খোকার ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক ও মেয়ে সারিকা সাদেকের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন এ চার্জশিট দুইটি দাখিল করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ও তার মেয়ে সারিকা সাদেকের নিজে এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের সম্পদের বিবরণী দুদকে দাখিলের নোটিশ দেয়া হয়। একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের কনস্টেবল তালেব কমিশনের নোটিশটি জারি করতে তাদের বাসভবনে যান। কিন্তু ইশরাক হোসেন ও সারিকা সাদেক সেখানে উপস্থিত না থাকায় উপস্থিত চারজনের (সাক্ষী) সামনে বাসভবনের নিচতলায় প্রবেশ পথের বাম পাশে দেয়ালে স্কচটেপ দিয়ে ঝুলিয়ে নোটিশটি জারি করেন।

দুদকের দেয়া সাত কার্যদিবসের মধ্যে ইশরাক হোসেন ও সারিকা সাদেক তাদের সম্পদের হিসাব নির্ধারিত ফরমে দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় সাদেক হোসেন খোকার মেয়ে সারিকা সাদেকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম। পরদিন একই অভিযোগে একই থানায় সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাকের বিরুদ্ধে মামলাটি দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম।

বিএনপি প্রার্থী শাহাদাতকে আরও তিন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে নাশকতার অভিযোগে দায়ের আরও তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম এমএম মহিউদ্দিন মুরাদ এই আদেশ দেন। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেনের আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ।

তিনি জাগো নিউজকে জানান, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বাকলিয়া থানায় দায়ের হওয়া তিনটি পৃথক মামলায় ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার দেখানোর অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তিনটি মামলাতেই শাহাদাতের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর ককটেল হামলাসহ নাশকতার অভিযোগ আনা হয়।

এদিন তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

গত ৭ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেফতারের পর নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে আদালত ভবনে পুলিশের ওপর হামলা, জনমনে ভীতি প্রদর্শন, উসকানি এবং সদরঘাট থানার একটি হোটেলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণসহ চারটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আজ আরও তিনটি মামলাতে গ্রেফতার দেখানোর আদেশে এখন তিনি সাতটি নাশকতার মামলায় গ্রেফতার আছেন।

এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে বিএনপির তিন প্রার্থীকে নতুন করে বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো।

চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাদের দাবি- নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পুলিশ একের পর এক গায়েবি মামলায় বিএনপি প্রার্থীদের গ্রেফতার দেখিয়ে চলছে। তারা হলেন- নগর বিএনপির সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের প্রার্থী ড. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় নেতা চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের গিয়াস উদ্দিন কাদের।

চাচার নৌকা, ভাতিজার ধানের শীষ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে এবারও ভোটযুদ্ধ হবে চাচা-ভাতিজার মধ্যে। এ আসন থেকে মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান এমপি প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন।

প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ফজলুল হক চাঁনের বড় ভাই প্রয়াত সাবেক এমপি ডা. সেরাজুল হকের ছেলে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন।

তারা উভয়ই বাংলাদেশের বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৃথক পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারে পর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে চাচা ও ভাতিজা ভোটযুদ্ধের মরণপণ লড়াইয়ে নেমে পড়বেন। সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিয়ে রেখেছেন তারা।

জেলা নির্বাচন অফিস ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ইতোপূর্বে প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন নৌকা প্রতীক নিয়ে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারই ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী হেদায়েতুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯৬ হাজার ২৩৪ ভোটে বিজয়ী হন। হেদায়েতুল পেয়েছিলেন ৮ হাজার ৫৪৮ ভোট।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন প্রথমবার ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী ভাতিজা সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সেবার রুবেল ভোট পান ৬৫ হাজার ৭৫৩ ভোট।

২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ বারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাহমুদুল হক রুবেল ৮৬ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে এমএ বারী ভোট পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৩৯৬ ভোট।

১৯৯৬ সালের বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে রুবেল এমপি নির্বাচিত হলেও ওই বছরেই সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এমএ বারী ৪২ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রুবেল পান ৩৬ হাজার ৮৬ ভোট।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুবেলের বাবা ডা. সেরাজুল হক বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ৩৪ হাজার ৭৪৯ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম ৩১ হাজার ৬৮৮ ভোট পান। ১৯৯৪ সালের ২৮ অক্টোবর এমপি ডা. সেরাজুল হক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে তিন মাস পর উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বয়সে তরুণ মাহমুদুল হক রুবেল প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন।

জাতীয় সংসদের বিভিন্ন নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে শেষবার দেখা হলেও দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও চাচা ভাতিজা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *