কাশ্মিরের পুলওয়ামার আওয়ান্তিপরা শহরের জাতীয় সড়কের ওপর সিআরপিএফের সদস্যদের গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরনের দায় স্বীকার করে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন জইশ-ই- মুহাম্মদের এক যোদ্ধা। তার নাম আদিল আহমেদ দার বলে জানিয়েছেন ভারতীয় পুলিশ।

বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় ভারতের বিশেষায়িত বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪৪ জওয়ান নিহত ও আরও ৪১ সেনা আহত হন। ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম। বিস্ফোরণ ঘটনার কয়েক মুহুর্ত পরেই ভিডিও বার্তাটি প্রকাশ করে জইশ-ই-মুহাম্মদের যোদ্ধা আদিল আহমেদ।

এর আগে সেনাবাহিনীর গাড়ি বহরে ভয়াবহ হামলার দায় স্বীকার করে ওই জঙ্গি সংগঠনটি। ভিডিও বার্তায় ওই যোদ্ধাকে বলছেন, ‘আপনারা যখন এই ভিডিও দেখবেন তখন আমি জান্নাতে থাকব।’ জইশ-ই-মুহাম্মদ সংগঠনের সঙ্গে এক বছর ধরে আছেন জানিয়ে ওই ভিডিওতে আদিল বলেন, ‘এটাই কাশ্মীরের লোকজনের প্রতি আমার শেষ বার্তা। আমাদের অল্প কয়েকজন যোদ্ধাকে হত্যা করে আপনারা আমাদের দুর্বল করতে পারবেন না।’

দক্ষিণ কাশ্মীরের অধিবাসীরা ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে মন্তব্য করে আদিল ওই ভিডিওতে উত্তর এবং কেন্দ্রীয় কাশ্মীরের অধিবাসীদেরও এ লড়াইয়ে যোগ দেয়া উচিত বলে বক্তব্য দেন। কাশ্মীর পুলিশের ধারণা, পুলওয়ামারে হামলা চালানোর আগেই ওই ভিডিও বার্তা ধারণ করা হয়েছে।

এবং আদিল আহমেদ দার নামের জইশ-ই-মুহাম্মদের ওই সদস্য বৃহস্পতিবার ভয়াবহ ওই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছিল, এক জাইশ-ই-মোহাম্মাদ সন্ত্রাসী বিস্ফোরক-বহনকারী গাড়িতে ভ্রমণ করছিল। ওই বাসটিতে ৫৪ ব্যাটালিয়ন সিআরপিএফ জওয়ানরা ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, আইইডির বিস্ফোরণের পর শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সিআরপিএফের অপারেশন আইজি জুলফিকার হাসান বলেন, জম্মু থেকে শ্রীনগর যাওয়ার পথে ৭০টি যানবহন ছিল। এর মধ্যে একটিতে হামলা করা হয়। গত দুই দশকে এটাই ছিল কাশ্মীরে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা।

স্থানীয় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পুলওয়ামার গুন্দিবাগের অধিবাসী আদিল হোসেইন দার । ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ থেকে তৌসিফ এবং ওয়াশিম নামের দুই বন্ধুর সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন আদিল।

staf.news
admin@news12.us