‘ঢাকায় ডেকে এনে তামশা মঞ্চস্থ করছে ইসি’

‘ঢাকায় ডেকে এনে তামশা মঞ্চস্থ করছে ইসি’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা বাতিলের আপিল করেন অনেকেই। অনেকে ফিরে পেলেও বাদ পড়েছেন বেশিরভাগ। আপিল করেও আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের ভাইস-চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে না পেয়ে পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে তামাশা করা হচ্ছে। তাদের সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিত। আমারটা একেবারে রিজেক্ট করে দিয়েছে। পেন্ডিং রাখলেও তো হতো।’

তিনি বলেন, ‘আগেই ভেবেছিলাম, এখানে এসে সঠিক বিচার পাওয়া যাবে না। বাইরে থেকে লোকদের ঢাকায় ডেকে এনে তামশা মঞ্চস্থ করছে ইসি।’

মীর নাছির ছাড়াও চট্টগাম-৫ আসনে বিএনপির আরও দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তারা হলেন— মীর নাছিরের ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা।

বৃহস্পতিবার শুনানিতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। সঙ্গে তার ছেলে হেলাল উদ্দীনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়।

ফলে এই আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান এমপি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বিপক্ষে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিলা ফারজানাকে নিয়েও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে ‘জঙ্গি সম্পৃক্ততার’ অভিযোগ করা হয়েছে।

অবশ্য জঙ্গি সংগঠন হামজা বিগ্রেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডি থেকে সাকিলা ফারজানাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রায় সাত মাস আগে, ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ে জঙ্গি আস্তানা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়।

এরপর হাটহাজারীর আবু বকর মাদ্রাসা থেকে ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জঙ্গিদের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পাওয়ার ঘটনায় হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাস ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় সাকিলা ফারজানাকে।

কয়েক দফা রিমান্ড শেষে সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০১৬ সালের ৭ জুন কারাগার থেকে মুক্তি পান ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা।

সাকিলার মা ফরিদা ওয়াহিদ ওই সময় দাবি করেছিলেন, তার মেয়ে বিএনপির হয়ে অনেক মামলা লড়েছেন। এজন্য প্রতিহিংসায় তাকে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে।

ব্যারিস্টার সাকিলার বাবা প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম এক সময় চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির এমপি ছিলেন। তিনি সংসদে হুইপের দায়িত্ব ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন।

উল্লেখ্য, যাচাই-বাছাইয়ে অবৈধ হয়ে যাওয়া মনোনয়নধারীরা গত তিন দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৫৪৩টি আপিল করেন। সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য শুনানি করছে নির্বাচন কমিশন।

শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), অন্য চার কমিশনার, ইসি সচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত আছেন।

বিএনপিতে ঐক্য, আ. লীগে বিভেদ

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে যে বিভেদ দেখা দিয়েছিল তা এখনও মেটেনি। বিভেদ মাথায় নিয়েই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দলটি।

অন্যদিকে হেভিওয়েট নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ঐক্য ধরে রেখেছে বিএনপি। তারা আশাবাদী, আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল হক।

আমিনুল হক ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনবার এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা হয়েছে। মামলার কারণে আত্মগোপন করায় তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে নিতে পারেননি। সে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে হেরেছেন তার ভাই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এম এনামুল হক।

এবার আমিনুল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পান। তবে মামলায় সংক্রান্ত জটিলতায় যাচাই-বাছাইকালে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। আমিনুল তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন।

এই আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে আমিনুলের স্ত্রী আভা হক ও বিএনপির প্রবাসী নেতা শাহাদাত হোসেনকেও দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। এদের মধ্যে শাহাদাতের প্রার্থিতাও বাতিল হয়েছে।

শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও তারও প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। টিকে আছেন কেবল আভা হক। আমিনুলের প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এখন তাকে নিয়েই নির্বাচনের মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে তারা এ-ও আশা করছেন যে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাবেন তিনি।

বিএনপির এই নেতার হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, তার বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা এখনও বিচারাধীন। এসব মামলায় তিনি জামিনে। আমিনুলের আরও পাঁচটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে আদালতে। এর মধ্যে বিচারিক আদালতে তার দুটি মামলায় কারাদ- হয়, খালাস পান তিনটি থেকে। তদন্তকালে অব্যাহতি পেয়েছেন আরও তিনটি মামলা থেকে। বিচারিক আদালতে যেসব মামলায সাজা হয়, সেগুলো থেকে আপিলে তিনি খালাস পান উচ্চ আদালতে। তবে এই খালাসের নথি না থাকার কারণেই তার প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস সালাম শাওয়াল বলেন, ‘গোদাগাড়ী-তানোরে এখনও আমিনুল হকের বিকল্প নেই। তিন দফায় এমপি থাকাকালে তিনি এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট তৈরি করেন। বেকার যুবকদের পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেন। এ কারণে বিএনপি ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আমিনুল হকের ইতিবাচক ভাবমুর্তি রয়েছে। তিনি ভোটে থাকলে যে কোনো প্রার্থীর জন্য জয় পাওয়া কঠিন। তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও তার প্রতিনিধি হিসেবে যিনি থাকবেন জনগণ তাকেও ফেলে দেবে না। আর ধানের শীষের জয়ের জন্য দুই উপজেলার বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। কোথাও বিভেদ আছে, এমনটি কেউ দেখাতে পারবে না।’

এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ২০০১ সালের অষ্টম নির্বাচনে প্রথম অংশ নিয়ে আমিনুল হকের কাছে পরাজিত হন। নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি আমিনুলের ভাই এনামুলকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেন। দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি আবারও এমপি হন।

দুইবার সংসদ সদস্য হওয়ার পর দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে ওমর ফারুকের। এবার প্রার্থী হতে দলের মনোনয়ন ফরম কেনেন আরও নয় জন নেতা।

কিন্তু প্রার্থিতা ঘোষণা নিয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ফারুক চৌধুরীর যে দূরত্ব তৈরি হয় তা এখনও মেটেনি। এখনো পাশে আসেননি তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী। গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বদরুজ্জামান রবু মিয়াও দূরে দূরে।

আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমি মনোনয়ন না পাওয়ায় এমপির সমর্থকরা আমার সমর্থকদের প্রকাশ্যে গালাগালি দিয়ে এলাকাছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন। তারা আমার বাড়ি ও দোকানের সামনে বাজি ফুটিয়ে উল্লাস করেছেন। তারা খুবই শত্রুতাপূর্ণ ও বৈরী আচরণ শুরু করেছেন। এতে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোটে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার সকালে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাই তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দ্বিতীয় দিনে মনোনয়ন বৈধ হল যাদের
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিলের শুনানি চলছে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ শুনানি শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
আজ ১৬১-৩১০ নম্বর সিরিয়ালের প্রার্থীদের আপিল আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি হচ্ছে। সেই সঙ্গে গতকালের পেন্ডিং থাকা চারজনের শুনানিও আজ হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা শুনানি করছেন। প্রতিটি আবেদনের আপিল শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গেই রায় জানিয়ে দিচ্ছে কমিশন।

শুনানির দ্বিতীয় দিনে বেশ কয়েকজন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আবার আপিলেও ব্যর্থ হয়েছেন অনেকে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত রায়ে বেশ কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে।

আপিলে যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন-

আবদুল খালেক ও জিয়া উদ্দিন (বিএনপি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬;

মুসলিম উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪;

হাসান মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-৮;

আবু আহমেদ হাসনাত চট্টগ্রাম-৭;

আলতাফ হোসাইন কুমিল্লা-১;

গিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২;

মেহেদী হাসান (ইসলামী ঐক্যজোট) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫;

খোরশেদ আলম চট্টগ্রাম-৮;

একে ফাইয়াজুল হক বরিশাল-২;

নির্বাচন কমিশনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। গত ২৯ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এর পর গত রোববার মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সারা দেশে ৭৮৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন।

প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ৫৪৩ প্রার্থী। প্রথম দিনে ৮৪, দ্বিতীয় দিনে ২৩৭ ও তৃতীয় দিনে ২২২টি আবেদন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়ে। তবে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেননি ২৪৩ প্রার্থী।

আজ থেকে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম শেষ হবে শনিবার।

বৃহস্পতিবার ১-১৬০ পর্যন্ত আপিলের নিষ্পত্তি করা হয়। এতে ৮০ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। বিএনপির ৩৯ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। চারটি আবেদন পেন্ডিং রাখা হয়।

আজ শুক্রবার ১৬১-৩১০ পর্যন্ত আর শনিবার ৩১১-৫৪৩ পর্যন্ত বাতিল হওয়া মনোনয়ন প্রার্থীর আপিলের নিষ্পত্তি করা হবে।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ক্রমিক অনুসারে আপিলের নিষ্পত্তি করা হবে। আপিলের ফল সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেয়া হবে। কোনো প্রার্থীর আপিল গ্রহণ করা হলে, তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেয়া হবে।

ফরিদুল কবীরের মনোনয়নপত্র বৈধ, বিএনপিতে উচ্ছ্বাস
ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আপিল শুনানিতে জামালপুর ৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের বিএনপি দলীয় একক প্রার্থী জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে এ আসনের বিএনপি ও এর সহযোগী দলগুলোর সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বাতিল করায় এ আসন বিএনপি প্রার্থীশূন্যতায় পড়েছিল।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর ২ ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে তিনি তার প্রার্থিতার বৈধতা ফিরে পেয়েছেন।

সরিষাবাড়ী পৌর শাখা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পিন্টু কালের কণ্ঠকে জানান, ঢাকা থেকে সংবাদ আসার সাথে সাথেই এ আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সমবেত হয়। আমাদের প্রার্থীকে ফিরে পাওয়ায় সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এ ব্যাপারে এ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বের হয়েছি। সুষ্ঠুভাবে জনগণ ভোট দিতে পারলে বিজয় আমাদের হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। শাসক নয়, আমি জনগণের সেবক হয়ে জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই।

বিকালে ৩০০ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করবে ঐক্যফ্রন্ট:

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও তার শরিক বিএনপির ৩০০ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আজই ঘোষণা করা হবে। গণফোরাম কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আরামবাগে গণফোরাম কার্যালয়ে বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন গণফোরামের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য লতিফুল বারী হামীম।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৩০০ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৩ শরিক দল ও ২০ দলীয় জোটের ১৯ দলকে প্রায় ৬০টি আসন ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটের প্রধান দল বিএনপি। তবে এই সংখ্যা কমবেশি হতে পারে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। চূড়ান্ত ঘোষণাতেই বিষয়টি প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *