ফরিদুল কবীরের মনোনয়নপত্র বৈধ, বিএনপিতে উচ্ছ্বাস

ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আপিল শুনানিতে জামালপুর ৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের বিএনপি দলীয় একক প্রার্থী জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে এ আসনের বিএনপি ও এর সহযোগী দলগুলোর সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বাতিল করায় এ আসন বিএনপি প্রার্থীশূন্যতায় পড়েছিল।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর ২ ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে তিনি তার প্রার্থিতার বৈধতা ফিরে পেয়েছেন।

সরিষাবাড়ী পৌর শাখা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পিন্টু কালের কণ্ঠকে জানান, ঢাকা থেকে সংবাদ আসার সাথে সাথেই এ আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সমবেত হয়। আমাদের প্রার্থীকে ফিরে পাওয়ায় সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এ ব্যাপারে এ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বের হয়েছি। সুষ্ঠুভাবে জনগণ ভোট দিতে পারলে বিজয় আমাদের হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। শাসক নয়, আমি জনগণের সেবক হয়ে জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই।

বিকালে ৩০০ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করবে ঐক্যফ্রন্ট:

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও তার শরিক বিএনপির ৩০০ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আজই ঘোষণা করা হবে। গণফোরাম কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আরামবাগে গণফোরাম কার্যালয়ে বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন গণফোরামের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য লতিফুল বারী হামীম।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৩০০ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৩ শরিক দল ও ২০ দলীয় জোটের ১৯ দলকে প্রায় ৬০টি আসন ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটের প্রধান দল বিএনপি। তবে এই সংখ্যা কমবেশি হতে পারে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। চূড়ান্ত ঘোষণাতেই বিষয়টি প্রকাশ করা হবে।

আমানত নেই রেলমন্ত্রীর, স্ত্রীর ২০ লাখ”

নিজের নামে কোনো টাকা আমানত নেই কুমিল্লা-১১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সরকারের রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকের। তবে স্ত্রীর নামে স্থায়ী আমানত হিসেবে রয়েছে ২০ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮৮ টাকা।

এ ছাড়াও নিজ নামে না থাকলেও স্ত্রীর নামে ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার শেয়ারসহ ইন্সুরেন্স রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হলফনামা থেকে এ সব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, নিজ নামে না থাকলেও স্ত্রীর নামে ব্যবসায় মূলধন হিসেবে ৭৪ লাখ ৫৪ হাজার ১২৩ টাকা রয়েছে।

হলফনামা থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালে মুজিবুল হকের কৃষিখাত থেকে বছরে ১০ হাজার টাকা, আয়কর আইনজীবী হিসেবে বছরে ৩ লাখ টাকা আয় করতেন। ২০১৩ সালে কৃষিখাত থেকে বছরে ১৫ হাজার ৮৪০ টাকা আয় করলেও পেশা থেকে কোনো আয় ছিল না। এবার কৃষিখাত থেকে ১৫ হাজার ৭৩০ টাকা আয় করছেন। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে পরিতোষক ছাড়া ২০১৩ সাল থেকে কোনো আয় নেই মুজিবুল হকের।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ছিল নিজ নামে, ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের ৮ তোলা স্বর্ণ, ৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ২ হাজার ৫০০ টাকার আসবাবপত্র। ২০১৩ সালে গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৭ লাখ ১ হাজার ১৯৫ টাকা, ৬ হাজার টাকা মূল্যের ৪ তোলা স্বর্ণ, ৬৯ হাজার টাকা মূল্যের আসবারপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী ছিল। বর্তমানে দুটি গাড়ি, যার একটির মূল্য ৭৭ লাখ ১ হাজার ১৯৫ টাকা ও অপরটির মূল্য ৭২ লাখ ৩২ হাজার ৭৫৩ টাকা। আসবাবপত্র নিজ নামে ৬৯ হাজার ও স্ত্রীর নামে ২০ হাজার টাকার।

২০০৮ সালে ৮ হাজার ৯৬৬ টাকা নগদ ও ব্যাংকে ২৫ হাজার ৫৬ টাকা জমা ছিল। ২০১৩ সালে ২২ হাজার ৩১৬ ও ব্যাংকে ৭১ হাজার ৬৩৩ টাকা জমা ছিল। বর্তমানে নিজ নামে ২ হাজার ৩২ টাকা, স্ত্রীর নামে ২ হাজার ২৫৮ টাকা নগদ, নিজ নামে ২৭ হাজার ৮১৭ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৫৯ হাজার ৬০৬ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে।

হলফনামা থেকে জানা যায়, স্থাবর সম্পদ আগের হিসাব থেকে ২০১৩ সালে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের রাজউকে ১০ কাঠার একটি প্লট যুক্ত হয়েছিল, যা এবারের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। ২০০৮ সালে দায় না থাকলেও ২০১৩ সালে আত্মীয় স্বজনদের কাছে জামানত বিহীন ৭৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, বিবিধ পাওনাদার ৬ লাখ ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬ টাকা ছিল। বর্তমানে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে দেনা ২৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯৩৫ টাকা ও আত্মীয়দের কাছে জামানত বিহীন ঋণ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিএনপি প্রার্থী শাহাদাতকে আরও তিন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে নাশকতার অভিযোগে দায়ের আরও তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম এমএম মহিউদ্দিন মুরাদ এই আদেশ দেন। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেনের আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ।

তিনি জাগো নিউজকে জানান, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বাকলিয়া থানায় দায়ের হওয়া তিনটি পৃথক মামলায় ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার দেখানোর অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তিনটি মামলাতেই শাহাদাতের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর ককটেল হামলাসহ নাশকতার অভিযোগ আনা হয়।

এদিন তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

গত ৭ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেফতারের পর নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে আদালত ভবনে পুলিশের ওপর হামলা, জনমনে ভীতি প্রদর্শন, উসকানি এবং সদরঘাট থানার একটি হোটেলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণসহ চারটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আজ আরও তিনটি মামলাতে গ্রেফতার দেখানোর আদেশে এখন তিনি সাতটি নাশকতার মামলায় গ্রেফতার আছেন।

এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে বিএনপির তিন প্রার্থীকে নতুন করে বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো।

চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাদের দাবি- নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পুলিশ একের পর এক গায়েবি মামলায় বিএনপি প্রার্থীদের গ্রেফতার দেখিয়ে চলছে। তারা হলেন- নগর বিএনপির সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের প্রার্থী ড. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় নেতা চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের গিয়াস উদ্দিন কাদের।

চাচার নৌকা, ভাতিজার ধানের শীষ:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে এবারও ভোটযুদ্ধ হবে চাচা-ভাতিজার মধ্যে। এ আসন থেকে মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান এমপি প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন।

প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ফজলুল হক চাঁনের বড় ভাই প্রয়াত সাবেক এমপি ডা. সেরাজুল হকের ছেলে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন।

তারা উভয়ই বাংলাদেশের বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৃথক পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারে পর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে চাচা ও ভাতিজা ভোটযুদ্ধের মরণপণ লড়াইয়ে নেমে পড়বেন। সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিয়ে রেখেছেন তারা।

জেলা নির্বাচন অফিস ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ইতোপূর্বে প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন নৌকা প্রতীক নিয়ে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারই ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী হেদায়েতুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯৬ হাজার ২৩৪ ভোটে বিজয়ী হন। হেদায়েতুল পেয়েছিলেন ৮ হাজার ৫৪৮ ভোট।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন প্রথমবার ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী ভাতিজা সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সেবার রুবেল ভোট পান ৬৫ হাজার ৭৫৩ ভোট।

২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ বারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাহমুদুল হক রুবেল ৮৬ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে এমএ বারী ভোট পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৩৯৬ ভোট।

১৯৯৬ সালের বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে রুবেল এমপি নির্বাচিত হলেও ওই বছরেই সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এমএ বারী ৪২ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রুবেল পান ৩৬ হাজার ৮৬ ভোট।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুবেলের বাবা ডা. সেরাজুল হক বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ৩৪ হাজার ৭৪৯ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম ৩১ হাজার ৬৮৮ ভোট পান। ১৯৯৪ সালের ২৮ অক্টোবর এমপি ডা. সেরাজুল হক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে তিন মাস পর উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বয়সে তরুণ মাহমুদুল হক রুবেল প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন।

জাতীয় সংসদের বিভিন্ন নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে শেষবার দেখা হলেও দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও চাচা ভাতিজা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *