নিউজ ডেস্কঃ ডাকসুর সাবেক নেতা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় ষ্টেট ইউনিভারসিটির পলিট্রিক্স ও গর্ভনমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত পত্রপত্রিকাসহ অন্য সব সামাজিক মাধ্যমে যে তথ্য আমরা দেখছি তাতে এটা কোনো নির্বাচনই হয়নি।

সরকার গোটা দেশে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে যে ধ্বংস করেছে, এটা তারই এটা অংশ । ভয়েজ অফ আমেরিকা তিনি বলেন, আমিও ডাকসু নির্বাচন করেছি। ৭৩ সালে যে নির্বাচন হয়েছে ওই নির্বাচন নিয়ে আমি কোনো আলোচনা করবো না। আমি তিনটি নির্বাচন করেছি, ৭৯ সালে নির্বাচিত হই, ৮১ সালে পরাজিত হওয়ার পর এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করিনি।

আবার ৮২ সালে আবার নির্বাচিত হই। আমাদের সময় এভাবেই নির্বাচন হয়েছে। তখনকার সময় হারের পরও সংগঠনগুলো এভাবে নির্বাচন বয়কট করেনি। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সরকার সমর্থিত সংগঠন ছাড়া বেশির ভাগ সংগঠনই এ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমান এই নির্বাচনটা যেভাবে হলো আমি এটাকে একটি পরিকল্পিত বলবো, এর দায় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন এড়াতে পারে না। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসকে এর দায় নিতে হবে।

আরো পড়ুন>> ক্ষমতাসীনরা ভোট কারচুপি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে ভুলন্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার বিকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার দলীয় যে ছাত্র সংগঠন আছে তাদের মুরুব্বীরা যেভাবে ২৯ ডিসেম্বর ডাকাতি করেছে ভোট, গতকাল তারা(ছাত্রলীগ) এটাকে ভুলে গিয়ে ঠিক ২৯ ডিসেম্বরের রাত্রের মতোই এখানে (ডাকসু নির্বাচন) ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।

গতকাল মেয়েদের কাছে ধরা পড়েছে যে, তারা আগের রাত্রে ভোট দিয়ে রেখেছে। এর চেয়ে লজ্জ্বাজনক আর কিছু হতে পারে না। ভোট হাতে দেয়া না, আগের রাতে বাক্সে ভোট চুরি করে দেয়ার যে সংস্কৃতি ক্ষমতাসীনরা গড়ে তুলেছে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা ব্যবহার করা হয়েছে।

তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঐতিহ্য তাকে সম্পূর্ণভাবে ভুলন্ঠিত করা হয়েছে, আমাদের যে গৌরব সেই গৌরবে আজকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। আমি তীব্র নিন্দা জানাই। ড. মোশাররফ বলেন, আপনারা দেখেছেন, যারা নির্বাচনে পাস করেছে তারাও প্রতিবাদ করছে।

যাদেরকে ভোট দিতে দেয় নাই তারাও প্রতিবাদ করছে। আজকে সারা বাংলাদেশে একই অবস্থা। এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে না। তার জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগনকে সঙ্গে নিয়েই আমরা আবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবো।

সারাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন হলো। সেন্টারে দেখা গেলো কর্মকর্তারা ভোটারের অপেক্ষায়, কোনো ভোটার নাই।

এই ভোটারা ক্ষুব্ধ বলে তারা ভোট দিতে যাওয়া প্রয়োজন মনে করে নাই।গত পরশু ইলেকশন হলো উপজেলা নির্বাচনের প্রথম পর্বের। সেখানেও একই অবস্থা। কেন্দ্র এ যারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন তারা বসে আছেন কিন্তু ভোটার নাই। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন কলঙ্কময়।

এই বিশ্ববিদ্যালয় আমিও ছাত্র ছিলাম, ২১ বছর শিক্ষক ছিলাম। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য আছে এটি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড। এই বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যত আন্দোলন- ’৬৯ এর গণ আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং নববইয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এই ডাকসুর অবদান। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। এসব আন্দোলনে ডাকসু নেতৃত্ব দিয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গৌরবময় ঐতিহ্য আছে।

২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে- ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উদ্দিপনা-উৎসাহ ছিলো। কিন্তু যেহেতু এখানেও সরকার যে দলীয় ছাত্র সংগঠন আছে তাদের মুরুব্বীরা যেভাবে ২৯ ডিসেম্বর ডাকাতি করেছে ভোট এবং এসব কর্মীদের হাতে হয়েছে।

তারা কিন্তু ডাকসু নির্বাচনের ঐতিহ্য-গৌরব ভুলে গিয়ে ঠিক ২৯ ডিসেম্বর রাতে মতোই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটালো। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ঢাকাস্থ দাউদকান্দি উপজেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি মরহুম শাহজাহান চৌধুরীর স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়।

আলোচনা সভার পর মরহুম শাহজাহান চৌধুরীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সংগঠনের সভাপতি মিঞা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার খন্দকার মারুফ হোসেন, ফোরামের সভাপতি জসিম উদ্দিন আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া, মরহুম শাহজাহান চৌধুরীর ছেলে রোমান চৌধুরী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

নিউজ১২/নি

staf.news
admin@news12.us