নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি ঐক্যফ্রন্টের

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী আবার সংলাপের ডাক দিয়েছেন। তবে সংলাপের এজেন্ডা কী হবে সেটি জানানো হয়নি। সংলাপে অংশ নিতে পুনরায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন বিষয়ক এজেন্ডা চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।



সোমবার (১৪ জানুয়ারী) দুপুরে সিলেটে হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল, তাদের সঙ্গে আবারও সংলাপ হওয়ার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।



নির্বাচনের আগে ওই সংলাপে অংশ নিয়েছিল বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্টসহ আরও বহু দল। ওই সংলাপের সময়ই বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা ঘোষণা করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এজেন্ডায় যদি বিগত নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয় থাকে, তা হলে আমরা সংলাপ নিয়ে চিন্তাভাবনা করব। কারণ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে সংলাপ হয়েছিল তা অর্থবহ হয়নি।

জামায়াত নিয়ে ড. কামালের বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামায়াত নিয়ে কামালের বক্তব্য গণফোরামের। এটি ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নয়।



মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে এখনও কোনো আলাপ-আলোচনা করিনি।

জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টে ফাটল ধরবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঐক্যফ্রন্টে কোনো ফাটল ধরার সুযোগ নেই। অটুট থাকবে। কারণ আমরা অভিন্ন দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছি।



উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, উপজেলা নির্বাচনে এলে তো সরকার পরিবর্তন হয় না। কাজেই এটি নিয়ে এতটা গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই।

‘তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন যে অযোগ্য বিশ্ব তা দেখেছে। তাদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন হতে হবে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ নির্বাচন।



জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সোমবার সকাল পৌনে ১২ টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এসে পৌঁছে প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে নেতৃবৃন্দ হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সফরকারী টিমে আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, মহাসচিব হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ।



মাজার জিয়ারতের সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ বিএনপি ও বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনের নেতা এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অসংখ্য নেতাকর্মী।



জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সিলেটের বালাগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ছাত্রদল নেতা সায়েমের বাড়িতে যাবেন। সেখানে তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করবেন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। বিকেলে তাদের ঢাকায় ফিরার কথা রয়েছে।

সফরকারী টিমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির নেতাদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান মান্নার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান থাকার কারণে তিনি সিলেট আসেননি।



প্রসঙ্গত, এ সফরের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তাদের পূর্বঘোষিত তিন দফা কর্মসূচি শুরু করলেন। ধারাবাহিকভাবে দেশের অন্যান্য এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাও পরিদর্শন করবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট চলাকালে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে (সিলেট-৩) বালাগঞ্জ উপজেলার আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রদল নেতা সোহেল নিহত হন।

পিবিডি/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *