বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘গত দশ বছরে আওয়ামী লীগের লোকেরা যতো লুটপাট করেছে তার সমস্ত অর্থ বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারাও এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। জনগণের কাছে লুটপাটের পাই টু পাই হিসেব রয়েছে।’

রোববার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘লুটপাটকারী আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন, তারা আর দেশে ফিরছে না। অনেক নেতাকর্মী ভিসা-টিকিট লাগিয়ে রেখেছে। জানুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত এয়ারলাইন্সের টিকিট বুক হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে দেখুন-এরা কারা, এরা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা খোঁজ নিন। জনগণের টাকা আত্মসাৎকারীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে নির্বাচনের পরে কী হয়, এই আতঙ্কে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়ে নির্বাচনী মাঠে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে।

তারা জেনে গেছে সামান্যতম সুষ্ঠু ভোট হলেও তাদের ভরাডুুবি হবে, ধানের শীষের বিপুল বিজয় হবে। তাই দেশজুড়ে এতো সহিংসতা ও রক্তাক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী। নির্বাচনের শুরুতে তারা বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরাতে চেষ্টা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব স্বীকার করেছিলেন মহাজোটের শরিকরা এককভাবে প্রার্থী দিয়েছেন কৌশল হিসেবে। যাতে বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে একতরফা নিবাচন করা যায়।

আবার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলকও হয়। কিন্তু বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের মাঠে অনড় অবস্থায় থাকায় এখন আওয়ামী লীগ বেসামাল হয়ে পাবনার হেমায়েতপুরের হাসপাতালের অসুস্থ বাসিন্দাদের মতো কথা বলছে।’

ড. কামালকে জামায়াত ও ‘ইতিহাস বিকৃতকারীদের’ সঙ্গ ত্যাগের আহ্বান :

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে জামায়াতে ইসলামী ও ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের’ সঙ্গ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে কয়েকজন তরুণ। এই মর্মে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণ প্রজন্ম’ সংগঠনের নামে রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি দেন তারা।

রোববার রাতে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতা।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কিছু তরুণ শিক্ষার্থী এসে স্মারকলিপি দিয়ে যান। স্মারকলিপিতে ড. কামালকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা, জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গ ত্যাগ করা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের সঙ্গ ত্যাগ করার আহ্বান জানান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ড. কামাল হোসেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গঠন করেছেন, যা সংবিধানের চার মূলনীতির মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ব্যক্তি হিসেবে কামাল হোসেনকে জামায়াতের সঙ্গ ছেড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনিতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের সর্ববৃহৎ অংশ বিএনপির ২০ দলীয় জোটের (বর্তমানে ২৩ দল) প্রতিনিধি। ওই জোটে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও রয়েছে।

আরও পড়ুন-

ফখরুলের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ :

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার রাত ৮টার দিকে রুহিমানপুর মাদারগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবু সায়েম পরাগ গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদর উপজেলা রুহিমানপুর মাদারগঞ্জ এলাকায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবু সায়েম পরাগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পোস্টার লাগাতে যায়।

এ সময় একই এলাকার যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লাগে। সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবু সায়েম পরাগ গুরুতর আহত হয়। তাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত আবু সায়েম পরাগ বলেন, বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুলের পোস্টার লাগালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ছেঁড়ে ফেলে বাধা দেয়। পরে পোস্টার লাগাতে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে আমার মাথা ফেটে যায়।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপানোর জন্য যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। আমরা বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার লাগানোর বিষয়ে কোনো বাধা দেইনি। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

ঠাকুরগাঁও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুরুজ্জামান নুরু বলেন, প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় হামলা ও বাধা দিচ্ছে। প্রশাসনকে জানালেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে আমরা সতর্ক রয়েছি।

আরও পড়ুন-

রবের নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে তালা :

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে তালা মেরে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জেএসডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রামগতি উপজেলার বড়খেরী ও চরগাজী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তানিয়া রব বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে অফিস ভাঙচুর করে তালা দিয়েছে। তারা জেএসডি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে মহড়া দিচ্ছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

রামগতি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিছুল হক বলেন, হামলা-ভাঙচুর নয়। অফিসে তালা দিয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে

প্রসঙ্গত, এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মহাজোটের অন্যতম শরিক বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান।

staf.news
admin@news12.us

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *