দেশ যেসব সংকটকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তম্মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে দেশে দফায় দফায় মোট সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে।

এর আগের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মিলিয়ে সর্বমোট রোহিঙ্গার সংখ্য ১১ লাখ ছাড়িয়ে। আর এই বিপুল জনসংখ্যার ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজার জেলায় উখিয়ার পাহাড়গুলোর পাদদেশে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করে মিয়ানমার।

‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পার্সন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক চুক্তি অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা।

তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়।

অতীতে আসা রোহিঙ্গাদের বড় অংশ এখনও মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেনি।

সূত্রের খবর, মিয়ানমারে ফিরে যেতেও অনাগ্রহী রোহিঙ্গারা।

বাংলাদেশে তুলনামূলক অনেক ভালো অবস্থানে আছেন তারা। বিশেষকরে নিরাপত্তার দিকটি থেকে।

রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামের স্থানীয়দের সঙ্গে প্রায় মিশে যাচ্ছেন বলে দাবি অনেকের।

তাদের চালচলন, বেশভূষা এমনকী কথায়ও বিশেষ পরিবর্তন লক্ষণীয়।

রোহিঙ্গারা এমন পরিবর্তন এনে বাংলাদেশিদের মিশে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে কর্মরত মেহতাব সামীর সায়েম।

তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকটের ভয়বহতার দিকটি অনেকেই ভাবছেন না।

বিশেষকরে স্থানীয়দের এ ব্যাপারে তেমন কোনো মাথাই ঘামাচ্ছেন না।

রোহিঙ্গা সমস্যাটি যে বাংলাদেশের জন্য কতটা ক্ষতি বয়ে আনবে তার হিসাব অনুধাবন করতে পারছে না দেশের অনেকেই।

হঠাৎ করে কক্সবাজরে রোহিঙ্গা প্রবাহের ফলে যে অর্থ প্রবাহ দেখছেন তাতেই মন গেঁথে আছে স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন মেহতাব সামীর।

স্ট্যাটাসে রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় রক্ষণশীল পরিবারগুলোর ছেলে-মেয়েদের পড়া লেখা নষ্ট হচ্ছে এবং একই সঙ্গে বহু সামাজিক অনাচার বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শিক্ষার্থীরা রাতারাতি এনজিও কর্মী হয়ে বিদ্যালয়মূখী হচ্ছেন না বলে জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কিছু অসাদু চক্রের সঙ্গে মিশে ইতিমধ্যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট বহন করছে।

ছেলে-মেয়েদের এসব থকে দূরে রাখতে অনেক স্থানীয় অধিবাসী বিভাগীয় শহরে চলে গেছেন বলে জানান মেহতাব সামীর।

সর্বোপরি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে এক ধরনের সয়ংক্রিয় পূনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে বলে মন্তব্য করেছেন এই রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা।

গতকাল (১৩ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া মেহতাব সামীর সায়েমের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো,

কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা আগমন পরবর্তী সময়ে ব্যবসা, চাকুরী ও ভাড়া বাসা কেন্দ্রীক আকষ্মিক অর্থ প্রবাহের ফলে স্থানীয় লোকজন রোহিঙ্গা সমস্যাটিকে ঠিক সমস্যা হিসেবে অনুধাবন করতে পারছে না। কিন্তু অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয়।

যেমন, রোহিঙ্গা আগমনের ফলে সৃষ্ট চাকুরি ও মোটা বেতনের লোভে কলেজ স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা রাতারাতি এনজিও কর্মী হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে রক্ষণশীল বলে পরিচিত অত্র এলাকার মানুষজন বাড়তি আয়ের পথ হিসেবে বাড়ির রান্নাঘর পর্যন্ত ভাড়া দিয়ে দিচ্ছে, ফলে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ও সমাজের রক্ষণশীল রীতিনীতি শিকেয় উঠেছে।

বন উজাড় ও পরিবেশগত ক্ষতি ছাড়াও সবচেয়ে বড় যেই ক্ষতিটি হয়েছে তা হলো সামাজিক ক্ষতি, আজন্ম রক্ষণশীল সমাজে বেড়ে উঠা ছেলেমেয়েরা হুট করে একইসঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতা পেয়ে যাওয়াতে একপ্রকার সামাজিক অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে না পেরে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে বাড়ছে অনাচার, ব্যভিচারসহ বিভিন্নরকম অসামাজিক কার্যকলাপ।

বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অসচেতন মানুষেরা রয়েছে এইডসসহ নানাধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

বছর খানেকের মাথায় সম্ভবত স্থানীয়রা প্রাথমিক একটি ঝাকুনি অনুভব করতে পারতে শুরু করেছে, স্থানীয়দের হানিমুন পিরিয়ড আস্তে আস্তে শেষ হতে চলেছে, এনজিওগুলো ইমার্জেন্সি কাটিয়ে উঠাতে অপ্রয়োজনীয় কর্মী ছাটাই করছে।

রাস্থাঘাট ভেঙে একাকার হয়ে যান চলাচলের বারোটা বেজে গেছে, এনজিও গুলো ভাড়া বাড়ি ছেড়ে স্থায়ী অবস্থানের জন্য নিজস্ব চিন্তাভাবনা করছে, বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি আকাশ ছুঁয়েছে, অন্যদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক কমিউনিটি দাঁড়িয়ে গেছে, তারা আর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপর নির্ভর করতে রাজি নয়, ফলে কমে যাচ্ছে স্থানীয় প্রান্তিক ব্যাবসায়ীদের ব্যবসার সুযোগ।

সবচেয়ে বড় ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, রোহিঙ্গারা তাদের চালচলন পোশাকাশাকে এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ভাষাগত টোন ব্যতীত সনাক্তকারী কোনো উপাদান তাদের কথাবার্তা, পোশাকাশাক, চালচলনে নেই।

তাদের ভাষাগত টোন সেনাবাহিনী ও পুলিশে কর্মরত ননচিটাগনিয়ান লোকজন ধরতে পারেনা বলে সারাদেশে তাদের যাতায়াত হয়েছে অবাধ। তারা ছড়িয়ে পড়ছে সমগ্র দেশে।

দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীদের বদান্যতায় রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে এখন ন্যাশনাল আইডি কার্ড, জন্মনিবন্ধন সনদ, বাংলাদেশি পাসপোর্ট। সর্বোপরি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে এক ধরনের সয়ংক্রিয় পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অবস্থা এর বিপরীত। সেইদিন আর খুব বেশি হয়ত দূরে নয় যেদিন স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে গণহারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শরনার্থী হিসেবে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলায় আশ্রয় নিতে হবে।

ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী সচ্ছল পরিবার গুলোকে বাপ দাদার ঘরবাড়ি ছেড়ে জেলা ও বিভাগীয় শহরের ভাড়া বাসায় উঠতে দেখা যাচ্ছে। ’

staf.news
admin@news12.us