থাৎ জনগণ নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনা করবে। এর জন্য প্রয়োজন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া পদ্ধতি। সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল ক্ষমতা ও দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ছবি : ফোকাস বাংলা

কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন দেশের মালিক জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অপব্যবহার করে এবং সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকাকে নিষ্ক্রিয় করে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। নীল নকশা অনুযায়ী ভোটের পূর্ব রাতে নির্বাচন কমিশন পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশ দিয়ে, সরকারি সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যালট পেপারে নৌকা ও লাঙল মার্কায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখতে সাহায্য করেছে।


৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সরকারি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। ফলে জনগণ নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার তথ্য-সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইউ.এন কনভেনশন অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের মতে, শুধু সাংবিধানিক অধিকার নয় বরং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের মানবাধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড গুরুতর অপরাধ।

নির্বাচন কমিশনের নিকট আমাদের জোর দাবি হচ্ছে, অনতিবিলম্বে নির্বাচনের কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলের সঠিক অনুলিপি প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক। জনগণ যেন কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের অনুলিপি পাওয়ার পর তা আদালতে উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারে যে, ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশের জনগণ নির্দলীয় সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে পুনরায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার।



ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ‘এস–৪০০’ কিনছে ভারত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভ্রুকুটি অগ্রাহ্য করে অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ‘এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ’ কেনার চুক্তিতে সই করল ভারত ও রাশিয়া। ভারত সফররত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে শুক্রবার রাজধানী দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রায় ৪০ হাজার কোটি রুপির এই চুক্তি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে ৮টি ক্ষেত্রে অনুচুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এগুলোর অন্যতম ‘গগনায়ন’, যে কর্মসূচি অনুযায়ী ২০২২ সালে চাঁদে মানুষ পাঠাতে ভারতকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে রাশিয়া।

দুই দেশের ১৯তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পুতিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুদিনের সফরে ভারতে আসেন। এই সফরে তাঁর সঙ্গী হয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী উরি বরিসোভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ ও শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরোভ। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। বৈঠকের পর দুই শীর্ষ নেতা হায়দরাবাদ হাউসে দুই দেশের সাংবাদিকদের সামনে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেন। তাতে মোদি বলেন, এই বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন আঙ্গিক সৃষ্টি করেছে। এই সম্পর্ক অনন্য ও অদ্বিতীয়। প্রত্যুত্তরে ভারতের সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ককে ‘অতুলনীয়’ আখ্যা দেন পুতিন। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তিনি আরও একবারের জন্য ভ্লাদিভোস্তক ফোরামে প্রধান অতিথি হতে অনুরোধ করেন।

পুতিনের এই সফর ঘিরে সংশয় ও জল্পনার অন্ত ছিল না। এবং তার কেন্দ্রে ছিল এস-৪০০ চুক্তি। গত আগস্ট মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে বিমানবাহিনীর জন্য এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা কিনলে ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে হবে। নিষেধাজ্ঞা জারির আগেই ভারত এস-৪০০ কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। কথাবার্তাও এগিয়েছিল অনেকটাই। রাশিয়ার কাছ থেকে চীন এই একই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা কেনায় তাগিদও ছিল তীব্র। মার্কিন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তিটি সই হয় কি না, সেটাই ছিল মূল আগ্রহ। চুক্তি সইয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে আমাদের সম্পর্কও দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কেরই শক্তি বৃদ্ধি ঘটেছে।’

রাশিয়ার ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষোভের কারণ একাধিক। তাঁর নির্বাচনে রাশিয়ার ‘নাক গলানোকে’ ট্রাম্প ‘অ​নধিকার চর্চা’ বলে মনে করেন। তা ছাড়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রাশিয়ার জড়িয়ে পড়াকেও তিনি মেনে নেননি। ক্রিমিয়া দখলও অনুমোদন করেননি। চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সখ্যও তাঁর চক্ষুশূল। বিশ্ববাজারে রুশ অস্ত্রসম্ভারের জোগান ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসন তাই ‘কাউন্টারিং আমেরিকাজ অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশন আইন’ বা ‘সিএএটিএসএ’ চালু করে। আইন অনুযায়ী রুশ অস্ত্র যারাই কিনবে তারাই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। ভারতের ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগ না করার (ওয়েভার) আরজি যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তির উল্লেখ পুতিন বা মোদি কেউই অবশ্য তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে করেননি। দুই দেশের পক্ষ থেকে ৬৮ অনুচ্ছেদের যে যুগ্ম বিবৃতি (এযাবৎকালের মধ্যে দীর্ঘতম) শুক্রবার প্রকাশ করা হয়, তার ৪৫তম অনুচ্ছেদে একটি মাত্র বাক্যে চুক্তিটির উল্লেখ করা হয়েছে। এই চুক্তি ছাড়া স্বাক্ষরিত হয়েছে মহাকাশ, পরমাণু শক্তি, রেল ও সড়ক পরিবহন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ৮টি সমঝোতা স্মারক ।

জাতিসংঘে মিয়ানমারের পাশে ফের চীন ও রাশিয়া

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর অভাবনীয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী। রোহিঙ্গা প্রশ্নে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, এর মূলে রয়েছে সে দেশের সেনাবাহিনীর এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড। এটি তদন্তের সময় আন্তর্জাতিক মিশন যা প্রমাণ পেয়েছে, তাতে এই বাহিনীর জ্যেষ্ঠ সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘জেনোসাইড’ বা জাতিহত্যার অপরাধে বিচারের সম্মুখীন করা উচিত। কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষে একা এ বিচার করা সম্ভব নয়। এর ভার হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অথবা ভিন্ন একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত।

বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে এ কথা বলেন মিয়ানমার প্রশ্নে তথ্য অনুসন্ধানকারী নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে নিরাপত্তা পরিষদকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, শুধু রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের জনগণ নয়, সারা বিশ্ব আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক গঠিত আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গত ২৭ আগস্ট প্রকাশ করা হলেও বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তা উত্থাপন করা হয়। রাশিয়া, চীনসহ মোট চারটি দেশ এ প্রতিবেদন পরিষদের সামনে উত্থাপনে আপত্তি জানায়। তাদের যুক্তি ছিল, এ প্রতিবেদনের বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্র নিরাপত্তা পরিষদ নয়, এ নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত হয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অথবা মানবাধিকার পরিষদে। পরে এ প্রশ্নে ভোটাভুটি হলে ৯-৩ ভোটে প্রতিবেদনটি উত্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাশিয়া, চীন ও বলিভিয়া এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়।

মূল বিতর্কেও রাশিয়া ও চীন মিয়ানমার প্রশ্নে তাদের আগের নমনীয় অবস্থান থেকে বক্তব্য রাখে এবং পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো বলে দাবি করে। রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া আন্তর্জাতিক কমিটির প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, প্রতিবেদনটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। যাঁরা এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন, তাঁরা কেউ মিয়ানমার সফর পর্যন্ত করেননি। তিনি দাবি করেন, রোহিঙ্গা প্রশ্নটি ব্যবহার করে একটি সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি করা হচ্ছে। রাশিয়া সে রকম উদ্যোগের বিরোধিতা করবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত মা ঝাওখু দাবি করেন, পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো—এ কথা পরিষদের মেনে নেওয়া উচিত। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রতি সংঘটিত অপরাধের তদন্ত করছে, সে কথা উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন একমাত্র রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে মিয়ানমারকেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য বাইরের কোনো মিশনের প্রয়োজন নেই।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপরাধের পক্ষে বিচারের দাবি সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হেইলি বলেন, আন্তর্জাতিক কমিটি তাদের প্রতিবেদনে যে অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত তদন্তেও অনুরূপ অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো দেশ প্রতিবেদনটির ব্যাপারে যে সমালোচনা করেছে, তা প্রত্যাখান করে নিকি হেইলি বলেন, কারও দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করা এ প্রতিবেদনের লক্ষ্য নয়। এর লক্ষ্য দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা। তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি অব্যাহত নির্যাতন বন্ধের দাবি পুনরুল্লেখ করে বলেন, এই সম্প্রদায়ভুক্ত সব সদস্যের নাগরিকত্ব প্রদান করতে হবে।

ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেদনটিকে স্বাগত জানায় এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের দাবি করে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাও দো সোয়ান প্রতিবেদনটির বৈধতা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর গৃহীত ব্যবস্থার লক্ষ্য ছিল তাঁর দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিরোধ। সে পদক্ষেপকে ‘গণহত্যা’ নামে অভিহিত করার কোনো প্রামাণিত ভিত্তি নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয় এবং রোহিঙ্গা প্রশ্নে এই আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত স্বীকার করে না।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ছিলেন এ অধিবেশনের শেষ বক্তা। তিনি জানান, এ তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এ কথা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ‘গণহত্যা’র উদ্দেশ্য নিয়েই রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালায়। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত সবার বিচার করার ব্যাপারে মিয়ানমারের দায়িত্ব রয়েছে, সেই লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ বিচার–প্রক্রিয়ার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

নিরাপত্তা পরিষদকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জড়িত থাকার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হাতে সব দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তা হবে রোহিঙ্গাদের প্রতি গভীর অবমাননা। তিনি রোহিঙ্গা প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব গ্রহণ ও মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাহায্যার্থে একটি আন্তর্জাতিক তহবিল প্রতিষ্ঠার অনুরোধ করেন।

পরে প্রথম আলোর প্রতিনিধির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পরিষদে রোহিঙ্গা প্রশ্নে আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে পরিষদ যে আন্তর্জাতিক তদন্ত মিশনের প্রতিবেদনটি আমলে আনে, তাতে এই সংকটের গুরুত্ব প্রমাণিত হয়। বাংলাদেশ বারবার বলে এসেছে, নিরাপত্তা পরিষদের ‘অভিভাবকত্ব’ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ জানান, রোহিঙ্গা প্রশ্নে সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটিতে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে গত বছরের মতোই ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স) নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ মিয়ানমার প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধির কার্যাবলি সম্প্রসারিত করা ও নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক একটি প্রস্তাব গ্রহণের বিবেচনা এ প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। নভেম্বরের শেষ নাগাদ থার্ড কমিটি এ প্রশ্নে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করতে পারে বলে রাষ্ট্রদূত মাসুদ জানান।

বিজেপির রথ, মোকাবিলায় বাম দল

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গে তিনটি সুসজ্জিত প্রচার রথ বের করতে যাচ্ছে বিজেপি। বামফ্রন্ট এই রথকে দেখছে ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপির সাম্প্রদায়িক উসকানির অংশ হিসেবে। আর এ জন্য তারাও পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

বিজেপির ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম রথ তিন ডিসেম্বর বের হবে বীরভূম জেলার তারাপীঠ থেকে। দ্বিতীয় রথ বের হবে ৫ ডিসেম্বর কোচবিহার থেকে আর তৃতীয় রথ বের হবে ৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর থেকে। আর এই তিনটি রথ কলকাতায় এসে পৌঁছাবে ২২ জানুয়ারি। এরপরেই ২৩ জানুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মহা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বিজেপির। এই সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।

এদিকে এই রথকে মোকাবিলা করতে ছয় ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বাম দলগুলো রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে। ছয় ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনকে সামনে এনে তারা ওই দিন রাজ্যব্যাপী পালন করবে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দিবস’ । মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) বামফ্রন্টের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতারা। সিদ্ধান্ত হয়েছে সেদিন তারা কলকাতায় মহা মিছিল করবে। একইদিন রাজ্যের প্রতিটি শহরেও তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পথে নামবেন। ছয় ডিসেম্বরের কর্মসূচি উপলক্ষে বামফ্রন্ট ২১ নভেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে টানা ১৫দিন প্রচার অভিযান চালাবে।

বামফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ বলেছে, মন্দির-মসজিদ ইস্যুকে নতুন করে জাগিয়ে তুলে ভোটের বৈতরণি পার হওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি। আর বিজেপিকে সেই সুযোগ না দিতে বামফ্রন্টও পাল্টা উদ্যোগ নিয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দিবস পালনের।

বামফ্রন্টের মঙ্গলবারের বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে মহাসমাবেশ করবে তারা। সেই সমাবেশ থেকে বিজেপিকে বামফ্রন্ট বুঝিয়ে দেবে পশ্চিমবঙ্গে তারা এখন তৃতীয় নয়; দ্বিতীয় দলই। এ ছাড়া আগামী ৮ ও ৯ জানুয়ারি বাম ও শ্রমিক সংগঠনগুলি গোটা দেশে যে সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়েছে বামফ্রন্টের বৈঠকে।

বামফ্রন্টের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন্দ্রে মোদি এবং রাজ্যে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে নানা ইস্যুতে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এই অবস্থায় তৃণমূল ও বিজেপি এ রাজ্যে লোক দেখানো পারস্পরিক তরজায় নেমে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। তাই আমরা এর বিরুদ্ধেই পথে নামছি।’

প্রসঙ্গত, ভারতের লোকসভার নির্বাচন আগামী মার্চ-এপ্রিলে হওয়ার কথা। এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই প্রচারে নেমে পড়েছে।

অসমে বাঙালি নিধনের প্রতিবাদে পথে নামছে তৃণমূল, জানালেন মমতা

নিজস্ব প্রতিবেদন: অসমে পাঁচ বাঙালি যুবকের হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘটনার নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, হ্ত্যার প্রতিবাদে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় আগামিকাল অর্থাত্ ২ নভেম্বর প্রতিবাদ সভা করবে তৃণমূল কংগ্রেস।

বৃহস্পতিবার অসমের তিনসুকিয়া জেলায় ৫ যুবককে খুন করল ইউনাইটেজ লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম-ইন্ডিপেন্ডেন্টের জঙ্গিরা।

তাঁদের নাম শ্যামল বিশ্বাস, অনন্ত বিশ্বাস, অবিনাশ বিশ্বাস, সুবোধ বিশ্বাস ও ধনঞ্জয় নমশূদ্র। জানা গিয়েছে,

অসমের তিনসুকিয়া জেলার সাদিয়ায় একটি দোকানে বসেছিলেন ৬ যুবক . তখনই সেনার পোশাকে সেখানে হাজির হয় কয়েকজন বন্দুকবাজ।

এরপর যুবকদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় ব্রহ্মপুত্র নদীর চড়ে। সেখানে তাঁদের লাইনে বসিয়ে গুলি করা হয়।

খবর পাওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী টুইটারে লিখেছেন,”তিনসুকিয়ায় নৃশংস আক্রমণের নিন্দা করছি।

এটা কি নাগরিকঞ্জির ফল? নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর কোনও ভাষা নেই। দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে”।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শুক্রবার রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করবে তৃণমূল।

অসমের সাংসদ সুষ্মিতা দেব টুইটারে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, ”আশা করি, একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হিংসা ছড়ানো হয়নি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি”।