তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আগের মতোই পরিপাটি ও সানগ্লাস দিয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন। তার চেহারায় অসুস্থতার কোনো ছাপ আমরা দেখতে পাইনি।

রোববার চট্টগ্রাম নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা অসুস্থ বলেছেন রিজভী (বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব)।

বেগম খালেদা জিয়া তো আগে থেকেই অসুস্থ। শনিবার আদালতে নিয়ে যাওয়ার পর খালেদা জিয়াকে টেলিভিশনে যেভাবে দেখলাম, তিনি তো আগের মতো পরিপাটি ও সানগ্লাস দিয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার চেহারায় অসুস্থতার কোনো ছাপ আমরা দেখতে পাইনি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রিজভী আহমেদ দলগতভাবে আইন এবং আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন। তিনি আজ (রোববার) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তো তাকে (খালেদা জিয়া) শাস্তি দেননি। তাকে শাস্তি দিয়েছেন আদালত। তাকে মুক্ত করতে হলে আদালতের মাধ্যমেই মুক্ত করতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার এখতিয়ার তো প্রধানমন্ত্রীর নেই। তিনি (রিজভী) আরও কিছু কথা বলেছেন যেগুলো অশোভন। রাজনৈতিক ভদ্রতা ও শালীনতা- কথাগুলো বলার ক্ষেত্রে তিনি বজায় রাখেননি।’

বিকাল ৫টায় তথ্যমন্ত্রী বেলুন উড়িয়ে ১৯ দিনব্যাপী এই অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যেমন ইতিবাচক দিক আছে- তেমনি নেতিবাচক দিকও আছে।

নেতিবাচক প্রভাব থেকে আমাদের নতুন প্রজন্মকে, কিশোর-কিশোরীকে রক্ষা করতে হবে। তাই তাদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেয়ার পরিবর্তে জীবনে আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার জন্য, স্বপ্ন দেখার জন্য, স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এবং লড়াই করার জন্য বই তুলে দিতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রীসহ অন্যরা বইমেলা পরিদর্শন করেন। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন কলেজের ছাত্রীরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, একুশে বইমেলার আহ্বায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, বইমেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, জামাল উদ্দিন, সদস্য সচিব সুমন বড়ুয়া, সমন্বয়কারী আশেক রসুল টিপু প্রমুখ।

চট্টগ্রাম নগরীতে এর আগে সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে একাধিক বইমেলার আয়োজন করা হতো। বিছিন্নভাবে ভাষার মাসে এসব বইমেলা আয়োজন করা হলেও খুবএকটা জমত না। এর পরিপেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সমন্বিত বইমেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেয় এবার।

staf.news
admin@news12.us

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *